كتاب اللباس

৬৩- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা

Chapter 63 · 178 hadith

৩০৬০. পোশাক-পরিচ্ছদ অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ বল, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের জন্য যেসব শোভার বস্তু সৃষ্টি করেছেন, তা নিষেধ করেছে কে? (আ'রাফঃ ৩২)।
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা খাও, পান কর, পরিধান কর এবং দান কর, তবে অপচয় ও অহংকার পরিহার করো।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, যা ইচ্ছা খাও, যা ইচ্ছা পরিধান কর, যতক্ষণ না দু’টো জিনিস তোমাকে বিভ্রান্ত করে- অপব্যয় ও অহংকার।

كِتَابُ اللِّبَاسِ بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ} [الأعراف: 32] وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كُلُوا وَاشْرَبُوا وَالبَسُوا وَتَصَدَّقُوا، فِي غَيْرِ إِسْرَافٍ وَلاَ مَخِيلَةٍ» وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: " كُلْ مَا شِئْتَ، وَالبَسْ مَا شِئْتَ [ص:141]، مَا أَخْطَأَتْكَ اثْنَتَانِ: سَرَفٌ، أَوْ مَخِيلَةٌ "

5367

5783 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، وَزَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ: يُخْبِرُونَهُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاَءَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩৬৭। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ সে ব্যক্তির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, যে অহংকারের সাথে তার (পরিধেয়) পোশাক টেনে চলে।

৩০৬১. যে ব্যক্তি বিনা অহংকারে তার লুঙ্গি ঝুলিয়ে চলে।

باب مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ مِنْ غَيْرِ خُيَلاَءَ

5368

5784 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلاَءَ لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ القِيَامَةِ» قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَحَدَ شِقَّيْ إِزَارِي يَسْتَرْخِي، إِلَّا أَنْ أَتَعَاهَدَ ذَلِكَ مِنْهُ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَسْتَ مِمَّنْ يَصْنَعُهُ خُيَلاَءَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩৬৮। আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... সালিম রাহঃ তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে নিজের পোশাক ঝুলিয়ে চলবে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার প্রতি (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না। তখন আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার লুঙ্গির এক পাশ ঝুলে থাকে যদি আমি তাতে গিরা না দেই। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নও, যারা অহংকার করে এরূপ করে।

5369

5785 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الحَسَنِ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: خَسَفَتِ الشَّمْسُ وَنَحْنُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَامَ يَجُرُّ ثَوْبَهُ مُسْتَعْجِلًا، حَتَّى أَتَى المَسْجِدَ، وَثَابَ النَّاسُ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَجُلِّيَ عَنْهَا، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا، وَقَالَ: «إِنَّ الشَّمْسَ وَالقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئًا فَصَلُّوا، وَادْعُوا اللَّهَ حَتَّى يَكْشِفَهَا»

Narrator: হযরত আবু বাকরা (রাঃ)

৫৩৬৯। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু বাকরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট ছিলাম, এমনসময় সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তখন তিনি ব্যস্ত হয়ে দাঁড়ালেন এবং কাপড় টেনে টেনে মসজিদে গিয়ে পৌছলেন। লোকজন সমবেত হল। তিনি দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। তখন সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেল। এরপর আমাদের দিকে ফিরে বললেনঃ চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন, যখন তোমরা এতে কোনকিছু হতে দেখ, তখন নামায আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাকবে, যতক্ষণ না তা উজ্জ্বল হয়ে যায়।

৩০৬২. কাপড়ের মধ্যে জড়িয়ে থাকা।

باب التَّشْمِيرِ فِي الثِّيَابِ

5370

5786 - حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شُمَيْلٍ، أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، أَخْبَرَنَا عَوْنُ بْنُ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ: فَرَأَيْتُ بِلاَلًا جَاءَ بِعَنَزَةٍ فَرَكَزَهَا، ثُمَّ أَقَامَ الصَّلاَةَ، فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «خَرَجَ فِي حُلَّةٍ مُشَمِّرًا، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ إِلَى العَنَزَةِ، وَرَأَيْتُ النَّاسَ وَالدَّوَابَّ يَمُرُّونَ بَيْنَ يَدَيْهِ مِنْ وَرَاءِ العَنَزَةِ»

Narrator: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৫৩৭০। ইসহাক (রাহঃ) ......... আবু জুহায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বিলাল (রাযিঃ) কে দেখলাম, তিনি একটি বর্শা নিয়ে এসেছেন এবং তা মাটিতে পুঁতে দিলেন। তারপর নামাযের ইকামত দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে দেখলাম, একটি চাদরের মধ্যে নিজেকে জড়িয়ে বের হয়ে আসলেন এবং বর্শার দিকে ফিরে দু’রাকআত নামায আদায় করলেন। আর মানুষ ও পশুকে দেখলাম, তারা তার সামনে দিয়ে বর্শার পিছন দিয়ে গমন করছে।

৩০৬৩. টাখনুর নীচে যা থাকবে তা জাহান্নামে যাবে।

باب مَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ فَهْوَ فِي النَّارِ

5371

5787 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ المَقْبُرِيُّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَا أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৩৭১। আদম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইযারের (লুঙ্গি) যে পরিমাণ টাখনুর নীচে যাবে, সে পরিমাণ জাহান্নামে যাবে।

৩০৬৪. যে ব্যক্তি অহংকারের সাথে কাপড় ঝুলিয়ে চলে।

باب مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ مِنَ الْخُيَلاَءِ

5372

5788 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَنْظُرُ اللَّهُ يَوْمَ القِيَامَةِ إِلَى مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًا»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৩৭২। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দিবেন না, যে ব্যক্তি অহংকারবশত ইযার (লুঙ্গি) ঝুলিয়ে পরে।

5373

5789 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ قَالَ أَبُو القَاسِمِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي فِي حُلَّةٍ، تُعْجِبُهُ نَفْسُهُ، مُرَجِّلٌ جُمَّتَهُ، إِذْ خَسَفَ اللَّهُ بِهِ، فَهُوَ يَتَجَلْجَلُ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৩৭৩। আদম (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ অথবা আবুল কাসিম ﷺ বলেছেনঃ এক ব্যক্তি চিত্তাকর্ষক জোড়া কাপড় পরে তার বাবরী চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে পথ চলছিল; হঠাৎ আল্লাহ তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেন। কিয়ামত পর্যন্ত সে এভাবে ধ্বসে যেতে থাকবে।

5374
5790 - حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُفَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ أَبَاهُ، حَدَّثَهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «بَيْنَا رَجُلٌ يَجُرُّ إِزَارَهُ، إِذْ خُسِفَ بِهِ، فَهُوَ يَتَجَلَّلُ فِي الأَرْضِ إِلَى يَوْمِ القِيَامَةِ» تَابَعَهُ يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَلَمْ يَرْفَعْهُ شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ،
حَدَّثَنِي [ص:142] عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ: أَخْبَرَنَا أَبِي، عَنْ عَمِّهِ جَرِيرِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ - عَلَى بَابِ دَارِهِ - فَقَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৩৭৪। সাঈদ ইবনে উফায়র (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এক ব্যক্তি তার লুঙ্গি পায়ের গোড়ালীর নীচে ঝুলিয়ে পথ চলছিল। এমনসময় তাকে মাটির নীচে ধ্বসিয়ে দেওয়া হয়। কিয়ামত পর্যন্ত সে মাটির নীচে ধ্বসে যেতে থাকবে।
ইউনুস, যুহরী থেকে এ হাদীস অনুরূপ বর্ণনা করেছেন কিন্তু শুআইব একে মারফুরূপে যুহরী থেকে বর্ণনা করেন নি।
5375

5790 - ........... حَدَّثَنِي [ص:142] عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ: حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ: أَخْبَرَنَا أَبِي، عَنْ عَمِّهِ جَرِيرِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ: كُنْتُ مَعَ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ - عَلَى بَابِ دَارِهِ - فَقَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৩৭৫। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... জারীর ইবনে যায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের সাথে তাঁর ঘরের দরজায় ছিলাম, তখন তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, তিনি নবী (ﷺ) কে (পূর্বের হাদীসের) অনুরূপ বলতে শুনেছেন।

5376

5791 - حَدَّثَنَا مَطَرُ بْنُ الفَضْلِ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: لَقِيتُ مُحَارِبَ بْنَ دِثَارٍ - عَلَى فَرَسٍ، وَهُوَ يَأْتِي مَكَانَهُ الَّذِي يَقْضِي فِيهِ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ هَذَا الحَدِيثِ - فَحَدَّثَنِي فَقَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ مَخِيلَةً لَمْ يَنْظُرِ اللَّهُ إِلَيْهِ يَوْمَ القِيَامَةِ» فَقُلْتُ لِمُحَارِبٍ: أَذَكَرَ إِزَارَهُ؟ قَالَ: مَا خَصَّ إِزَارًا وَلاَ قَمِيصًا تَابَعَهُ جَبَلَةُ بْنُ سُحَيْمٍ، وَزَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ، وَزَيْدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، مِثْلَهُ. وَتَابَعَهُ مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ، وَعُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَقُدَامَةُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩৭৬। মাতর ইবনে ফযল (রাহঃ) ......... শু'বা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি মুহারিব ইবনে দিসারের সাথে অশ্ব পৃষ্ঠে থাকা অবস্থায় সাক্ষাত করলাম। তখন তিনি বিচারালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন, আমি তাকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে বললেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অহংকারবশত কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, তার দিকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাকাবেন না। আমি বললামঃ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) কি ইযারের উল্লেখ করেছেন? তিনি বললেনঃ তিনি ইযার বা কামিস কোনটিই নির্দিষ্ট করে বলেননি।
জাবালা ইবনে সুহায়ম, যায়দ ইবনে আসলাম ও যায়দ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাঃ সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর লাঈস রাহঃ নাফি' (রাহঃ) এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং মুসা ইবনে উকবা, উমর ইবনে মুহাম্মাদ ও কুদামা ইবনে মুসা সালিম (রাহঃ) এর মাধ্যমে ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে جَرَّ ثَوْبَهُ বর্ণনায় তার অনুসরণ করেছেন।
৩০৬৫. ঝালরযুক্ত ইযার।
ইমাম যুহরী, আবু বকর ইবনে মুহাম্মাদ, হামযা ইবনে আবু উসায়দ ও মুআবিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর (রাহঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা ঝালরযুক্ত পোশাক পরিধান করেছেন।

بَابُ الإِزَارِ المُهَدَّبِ وَيُذْكَرُ عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَأَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، وَحَمْزَةَ بْنِ أَبِي أُسَيْدٍ، وَمُعَاوِيَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ: «أَنَّهُمْ لَبِسُوا ثِيَابًا مُهَدَّبَةً»

