আত্মীয়রা কি মিরাস পাবে

আহলে হক মিডিয়া৩০ জুলাই, ২০২৫মিরাস বন্টন

প্রশ্ন

মুফতী সাহেবের কাছে আমার একটি প্রশ্ন। এ বিষয়টি নিয়ে অনেক পেরেশানীতে আছি। কারণ, কয়েকজন মুফতীর কাছে জিজ্ঞাসা করে বিপরীতমুখী জবাব পেয়েছি। তাই আপনার কাছে সঠিকটা জানতে চাই। সেটি হল, সরকারী চাকুরীতে যে পেনশন দেয়া হয়, যদি চাকুরীরত থাকা অবস্থায় চাকুরীজীবী মারা যায়, তাহলে উক্ত পেনশনের টাকার মালিকানা কার হবে? শুধু স্ত্রী পাবে, নাকি সকল আত্মীয়রা এর থেকে মিরাছ হিসেবে স্বীয় ভাগ পাবে। কেউ বলেন, শুধু স্ত্রী পাবে। আবার অনেকে বলেন যে, মৃত ব্যক্তির অন্যান্য মালের মতই এটিও ত্যাজ্য সম্পদ হিসেবে বন্টিত হবে। আসলে সমাধান কী? দয়া করে জানাবেন। এ সমস্যার মূল কারণ, হল, পেনশনের ক্ষেত্রে আইন হল, যদি চাকুরীজীবী পুরুষের পেনশনের হকদার ধরা হয়েছে স্ত্রীকে। এটাই আইন। এ কারণেই এ প্রশ্নের উদয় হয়েছে। আশা করি সঠিক উত্তর জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

পুরুষ কর্মচারীর মৃত্যুতে প্রাপ্ত পেনশনের টাকা পুরোটাই স্ত্রীর হক। এতে অন্যান্যদের মাঝে ত্যাজ্য সম্পদের বিধান আরোপিত হবে না। যেহেতু মিরাছ বা উত্তরাধিকার প্রযোজ্য হয় মৃত ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদের ক্ষেত্রে। আর পেনশন ব্যক্তির মালিকানাধীন কোন বস্তু নয়। বরং পুরোটাই সরকারী অনুদান। তাছাড়া এ অনুদান আইনগতভাবে কেবল স্ত্রীকেই দেয়া হয়ে থাকে। স্ত্রী না থাকলে উক্ত পেনশন পাওয়া যায় না। তবে যদি পেনশন আইনে অন্য কারো পাওয়ার কথাও আইনগত অধিকার থাকে, তাহলে কেবল তারাই আইনগতভাবে যতটুকু পাওয়ার ততটুকু পাবে। এতে শরয়ী মিরাছী নীতি প্রযোজ্য হবে না। যেহেতু এটি মৃত ব্যক্তির মালিকানা সম্পদের অন্তর্ভূক্ত নয়। তাই পেনশনদাতা প্রতিষ্ঠানের নীতি অনুপাতেই তা বাস্তবায়িত করবে।

المراد من التركة: ما تركه الميت خاليا عن تعلق حق الغير بعينه (البحر الرائق، كتاب الفرائض-9/365)

আত্মীয়রা কি মিরাস পাবে | ইসলামী যিন্দেগী