কবরে আঙ্গুল রেখে কিছু পড়া

আহলে হক মিডিয়া৩০ জুলাই, ২০২৫কাফন দাফন জানাযা কবর যিয়ারত

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার এক আত্মীয় ইন্তেকাল করেন। জানাজা শেষে তাঁর দাফনের পরে মরহুমের নিকট আত্মীয় থেকে একজন মৃতব্যক্তি মাথার কাছে দাঁড়িয়ে তার শাহাদাত আঙ্গুলী কবরে রেখে সুরা বাকারার প্রথম ৫ আয়াত পাঠ করেন এবং ঐ একই সময় আরেকজন পা র কাছে দাঁড়িয়ে একই ভাবে সুরা বাকারার শেষ ৩ আয়াত পাঠ করেন। অতপর আমাদের এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেব মৃত ব্যক্তির মাথার কাছে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে মুনকার নাকীরের প্রশ্নের উত্তরগুলি ( আল্লহু রব্বী, আল ইসলামু দ্বীনী, হুয়া নাবীয়ুনা মুহাম্মাদ ﷺ) দিতে থাকেন। এখন জানার বিষয় হচ্ছে, এভাবে কবরে আঙ্গুল রেখে কিছু পড়া এবং এভাবে মুনকার নাকীরের সাওয়ালের জাওয়াব দেওয়ার কোন রেওয়াজ আছে কি? দলীল সহকারে উত্তর জানিয়ে বাধিত করবেন ইনশাআল্লাহ।

উত্তর

মৃত ব্যক্তির কবরের মাথার পাশে দাঁড়িয়ে সূরা বাকারার প্রথম দিকের ৫ আয়াত পড়া কিংবা সূরা ফাতিহা পড়া এবং পায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সূরা বাকারার শেষ দিকের ২/৩ আয়াত পড়ার কথা হাদীসে বর্ণিত আছে। কিন্তু কবরে হাত রেখে পড়ার কথা আসেনি। সুতরাং হাত রেখে পড়ার পদ্ধতি পরিহার করতে হবে। মৃত ব্যক্তির মাথার পাশে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে মুনকার নকীরের জবাব দেয়ার কোন ভিত্তি নেই। তবে দুআর কথা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। মৃতকে কবরে দাফন করার পর তার কবরের সুওয়াল জওয়াব সহজ হবার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করার কথা হাদীসে বর্ণিত আছে। সুতরাং সূরা ইখলাস, তাকাসূর, সূরা ইয়াসিন, সূরা মুলক, আয়াতুল কুরসী ইত্যাদি দুআ দরূদ পাঠ করে দুআ করা শরী‘আতসম্মত। কিন্তু সওয়ালের জবাব জোরে জোরে বলার কোন ভিত্তি নেই।

عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ اللَّجْلَاجِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ لِي أَبِي: ” يَا بُنَيَّ إِذَا أَنَا مُتُّ فَأَلْحِدْنِي، فَإِذَا وَضَعْتَنِي فِي لَحْدِي فَقُلْ: بِسْمِ اللهِ وَعَلَى مِلَّةِ رَسُولِ اللهِ، ثُمَّ سِنَّ عَلَيَّ الثَّرَى سِنًّا، ثُمَّ اقْرَأْ عِنْدَ رَأْسِي بِفَاتِحَةِ الْبَقَرَةِ وَخَاتِمَتِهَا، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ ذَلِكَ

হযরত আব্দুর রহমান বিন আলা বিন লাজলাজ, তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আমার পিতা আমাকে বলেছেন, হে বৎস! আমি যখন মারা যাবো, তখন আমার জন্য “লাহাদ” কবর খুড়বে। তারপর আমাকে যখন কবরে রাখবে তখন পড়বে “বিসমিল্লাহি ওয়াআলা মিল্লাতি রাসূলিল্লাহ” তারপর আমার উপর মাটি ঢালবে। তারপর আমার মাথার পাশে সূরা বাকারার শুরু এবং শেষাংশ পড়বে। কেননা, আমি রাসূল সাঃ থেকে এমনটি বলতে শুনেছি। [আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস নং-৪৫১, সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৭০৬৮]

আল্লামা হায়ছামী রহ. বলেন,

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ، وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ

এ হাদীস ইমাম তাবারানী তার কাবীরে নকল করেছেন, এবং তার প্রতিটি রাবী সিকা। [মাযমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-৪২৪৩]

ابْنَ عُمَرَ، يَقُولُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِذَا مَاتَ أَحَدُكُمْ فَلَا تَحْبِسُوهُ، وَأَسْرِعُوا بِهِ إِلَى قَبْرِهِ، وَلْيُقْرَأْ عِنْدَ رَأْسِهِ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ، وَعِنْدَ رِجْلَيْهِ بِخَاتِمَةِ الْبَقَرَةِ فِي قَبْرِهِ

হযরত ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যখন কোন ব্যক্তি মারা যায়, তখন তাকে আটকে রেখো না, বরং দ্রুত তাকে কবরস্ত কর। আর তার কবরের মাথার পাশে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা এবং পায়ের পাশে দাঁড়িয়ে সূরা বাকারার শেষ অংশ তিলাওয়াত কর। [আলমুজামুল কাবীর লিত তাবরানী, হাদীস নং-১৩৬১৩, শুয়াবুল ঈমান লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৮৮৫৪]

عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ وَقَفَ عَلَيْهِ، فَقَالَ اسْتَغْفِرُوا لِأَخِيكُمْ، وَسَلُوا لَهُ بِالتَّثْبِيتِ، فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ

হযরত উসমান বিন আফফান রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ যখন মৃতকে দাফন করা থেকে ফারিগ হতেন, তখন সেখানে দাঁড়িয়ে বলতেন, তোমাদের ভাইয়ের জন্য দুআ কর। এবং তার জন্য দৃঢ়তার দুআ কর। কেননা, এখন তার সুওয়াল জওয়াব হবে। [সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩২২১]

হাদীসটি সহীহ।

وفى شرح اللباب ويقرأ من القرآن ما تيسر له من الفاتحة وأول البقرة إلى المفلحون وآية الكرسى وآمن الرسول وسورة يس، وتبارك الملك وسورة التكاثر والإخلاص إلى قوله ثم يقول: اللهم أوصل ثواب ما قرأناه إلى فلان أو إليهم (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب صلاة الجنازة قبيل مطلب فى قراءة الميت وأهداء ثوابها له (رد المحتار-3\151)

কবরে আঙ্গুল রেখে কিছু পড়া | ইসলামী যিন্দেগী