5377

5792 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: جَاءَتْ امْرَأَةُ رِفَاعَةَ القُرَظِيِّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا جَالِسَةٌ، وَعِنْدَهُ أَبُو بَكْرٍ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي كُنْتُ تَحْتَ رِفَاعَةَ فَطَلَّقَنِي فَبَتَّ طَلاَقِي، فَتَزَوَّجْتُ بَعْدَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ، وَإِنَّهُ وَاللَّهِ مَا مَعَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِلَّا مِثْلُ هَذِهِ الهُدْبَةِ، وَأَخَذَتْ هُدْبَةً مِنْ جِلْبَابِهَا، فَسَمِعَ خَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ قَوْلَهَا وَهُوَ بِالْبَابِ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ، قَالَتْ: فَقَالَ خَالِدٌ: يَا أَبَا بَكْرٍ، أَلاَ تَنْهَى هَذِهِ عَمَّا تَجْهَرُ بِهِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَلاَ وَاللَّهِ مَا يَزِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى التَّبَسُّمِ، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ، لاَ، حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ وَتَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ» فَصَارَ سُنَّةً بَعْدُ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৩৭৭। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রিফাআ কুরাযির স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসল। এ সময় আমি উপবিষ্ট ছিলাম এবং আবু বকর (রাযিঃ) তার কাছে ছিলেন। স্ত্রীলোকটি বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি রিফাআর অধীনে (বিবাহ বন্ধনে) ছিলাম। তিনি আমাকে তালাক দেন এবং চূড়ান্তভাবে তালাক (তিন তালাক) দেন। এরপর আমি আব্দুর রহমান ইবনে যাবিরকে বিবাহ করি, কিন্তু আল্লাহর কসম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার সাথে কাপড়ের ঝালরের ন্যায় ছাড়া কিছুই নেই। এ কথা বলার সময় স্ত্রীলোকটি তার চাদরের আচল ধরে দেখায়। খালিদ ইবনে সাইদ রাঃ যাকে তখনো (ভিতরে যাওয়ার) অনুমতি দেওয়া হয় নাই, দরজার কাছ থেকে স্ত্রীলোকটির কথা শুনেন। আয়েশা (রাযিঃ) বলেন, তখন খালিদ বললেন, হে আবু বকর! এ মহিলাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে জোরে জোরে এসব কথা বলছে, তা শুনে কেন আপনি তাকে বাঁধা দিচ্ছেন না? আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুচকি হাসলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্ত্রীলোকটিকে বললেনঃ মনে হয়, তুমি রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চাও?তা হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তোমার মধু আস্বাদন করবে এবং তুমি তার মধু আস্বাদন করবে। পরবর্তী সময়ে এটা বিধানে পরিণত হয়ে যায়।

৩০৬৬. চাদর পরিধান করা।
আনাস (রাযিঃ) বলেনঃ এক বেদুঈন নবী (ﷺ) এর চাদর টেনে ধরলো।

بَابُ الأَرْدِيَةِوَقَالَ أَنَسٌ: «جَبَذَ أَعْرَابِيٌّ رِدَاءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»

5378

5793 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، أَنَّ حُسَيْنَ بْنَ عَلِيٍّ، أَخْبَرَهُ: أَنَّ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «فَدَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرِدَائِهِ ثُمَّ انْطَلَقَ يَمْشِي، وَاتَّبَعْتُهُ أَنَا وَزَيْدُ بْنُ حَارِثَةَ، حَتَّى جَاءَ البَيْتَ الَّذِي فِيهِ حَمْزَةُ، فَاسْتَأْذَنَ فَأَذِنُوا لَهُمْ»

Narrator: হুসাইন ইবনে আলী (রাঃ)

৫৩৭৮। আবদান (রাহঃ) ......... হুসাইন ইবনে আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, আলী (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) তার চাঁদর আনতে বললেন। তিনি তা পরিধান করেন, এরপর হেঁটে চললেন। আমি ও যায়দ ইবনে হারিসা তার পিছনে চললাম। শেষে তিনি একটি ঘরের কাছে আসেন, যে ঘরে হামযা (রাযিঃ) ছিলেন। তিনি অনুমতি চাইলেন, তারা তাদের (আমাদের) অনুমতি দিলেন।

৩০৬৭. জামা পরিধান করা।
এবং ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর ঘটনা বর্ণনায় মহান আল্লাহর বাণীঃ তোমরা আমার এ জামাটি নিয়ে যাও, আর তা আমার পিতার মুখমণ্ডলে রাখ, তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন।

بَابُ لُبْسِ القَمِيصِ وَقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى حِكَايَةً عَنْ يُوسُفَ: {اذْهَبُوا بِقَمِيصِي [ص:143] هَذَا فَأَلْقُوهُ عَلَى وَجْهِ أَبِي يَأْتِ بَصِيرًا} [يوسف: 93]

5379

5794 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَجُلًا قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا يَلْبَسُ المُحْرِمُ مِنَ الثِّيَابِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ يَلْبَسُ المُحْرِمُ القَمِيصَ، وَلاَ السَّرَاوِيلَ، وَلاَ البُرْنُسَ، وَلاَ الخُفَّيْنِ، إِلَّا أَنْ لاَ يَجِدَ النَّعْلَيْنِ، فَلْيَلْبَسْ مَا هُوَ أَسْفَلُ مِنَ الكَعْبَيْنِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩৭৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলোঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুহরিম ব্যক্তি কী কাপড় পরিধান করবে? নবী (ﷺ) বললেনঃ মুহরিম জামা, পায়জামা, টুপি এবং মোজা পরবে না। তবে যদি সে জুতা সংগ্রহ করতে না পারে, তা হলে টাখনুর নীচ পর্যন্ত (মোজা) পরতে পারবে।

৩০৬৭. জামা পরিধান করা।

باب لُبْسِ الْقَمِيصِ

5380

5795 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَمْرٍو، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أُبَيٍّ بَعْدَ مَا أُدْخِلَ قَبْرَهُ، فَأَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ، وَوُضِعَ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، وَنَفَثَ عَلَيْهِ مِنْ رِيقِهِ، وَأَلْبَسَهُ قَمِيصَهُ، فَاللَّهُ أَعْلَمُ»

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৩৮০। আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে কবরে রাখার পর নবী (ﷺ) সেখানে এলেন। তার লাশ কবর থেকে উঠাবার নির্দেশ দিলেন। তখন লাশ কবর থেকে উঠানো হল এবং তার দু’ হাটুর উপর রাখা হলো। তিনি তার উপর থুথু দিলেন এবং তাকে নিজের জামা পরিয়ে দিলেন। আল্লাহই ভাল জানেন।

5381

5796 - حَدَّثَنَا صَدَقَةُ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أُبَيٍّ، جَاءَ ابْنُهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْطِنِي قَمِيصَكَ أُكَفِّنْهُ فِيهِ وَصَلِّ عَلَيْهِ، وَاسْتَغْفِرْ لَهُ. فَأَعْطَاهُ قَمِيصَهُ، وَقَالَ: «إِذَا فَرَغْتَ مِنْهُ فَآذِنَّا» فَلَمَّا فَرَغَ آذَنَهُ بِهِ، فَجَاءَ لِيُصَلِّيَ عَلَيْهِ، فَجَذَبَهُ عُمَرُ فَقَالَ: أَلَيْسَ قَدْ نَهَاكَ اللَّهُ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى المُنَافِقِينَ، فَقَالَ: {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ} [التوبة: 80] فَنَزَلَتْ: {وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ} [التوبة: 84] فَتَرَكَ الصَّلاَةَ عَلَيْهِمْ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩৮১। সাদাকা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ যখন আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই মারা যায়, তখন তার ছেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসে। সে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার জামাটি আমাকে দিন। আমি এ দিয়ে তাকে কবর দিব। আর তার জানাযার নামায আপনি আদায় করবেন এবং তার জন্য ইস্তিগফার করবেন। তিনি নিজের জামাটি তাকে দিয়ে দেন এবং বলেন যে, তুমি (কাফন পরানোর কাজ) সম্পন্ন করে আমাকে সংবাদ দিবে। তারপর তিনি (কাফন পরানোর) কাজ সেরে তাকে সংবাদ দিলেন। নবী (ﷺ) তার জানাযার নামায আদায় করতে এলেন। উমর (রাযিঃ) তাঁকে টেনে ধরে বললেনঃ আল্লাহ কি আপনাকে মুনাফিকদের (জানাযার) নামায আদায় করতে নিষেধ করেননি? তিনি এ আয়াতটি পড়লেনঃ তুমি ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না কর একই কথা। তুমি সত্তরবার ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ ওদের কখনোই ক্ষমা করবেন না। তখন নাযিল হয়ঃ ওদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও ওদের জন্য জানাযার নামায আদায় করবে না এবং কবরের পাশে দাঁড়াবে না। এরপর থেকে তিনি তাদের জানাযার নামায আদায় করা বর্জন করেন।

৩০৬৮. মাথা বের করার জন্য জামা ও অন্য পোশাকের বুকের অংশ ফাঁক রাখা।

باب جَيْبِ الْقَمِيصِ مِنْ عِنْدِ الصَّدْرِ وَغَيْرِهِ

5382

5797 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ الحَسَنِ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَثَلَ البَخِيلِ وَالمُتَصَدِّقِ، كَمَثَلِ رَجُلَيْنِ عَلَيْهِمَا جُبَّتَانِ مِنْ حَدِيدٍ، قَدِ اضْطُرَّتْ أَيْدِيهِمَا إِلَى ثُدِيِّهِمَا وَتَرَاقِيهِمَا، فَجَعَلَ المُتَصَدِّقُ كُلَّمَا تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ انْبَسَطَتْ عَنْهُ، حَتَّى تَغْشَى أَنَامِلَهُ وَتَعْفُوَ أَثَرَهُ، وَجَعَلَ البَخِيلُ كُلَّمَا هَمَّ بِصَدَقَةٍ قَلَصَتْ، وَأَخَذَتْ كُلُّ حَلْقَةٍ بِمَكَانِهَا» قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَأَنَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ بِإِصْبَعِهِ «هَكَذَا فِي جَيْبِهِ، فَلَوْ رَأَيْتَهُ يُوَسِّعُهَا وَلاَ تَتَوَسَّعُ» تَابَعَهُ ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، وَأَبُو الزِّنَادِ، عَنْ الأَعْرَجِ: «فِي الجُبَّتَيْنِ» وَقَالَ حَنْظَلَةُ: سَمِعْتُ طَاوُسًا: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ: «جُبَّتَانِ» وَقَالَ جَعْفَرُ بْنُ حَيَّانَ، عَنْ الأَعْرَجِ: «جُبَّتَانِ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৩৮২। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তিকে এমন দু’ব্যক্তির সাথে তুলনা করেন, যাদের পরিধানে লোহার দুটি বর্ম আছে। তাদের দুটি হাতই বুক ও ঘাড় পর্যন্ত পৌছে আছে। দানশীল ব্যক্তি যখন দান করে, তখন তার বর্মটি এমনভাবে প্রশস্ত হয় যে, তার পায়ের আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এবং (শরীরের চেয়ে লম্বা হওয়ার দরুন চলার সময়) পদচিহ্ন মুছে ফেলে। আর কৃপণ লোকটি যখন দান করতে ইচ্ছে করে, তখন তার বর্মটি শক্ত হয়ে যায় ও এক অংশ অন্য অংশের সাথে লেপ্টে থাকে এবং প্রতিটি অংশ স্ব-স্ব স্থানে থেকে যায়।
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে তার আঙ্গুল এভাবে বুকের দিক দিয়ে খোলা অংশের মধ্যে রেখে বলতে দেখেছি। তুমি যদি তা দেখতে, (তাহলে দেখতে যে,) তিনি তা প্রশস্ত করতে চাইলেন কিন্ত তা প্রশস্ত হল না।
ইবনে তাউস তার পিতা থেকে এবং আবু যিনাদ, আ'রাজ থেকে অনুরূপভাবে فِي الجُبَّتَيْنِ বর্ণনা করেন। হানযালা (রাহঃ) বলেনঃ আমি তাউসকে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে جُبَّتَانِ বলতে শুনেছি। আর জা'ফর আ'রাজের সূত্রেও جُبَّتَانِ বর্ণনা করেছেন।

