الحديد

الحديد

আল-হাদীদ

আয়াত ২৯ · মাদানী · পারা ২৭

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

سَبَّحَ لِلّٰہِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ وَہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে, তা আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করে। তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ۚ وَہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرٌ

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব তারই। তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি প্রতিটি বিষয়ে পরিপূর্ণ ক্ষমতাবান।

ہُوَ الۡاَوَّلُ وَالۡاٰخِرُ وَالظَّاہِرُ وَالۡبَاطِنُ ۚ وَہُوَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ

তিনিই আদি, তিনিই অন্ত এবং তিনিই ব্যক্ত ও তিনিই গুপ্ত। তিনি সবকিছু পরিপূর্ণভাবে জানেন।

ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ فِیۡ سِتَّۃِ اَیَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰی عَلَی الۡعَرۡشِ ؕ یَعۡلَمُ مَا یَلِجُ فِی الۡاَرۡضِ وَمَا یَخۡرُجُ مِنۡہَا وَمَا یَنۡزِلُ مِنَ السَّمَآءِ وَمَا یَعۡرُجُ فِیۡہَا ؕ وَہُوَ مَعَکُمۡ اَیۡنَ مَا کُنۡتُمۡ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ

তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। তারপর আরশে ইসতিওয়া গ্রহণ করেছেন। তিনি এমন প্রতিটি জিনিস জানেন, যা ভূমিতে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বের হয় এবং জানেন এমন প্রতিটি জিনিস, যা আকাশ থেকে নেমে আসে এবং যা তাতে উত্থিত হয়। তোমরা যেখানেই থাক, তিনি তোমাদের সাথে আছেন এবং তোমরা যা-কিছুই কর, তা তিনি দেখেন।

لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ وَاِلَی اللّٰہِ تُرۡجَعُ الۡاُمُوۡرُ

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই এবং সমস্ত বিষয় আল্লাহরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।

یُوۡلِجُ الَّیۡلَ فِی النَّہَارِ وَیُوۡلِجُ النَّہَارَ فِی الَّیۡلِ ؕ وَہُوَ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ

তিনি রাতকে দিনের ভেতর প্রবেশ করান এবং দিনকে প্রবেশ করান রাতের ভেতর এবং মনের মধ্যকার সবকিছু সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত।

اٰمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَاَنۡفِقُوۡا مِمَّا جَعَلَکُمۡ مُّسۡتَخۡلَفِیۡنَ فِیۡہِ ؕ فَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ وَاَنۡفَقُوۡا لَہُمۡ اَجۡرٌ کَبِیۡرٌ

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান রাখ এবং আল্লাহ যে সম্পদে তোমাদেরকে প্রতিনিধি করেছেন, তা থেকে (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং (আল্লাহর পথে) ব্যয় করেছে, তাদের জন্য আছে মহা প্রতিদান।

وَمَا لَکُمۡ لَا تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ ۚ وَالرَّسُوۡلُ یَدۡعُوۡکُمۡ لِتُؤۡمِنُوۡا بِرَبِّکُمۡ وَقَدۡ اَخَذَ مِیۡثَاقَکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ

তোমাদের এমন কী কারণ আছে, যদ্দরুন আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখবে না, অথচ রাসূল তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান রাখার জন্য আহ্বান করছে এবং তোমাদের থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছে যদি বাস্তবিকই তোমরা মুমিন হও।

ہُوَ الَّذِیۡ یُنَزِّلُ عَلٰی عَبۡدِہٖۤ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ لِّیُخۡرِجَکُمۡ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوۡرِ ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ بِکُمۡ لَرَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ

আল্লাহই তো নিজ বান্দার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেন, তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোকে বের করে আনার জন্য। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের প্রতি করুণাময়, পরম দয়ালু।

وَمَا لَکُمۡ اَلَّا تُنۡفِقُوۡا فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ وَلِلّٰہِ مِیۡرَاثُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  لَا یَسۡتَوِیۡ مِنۡکُمۡ مَّنۡ اَنۡفَقَ مِنۡ قَبۡلِ الۡفَتۡحِ وَقٰتَلَ ؕ  اُولٰٓئِکَ اَعۡظَمُ دَرَجَۃً مِّنَ الَّذِیۡنَ اَنۡفَقُوۡا مِنۡۢ بَعۡدُ وَقٰتَلُوۡا ؕ  وَکُلًّا وَّعَدَ اللّٰہُ الۡحُسۡنٰی ؕ  وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ٪

