ইদ্দতের সময় সাজসজ্জা ত্যাগ করা জরুরী

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫বিবাহ তালাক

প্রশ্ন

আমাদের দেশে প্রচলিত আছে যে, যদি কোন স্ত্রীলোকের স্বামী মারা যায়, তবে তার দেহের সমস্ত অলংকারাদি এমনকি নাকফুল পর্যন্ত খুলে ফেলতে হয় এবং সকল প্রকার সাজসজ্জা ত্যাগ করতে হয়। পুনরায় সে আর তা ব্যবহার করতে পারে না। শরী‘আতে ওর হুকুম কি?

উত্তর

বিধবা স্ত্রীলোক ইদ্দতের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত (অর্থাৎ গর্ভবতী হলে, সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত; গর্ভবতী না হলে ৪ মাস ১০ দিন পর্যন্ত) ঐ ঘরেই ইদ্দত পালন করবে, যে ঘরে স্বামীর মৃত্যুর সময় সে বসবাস করতো। ঐ ঘর থেকে খাওয়া-দাওয়া, উযু-গোসল ইত্যাদি জরুরত ব্যতীত কখনও বের হতে পারবে না। তবে শর‘ঈ উযর দেখা দিলে বের হতে পারবে। যেমন, মারাত্মক অসুখের কারণে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের নিকট যেতে পারবে ইত্যাদি। আর ঐ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মৃত স্বামীর স্ত্রী সব ধরণের সৌন্দর্য, অলংকারাদি, রেশমী কাপড়, গাঢ় লাল রঙ, কুসুমী রং, গোলাপী রং, ইত্যাদি রং-এর কাপড়-চোপড় পরিহার করবে।এটা তার স্বামীর বিরহের শোক পালনের জন্য নির্ধারিত নিয়ম। তবে এ সকল কাপড়-চোপড় অনেক পুরাতন হয়ে থাকলে, ব্যবহার করতে পারবে।অনুরূপভাবে সুরমা, তৈল, লিপিস্টিক ও খুশবু ইত্যাদি পরিহার করবে। তবে শর‘ঈ উযর বশতঃ সুরমা ও তৈল ব্যবহার করতে পারবে। যেমন , চোখে ব্যথা হলে সুরমা ব্যবহার করতে পারবে। মাথা ব্যথা করলে তৈল ব্যবহার করতে পারবে। উল্লেখিত নির্দিষ্ট দিনের ইদ্দত শেষ হওয়ার পর স্ত্রী শরী‘আত সম্মত এ সকল সৌন্দর্য গ্রহণ বা ব্যবহার করতে পারবে। তখন নাকফুল ব্যবহারেও কোন দোষ নেই। উল্লেখ্য, বর্ণিত হুকুমটি বিধবার জন্য খাস নয় বরং তালাকে বায়েন বা তিন তালাক প্রাপ্তা মহিলার ইদ্দতের বেলায়ও প্রযোজ্য। [ফাতওয়া রাহীমিয়া, ৫: ৩৯৯ # ফাতওয়া মাহমূদিয়া, ৮:১৫৯]