৩০৬৯. যিনি সফরে সংকীর্ণ আস্তিন বিশিষ্ট জুব্বা পরিধান করেন।

باب مَنْ لَبِسَ جُبَّةً ضَيِّقَةَ الْكُمَّيْنِ فِي السَّفَرِ

5383

5798 - حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو الضُّحَى، قَالَ: حَدَّثَنِي مَسْرُوقٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي المُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ، قَالَ: «انْطَلَقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحَاجَتِهِ، ثُمَّ أَقْبَلَ، فَتَلَقَّيْتُهُ بِمَاءٍ، فَتَوَضَّأَ، وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ شَأْمِيَّةٌ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ [ص:144] وَغَسَلَ وَجْهَهُ، فَذَهَبَ يُخْرِجُ يَدَيْهِ مِنْ كُمَّيْهِ، فَكَانَا ضَيِّقَيْنِ، فَأَخْرَجَ يَدَيْهِ مِنْ تَحْتِ الجُبَّةِ فَغَسَلَهُمَا، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ وَعَلَى خُفَّيْهِ»

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৫৩৮৩। কায়স ইবনে হাফস (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ (তাবুক যুদ্ধের সময়) নবী (ﷺ) প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারতে বাইরে যান এবং তারপর ফিরে আসেন। আমি তাঁর নিকট পানি নিয়ে পৌছি। তিনি উযু করেন। তখন তার পরিধানে শাম দেশীয় (সিরিয়ার) জুব্বা ছিল। তিনি কুলী করেন, নাক পরিষ্কার করেন এবং তার মুখমণ্ডল ধৌত করেন। এরপর তিনি আস্তিন থেকে দু’হাত বের করতে থাকেন, কিন্তু আস্তিন দুটি ছিল সংকীর্ণ, তাই তিনি হাত দু’খানি জামার নীচ দিয়ে বের করে উভয় হাত ধৌত করেন। এরপর মাথা মাসাহ করেন এবং মোজার উপর মাসাহ করেন।

৩০৭০. যুদ্ধের সময় পশমী জামা পরিধান করা।

بَابُ لُبْسِ جُبَّةِ الصُّوفِ فِي الغَزْوِ

5384

5799 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ، عَنْ عَامِرٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ المُغِيرَةِ، عَنْ أَبِيهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فِي سَفَرٍ، فَقَالَ: «أَمَعَكَ مَاءٌ» قُلْتُ: نَعَمْ، فَنَزَلَ عَنْ رَاحِلَتِهِ، فَمَشَى حَتَّى تَوَارَى عَنِّي فِي سَوَادِ اللَّيْلِ، ثُمَّ جَاءَ، فَأَفْرَغْتُ عَلَيْهِ الإِدَاوَةَ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ، وَعَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ، فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يُخْرِجَ ذِرَاعَيْهِ مِنْهَا، حَتَّى أَخْرَجَهُمَا مِنْ أَسْفَلِ الجُبَّةِ، فَغَسَلَ ذِرَاعَيْهِ، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ أَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ، فَقَالَ: «دَعْهُمَا، فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ» فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا

Narrator: হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা (রাঃ)

৫৩৮৪। আবু নুআইম (রাহঃ) ......... মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (তাবুক) সফরে এক রাত্রে নবী (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেনঃ তোমার সাথে পানি আছে কি? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বাহন থেকে নামলেন এবং হেঁটে যেতে লাগলেন। তিনি এতদূর গেলেন যে, রাতের আধারে আমার থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ফিরে এলেন। আমি পাত্র থেকে তার (উযুর) পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি মুখমণ্ডল ও দু’হাত ধৌত করলেন। তার পরিধানে ছিল পশমের জুব্বা। তিনি তা থেকে হাত বের করতে পারলেন না, তাই জামার নীচ দিয়ে বের করলেন এবং দু’হাত ধৌত করলেন। তারপর মাথা মাসাহ করলেন। তারপর আমি তাঁর মোজা দুটি খুলতে ইচ্ছা করলাম। তিনি বললেনঃ ছেড়ে দাও। কেননা, আমি পবিত্র অবস্থায় তা পরিধান করেছি। তারপর তিনি মোজাদ্বয়ের উপর মাসাহ করলেন।

৩০৭১. কাবা ও রেশমী ফাররূজ, আর তাও এক প্রকার কাবাই ধরা হয়, এও বলা হয়, (ফাররূজ হলো,) যে জামার পিছনের দিকে ফাঁকা থাকে।

باب الْقَبَاءِ وَفَرُّوجِ حَرِيرٍ وَهْوَ الْقَبَاءُ وَيُقَالُ هُوَ الَّذِي لَهُ شَقٌّ مِنْ خَلْفِهِ

5385

5800 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ المِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ: قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَقْبِيَةً وَلَمْ يُعْطِ مَخْرَمَةَ شَيْئًا، فَقَالَ مَخْرَمَةُ: يَا بُنَيِّ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَانْطَلَقْتُ مَعَهُ، فَقَالَ: ادْخُلْ فَادْعُهُ لِي، قَالَ: فَدَعَوْتُهُ لَهُ، فَخَرَجَ إِلَيْهِ وَعَلَيْهِ قَبَاءٌ مِنْهَا، فَقَالَ: «خَبَأْتُ هَذَا لَكَ» قَالَ: فَنَظَرَ إِلَيْهِ، فَقَالَ: رَضِيَ مَخْرَمَةُ

Narrator: মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাঃ)

৫৩৮৫। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েকটি কাবা বণ্টন করেন, কিন্তু মাখরামাকে কিছুই দিলেন না। মাখরামা বললঃ হে আমার প্রিয় পুত্র, চল আমার সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে। আমি তার সঙ্গে গেলাম। তিনি বললেনঃ ভিতরে যাও এবং আমার জন্য নবী (ﷺ) এর কাছে আবেদন জানাও। মিসওয়ার বলেনঃ আমি তার (পিতার) জন্য আবেদন করলে তিনি মাখরামার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আসেন। তখন তার পরিধানে রেশমী কাবা ছিল। তিনি বললেনঃ তোমার জন্য এটি আমি লুকিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম। মিসওয়ার বলেনঃ এরপর নবী (ﷺ) তার দিকে তাকালেন এবং বললেনঃ মাখরামা এবার খুশী হয়েছে।

5386

5801 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ أَبِي الخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ: أُهْدِيَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرُّوجُ حَرِيرٍ فَلَبِسَهُ، ثُمَّ صَلَّى فِيهِ، ثُمَّ انْصَرَفَ، فَنَزَعَهُ نَزْعًا شَدِيدًا، كَالكَارِهِ لَهُ، ثُمَّ قَالَ: «لاَ يَنْبَغِي هَذَا لِلْمُتَّقِينَ» تَابَعَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، عَنِ اللَّيْثِ، وَقَالَ غَيْرُهُ: «فَرُّوجٌ حَرِيرٌ»

Narrator: হযরত উকবা ইবন আমির রাযি.

৫৩৮৬। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একটি রেশমী কাবা হাদিয়া দেওয়া হয়। তিনি তা পরিধান করেন এবং তা পরে নামায আদায় করেন। নামায শেষে তিনি তা খুব জোরে টেনে খুলে ফেললেন, যেন এটি তিনি অপছন্দ করছেন। এরপর বললেনঃ মুত্তাকীদের জন্য এটা শোভনীয় নয়। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, লাঈস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। অন্যরা বলেছেন, ‘ফাররুজ হারীর’ হলো রেশমী কাপড়।

৩০৭২. টুপির বর্ণনা।
মুসাদ্দাদ (রাহঃ) আমাকে বলেছেন যে, মু’তামির বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, তিনি আনাস (রাযিঃ) এর মাথায় হলুদ রেশমী টুপি দেখেছেন।

باب الْبَرَانِسِ وَقَالَ لِي مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، سَمِعْتُ أَبِي قَالَ، رَأَيْتُ عَلَى أَنَسٍ بُرْنُسًا أَصْفَرَ مِنْ خَزٍّ

5387

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنَ الثِّيَابِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَلْبَسُوا الْقُمُصَ، وَلاَ الْعَمَائِمَ، وَلاَ السَّرَاوِيلاَتِ، وَلاَ الْبَرَانِسَ، وَلاَ الْخِفَافَ، إِلاَّ أَحَدٌ لاَ يَجِدُ النَّعْلَيْنِ، فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ، وَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ، وَلاَ تَلْبَسُوا مِنَ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ زَعْفَرَانٌ وَلاَ الْوَرْسُ ".