কী কারণে তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় করবে না, অথচ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সমস্ত মীরাছ আল্লাহরই জন্য। তোমাদের মধ্যে যারা (মক্কা) বিজয়ের আগে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে তারা (পরবর্তীদের) সমান নয়। মর্যাদায় তারা সেই সকল লোক অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যারা (মক্কা বিজয়ের) পরে ব্যয় করেছে ও যুদ্ধ করেছে। তবে আল্লাহ কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সকলকেই, তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত।

مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یُقۡرِضُ اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا فَیُضٰعِفَہٗ لَہٗ وَلَہٗۤ اَجۡرٌ کَرِیۡمٌ ۚ

কে আছে, যে আল্লাহকে ঋণ দেবে, উত্তম ঋণ? তাহলে তিনি দাতার জন্য তা বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেবেন এবং তার জন্য রয়েছে মহা প্রতিদান।

یَوۡمَ تَرَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَالۡمُؤۡمِنٰتِ یَسۡعٰی نُوۡرُہُمۡ بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِمۡ وَبِاَیۡمَانِہِمۡ بُشۡرٰىکُمُ الۡیَوۡمَ جَنّٰتٌ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ  ذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ۚ

সে দিন তুমি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে দেখবে, তাদের নূর তাদের সামনে ও তাদের ডান দিকে ধাবিত হচ্ছে (এবং তাদেরকে বলা হবে,) তোমাদের জন্য আজ এমন সব উদ্যানের সুসংবাদ, যার নিচে নহর প্রবাহিত থাকবে, যাতে তোমরা সর্বদা থাকবে। এটাই মহা সাফল্য।

یَوۡمَ یَقُوۡلُ الۡمُنٰفِقُوۡنَ وَالۡمُنٰفِقٰتُ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوا انۡظُرُوۡنَا نَقۡتَبِسۡ مِنۡ نُّوۡرِکُمۡ ۚ  قِیۡلَ ارۡجِعُوۡا وَرَآءَکُمۡ فَالۡتَمِسُوۡا نُوۡرًا ؕ  فَضُرِبَ بَیۡنَہُمۡ بِسُوۡرٍ لَّہٗ بَابٌ ؕ  بَاطِنُہٗ فِیۡہِ الرَّحۡمَۃُ وَظَاہِرُہٗ مِنۡ قِبَلِہِ الۡعَذَابُ ؕ

সে দিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীগণ মুমিনদেরকে বলবে, আমাদের জন্য একটু অপেক্ষা কর, যাতে তোমাদের নূর থেকে আমরাও কিছুটা আলো গ্রহণ করতে পারি। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও, তারপর নূর তালাশ কর। তারপর তাদের মাঝখানে স্থাপিত হবে একটি প্রাচীর। তার মধ্যে থাকবে একটি দরজা, যার অভ্যন্তরে থাকবে রহমত এবং বাইরে থাকবে শাস্তি।

یُنَادُوۡنَہُمۡ اَلَمۡ نَکُنۡ مَّعَکُمۡ ؕ قَالُوۡا بَلٰی وَلٰکِنَّکُمۡ فَتَنۡتُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ وَتَرَبَّصۡتُمۡ وَارۡتَبۡتُمۡ وَغَرَّتۡکُمُ الۡاَمَانِیُّ حَتّٰی جَآءَ اَمۡرُ اللّٰہِ وَغَرَّکُمۡ بِاللّٰہِ الۡغَرُوۡرُ

তারা মুমিনদেরকে ডেকে বলবে, আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না? মুমিনগণ বলবে, হা, ছিলে বটে, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদেরকে বিপদে ফেলেছ। তোমরা অপেক্ষা করছিলে, সন্দেহে নিপতিত ছিলে এবং মিথ্যা আশা তোমাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছিল যতক্ষণ না আল্লাহর হুকুম আসল। আর সেই মহা প্রতারক (অর্থাৎ শয়তান) তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করে যাচ্ছিল।

