পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ইসলামী দন্ডবিধি প্রয়োগ

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৪ আগস্ট, ২০২৫আইন ও দন্ডবিধি, সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া সত্ত্বেও কোন অপরাধের শরী‘আত সম্মত বিচার এবং শাস্তির ব্যবস্থা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে করা যাবে না। এর একমাত্র অধিকারী হল, ইসলামী সরকার। এ কথাটা হল বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ঠ আলেমের। কুরআন-হাদীসের আলোকে এ সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

কোন ইসলামী দণ্ড বিধান প্রয়োগ করতে চাইলে, তার পূর্বশর্ত হল, ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠিত থাকা। উল্লেখিত শর্ত না পাওয়াতে বাংলাদেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়া স্বত্তেও বাংলাদেশে ইসলামী দণ্ডবিধি প্রয়োগ করতে পারবে না। সুতরাং উক্ত বিশিষ্ট আলেমের মতামত ঠিক। তবে যতটুকুর মধ্যে কারো কর্তৃত্ব আছে, ততটুকুর মধ্যে তিনি তা’যীর বা হালকা শাস্তি প্রয়োগ করতে পারবেন। যেমন, পিতা সন্তানকে, শিক্ষক ছাত্রকে, স্বামী স্ত্রীকে, নাহী আনিল মুনকার হিসাবে হাতের ক্ষমতা প্রয়োগ করে উক্ত দ্বায়িত্ব পালন করতে পারবেন। মুসলিম শাসকদের অনুমতি ছাড়া সাধারণ মানুষ যদি শাস্তি প্রয়োগ করে, তাহলে সমাজে ফিতনা-ফাসাদে ভরে যাবে। এজন্য আইন হাতে তুলে নেয়ার অধিকার জনগণকে দেয়া হয়নি। সুতরাং, জনগণ একে অপরকে হিকমতের সাথে কথার মাধ্যমে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করতে থাকবে। যেখানে এটাও সম্ভব নয়, বরং জান ও মালের উপর প্রবল ক্ষতির আশংকা আছে, সেখানে ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর হিসেবে অন্তর দ্বারা অন্যায় কাজকে ঘৃণা করবে এবং সেই অন্যায় বন্ধ করে তার স্থলে ভাল কাজ কিভাবে চালু করা যাবে, সে ব্যাপারে দিলের মধ্যে ফিকির রাখবে এবং মাশওয়ারা বা পরামর্শ করতে থাকবে। তাহলে দায়িত্বমুক্ত হওয়া যাবে, নতুবা গুনাহগার হবে। [প্রমাণঃ কামালাতে আশরাফিয়া ৮৩ পৃ., ফাতাওয়া শামী ৪:৬৫ আহসানুল ফাতাওয়া ৫:৫১৩, ইমদাদুল মুফতীন, ৯০৯,৯১০]