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩৮৭। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুহরিম ব্যক্তি কি কি পোশাক পরবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা (ইহরাম অবস্থায়) জামা, পাগড়ী, পায়জামা, টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যে ব্যক্তির জুতা নেই, সে কেবল মোজা পরতে পারবে, কিন্তু উভয় মোজা টাখনুর নীচ থেকে কেটে ফেলবে। আর যাফরান ও ওয়ারস রং লেগেছে, এমন কাপড় পরবে না।

৩০৭৩. পায়জামার বর্ণনা।

باب السَّرَاوِيلِ

5388

5804 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ لَمْ يَجِدْ إِزَارًا فَلْيَلْبَسْ سَرَاوِيلَ، وَمَنْ لَمْ يَجِدْ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৩৮৮। আবু নুআয়ম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোকের ইযার (লুঙ্গি) নেই, সে যেন পায়জামা পরিধান করে। আর যার জুতা নেই, সে যেন মোজা পরে।

5389

5805 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ [ص:145] نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا تَأْمُرُنَا أَنْ نَلْبَسَ إِذَا أَحْرَمْنَا؟ قَالَ: «لاَ تَلْبَسُوا القَمِيصَ، وَالسَّرَاوِيلَ، وَالعَمَائِمَ، وَالبَرَانِسَ، وَالخِفَافَ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ رَجُلٌ لَيْسَ لَهُ نَعْلاَنِ فَلْيَلْبَسِ الخُفَّيْنِ أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ، وَلاَ تَلْبَسُوا شَيْئًا مِنَ الثِّيَابِ مَسَّهُ زَعْفَرَانٌ وَلاَ وَرْسٌ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩৮৯। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যখন ইহরাম অবস্থায় থাকি, তখন কী পোশাক পরার জন্য আমাদের নির্দেশ দেন? তিনি বললেনঃ তখন তোমরা জামা, পায়জামা, পাগড়ী, টুপি ও মোজা পরবে না। তবে যার জুতা নেই, সে টাখনুর নীচ থেকে মোজা পরবে। আর তোমরা এমন কোন কাপড়ই পরবে না, যাতে যাফরান বা ওয়ারস রং লেগেছে।

৩০৭৪. পাগড়ীর বর্ণনা।

بَابٌ فِي العَمَائِمِ

5390

5806 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَالِمٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَلْبَسُ المُحْرِمُ القَمِيصَ، وَلاَ العِمَامَةَ، وَلاَ السَّرَاوِيلَ، وَلاَ البُرْنُسَ، وَلاَ ثَوْبًا مَسَّهُ زَعْفَرَانٌ وَلاَ وَرْسٌ، وَلاَ الخُفَّيْنِ إِلَّا لِمَنْ لَمْ يَجِدِ النَّعْلَيْنِ، فَإِنْ لَمْ يَجِدْهُمَا فَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩৯০। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... সালিমের পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ী, পায়জামা ও টুপি পরতে পরবে না। যাফরান ও ওয়ারস দ্বারা রং করা কাপড়ও নয় এবং মোজাও নয়। তবে সে ব্যক্তির জন্য (এ নিষেধ) নয়, যার জুতা নেই। যদি সে জুতা না পায়, তাহলে উভয় মোজার টাখনুর নীচ থেকে কেটে নেবে।

৩০৭৫. চাদর বা অন্যকিছু দ্বারা মাথা ও মুখের অধিকাংশ অঙ্গ ঢেকে রাখা।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) একদা বাইরে আসলেন, তখন তাঁর (মাথার) উপর রুমাল ছিল ।
আনাস (রাযিঃ) বলেছেনঃ নবী (ﷺ) নিজ মাথা চাদরের এক পাশ দ্বারা বেঁধে রেখেছিলেন ।

بَابُ التَّقَنُّعِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ عِصَابَةٌ دَسْمَاءُ» وَقَالَ أَنَسٌ: «عَصَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَأْسِهِ حَاشِيَةَ بُرْدٍ»

5391

5807 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: هَاجَرَ نَاسٌ إِلَى الحَبَشَةِ مِنَ المُسْلِمِينَ، وَتَجَهَّزَ أَبُو بَكْرٍ مُهَاجِرًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَلَى رِسْلِكَ، فَإِنِّي أَرْجُو أَنْ يُؤْذَنَ لِي» فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَوَتَرْجُوهُ بِأَبِي أَنْتَ؟ قَالَ: «نَعَمْ» فَحَبَسَ أَبُو بَكْرٍ نَفْسَهُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصُحْبَتِهِ، وَعَلَفَ رَاحِلَتَيْنِ كَانَتَا عِنْدَهُ وَرَقَ السَّمُرِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ. قَالَ عُرْوَةُ: قَالَتْ عَائِشَةُ: فَبَيْنَا نَحْنُ يَوْمًا جُلُوسٌ فِي بَيْتِنَا فِي نَحْرِ الظَّهِيرَةِ، فَقَالَ قَائِلٌ لِأَبِي بَكْرٍ: هَذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُقْبِلًا مُتَقَنِّعًا، فِي سَاعَةٍ لَمْ يَكُنْ يَأْتِينَا فِيهَا، قَالَ أَبُو بَكْرٍ: فِدًا لَكَ أَبِي وَأُمِّي، وَاللَّهِ إِنْ جَاءَ بِهِ فِي هَذِهِ السَّاعَةِ إِلَّا لِأَمْرٍ، فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاسْتَأْذَنَ فَأَذِنَ لَهُ فَدَخَلَ، فَقَالَ حِينَ دَخَلَ لِأَبِي بَكْرٍ: «أَخْرِجْ مَنْ عِنْدَكَ» قَالَ: إِنَّمَا هُمْ أَهْلُكَ بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: «فَإِنِّي قَدْ أُذِنَ لِي فِي الخُرُوجِ» قَالَ: فَالصُّحْبَةُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: فَخُذْ بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِحْدَى رَاحِلَتَيَّ هَاتَيْنِ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بِالثَّمَنِ» قَالَتْ: فَجَهَّزْنَاهُمَا أَحَثَّ الجِهَازِ، وَضَعْنَا لَهُمَا سُفْرَةً فِي جِرَابٍ، فَقَطَعَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ قِطْعَةً مِنْ نِطَاقِهَا، فَأَوْكَأَتْ بِهِ الجِرَابَ، وَلِذَلِكَ كَانَتْ تُسَمَّى ذَاتَ النِّطَاقِ. ثُمَّ لَحِقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ بِغَارٍ فِي جَبَلٍ يُقَالُ لَهُ ثَوْرٌ، فَمَكُثَ فِيهِ ثَلاَثَ لَيَالٍ، يَبِيتُ عِنْدَهُمَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، وَهُوَ غُلاَمٌ شَابٌّ لَقِنٌ ثَقِفٌ، فَيَرْحَلُ مِنْ عِنْدِهِمَا سَحَرًا، فَيُصْبِحُ مَعَ قُرَيْشٍ بِمَكَّةَ كَبَائِتٍ، فَلاَ يَسْمَعُ أَمْرًا يُكَادَانِ بِهِ إِلَّا وَعَاهُ، حَتَّى يَأْتِيَهُمَا بِخَبَرِ ذَلِكَ حِينَ [ص:146] يَخْتَلِطُ الظَّلاَمُ، وَيَرْعَى عَلَيْهِمَا عَامِرُ بْنُ فُهَيْرَةَ مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ مِنْحَةً مِنْ غَنَمٍ، فَيُرِيحُهَا عَلَيْهِمَا حِينَ تَذْهَبُ سَاعَةٌ مِنَ العِشَاءِ، فَيَبِيتَانِ فِي رِسْلِهِمَا حَتَّى يَنْعِقَ بِهَا عَامِرُ بْنُ فُهَيْرَةَ بِغَلَسٍ، يَفْعَلُ ذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ مِنْ تِلْكَ اللَّيَالِي الثَّلاَثِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৩৯১। ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কিছুসংখ্যক মুসলিম হাবশায় হিজরত করেন। এসময় আবু বকর (রাযিঃ) হিজরত করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি একটু অপেক্ষা কর; কেননা, মনে হয় আমাকেও (হিজরতের) আদেশ দেওয়া হবে। আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, আপনিও কি এ আশা পোষণ করেন? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আবু বকর (রাযিঃ) নবী (ﷺ) এর সঙ্গ লাভের আশায় নিজেকে সংবরন করে রাখেন এবং তার মালিকানাধীন দুটি সওয়ারীকে চারমাস যাবত সামুর বৃক্ষের পাতা ভক্ষণ করান।
উরওয়া (রাহঃ) বর্ণনা করেন, আয়েশা রাঃ বলেছেন যে, একদিন ঠিক দুপুরের সময় আমরা আমাদের ঘরে বসে আছি। এ সময় এক ব্যক্তি আবু বকর (রাযিঃ) কে বলল, এই যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুখমণ্ডল ঢেকে এগিয়ে আসছেন। এমন সময় তিনি এসেছেন, যেসময় তিনি সাধারণত আমাদের কাছে আসেন না। আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আমার মাতা পিতা তার উপর কুরবান হোক, আল্লাহর কসম! এমনসময় তিনি একটি বড় কাজ নিয়েই এসে থাকবেন। নবী (ﷺ) এসে পড়লেন। তিনি অনুমতি চাইলেন, তাকে অনুমতি দেওয়া হলো। তিনি প্রবেশ করলেন। প্রবেশের সময় আবু বকর (রাযিঃ) কে বললেনঃ তোমার কাছে যারা আছে, তাদের সরিয়ে দাও। তিনি বললেনঃ আমার পিতা আপনার উপর কুরবান হোক, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এরা তো আপনারই পরিবারের লোক।
নবী (ﷺ) বললেনঃ আমাকে হিজরতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ তাহলে আমি কি আপনার সঙ্গী হবো ইয়া রাসূলাল্লাহ? আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান হোক। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমার এদুটি সওয়ারীর একটি গ্রহণ করুন। নবী (ﷺ) বললেনঃ মুল্যের বিনিময়ে (নিতে রাযী আছি)। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ তাঁদের উভয়ের জন্য আমরা সফরের আসবাবপত্র প্রস্তুত করলাম এবং সফরকালের নাস্তা তৈরী করে একটি চামড়ার থলের মধ্যে রাখলাম। আবু বকর (রাযিঃ)-এর কন্যা আসমা তার ওড়নার এক অংশ ছিড়ে থলের মুখ বেঁধে দিলেন। এ কারণে তাকে যাতুন নিতাক (ওড়না ওয়ালী) নামে ডাকা হতো। এরপর নবী (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) সাওর নামক পর্বতের গুহায় পৌছেন। তথায় তিনরাত অতিবাহিত করেন। আবু বকর (রাযিঃ) এর পুত্র আব্দুল্লাহ তাদের সঙ্গে রাত্রি যাপন করতেন। তিনি ছিলেন সুচতুর বুদ্ধিমান যুবক। তিনি তাদের কাছ থেকে রাতের শেষ ভাগে চলে আসতেন এবং ভোর বেলা কুরাইশদের সাথে মিশে যেতেন, যেন তাদের মধ্যেই তিনি রাত্রি যাপন করেছেন। তিনি কারও থেকে ষড়যন্ত্রমূলক কোনকিছু শুনলে তা মনে রাখতেন এবং রাতের আধার ছড়িয়ে পড়লে দিনের সব খবর তিনি তাদের দু’জনের কাছে পৌছে দিতেন।
আবু বকর (রাযিঃ) এর দাস আমির ইবনে ফুহায়রা তাদের আশপাশে দুধওয়ালা বকরী চরিয়ে বেড়াতেন! রাতের এক ঘণ্টা অতিবাহিত হলে তিনি তাদের নিকট ছাগল নিয়ে যেতেন (দুধ পান করাবার জন্য)। তারা দুজনে (আমির ও আব্দুল্লাহ) সে গুহাতেই রাত কাটাতেন। ভোরে অন্ধকার থাকতেই আমির ইবনে ফুহায়রা ছাগল নিয়ে চলে আসতেন। ঐ তিন রাতের প্রতি রাতেই তিনি এরূপ করেছিলেন।