فَالۡیَوۡمَ لَا یُؤۡخَذُ مِنۡکُمۡ فِدۡیَۃٌ وَّلَا مِنَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا ؕ مَاۡوٰىکُمُ النَّارُ ؕ ہِیَ مَوۡلٰىکُمۡ ؕ وَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ

সুতরাং আজ তোমাদের থেকে কোন মুক্তিপণ গ্রহণ করা হবে না এবং তাদের থেকেও না, যারা (প্রকাশ্যে) কুফর অবলম্বন করেছিল। তোমাদের ঠিকানা জাহান্নাম। তা-ই তোমাদের আশ্রয়স্থল এবং তা অতি মন্দ পরিণাম।

اَلَمۡ یَاۡنِ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَنۡ تَخۡشَعَ قُلُوۡبُہُمۡ لِذِکۡرِ اللّٰہِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الۡحَقِّ ۙ وَلَا یَکُوۡنُوۡا کَالَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡکِتٰبَ مِنۡ قَبۡلُ فَطَالَ عَلَیۡہِمُ الۡاَمَدُ فَقَسَتۡ قُلُوۡبُہُمۡ ؕ وَکَثِیۡرٌ مِّنۡہُمۡ فٰسِقُوۡنَ

যারা ঈমান এনেছে, তাদের জন্য কি এখনও সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের অন্তর বিগলিত হবে? এবং তারা তাদের মত হবে না, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল অতঃপর যখন তাদের উপর দিয়ে দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হল, তখন তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেল এবং (আজ) তাদের অধিকাংশই অবাধ্য।

اِعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ یُحۡیِ الۡاَرۡضَ بَعۡدَ مَوۡتِہَا ؕ قَدۡ بَیَّنَّا لَکُمُ الۡاٰیٰتِ لَعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ

জেনে রেখ, আল্লাহই ভূমিকে তার মৃত্যুর পর জীবন দান করেন। আমি তোমাদের জন্য নিদর্শনাবলী সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে দিয়েছি, যাতে তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাও।

اِنَّ الۡمُصَّدِّقِیۡنَ وَالۡمُصَّدِّقٰتِ وَاَقۡرَضُوا اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا یُّضٰعَفُ لَہُمۡ وَلَہُمۡ اَجۡرٌ کَرِیۡمٌ

নিশ্চয়ই যারা দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী এবং যারা আল্লাহকে ঋণ দিয়েছে, উত্তম ঋণ, তাদের জন্য তা (অর্থাৎ সেই দান) বহু গুণ বৃদ্ধি করা হবে এবং তাদের জন্য আছে সম্মানজনক প্রতিদান।

وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰہِ وَرُسُلِہٖۤ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الصِّدِّیۡقُوۡنَ ٭ۖ  وَالشُّہَدَآءُ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕ  لَہُمۡ اَجۡرُہُمۡ وَنُوۡرُہُمۡ ؕ  وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَکَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَاۤ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ الۡجَحِیۡمِ ٪

যারা আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে, তারাই তাদের প্রতিপালকের কাছে সিদ্দীক ও শহীদ। তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিদান ও তাদের নূর। আর যারা কুফর অবলম্বন করেছে এবং আমার নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করেছে, তারাই জাহান্নামবাসী।

اِعۡلَمُوۡۤا اَنَّمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا لَعِبٌ وَّلَہۡوٌ وَّزِیۡنَۃٌ وَّتَفَاخُرٌۢ بَیۡنَکُمۡ وَتَکَاثُرٌ فِی الۡاَمۡوَالِ وَالۡاَوۡلَادِ ؕ کَمَثَلِ غَیۡثٍ اَعۡجَبَ الۡکُفَّارَ نَبَاتُہٗ ثُمَّ یَہِیۡجُ فَتَرٰىہُ مُصۡفَرًّا ثُمَّ یَکُوۡنُ حُطَامًا ؕ وَفِی الۡاٰخِرَۃِ عَذَابٌ شَدِیۡدٌ ۙ وَّمَغۡفِرَۃٌ مِّنَ اللّٰہِ وَرِضۡوَانٌ ؕ وَمَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ

