ভালবাসা ও বিবাহের শপথ করা
প্রশ্ন
দীনী শিক্ষায় শিক্ষিত কোন ছেলে ও মেয়ে তাদের গভীর ভালবাসাকে বাস্তবে রুপ দানের উদ্দেশে যদি এরূপ শপথ করে যে, যদি আমরা অন্যকে বিবাহ করি তাহলে যেন আল্লাহ তা‘আলা আমাদের উপর বেহেশত হারাম করে দেন। কিন্তু কন্যার আত্মীয়-স্বজন উক্ত ছেলের সঙ্গে তাদের মেয়েকে বিবাহ দিতে সম্মত নয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিবাহের ব্যাপারে হলফের মাধ্যমে এভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া যায় কি? যদি এরূপ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া বৈধ হয়, আর পরে এ বিবাহ বাস্তবায়িত না হয়, তবে কসমের কাফফারা দিতে হবে কি ? কাফফারা আদায় করতে হলে, তা কে আদায় করবে? এবং এরূপ ভালবাসা কতটুকু শরী‘আতসম্মত?
উত্তর
যদি হলফের মধ্যে এরূপ শব্দ উচ্চারণ করে থাকে যে, যদি আমরা অন্য কাউকে বিবাহ করি, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা যেন আমাদের উপর বেহেশত হারাম করে দেন, তাহলে এ দ্বারা হলফ বা কসম হবে না। সতরাং , যদি তাদের মধ্যে বিবাহ না হয়, তাহলে কাফফারা দিতে হবে না। তবে এ ধরনের বেহেশত না পাওয়ার মত স্পর্শকাতর সাংঘাতিক বিষয়কে নিজেদের নগণ্য স্বার্থের সাথে সম্পৃক্ত করে এভাবে কসম খাওয়া মারাত্মক অন্যায়। ঈমানের জন্যও আশংকাজনক।
কিন্তু তারা উভয়ে কসমের মধ্যে যদি বলে থাকে,আল্লহর কসম যদি অন্য কাউকে বিবাহ করি,তাহলে যেন আল্লাহ আমাদের উপর বেহেশত হারাম করে দেন। তাহলে এভাবে বলার দ্বারা কসম হয়ে যাবে এবং যদি তাদের মধ্যে বিবাহ না হয়,তাহলে উভয়ের উপরই কাফফারা আরোপিত হবে।
কোন বেগানা মহিলার সাথে কোনরুপ ভালবাসা করা জায়েয নয়। যদি পর্দা রক্ষা করে ছেলে-মেয়ের সাথে কথা-বার্তা বলে, তবুও তা জায়েয নয়। তেমনিভাবে একজন বেগানা মহিলার সাথে প্রেমপত্র বিনিময় করাও শরী‘আতের দৃষ্টিতে জঘন্য অপরাধ। এমনকি কোন মহিলার নিকট পায়ে হেঁটে যাওয়া অথবা মনে মনে তার কল্পনা করাও মারাত্মক অন্যায়। এসবই পরোক্ষ যিনার মধ্যে শামিল। এ প্রকারের জঘন্য অপরাধ থেকে তাওবা করা জরুরী এবং এ ধরনের হলফ করা কখনো জায়েয হবে না।
[প্রমাণঃ ফাতাওয়া হিনদিয়্যাহ,২:৫৫,২:৫২# আল মাবসূত,৮:১৩৫# হিদায়া,২:৪৮০# মুসলিম শরীফ,২:৩৩৬# ফাতাওয়া রহীমিয়া,১:৩৫]