৩০৭৬. লৌহ শিরস্ত্রাণ।

باب الْمِغْفَرِ

5392

5808 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «دَخَلَ مَكَّةَ عَامَ الفَتْحِ وَعَلَى رَأْسِهِ المِغْفَرُ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৩৯২। আবুল ওয়ালীদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) মক্কা বিজয়ের বছর যখন মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তার মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ ছিল।

৩০৭৭. ডোরাওয়ালা চাদর, কারুকার্যময় ইয়ামানী চাদর ও চাদরের আঁচলের বিবরণ।
খাব্বাব (রাযিঃ) বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করেছিলাম, তখন তিনি ডোরাওয়ালা চাদরে হেলান দিয়ে বসেছিলেন।

باب الْبُرُودِ وَالْحِبَرَةِ وَالشَّمْلَةِ وَقَالَ خَبَّابٌ شَكَوْنَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهْوَ مُتَوَسِّدٌ بُرْدَةً لَهُ

5393

5809 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ بُرْدٌ نَجْرَانِيٌّ غَلِيظُ الحَاشِيَةِ» ، فَأَدْرَكَهُ أَعْرَابِيٌّ فَجَبَذَهُ بِرِدَائِهِ جَبْذَةً شَدِيدَةً، حَتَّى «نَظَرْتُ إِلَى صَفْحَةِ عَاتِقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَثَّرَتْ بِهَا حَاشِيَةُ البُرْدِ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ» ، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مُرْ لِي مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي عِنْدَكَ، «فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ ضَحِكَ، ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৩৯৩। ইসমাঈল ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে চলছিলাম। এ সময় তার পরিধানে চওড়া পাড় বিশিষ্ট একটি নাজরানী ডোরাদার চাঁদর ছিল। একজন বেদুইন তার কাছে এলো। সে তার চাদর ধরে খুব জোরে টান দিল। এমনকি আমি দেখতে পেলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাঁধে চাদরের পাড়ের দাগ পড়ে গেছে। তারপর সে বললঃ হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট আল্লাহর যে সম্পদ আছে, তা থেকে আমাকে কিছু দিতে বলুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার দিকে ফিরে তাকিয়ে হাসলেন এবং তাকে কিছু দান করার নির্দেশ দিলেন।

৩০৭৭. ডোরাওয়ালা চাদর, কারুকার্যময় ইয়ামানী চাদর ও চাদরের আঁচলের বিবরণ।

باب الْبُرُودِ وَالْحِبَرَةِ وَالشَّمْلَةِ

5394

5810 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ بِبُرْدَةٍ، قَالَ سَهْلٌ: هَلْ تَدْرِي مَا البُرْدَةُ؟ قَالَ: نَعَمْ، هِيَ الشَّمْلَةُ مَنْسُوجٌ فِي حَاشِيَتِهَا، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي نَسَجْتُ هَذِهِ بِيَدِي أَكْسُوكَهَا، فَأَخَذَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُحْتَاجًا إِلَيْهَا، فَخَرَجَ إِلَيْنَا وَإِنَّهَا لَإِزَارُهُ، فَجَسَّهَا رَجُلٌ مِنَ القَوْمِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اكْسُنِيهَا، قَالَ: «نَعَمْ» فَجَلَسَ مَا شَاءَ اللَّهُ فِي المَجْلِسِ، ثُمَّ رَجَعَ فَطَوَاهَا، ثُمَّ أَرْسَلَ بِهَا إِلَيْهِ، فَقَالَ لَهُ القَوْمُ: مَا أَحْسَنْتَ، سَأَلْتَهَا إِيَّاهُ، وَقَدْ عَرَفْتَ أَنَّهُ لاَ يَرُدُّ سَائِلًا، فَقَالَ الرَّجُلُ: وَاللَّهِ مَا سَأَلْتُهَا إِلَّا لِتَكُونَ كَفَنِي يَوْمَ أَمُوتُ. قَالَ سَهْلٌ: فَكَانَتْ كَفَنَهُ

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৫৩৯৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন স্ত্রীলোক একটি বুরদা নিয়ে এলো। সাহল (রাযিঃ) বললেনঃ তোমরা জানো বুরদা কী? একজন উত্তর দিল, হ্যাঁ, বুরদা হলো এমন চাঁদর যার পাড় কারুকার্যময়। স্ত্রী লোকটি বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এটি আমার নিজের হাতে বুনেছি আপনাকে পরিধান করাবার জন্য। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা গ্রহণ করলেন। তখন তার এর প্রয়োজনও ছিল। এরপর তিনি আমাদের কাছে বেরিয়ে আসলেন। তখন সে চাদরটি ইযার হিসেবে তাঁর পরিধানে ছিল। দলের এক ব্যক্তি হাত দিয়ে চাঁদরটি স্পর্শ করল এবং বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এটি পরতে দিন। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মজলিসে বসলেন, যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা ছিলো, তারপরে উঠে গেলেন এবং চাঁদরটি ভাজ করে এ ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দিলেন। উপস্থিত লোকেরা বললোঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এটি চেয়ে তুমি ভাল করনি। তুমি তো জানো যে, কোন প্রার্থীকে তিনি ফিরিয়ে দেন না। লোকটি বললঃ আল্লাহর কসম! আমি কেবল এজন্যই চেয়েছি যে, যেদিন আমার মৃত্যু হবে, সে দিন যেন এ চাদরটি আমার কাফন হয়। সাহল (রাযিঃ) বলেনঃ এটিই তার কাফন হয়েছিল।

5395

5811 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ المُسَيِّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «يَدْخُلُ الجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي زُمْرَةٌ هِيَ سَبْعُونَ أَلْفًا، تُضِيءُ وُجُوهُهُمْ إِضَاءَةَ القَمَرِ» فَقَامَ عُكَاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ الأَسَدِيُّ، يَرْفَعُ نَمِرَةً عَلَيْهِ، قَالَ: ادْعُ اللَّهَ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ مِنْهُمْ» ثُمَّ قَامَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ: «سَبَقَكَ عُكَاشَةُ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৩৯৫। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজারের একটি দল (বিনা হিসাবে) জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের মুখমণ্ডল চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল হবে। উক্কাশা ইবনে মিহসান রাঃ তার পরিহিত রঙিন ডোরাযুক্ত চাদর উপরে তুলে ধরে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর নিকট আমার জন্য দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি দুআ করলেনঃ ইয়া আল্লাহ! একে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করুন। তারপর আনসারদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাড়িয়ে বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আল্লাহর নিকট দুআ করুন, যেন তিনি আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নবী (ﷺ) বললেনঃ উক্কাশা তোমার অগ্রবর্তী হয়ে গেছে।

5396

5812 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قُلْتُ لَهُ: أَيُّ الثِّيَابِ كَانَ أَحَبَّ إِلَى [ص:147] النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَلْبَسَهَا؟ قَالَ: «الحِبَرَةُ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৩৯৬। আমর ইবনে আসিম (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলামঃ কোন জাতীয় কাপড় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট বেশী প্রিয় ছিল? তিনি বললেনঃ হিবারা- সবুজ ইয়ামানী চাদর।

5397

5813 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، حَدَّثَنَا مُعَاذٌ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «كَانَ أَحَبُّ الثِّيَابِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَلْبَسَهَا الحِبَرَةَ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৩৯৭। আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল আসওয়াদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিবারা ইয়ামানী চাঁদর পরিধান করতে বেশী পছন্দ করতেন।

5398

5814 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَتْهُ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تُوُفِّيَ سُجِّيَ بِبُرْدٍ حِبَرَةٍ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৩৯৮। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর পত্নী আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইন্‌তিকাল করেন, তখন ইয়ামানী হিবারা চাঁদর দ্বারা তাঁকে ঢেকে রাখা হয়।

৩০৭৮. কম্বল ও কারুকার্যময় চাঁদর পরিধান করা।

باب الأَكْسِيَةِ وَالْخَمَائِصِ

5399

حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ، رضى الله عنهم قَالاَ لَمَّا نَزَلَ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم طَفِقَ يَطْرَحُ خَمِيصَةً لَهُ عَلَى وَجْهِهِ، فَإِذَا اغْتَمَّ كَشَفَهَا عَنْ وَجْهِهِ، فَقَالَ وَهْوَ كَذَلِكَ " لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ ". يُحَذِّرُ مَا صَنَعُوا.

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৩৯৯। ইয়াহয়া ইবনে বুকায়র (রাহঃ) ......... আয়েশা ও আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত, তখন তিনি তার কারুকার্যময় চাঁদর দ্বারা মুখমণ্ডল ঢেকে রাখেন। যখন তার শ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসত, তখন তার মুখ থেকে তা সরিয়ে নিতেন। এমতাবস্থায় তিনি ইরশাদ করেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদ বানিয়েছে। তাদের কর্মের কথা উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করছিলেন।

5400

5818 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ: أَخْرَجَتْ إِلَيْنَا عَائِشَةُ كِسَاءً وَإِزَارًا غَلِيظًا، فَقَالَتْ: «قُبِضَ رُوحُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَيْنِ»

Narrator: আবু বুরদা আশআরী (রহঃ)

৫৪০০। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আবু বুরদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আয়েশা (রাযিঃ) একবার একখানা কম্বল ও মোটা ইযার আমাদের সামনে বের করেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ দুটি পরিহিত অবস্থায় নবী (ﷺ) এর রূহ কবজ করা হয়।

5401

5817 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي خَمِيصَةٍ لَهُ لَهَا أَعْلاَمٌ، فَنَظَرَ إِلَى أَعْلاَمِهَا نَظْرَةً، فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ: «اذْهَبُوا بِخَمِيصَتِي هَذِهِ إِلَى أَبِي جَهْمٍ، فَإِنَّهَا أَلْهَتْنِي آنِفًا عَنْ صَلاَتِي، وَأْتُونِي بِأَنْبِجَانِيَّةِ أَبِي جَهْمِ بْنِ حُذَيْفَةَ بْنِ غَانِمٍ، مِنْ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪০১। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার চাঁদর গায়ে দিয়ে নামায আদায় করলেন। চাঁদরটি ছিল কারুকার্যখচিত। তিনি কারুকার্যের দিকে একবার তাকালেন, তারপর সালাম ফিরিয়ে বললেনঃ এ চাদরটি আবু জাহমের কাছে নিয়ে যাও। কারণ একটু আগে তা আমায় নামায থেকে অন্যমনস্ক করে দিয়েছে। আর আবু জাহমের আম্বিজানিয়্যা (কারুকার্যবিহীন চাদর)-টি আমার জন্য নিয়ে এসো। (যুহরী বলেনঃ) আবু জাহম ইবনে হুযাইফা ইবনে গানিম, তিনি হচ্ছেন আদি ইবনে কা'ব গোত্রের লোক।