জেনে রেখ, পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা, বাহ্যিক সাজসজ্জা, তোমাদের পারস্পরিক অহংকার প্রদর্শন এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে একে অন্যের উপরে থাকার প্রতিযোগিতারই নাম। তার উপমা হল বৃষ্টি, যা দ্বারা উদগত ফসল কৃষকদেরকে মুগ্ধ করে দেয়, তারপর তা তেজস্বী হয়ে ওঠে। তারপর তুমি দেখতে পাও তা হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। অবশেষে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। আর আখেরাতে (এক তো) আছে কঠিন শাস্তি এবং (আরেক আছে) আল্লাহর পক্ষ হতে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ ছাড়া কিছুই নয়।

سَابِقُوۡۤا اِلٰی مَغۡفِرَۃٍ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ وَجَنَّۃٍ عَرۡضُہَا کَعَرۡضِ السَّمَآءِ وَالۡاَرۡضِ ۙ اُعِدَّتۡ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا بِاللّٰہِ وَرُسُلِہٖ ؕ ذٰلِکَ فَضۡلُ اللّٰہِ یُؤۡتِیۡہِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَاللّٰہُ ذُو الۡفَضۡلِ الۡعَظِیۡمِ

তোমরা একে অন্যের অগ্রণী হওয়ার চেষ্টা কর তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাত লাভের জন্য, যার প্রশস্ততা আকাশ ও পৃথিবীর প্রশস্ততা তুল্য। তা প্রস্তুত করা হয়েছে এমন সব লোকের জন্য, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে চান দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।

مَاۤ اَصَابَ مِنۡ مُّصِیۡبَۃٍ فِی الۡاَرۡضِ وَلَا فِیۡۤ اَنۡفُسِکُمۡ اِلَّا فِیۡ کِتٰبٍ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ نَّبۡرَاَہَا ؕ  اِنَّ ذٰلِکَ عَلَی اللّٰہِ یَسِیۡرٌ ۚۖ

পৃথিবীতে অথবা তোমাদের প্রাণের উপর যে মুসিবত দেখা দেয়, তার মধ্যে এমন কোনওটিই নেই, যা সেই সময় থেকে এক কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই, যখন আমি সেই প্রাণসমূহ সৃষ্টিও করিনি। নিশ্চয়ই আল্লাহর পক্ষে এটা অতি সহজ।

لِّکَیۡلَا تَاۡسَوۡا عَلٰی مَا فَاتَکُمۡ وَلَا تَفۡرَحُوۡا بِمَاۤ اٰتٰىکُمۡ ؕ  وَاللّٰہُ لَا یُحِبُّ کُلَّ مُخۡتَالٍ فَخُوۡرِۣ ۙ

তা এই জন্য যে, তোমরা যা হারিয়েছ, তার জন্য যাতে দুঃখিত না হও এবং যা আল্লাহ তোমাদেরকে দান করেছেন তার জন্য উল্লসিত না হও। আল্লাহ এমন কোন ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না, যে দর্প দেখায় ও বড়ত্ব প্রকাশ করে।

الَّذِیۡنَ یَبۡخَلُوۡنَ وَیَاۡمُرُوۡنَ النَّاسَ بِالۡبُخۡلِ ؕ وَمَنۡ یَّتَوَلَّ فَاِنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡغَنِیُّ الۡحَمِیۡدُ

তারা এমন লোক, যারা কৃপণতা করে এবং অন্যকেও কৃপণতার নির্দেশ দেয়। কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে (সে জেনে রাখুক) আল্লাহ সকলের থেকে অনপেক্ষ, তিনি আপনিই প্রশংসার উপযুক্ত।

لَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا رُسُلَنَا بِالۡبَیِّنٰتِ وَاَنۡزَلۡنَا مَعَہُمُ الۡکِتٰبَ وَالۡمِیۡزَانَ لِیَقُوۡمَ النَّاسُ بِالۡقِسۡطِ ۚ  وَاَنۡزَلۡنَا الۡحَدِیۡدَ فِیۡہِ بَاۡسٌ شَدِیۡدٌ وَّمَنَافِعُ لِلنَّاسِ وَلِیَعۡلَمَ اللّٰہُ مَنۡ یَّنۡصُرُہٗ وَرُسُلَہٗ بِالۡغَیۡبِ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ قَوِیٌّ عَزِیۡزٌ ٪

