যাদের অনুকরণ জরুরী

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৫ জানুয়ারি, ২০২৬উলামা তোলাবা, সিরাত ও নবী আ. এর যিন্দেগী, বিবিধ

প্রশ্ন

রাসূল ﷺ এবং সাহাবাগনের রা. অবর্তমানে আমরা কাদের অনুসরণ করবো? উলামায়ে হক্কানী করা?

উত্তর

রাসূল ﷺ এবং সাহাবায়ে কিরামের অবর্তমানে আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আত তথা হক্কানী উলামাগনের অনুসরণ করব। আর উলামায়ে হক্কানী তাদেরকে বলা হবে, যাদের মধ্যে নিম্মোক্ত দশটি আলামত পাওয়া যাবেঃ

(১) ইলম দ্বারা দুনিয়া হাসিলের উদ্দেশ্য থাকবে না বরং ইলম দ্বারা শুধু দ্বীনের প্রচারই তাদের উদ্দেশ্য হবে।

(২) ইলম অনুযায়ী তাদের আমল থাকতে হবে।আমল ব্যতীত ইলম অর্থহীন।

(৩) অপ্রয়োজনীয় ও অনর্থক ইলম থেকে বেঁচে থাকবে, ফালসাফা ইত্যাদিকে তারা মাশগালা বানাবেন না।

(৪) খানা-পিনা, পোষাক-পরিচ্ছদের ও ঘরবাড়ী ইত্যাদির ব্যাপারে অনাড়ম্বর জীবন-যাপনে অভ্যস্থ হবেন।

(৫) আমীর-উমারা এবং ধনীদের থেকে দুনিয়াবী স্বার্থ হাসিলের ফিকির তাদের থাকবে না। তাদের নিকট তারা কখনও গেলে, শুধু দ্বীন পৌঁছানোর নিয়্যতে যাবে।

(৬) কোন মাসআলা বয়ান করার ব্যাপারে খুবই সতর্কতার সাথে বয়ান করেন। তাড়াহুরা করে উত্তর দেয়ার মনোভাব পরিহার করে থাকেন।

(৭) তাযকিয়া-আত্নশুদ্ধির ব্যাপারে খুবই ইহতিমাম করেন। তাদের অন্তরে এর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব থাকে। (৮) আল্লাহর উপর ঈমান ও ইয়াকীন গালেব রাখতে তারা সর্বদা তৎপর থাকেন। প্রকাশ থাকে যে, বস্তু নির্ভরশীল হওয়া দুনিয়াদারদের চরিত্র।

(৯) প্রত্যেক কাজের মধ্যে আল্লাহর ভয় তাদের দিলে জাগ্রত থাকে। যে ইলম অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করে না, সেটা সহীহ ইলম নয়।

(১০) প্রত্যেক কাজে তারা খুঁজে খুঁজে সুন্নাতের ইত্তিবা করতে থাকেন এবং বিদ‘আত থেকে কঠোরভাবে বেঁচে থাকেন। কোন অন্যায় বা অপকর্মে অভ্যস্থ হওয়ারতো প্রশ্নই উঠে না।