৩০৭৯. কাপড় মুড়ি দিয়ে বসা।

باب اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ

5402

5819 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ خُبَيْبٍ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: " نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ المُلاَمَسَةِ وَالمُنَابَذَةِ، وَعَنْ صَلاَتَيْنِ: بَعْدَ الفَجْرِ حَتَّى تَرْتَفِعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ العَصْرِ حَتَّى تَغِيبَ، وَأَنْ يَحْتَبِيَ بِالثَّوْبِ الوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى فَرْجِهِ مِنْهُ شَيْءٌ بَيْنَهُ وَبَيْنَ السَّمَاءِ، وَأَنْ يَشْتَمِلَ الصَّمَّاءَ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪০২। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ‘মুলামাসা’ ও ‘মুনাবাযা’ ধরনের ক্রয় বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন এবং দু’সময়ে নামায আদায় করা থেকেও নিষেধ করেছেন অর্থাৎ ফজরের (নামাযের) পর সূর্য উপরে উঠা পর্যন্ত এবং আসরের (নামাযের) পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত। আরও নিষেধ করেছেন একটি মাত্র কাপড় এমনভাবে পড়তে, যাতে লজ্জাস্থানের উপরে তার ও আকাশের মাঝখানে আর কিছুই থাকে না। আর তিনি কাপড় মুড়ি দিয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।

5403

5820 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ، قَالَ: «نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ لِبْسَتَيْنِ وَعَنْ بَيْعَتَيْنِ، نَهَى عَنِ المُلاَمَسَةِ وَالمُنَابَذَةِ فِي البَيْعِ» وَالمُلاَمَسَةُ: لَمْسُ الرَّجُلِ ثَوْبَ الآخَرِ بِيَدِهِ بِاللَّيْلِ أَوْ بِالنَّهَارِ وَلاَ يُقَلِّبُهُ إِلَّا بِذَلِكَ. وَالمُنَابَذَةُ: أَنْ يَنْبِذَ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ بِثَوْبِهِ، وَيَنْبِذَ الآخَرُ ثَوْبَهُ، وَيَكُونَ [ص:148] ذَلِكَ بَيْعَهُمَا عَنْ غَيْرِ نَظَرٍ وَلاَ تَرَاضٍ، وَاللِّبْسَتَيْنِ: اشْتِمَالُ الصَّمَّاءِ، وَالصَّمَّاءُ: أَنْ يَجْعَلَ ثَوْبَهُ عَلَى أَحَدِ عَاتِقَيْهِ، فَيَبْدُو أَحَدُ شِقَّيْهِ لَيْسَ عَلَيْهِ ثَوْبٌ. وَاللِّبْسَةُ الأُخْرَى: احْتِبَاؤُهُ بِثَوْبِهِ وَهُوَ جَالِسٌ، لَيْسَ عَلَى فَرْجِهِ مِنْهُ شَيْءٌ

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৪০৩। ইয়াহয়া ইবনে বুকায়র (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’প্রকার কাপড় পরিধান করতে ও দু প্রকার ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। ক্রয়-বিক্রয়ে তিনি ‘মূলামাসা’ ও ‘মুনাবাযা’ থেকে নিষেধ করেছেন। মুলামাসা হল, রাতে বা দিনে একজন অপরজনের কাপড় হাত দিয়ে স্পর্শ করা। এইটুকু ছাড়া তা আর উলট-পালট করে দেখে না। আর মুনাবাযা হল, এক লোক অন্যলোকের প্রতি তার কাপড় নিক্ষেপ করা। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিও তার কাপড় নিক্ষেপ করা, এবং এর দ্বারাই তাদের ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হওয়া, পণ্য দেখাদেখি ও পারস্পরিক সম্মতি ব্যতিরেকেই। আর দু’প্রকার পোশাক পরিধানের থেকে নিষেধ করেছেন। (এর এক প্রকার হচ্ছে) ইশতিমালুস-সাম্মা। তা হল, এক কাঁধের উপর কাপড় এমনভাবে রাখা, যাতে অন্য কাঁধ খালি থাকে, কোন কাপড় থাকে না। পোশাক পরার অন্য প্রকারটি হচ্ছে, বসা অবস্থায় নিজের কাপড় দ্বারা নিজেকে এমনভাবে ঘিরে রাখা, যাতে লজ্জাস্থানের উপর কাপড়ের কোন অংশ না থাকে।

৩০৮০. এক কাপড়ে পেঁচিয়ে বসা।

باب الاِحْتِبَاءِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ

5404

5821 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: " نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ لِبْسَتَيْنِ: أَنْ يَحْتَبِيَ الرَّجُلُ فِي الثَّوْبِ الوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى فَرْجِهِ مِنْهُ شَيْءٌ، وَأَنْ يَشْتَمِلَ بِالثَّوْبِ الوَاحِدِ لَيْسَ عَلَى أَحَدِ شِقَّيْهِ، وَعَنِ المُلاَمَسَةِ وَالمُنَابَذَةِ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪০৪। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’ধরনের কাপড় পরতে নিষেধ করেছেন। এক কাপড়ে পুরুষের এমনভাবে পেঁচিয়ে থাকা যে, তার লজ্জাস্থানের উপর সে কাপড়ের কোন অংশই থাকে না।
আর একটি কাপড় এমনভাবে পেঁচিয়ে পরা যে, শরীরের এক অংশ খোলা থাকে। আর ‘মুলামাসা’ ও ‘মুনাবাযা’ থেকেও (তিনি নিষেধ করেছেন)।
5405

5822 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَخْلَدٌ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَهَى عَنِ اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ، وَأَنْ يَحْتَبِيَ الرَّجُلُ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ، لَيْسَ عَلَى فَرْجِهِ مِنْهُ شَيْءٌ»

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৪০৫। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) নিষেধ করেছেন শরীরের একপাশ খোলা রেখে অন্যপাশ ঢেকে পরতে। আর এক কাপড়ে পুরুষকে এমনভাবে ঢেকে বসতে, যাতে তার লজ্জাস্থানের উপর ঐ কাপড়ের কোন অংশ না থাকে।

৩০৮১. নকশীদার কালো চাদর।

باب الْخَمِيصَةِ السَّوْدَاءِ

5406

5823 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَبِيهِ سَعِيدِ بْنِ فُلاَنٍ هُوَ عَمْرُو بْنُ سَعِيدِ بْنِ العَاصِ، عَنْ أُمِّ خَالِدٍ بِنْتِ خَالِدٍ: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثِيَابٍ فِيهَا خَمِيصَةٌ سَوْدَاءُ صَغِيرَةٌ، فَقَالَ: «مَنْ تَرَوْنَ أَنْ نَكْسُوَ هَذِهِ» فَسَكَتَ القَوْمُ، قَالَ: «ائْتُونِي بِأُمِّ خَالِدٍ» فَأُتِيَ بِهَا تُحْمَلُ، فَأَخَذَ الخَمِيصَةَ بِيَدِهِ فَأَلْبَسَهَا، وَقَالَ: «أَبْلِي وَأَخْلِقِي» وَكَانَ فِيهَا عَلَمٌ أَخْضَرُ أَوْ أَصْفَرُ، فَقَالَ: «يَا أُمَّ خَالِدٍ، هَذَا سَنَاهْ» وَسَنَاهْ بِالحَبَشِيَّةِ حَسَنٌ

Narrator: উম্মে খালিদ বিনতে খালিদ ইবনে সাঈদ (রাঃ)

৫৪০৬। আবু নুআইম (রাহঃ) ......... উম্মে খালিদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কিছু কাপড় নিয়ে আসা হয়। তার মধ্যে কিছু কালো নকশীদার ছোট চাদর ছিল। তিনি বললেনঃ আমরা এগুলো পরিধান করব, তোমাদের মত কি? উপস্থিত সবাই নীরব থাকলো। তারপর তিনি বললেনঃ উম্মে খালিদকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তাকে বহন করে আনা হল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের হাতে একটি চাদর নিলেন এবং তাকে পরিয়ে দিলেন। এরপর বললেনঃ (এটি) তুমি পুরান কর ও ছিড়ে ফেল (অর্থাৎ তুমি দীর্ঘজীবী হও)। ঐ চাদরে সবুজ অথবা হলুদ রংয়ের নকশা ছিল। তিনি বললেনঃ হে উম্মে খালিদ! এ খানি কত সুন্দর! তিনি হাবশী ভাষায় বললেনঃ সানাহ অর্থাৎ সুন্দর।

5407

5824 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: " لَمَّا وَلَدَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ، قَالَتْ لِي: يَا أَنَسُ، انْظُرْ هَذَا الغُلاَمَ، فَلاَ يُصِيبَنَّ شَيْئًا حَتَّى تَغْدُوَ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَنِّكُهُ، فَغَدَوْتُ بِهِ، فَإِذَا هُوَ فِي حَائِطٍ، وَعَلَيْهِ خَمِيصَةٌ حُرَيْثِيَّةٌ، وَهُوَ يَسِمُ الظَّهْرَ الَّذِي قَدِمَ عَلَيْهِ فِي الفَتْحِ "

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪০৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ উম্মে সুলায়ম (রাযিঃ) যখন একটি সন্তান প্রসব করলেন, তখন আমাকে জানালেন, হে আনাস! শিশুটিকে দেখ, যেন সে কিছু না খায়, যতক্ষণ না তুমি একে নবী (ﷺ) এর নিকট নিয়ে যাও, তিনি এর তাহনীক করবেন। আমি তাকে নিয়ে গেলাম। দেখলাম, তিনি একটা বাগানের মধ্যে আছেন, আর তার পরিধানে হুরায়সিয়্যা নামক চাদর রয়েছে। তিনি যে উটে করে মক্কা বিজয়ের দিন অভিযানে গিয়েছিলেন, তার পিঠে তিনি ছিলেন।

৩০৮২. সবুজ পোশাকের বর্ণনা।

باب ثِيَابِ الْخُضْرِ

5408

5825 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ: أَنَّ رِفَاعَةَ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ، فَتَزَوَّجَهَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الزَّبِيرِ القُرَظِيُّ، قَالَتْ عَائِشَةُ: وَعَلَيْهَا خِمَارٌ أَخْضَرُ، فَشَكَتْ إِلَيْهَا وَأَرَتْهَا خُضْرَةً بِجِلْدِهَا، فَلَمَّا جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالنِّسَاءُ يَنْصُرُ بَعْضُهُنَّ بَعْضًا، قَالَتْ عَائِشَةُ: مَا رَأَيْتُ مِثْلَ مَا يَلْقَى المُؤْمِنَاتُ؟ لَجِلْدُهَا أَشَدُّ خُضْرَةً مِنْ ثَوْبِهَا. قَالَ: وَسَمِعَ أَنَّهَا قَدْ أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَاءَ وَمَعَهُ ابْنَانِ لَهُ مِنْ غَيْرِهَا، قَالَتْ: وَاللَّهِ مَا لِي إِلَيْهِ مِنْ ذَنْبٍ، إِلَّا أَنَّ مَا مَعَهُ لَيْسَ بِأَغْنَى عَنِّي مِنْ هَذِهِ، وَأَخَذَتْ هُدْبَةً مِنْ ثَوْبِهَا، فَقَالَ: كَذَبَتْ وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ [ص:149]، إِنِّي لَأَنْفُضُهَا نَفْضَ الأَدِيمِ، وَلَكِنَّهَا نَاشِزٌ، تُرِيدُ رِفَاعَةَ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فَإِنْ كَانَ ذَلِكِ لَمْ تَحِلِّي لَهُ، أَوْ: لَمْ تَصْلُحِي لَهُ حَتَّى يَذُوقَ مِنْ عُسَيْلَتِكِ " قَالَ: وَأَبْصَرَ مَعَهُ ابْنَيْنِ لَهُ، فَقَالَ: «بَنُوكَ هَؤُلاَءِ» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: «هَذَا الَّذِي تَزْعُمِينَ مَا تَزْعُمِينَ، فَوَاللَّهِ، لَهُمْ أَشْبَهُ بِهِ مِنَ الغُرَابِ بِالْغُرَابِ»

