জানাযা নামাযের ফযীলত, নিয়ম ও দু‘আ

ফযীলত: যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের জানাযার নামায পড়ে সে এক কিরাত অর্থাৎ উহুদ পাহাড় পরিমান সওয়াব পায়। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ২৮৭১)

নিয়ম: চার তাকবীরের সাথে জানাযার নামায পড়তে হয়। আমি এই ইমামের সাথে জানাযার ফরজ নামায পড়তেছি এভাবে নিয়ত করে প্রথম তাকবীর বলতে হবে অতঃপর সানা পড়ে ২য় তাকবীর, অতঃপর দুরূদ শরীফ পড়ে ৩য় তাকবীর, অতঃপর নিমোক্ত দু‘আ পড়ে ৪র্থ তাকবীর বলে সালাম ফিরাতে হয়।

বড়দের জানাযা নামাযে পড়ার দু‘আ:

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا، وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا، وَذَكَرِنَا وَاُنْثَانَا اَللّٰهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهٗ مِنَّا فَاَحْيِه عَلَى الْاِسْلَامِ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهٗ مِنَّا فَتَوَفَّهٗ عَلَى الْاِيْمَانِ.

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমা করো আমাদের জীবিতদেরকে, মৃতদেরকে, উপস্থিত ও অনুপস্থিতদেরকে, ছোট ও বড়দেরকে, পুরুষ ও নারীদেরকে। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখো তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ। যাকে মৃত্যু দান করো তাকে ঈমানের উপর মৃত্যু দান করো। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ১০২৪)

ছোটদের জানাযা নামাযে পড়ার দু‘আ

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطاً  وَّاجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَّذُخْرًا وَاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَّمُشَفَّعًا

অর্থ: হে আল্লাহ! এ বাচ্চাকে এমন বানাও যে, সে যেনো আমাদের পূর্বে তোমার কাছে পৌঁছে আমাদের জন্য নাজাত ও শান্তির ব্যবস্থাকারী হয়। তাকে আমাদের জন্য নেকীর ভা-ার বানাও তাকে আমাদের জন্য এমন সুপারিশকারী বানাও যার সুপারিশ তোমার দরবারে কবুল হয়। (হিদায়া ১/৯২, শামেলা)

বুখারী শরীফের এক বর্ণনায় দু‘আটি এভাবেও বর্ণিত হয়েছে

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطاً  وَّ سَلَفًا وَّ اَجْرًا

অর্থ: হে আল্লাহ! এ বাচ্চাকে এমন বানাও যে, সে যেনো আমাদের পূর্বে তোমার কাছে পৌঁছে আমাদের জন্য নাজাত ও শান্তির ব্যবস্থাকারী হয় এবং তাকে আমাদের জন্য সাওয়াবের মাধ্যম বানাও। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৩৩৫-এর পূর্বে)

লাশ কবরে রাখার দু‘আ

بِاسْمِ اللهِ وَعَلٰى مِلَّةِ رَسُوْلِ اللهِ

অর্থ: আল্লাহ তা‘আলার নামের সাথে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মিল্লাতের (সুন্নাতের) উপর (আমরা একে দাফন করছি)। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ৪৯৯০)

কবরে মাটি দেওয়ার সময়ে পড়ার দু‘আ

কোনো মুসলমানের লাশ দাফনের সময় কবরে তিনবার মাটি দেওয়া মুস্তাহাব।

প্রথমবার মাটি দেওয়ার সময় বলবে

مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি।

দ্বিতীয়বার বলবে وَفِيْهَا نُعِيْدُكُمْ এ মাটির মধ্যেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিবো।

তৃতীয়বার বলবে وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخْرٰى এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে পুনরায় উঠাবো (সৃষ্টি করবো)। (ফাতাওয়ায়ে শামী ৩/১৭৮, আল-আযকার লিন নববী ১/৪১৬)