বস্তুত আমি আমার রাসূলগণকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলীসহ পাঠিয়েছি এবং তাদের সঙ্গে নাযিল করেছি কিতাব ও তুলাদণ্ড, যাতে মানুষ ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং আমি অবতীর্ণ করেছি লোহা, যার ভেতর রয়েছে রণশক্তি এবং মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ। এটা এই জন্য যে, আল্লাহ জানতে চান, কে তাকে না দেখে তাঁর (দীনের) ও তাঁর রাসূলগণের সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাশক্তিমান ও সর্বময় ক্ষমতার মালিক।

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا نُوۡحًا وَّاِبۡرٰہِیۡمَ وَجَعَلۡنَا فِیۡ ذُرِّیَّتِہِمَا النُّبُوَّۃَ وَالۡکِتٰبَ فَمِنۡہُمۡ مُّہۡتَدٍ ۚ وَکَثِیۡرٌ مِّنۡہُمۡ فٰسِقُوۡنَ

আমি নূহ ও ইবরাহীমকে রাসূল বানিয়ে পাঠিয়েছিলাম এবং তাদের বংশধরদের মধ্যে নবুওয়াত ও কিতাবের ধারা চালু করেছিলাম। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যক তো হেদায়াতপ্রাপ্ত হল আর বিপুল সংখ্যকই অবাধ্য হয়ে থাকল।

ثُمَّ قَفَّیۡنَا عَلٰۤی اٰثَارِہِمۡ بِرُسُلِنَا وَقَفَّیۡنَا بِعِیۡسَی ابۡنِ مَرۡیَمَ وَاٰتَیۡنٰہُ الۡاِنۡجِیۡلَ ۬ۙ وَجَعَلۡنَا فِیۡ قُلُوۡبِ الَّذِیۡنَ اتَّبَعُوۡہُ رَاۡفَۃً وَّرَحۡمَۃً ؕ وَرَہۡبَانِیَّۃَۨ ابۡتَدَعُوۡہَا مَا کَتَبۡنٰہَا عَلَیۡہِمۡ اِلَّا ابۡتِغَآءَ رِضۡوَانِ اللّٰہِ فَمَا رَعَوۡہَا حَقَّ رِعَایَتِہَا ۚ فَاٰتَیۡنَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡہُمۡ اَجۡرَہُمۡ ۚ وَکَثِیۡرٌ مِّنۡہُمۡ فٰسِقُوۡنَ

অতঃপর আমি তাদেরই পদাঙ্কনুসারী করে পাঠাই আমার রাসূলগণকে এবং তাদের পেছনে পাঠালাম ঈসা ইবনে মারয়ামকে। আর তাকে দান করলাম ইনজিল। যারা তার অনুসরণ করল, আমি তাদের অন্তরে দিলাম মমতা ও দয়া। আর রাহবানিয়্যাতের যে বিষয়টা, তা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল। আমি তাদের উপর তা বাধ্যতামূলক করিনি। বস্তুত তারা (এর মাধ্যমে) আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানই করতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল, তাদেরকে আমি তাদের প্রতিদান দিয়েছিলাম। আর তাদের বহু সংখ্যক হয়ে থাকল অবাধ্য।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ وَاٰمِنُوۡا بِرَسُوۡلِہٖ یُؤۡتِکُمۡ کِفۡلَیۡنِ مِنۡ رَّحۡمَتِہٖ وَیَجۡعَلۡ لَّکُمۡ نُوۡرًا تَمۡشُوۡنَ بِہٖ وَیَغۡفِرۡ لَکُمۡ ؕ  وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ۚۙ

হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং তার রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তাহলে তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমতের দু’টি অংশ দান করবেন। তোমাদের জন্য সৃষ্টি করবেন এমন আলো, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

لِّئَلَّا یَعۡلَمَ اَہۡلُ الۡکِتٰبِ اَلَّا یَقۡدِرُوۡنَ عَلٰی شَیۡءٍ مِّنۡ فَضۡلِ اللّٰہِ وَاَنَّ الۡفَضۡلَ بِیَدِ اللّٰہِ یُؤۡتِیۡہِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ  وَاللّٰہُ ذُو الۡفَضۡلِ الۡعَظِیۡمِ ٪

তা এজন্য যে, যাতে কিতাবীগণ জানতে পারে, আল্লাহর অনুগ্রহের মধ্যে তাদের কিছুমাত্র এখতিয়ার নেই এবং সমস্ত অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।