Narrator: ইকরিমা (রহঃ)

৫৪০৮। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইকরিমা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, রিফাআ তার স্ত্রীকে তালাক দেয়। পরে আব্দুর রহমান ইবনে যাবির কুরাযী তাকে বিবাহ করেন। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ তার গায়ে একটি সবুজ রংয়ের ওড়না ছিল। তিনি আয়েশা (রাযিঃ) এর নিকট অভিযোগ করলেন এবং (স্বামীর প্রহারের দরুন) নিজের গায়ের চামড়ার সবুজ বর্ণ দেখালেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এলেন, -আর স্ত্রীলোকেরা একে অন্যের সহযোগিতা করে থাকে- তখন আয়েশা (রাযিঃ) বললেনঃ কোন মু'মিন মহিলাকে এমনভাবে প্রহারিত হতে আমি কখনও দেখিনি। মহিলাটির চামড়া তার কাপড়ের চেয়ে অধিক সবুজ হয়ে গেছে। বর্ণনাকারী বলেনঃ আব্দুর রহমান শুনতে পেল যে, তার স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসেছে। সুতরাং সেও তার অন্য স্ত্রীর দুটি ছেলের সাথে করে এলো। স্ত্রীলোকটি বললঃ আল্লাহর কসম! তার উপর আমার এছাড়া আর কোন অভিযোগ নেই যে, তার কাছে যা আছে, তা আমাকে এ জিনিসের চেয়ে বেশী তৃপ্তি দেয় না। এ বলে তার কাপড়ের আচল ধরে দেখালো।
আব্দুর রহমান বললঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে মিথ্যা বলেছে, আমি তাকে ধোলাই করি চামড়া ধোলাই করার ন্যায়। (অর্থাৎ পূর্ণ শক্তির সাথে দীর্ঘস্থায়ী সঙ্গম করি)। কিন্তু সে অবাধ্য স্ত্রী, রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চায়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ব্যাপার যদি তাই হয়, তাহলে রিফাআ তোমার জন্য হালাল হবে না, অথবা তুমি তার উপযুক্ত হতে পার না, যতক্ষণ না আব্দুর রহমান তোমার সুধা আস্বাদন করবে। বর্ণনাকারী বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আব্দুর রহমানের সাথে তার পুত্রদ্বয়কে দেখে বললেনঃ এরা কি তোমার পুত্র? সে বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ এটিই আসল ব্যাপার, যেজন্য স্ত্রীলোকটি এরূপ করছে। আল্লাহর কসম, কাকের সাথে কাকের যেমন সাদৃশ্য থাকে, তার চেয়েও অধিক মিল রয়েছে ওদের সাথে এর (অর্থাৎ আব্দুর রহমানের সাথে তার পুত্রদের)।

৩০৮৩. সাদা পোশাকের বর্ণনা।

باب الثِّيَابِ الْبِيضِ

5409

5826 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ: «رَأَيْتُ بِشِمَالِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَمِينِهِ رَجُلَيْنِ، عَلَيْهِمَا ثِيَابٌ بِيضٌ يَوْمَ أُحُدٍ، مَا رَأَيْتُهُمَا قَبْلُ وَلاَ بَعْدُ»

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৫৪০৯। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ উহুদের দিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ডানে ও বামে দুজন পুরুষ লোককে দেখতে পেলাম। তাদের পরিধানে সাদা পোশাক ছিল। তাদের এর আগেও কখনো দেখিনি আর পরেও দেখিনি।

5410

5827 - حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، عَنِ الحُسَيْنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ يَعْمَرَ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا الأَسْوَدِ الدُّؤَلِيَّ حَدَّثَهُ: أَنَّ أَبَا ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حَدَّثَهُ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ ثَوْبٌ أَبْيَضُ، وَهُوَ نَائِمٌ، ثُمَّ أَتَيْتُهُ وَقَدِ اسْتَيْقَظَ، فَقَالَ: " مَا مِنْ عَبْدٍ قَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ إِلَّا دَخَلَ الجَنَّةَ " قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ» قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ» قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ عَلَى رَغْمِ أَنْفِ أَبِي ذَرٍّ» وَكَانَ أَبُو ذَرٍّ إِذَا حَدَّثَ بِهَذَا قَالَ: وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ أَبِي ذَرٍّ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: هَذَا عِنْدَ المَوْتِ، أَوْ قَبْلَهُ إِذَا تَابَ وَنَدِمَ، وَقَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، غُفِرَ لَهُ

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৫৪১০। আবু মা’মার (রাহঃ) ......... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর নিকট আসলাম। তার পরিধানে তখন সাদা পোশাক ছিল। তখন তিনি নিদ্রিত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর আবার এলাম, তখন তিনি জেগে গেছেন। তিনি বললেনঃ যেকোন বান্দা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে এবং এ অবস্থার উপরে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললামঃ সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে? তিনি বললেনঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে তবুও? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে তবুও। আমি বললামঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও? তিনি বললেনঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও। আবু যরের নাসিকা ধূলাচ্ছন্ন হলেও। আবু যর (রাযিঃ) যখনই এ হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন আবু যরের নাসিকা ধূলাচ্ছন্ন হলেও বাক্যটি বলতেন।
আবু আব্দুল্লাহ বুখারী রাহঃ বলেন, এ কথা প্রযোজ্য হয় মৃত্যুর সময় বা তার পূর্বে যখন সে তাওবা করে ও লজ্জিত হয় এবং লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে, তখন তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।

৩০৮৪. পুরুষের জন্য রেশমী পোশাক পরিধান করা, রেশমী চাদর বিছানো এবং কী পরিমাণ রেশমী কাপড় ব্যবহার বৈধ।

باب لُبْسِ الْحَرِيرِ، وَافْتِرَاشِهِ لِلرِّجَالِ، وَقَدْرِ مَا يَجُوزُ مِنْهُ

5411

5828 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عُثْمَانَ النَّهْدِيَّ: أَتَانَا كِتَابُ عُمَرَ، وَنَحْنُ مَعَ عُتْبَةَ بْنِ فَرْقَدٍ بِأَذْرَبِيجَانَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " نَهَى عَنِ الحَرِيرِ إِلَّا هَكَذَا، وَأَشَارَ بِإِصْبَعَيْهِ اللَّتَيْنِ تَلِيَانِ الإِبْهَامَ، قَالَ: فِيمَا عَلِمْنَا أَنَّهُ يَعْنِي الأَعْلاَمَ "

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৫৪১১। আদম (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু উসমান নাহদী রাহঃ থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমাদের কাছে উমর (রাযিঃ) এর এক পত্র আসে, এ সময় আমরা উতবা ইবনে ফারকাদের সঙ্গে আজারবাইজানে অবস্থান করছিলাম। (তাতে লেখা ছিল) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রেশম ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, তবে এতটুকু এবং ইশারা করলেন, বৃদ্ধা আঙ্গুলের সাথে মিলিত দু আঙ্গুল দ্বারা। (বর্ণনাকারী বলেনঃ) আমরা বুঝলাম যে, (বৈধতার পরিমাণ) জানিয়ে তিনি পাড় ইত্যাদি উদ্দেশ্য করেছেন।

5412

5829 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، قَالَ: كَتَبَ إِلَيْنَا عُمَرُ، وَنَحْنُ بِأَذْرَبِيجَانَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «نَهَى عَنْ لُبْسِ الحَرِيرِ إِلَّا هَكَذَا، وَصَفَّ لَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِصْبَعَيْهِ، وَرَفَعَ زُهَيْرٌ الوُسْطَى وَالسَّبَّابَةَ»

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৫৪১২। আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আবু উসমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আজারবাইজানে ছিলাম। এ সময় উমর (রাযিঃ) আমাদের কাছে পত্র লিখে পাঠান যে, নবী (ﷺ) রেশমী কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন; কিন্তু এতটুকু এবং নবী (ﷺ) তাঁর দুআঙ্গুল দ্বারা এর পরিমাণ আমাদের বলে দিয়েছেন। যুহাইর মধ্যমা ও শাহাদাত আঙ্গুল তুলে ধরে দেখিয়েছেন।

5413

5830 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، قَالَ: كُنَّا مَعَ عُتْبَةَ فَكَتَبَ إِلَيْهِ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يُلْبَسُ الحَرِيرُ فِي الدُّنْيَا إِلَّا لَمْ يُلْبَسْ فِي الآخِرَةِ مِنْهُ» حَدَّثَنَا الحَسَنُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ وَأَشَارَ أَبُو عُثْمَانَ، بِإِصْبَعَيْهِ: المُسَبِّحَةِ وَالوُسْطَى

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৫৪১৩। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আবু উসমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত যে, আমরা উতবার সাথে ছিলাম। উমর (রাযিঃ) তার কাছে লিখে পাঠান যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যাকে আখিরাতে রেশম পরিধান করানো হবে না, সে ব্যতীত অন্য কেউ দুনিয়ায় রেশম পরিধান করবে না। হাসান ইবনে উমর (রাহঃ) ......... আবু উসমান (রাহঃ) তার দুআঙ্গুল অর্থাৎ শাহাদাত ও মধ্যমা দ্বারা ইঙ্গিত করলেন।

5414

5831 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، قَالَ: كَانَ حُذَيْفَةُ، بِالْمَدَايِنِ، فَاسْتَسْقَى، فَأَتَاهُ دِهْقَانٌ بِمَاءٍ فِي إِنَاءٍ [ص:150] مِنْ فِضَّةٍ، فَرَمَاهُ بِهِ وَقَالَ: إِنِّي لَمْ أَرْمِهِ إِلَّا أَنِّي نَهَيْتُهُ فَلَمْ يَنْتَهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الذَّهَبُ وَالفِضَّةُ، وَالحَرِيرُ وَالدِّيبَاجُ، هِيَ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا، وَلَكُمْ فِي الآخِرَةِ»

