স্বামী নিরুদ্দেশ হলো স্ত্রীর করণীয়
প্রশ্ন
ইসলামী বিধান মতে, কোন মানুষ নিখোঁজ হয়ে গেলে তার ৯০ বছর বয়সের সময় মৃতের হুকুম দেয়া হয়। এখন কথা হল, কোন ব্যক্তি বিবাহ করার পর গায়েব হয়ে গেল। অথবা বিদেশ চলে গেল। ৭/৮ বৎসরের মধ্যে কোন খোঁজ খবর নেই, অথবা লোকমুখে শুনা যায় সে জীবিত আছে, কিন্তু স্ত্রীর সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ নেই। এখন ঐ স্ত্রীলোকটি অন্যত্র বিবাহ বসতে পারবে কিনা? যদি বসতে না পারে তবে তার জন্য ইসলামী বিধান অনুযায়ী অন্য কোন ফায়সালা আছে কি?
উত্তর
কোন লোক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার যদি ৭/৮ বৎসরের মধ্যে তার কোন সংবাদ পাওয়া না যায়, তাহলে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী তার সম্পদ বন্টনের জন্য তার বয়স ৯০ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। যেমন কেউ ৭৫ বছর বয়সে নিখোঁজ হলে, তার জন্য আর মাত্র ১৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে। অবশ্য তার স্ত্রী তার জন্য কতদিন অপেক্ষা কররে, এ ব্যাপারে হানাফী মাযহাবের উলামায়ে মুতাআখখিরীন ইমাম মালিক রহ.-এর মাযহাবের উপর ফাতাওয়া দিয়েছেন। এ কারণে এ মাসআলায় ইমাম মালিকের রহ. মাযহাবই হানাফী মাযহাব বলে বিবেচিত। সেটা হচ্ছে স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী মুসলিম জজ বা শর‘ঈ পঞ্চায়েতে মুকাদ্দামা দায়ের করবে এবং স্বাক্ষীদের দ্বারা একথা প্রমাণ করবে যে, ঐ ব্যক্তির সাথে তার বিবাহ হয়েছিল, পরে ঐ ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছে। অতঃপর মুসলিম কাজী জজ/পঞ্চায়েতও সাধ্যানুযায়ী খোঁজ খবর নিয়ে দেখবে। তালাশ করার করার পর পাওয়া সম্ভব না থাকলে, তার স্ত্রীকে মুকাদ্দামা দায়ের করার পর থেকে চার বছর অপেক্ষা করতে বলবে। এ চার বৎসরের মধ্যে তার যদি কোন খোঁজ-খবর পাওয়া না যায়, তাহলে মহিলার আবেদনের প্রেক্ষিতে উক্ত জজ/-পঞ্চায়েত কর্তৃক স্বামী নিখোঁজ হওয়ার উপর মৃত্যুর ফায়সালা দিয়ে দিবে। অতঃপর তার স্ত্রী চার মাস ১০ দিন ইদ্দতে মউত পালন করবে। ইদ্দত পালন করার পর অন্য জায়গায় বিবাহ বসতে পারবে। চার বছর অতিবাহিত হওয়ার পর তার পুনরায় বিচ্ছেদের আবেদন করা উত্তম [প্রমাণঃ ফাতাওয়া শামী ৩:৩৯৬, আযীযুল ফাতাওয়া ৫২৯# আল হিলইয়াতুন্নাজিয়া, ৬৯-৭০]
তবে লোক মুখে যদি উক্ত ব্যক্তির জীবিত থাকার খবর পাওয়া যায় তাহলে স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ না থাকলে এবং স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে খোরপোষ না দিলেও তাকে নিখোঁজের পর্যায়ে গন্য করা যাবে না। সে ক্ষেত্রে মাসআলা ভিন্ন হবে। [প্রমাণঃ আলহীলাতুন্নাজিযা, ৮৩]