ভাবির সাথে সাক্ষাৎ বা দেখা দেয়া
প্রশ্ন
আমার তিন বছর বয়সের সময় আমার বড় ভাইয়ের বিবাহ হয়। ভাবী আমাকে ছোট কাল থেকেই লালন-পালন করে আসছেন। ভাবীকে আমি নিজের মায়ের মত দেখি, আমার মধ্যে কোন দুশ্চিন্তা, খারাপ ধারণা বা যৌন ধারণা সৃষ্টি হয় না। এখন আমার ভাবীর সাথে দেখা করা আমার জন্য জায়েয হবে কি না?
উত্তর
বালেগ হওয়ার পর আপনার জন্য কোন ক্রমেই আপনার ভাবীর সাথে দেখা করা জায়েয হবে না। কারণ- যে চৌদ্দ জনের সাথে দেখা করা শরী‘আতে জায়েয আছে তাদের মধ্যে ভাবী শামিল নয়। হাদীসে মেয়েদের জন্য তার দেবর ও ভাশুরকে মৃত্যুতুল্য বলা হয়ছে। কারণ, তাদের দ্বারা অন্যায় সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। সুতরাং, এক্ষেত্রে বেশী পরিমাণ সতর্কতা অবলম্বন জরুরী। কোন মানুষের জন্য নিজের নফসকে বিশ্বাস করা এবং নফসকে পবিত্র মনে করাটাই নাজায়েয। আম্বিয়া আ. মা’সুম হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের নফসকে পবিত্র বলে সত্যায়ন করা থেকে বিরত থাকতেন। (সূরা ইউসুফ-৫৩)
আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষ জাতির দুর্বলতার সকল দিক সম্বন্ধে পূর্ণ জ্ঞাত। সুতরাং, যুক্তি-তর্ক ছাড়া বিনা বাক্য ব্যয়ে তার নির্দেশ মান্য করার মধ্যেই মানুষের কামিয়াবী। ভাবীকে দেখলে, যদি কারো মধ্যে যৌনস্পৃহা জাগ্রত না হয়, তাহলেও তার জন্য ভাবীকে দেখা বা তার দিকে নজর করা জায়েয হবে না। কেননা, এমনও থেকে পারে যে এ মুহূর্তে মন পরীক্ষার আছে, কিন্তু যে কোন মুহূর্তে ইবলীস শয়তান তার অজান্তে তার মনের মধ্যে কু-ভাব সৃষ্টি করতে পারে। এজন্যই শরী‘আত আগে থেকেই তার প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে মানুষকে ধ্বংস ও চরম বেইযযতীর হাত থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করেছে।
এতদ্ব্যতীত শরী‘আতের হুকুম যখন অকাট্যরূপে সাব্যস্ত হয়েছে, তখন তা মানতেই হবে। সে হুকুম কারণ নির্ভর হবে না। কারণ পাওয়া যাক, চাই না যাক বিনাবাক্যে শরী‘আতের হুকুম পালন করাই ঈমান ও ইসলামের দাবী। (প্রমাণঃ সূরা নূর-৩১, তাফসীরে মাযহারী-৬:৪৯৭)