মাদরাসার জমিতে মসজিদ তৈরী

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৪ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা, কসম ও মান্নত

প্রশ্ন

(১) ফুরকানিয়া মাদরাসার জন্য দানকৃত সম্পত্তি ও ঘরের মধ্যে মসজিদ দেয়া যাবে কি না? মাদরাসার কিছু সম্পত্তি মসজিদের আওতাভুক্ত করা যাবে কিনা?

(২) মসজিদের সম্পত্তি মাদরাসায় (বা মাদরাসার ঘর ইত্যাদিতে) ব্যবহার করা যাবে কি না?

(৩) এলাকাবাসী মাদরাসার জন্য পাশে অন্য সম্পত্তি দিয়ে মাদরাসার জায়গায় মসজিদ করতে ইচ্ছুক। কারণ ঐ মাদরাসার ঘর ও জায়গাটা সেন্টারের মত এবং সামনে পুকুর।

উত্তর

(১) যদি মাদরাসার নিকটে কোন মসজিদ না থাকে, যেখানে গিয়ে ছাত্ররা জামা‘আতের সাথে নামায আদায় করতে পারে, অথবা মসজিদ রয়েছে কিন্তু মসজিদে সমস্ত ছাত্রদের সংকুলান হয় না অথবা সেখানে নামায পড়তে গেলে মাদরাসার ছাত্রদের পড়া-শুনার অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। যেমন অধিক সময় ব্যয় হয় অথবা মাদরাসার সম্পদের হেফাজত থাকে না। তাহলে এরূপ ক্ষেত্রে মাদরাসার জমিতে মাদরাসার স্বার্থে মসজিদ নির্মাণ করা মাদরাসার প্রয়োজনের মধ্যে গন্য হবে। তাই এক্ষেত্রে মাদরাসার অতিরিক্ত জমিতে শর‘ঈ মসজিদ তৈরী করতে পারবে। আর যদি উল্লেখিত জরুরতগুলো না থাকে বরং পার্শ্ববর্তী মসজিদ দ্বারা মাদরাসার প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে সে ক্ষেত্রে মাদরাসার জমিতে আরেকটি মসজিদ করার প্রয়োজন নেই।

(২) মসজিদের অতিরিক্ত সম্পত্তিতে মসজিদ আবাদ করার জন্য মাদরাসা করতে পারবে। তবে কখনো মসজিদ সম্প্রসারণ করার প্রয়োজন দেখা দিলে মাদরাসার ঘর সরিয়ে নিতে হবে। আর মসজিদের আয়ের স্থানে আয় বন্ধ করে মাদরাসা করতে হলে মাদরাসার পক্ষ হতে মসজিদের জমি বা ঘর ভাড়া দিয়ে দিতে হবে।

(৩) ওয়াকফকৃত জমি শর‘ঈ উজর ব্যতীত পরিবর্তন করা জায়েয নেই। সুতরাং, এলাকাবাসীর জন্য উচিত হবে না মসজিদের জায়গা মাদরাসাকে দিয়ে মাদরাসার জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করা। তবে যদি এখানো মসজিদের নামে জায়গা ওয়াকফ হয়ে না থাকে, তাহলে এলাকাবাসী এ সুরত অবলম্বন করতে পারে যে, অপর জায়গাটিও মাদরাসার নামে ওয়াকফ করে দিবে। অতঃপর সুবিধাজনক স্থানে মসজিদ ও মাদরাসা নির্মাণ করে একই কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করবে। (ফাতাওয়া মাহমূদীয়া ২:৪৬৬)