আল্লাহ তা‘আলা শেষ রাতে বান্দাকে ডাকেন
প্রশ্ন
আমার জানার বিষয় হলো, হযরত, আল্লাহ তা‘আলা শেষ রাতে ১ম আসমানে আসেন এবং বান্দাকে ডাকেন, প্রশ্ন হলো, পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন রাত অপর প্রান্তে তখন দিন, তাহলে কি আল্লাহ তা‘আলা দিন রাত মিলে দুই বার ১ম আসমানে আসেন?
উত্তর
এ প্রশ্নটি দেহবাদী আকিদায় বিশ্বাসী লা মাযহাবী শায়েখদের করা উচিত। যারা বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাআলা আরশে বসে আছেন। নাউজুবিল্লাহ। তিনি সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে যান। আল্লাহ হেফাযত করুন এমন কুফরী আকীদা থেকে। আসলে উক্ত প্রশ্নটি আপনার মনে উদয় হয়েছে অবচেতন মনে আল্লাহর বিষয়ে দেহবাদী আকীদা লালন করার কারণে। আল্লাহ তাআলা কোথাও যান না। আল্লাহ তাআলা আছেন। তার কোথাও যেতে হয় না।
তার আরশ ও কুরসী সর্বত্র বিস্তৃত।
১
قوله تعالى {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ}
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে বস্তুতঃ আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। {সূরা বাকারা-১৮৬}
২
قوله تعالى {وَنَحنُ أَقرَبُ إِلَيهِ مِن حَبلِ الوَرِيدِ} [ق 16]
আর আমি বান্দার গলদেশের শিরার চেয়েও বেশি নিকটবর্তী। {সূরা কাফ-১৬}
৩
فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ (83) وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ (84) وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لا تُبْصِرُونَ (85)
অতঃপর এমন কেন হয়না যে, যখন প্রাণ উষ্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক। এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি। কিন্তু তোমরা দেখতে পাওনা {সূরা ওয়াকিয়া-৮৩,৮৪,৮৫}
৪
وَللَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ } [البقرة-115
পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহ তায়ালারই। সুতরাং যেদিকেই মুখ ফিরাও,সেদিকেই রয়েছেন আল্লাহ তায়ালা। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বব্যাপী সর্বজ্ঞাত {সূরা বাকারা-১১৫}
৫
قوله تعالى { وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَمَا كُنتُمْ } [ الحديد – 4
তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন {সূরা হাদীদ-৪}
৬
إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا (التوبة من الآية40
যখন তিনি তার সাথীকে বললেন-ভয় পেয়োনা, নিশ্চয় আমাদের সাথে আল্লাহ আছেন {সূরা হাদীদ-৪০}
৭
مَا يَكُونُ مِن نَّجْوَى ثَلاثَةٍ إِلاَّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلاَّ هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِن ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلاَّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُم بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ ( المجادلة – 7
কখনো তিন জনের মাঝে এমন কোন কথা হয়না যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন, এবং কখনও পাঁচ জনের মধ্যে এমন কোনও গোপন কথা হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন। এমনিভাবে তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক, আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে অবহিত করবেন তারা যা কিছু করত। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছু জানেন {সূরা মুজাদালা-৭}
৮
وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ
আল্লাহ তায়ালার কুরসী আসমান জমিন ব্যাপৃত {সূরা বাকারা-২৫৫} সুতরাং আল্লাহর নেমে আসার কোন প্রয়োজনই নেই। তাহলে হাদীসের নেমে আসার অর্থ কী? এর অর্থ হাকীকী অর্থে নেমে আসা নয়, বরং আল্লাহর বিশেষ রহমাত তখন নাজিল হয়। আল্লাহর বিশেষ তাওয়াজ্জুহ তখন নাজিল হয়। সুতরাং এর জন্য কোথাও দিন আর কোথাও রাত হলে কোন সমস্যা নেই।