স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক হক সমূহ

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১৪ আগস্ট, ২০২৫সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

আমার স্ত্রীর সাথে আজ ৩/৪ বছর যাবত আমার মনোমালিন্য চলে আসছে। আমাদের মাঝে কোন মিলামিশাও হচ্ছে না। এ জন্য আমি খুব কষ্টে জীবন-যাপন করছি। স্ত্রী অশিক্ষিতা, সে অবশ্য নামায- রোযা আদায় করে। আমি জিজ্ঞাসা করলে বলে, আমি সব কিছু জানি । কিন্তু আমার কাছে প্রকাশ করে না। আমাদের পাঁচটি ছেলে-মেয়ে। আমি কতদূর পিছিয়ে আছি। আমার করণীয় কি? পাপমুক্ত হতে পরামর্শ চাচ্ছি।

উত্তর

স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অনেক হক্ব রয়েছে। কুরআন ও হাদীস মন্থন করে হযরত থানভী রহ. যা বর্ণনা করেছে, তা নিম্নরূপঃ

স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কর্তব্য হল: (১) সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর খোর-পোষ ও ভরণ-পোষণ দিতে অবহেলা না করা। (২) স্ত্রীকে দ্বীনী মাসআলা-মাসাইল শিখাতে থাকা এবং তাকে নেক কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে থাকা। (৩) মাহরাম আত্মীয়-স্বজনের সাথে মাঝে মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেয়া। (৪) এবং তার অসাবধানতা ও বুদ্ধিমত্তার অভাবে কোন ভুল-ক্রটি হয়ে গেলে ধৈর্য-ধারণ করা। কখনো শাসন ও সংশোধনের প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা ।

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য হল: (১) যথাযথভাবে স্বামীর প্রতি অনুগত থাকা, আদব বজায় রাখা। তবে স্বামী শরী‘আত বিরোধী কোন কাজ করতে বললে, অপারগতা প্রকাশ করা। (২) স্বামীর সামর্থ্যের অতিরিক্তি কোন বিষয়ে তার প্রতি খুব চাপ সৃষ্টি না করা। (৩) অনুমতি ছাড়া স্বামীর সম্পদ ব্যয় না করা। (৪) স্বামীর আত্মীয় ও আপনজনদের সাথে এমন ব্যবহার না করা, যাতে তার মনে কষ্ট হয়। বিশেষতঃ স্বামীর মাতা-পিতাকে সেবার পাত্র মনে করে সম্ভাব্য শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা ও তাদের সেবা করা। স্ত্রীর অধিকার সমূহের মধ্য থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হল তাকে দ্বীনী ইলম শিক্ষা দেয়া। যেমন, কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে, তোমরা নিজেকে এবং নিজের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা । [সূরা তাহরীমঃ ৬ ]

স্ত্রীর কাছে রাত যাপন করাও তার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত, নিজ স্ত্রীকে আনন্দ দানের জন্য তার সাথে কখনো কখনো হাসি-ঠাট্টা করা এবং খোশগল্প করাও তার অধিকার । স্ত্রীকে দ্বীনী মাসআলা-মাসাইল শিক্ষা দেয়া এটা আল্লাহর বিধান। তবে এতে কঠোরতা অবলম্বন করা যাবে না। তাকে বুঝানোর মাধ্যমে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে কেননা, তার সাথে সৎভাবে জীবন-যাপন করা আল্লাহর বিধান।

এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, স্ত্রী জাতিকে পাজরের বক্র হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পাজরের মধ্যে সবচেয়ে বক্র হচ্ছে উপরের হাড়। সুতরাং তুমি যদি তাকে পুরোপুরি সোজা করতে চেষ্টা কর, তাহলে তা ভেঙ্গে ফেলবে অর্থাৎ, তালাক দিতে বাধ্য হবে। আর যদি কিছুই না বল, তাহলে বক্রই থেকে যাবে। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, আপনার স্ত্রী সাথে মিলা-মিশা করতে হবে এবং তাকে ধৈর্যের সাথে বুঝাতে হবে যে, যাতে করে সে আপনার নিকট থেকে মাসআলা-মাসাইল শিখতে পারে এবং কিভাবে আপনার হক আদায় করতে হবে, তা জানতে পারে। [প্রমাণঃ হুকূকে মু‘আশারাত ৬৫, ১১০ ও ১১১]

স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক হক সমূহ | ইসলামী যিন্দেগী