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৫৪১৪। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইবনে আবু লায়লা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ হুযাইফা (রাযিঃ) মাদাইনে অবস্থানরত ছিলেন। তিনি পানি পান করতে চাইলেন। এক গ্রাম্যলোক একটি রূপার পাত্রে কিছু পানি নিয়ে আসল। হুযাইফা (রাযিঃ) তা ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেনঃ আমি ছুঁড়ে মারতাম না; কিন্তু আমি তাকে নিষেধ করেছি, সে নিবৃত হয়নি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সোনা, রূপা, পাতলা ও মোটা রেশম তাদের জন্য (কাফিরদের জন্য) দুনিয়ায় এবং তোমাদের (মুসলিমদের) জন্য পরকালে।

5415

5832 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ شُعْبَةُ: فَقُلْتُ: أَعَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ شَدِيدًا: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «مَنْ لَبِسَ الحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا فَلَنْ يَلْبَسَهُ فِي الآخِرَةِ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪১৫। আদম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, –শু'বা (রাহঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ এ কথা কি নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত? তিনি জোর দিয়ে বললেনঃ হ্যাঁ! নবী (ﷺ) থেকেই বর্ণিত– যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরিধান করবে, সে আখিরাতে তা কখনও পরিধান করতে পারবে না।
সুলাইমান..... ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরিধান করবে, সে আখিরাতে তা কখনও পরিধান করতে পারবে না।
5416

5834 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الجَعْدِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي ذِبْيَانَ خَلِيفَةَ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ الزُّبَيْرِ، يَقُولُ: سَمِعْتُ عُمَرَ، يَقُولُ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَبِسَ الحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا لَمْ يَلْبَسْهُ فِي الآخِرَةِ» وَقَالَ أَبُو مَعْمَرٍ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، عَنْ يَزِيدَ، قَالَتْ مُعَاذَةُ: أَخْبَرَتْنِي أُمُّ عَمْرٍو بِنْتُ عَبْدِ اللَّهِ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ: سَمِعَ عُمَرَ: سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৫৪১৬। আলী ইবনে জা’দ (রাহঃ) ......... উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যেলোক দুনিয়ায় রেশমী কাপড় পরবে, পরকালে সে তা পরবে না।
আবু মা'মার সূত্রে…..... উমর (রাযিঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
5417

5835 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ المُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حِطَّانَ، قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ الحَرِيرِ فَقَالَتْ: ائْتِ ابْنَ عَبَّاسٍ فَسَلْهُ، قَالَ: فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ: سَلْ ابْنَ عُمَرَ، قَالَ: فَسَأَلْتُ ابْنَ عُمَرَ، فَقَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو حَفْصٍ يَعْنِي عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا يَلْبَسُ الحَرِيرَ فِي الدُّنْيَا مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ فِي الآخِرَةِ» فَقُلْتُ: صَدَقَ، وَمَا كَذَبَ أَبُو حَفْصٍ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ: حَدَّثَنَا حَرْبٌ، عَنْ يَحْيَى، حَدَّثَنِي عِمْرَانُ، وَقَصَّ الحَدِيثَ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪১৭। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইমরান ইবনে হিত্তান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা (রাযিঃ) এর নিকট রেশম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকটে যাও এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা কর। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেনঃ ইবনে উমরের রাঃ নিকট জিজ্ঞাসা কর। আমি ইবনে উমর রাঃ কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেনঃ আবু হাফস অর্থাৎ উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ দুনিয়ায় রেশমী কাপড় সে ব্যক্তিই পরিধান করে, যার আখিরাতে কোন অংশ নেই। আমি বললামঃ তিনি সত্য বলেছেন। আবু হাফস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর উপর মিথ্যা আরোপ করেননি।
আব্দুল্লাহ ইবনে রাজা (রাহঃ) ......... ইমরানের সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩০৮৫. পরিধান না করে রেশমী কাপড় কেবল স্পর্শ করা। এ সম্পর্কে যুবায়দী সূত্রে আনাস (রাযিঃ) থেকে নবী (ﷺ) এর হাদীস বর্ণিত আছে।

باب مَسِّ الْحَرِيرِ مِنْ غَيْرِ لُبْسٍ وَيُرْوَى فِيهِ عَنِ الزُّبَيْدِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

5418

5836 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ البَرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: أُهْدِيَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَوْبُ حَرِيرٍ، فَجَعَلْنَا نَلْمُسُهُ وَنَتَعَجَّبُ مِنْهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتَعْجَبُونَ مِنْ هَذَا» قُلْنَا: نَعَمْ، قَالَ: «مَنَادِيلُ سَعْدِ بْنِ مُعَاذٍ فِي الجَنَّةِ خَيْرٌ مِنْ هَذَا»

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৫৪১৮। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... বারা’ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী (ﷺ) এর জন্য একখানা রেশমী কাপড় হাদিয়া পাঠানো হলো। আমরা তা স্পর্শ করলাম এবং ( তার বৈশিষ্ট্যে) বিস্ময় প্রকাশ করলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা এতে বিস্ময় প্রকাশ করছো? আমরা বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ জান্নাতে সা’দ ইবনে মুআযের রুমাল এর চাইতে উত্তম হবে।

৩০৮৬. রেশমী কাপড় বিছানো। আবীদা রাহঃ বলেন, এটা পরিধানেরই সমতুল্য।

بَابُ افْتِرَاشِ الحَرِيرِ وَقَالَ عَبِيدَةُ: «هُوَ كَلُبْسِهِ»

5419

5837 - حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «نَهَانَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَشْرَبَ فِي آنِيَةِ الذَّهَبِ وَالفِضَّةِ، وَأَنْ نَأْكُلَ فِيهَا، وَعَنْ لُبْسِ الحَرِيرِ [ص:151] وَالدِّيبَاجِ، وَأَنْ نَجْلِسَ عَلَيْهِ»

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৫৪১৯। আলী (রাহঃ) ......... হুযায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের সোনা ও রূপার পাত্রে পানাহার করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি মোটা ও মিহিন রেশমী কাপড় পরিধান করতে ও তাতে বসতে বারণ করেছেন।

৩০৮৭. কাসসী পরিধান করা।
আসিম আবু বুরদা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আলী (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কাসসী’ কী? তিনি বললেন, এটা এক প্রকার কাপড়, যা শাম (সিরিয়া) অথবা মিশর থেকে আমাদের দেশে আমদানী হয়ে থাকে। তার চওড়া দিক থেকে নকশা করা হয়, তাতে রেশম থাকে এবং উৎরুনজের মত তা কারুকার্যখচিত হয়। আর মীসারা এমন বস্ত্র, যা স্ত্রীলোকেরা তাদের স্বামীদের জন্য প্রস্তুত করে, মখমলের চাদরের মত তা হলুদ বর্ণের করা হয়ে থাকে।
জারীর ইয়াযীদ থেকে বর্ণনা করেন, -তাঁর বর্ণনায় আছে- কাসসী হল নকশাদার কাপড়, যা মিশর থেকে আমদানী হয়, তাতে রেশম থাকে। আর মীছারা হলো হিংস্র জন্তুর চামড়া (দিয়ে বুনা কাপড়)।
আবু আব্দুল্লাহ বুখারী বলেন, মীছারার সংজ্ঞায় আসিমের বর্ণনা অধিকতর বিশুদ্ধ।

بَابُ لُبْسِ القَسِّيِّ وَقَالَ عَاصِمٌ: عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، قَالَ: قُلْتُ: لِعَلِيٍّ: مَا القَسِّيَّةُ؟ قَالَ: ثِيَابٌ أَتَتْنَا مِنَ الشَّأْمِ، أَوْ مِنْ مِصْرَ، مُضَلَّعَةٌ فِيهَا حَرِيرٌ وَفِيهَا أَمْثَالُ الأُتْرُنْجِ، وَالمِيثَرَةُ: كَانَتِ النِّسَاءُ تَصْنَعُهُ لِبُعُولَتِهِنَّ، مِثْلَ القَطَائِفِ يُصَفِّرْنَهَا " وَقَالَ جَرِيرٌ: عَنْ يَزِيدَ فِي حَدِيثِهِ: القَسِّيَّةُ: ثِيَابٌ مُضَلَّعَةٌ يُجَاءُ بِهَا مِنْ مِصْرَ فِيهَا الحَرِيرُ، وَالمِيثَرَةُ: جُلُودُ السِّبَاعِ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: «عَاصِمٌ أَكْثَرُ وَأَصَحُّ فِي المِيثَرَةِ»

5420

5838 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ أَبِي الشَّعْثَاءِ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، عَنِ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ: «نَهَانَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ المَيَاثِرِ الحُمْرِ وَالقَسِّيِّ»

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৫৪২০। মুহাম্মাদ ইবনে মুকাতিল (রাহঃ) ......... বারা' ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের লাল রংয়ের মীছারা ও কাসসী পরতে নিষেধ করেছেন।

৩০৮৮. চর্মরোগের কারণে পুরুষের জন্য রেশমী কাপড়ের অনুমতি।

باب مَا يُرَخَّصُ لِلرِّجَالِ مِنَ الْحَرِيرِ لِلْحِكَّةِ

5421

5839 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «رَخَّصَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلزُّبَيْرِ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ فِي لُبْسِ الحَرِيرِ، لِحِكَّةٍ بِهِمَا»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪২১। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যুবায়র ও আব্দুর রহমান (রাযিঃ) কে তাদের চর্মরোগের কারণে রেশমী কাপড় পরার অনুমতি দিয়েছিলেন।

৩০৮৯. মহিলাদের রেশমী কাপড় পরিধান করা।

باب الْحَرِيرِ لِلنِّسَاءِ

5422

5840 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ المَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «كَسَانِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُلَّةً سِيَرَاءَ، فَخَرَجْتُ فِيهَا، فَرَأَيْتُ الغَضَبَ فِي وَجْهِهِ، فَشَقَّقْتُهَا بَيْنَ نِسَائِي»

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৫৪২২। সুলাইমান ইবনে হারব ও মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে একটি রেশমী হুল্লা (সেলাই বিহীন লুঙ্গি ও চাঁদরের একজোড়া কাপড়) পরতে দেন। আমি তা পরে বের হই। কিন্তু তাঁর (নবী ﷺ এর) চেহারায় অসন্তোষের ভাব লক্ষ্য করি। সুতরাং আমি তা ফেঁড়ে আমার পরিবারের মহিলাদের মধ্যে বণ্টন করে দেই।

5423

5841 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنِي جُوَيْرِيَةُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ: أَنَّ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ رَأَى حُلَّةً سِيَرَاءَ تُبَاعُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَوِ ابْتَعْتَهَا تَلْبَسُهَا لِلْوَفْدِ إِذَا أَتَوْكَ وَالجُمُعَةِ؟ قَالَ: «إِنَّمَا يَلْبَسُ هَذِهِ مَنْ لاَ خَلاَقَ لَهُ» وَأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ بَعْدَ ذَلِكَ إِلَى عُمَرَ حُلَّةً سِيَرَاءَ حَرِيرٍ كَسَاهَا إِيَّاهُ، فَقَالَ عُمَرُ: كَسَوْتَنِيهَا، وَقَدْ سَمِعْتُكَ تَقُولُ فِيهَا مَا قُلْتَ؟ فَقَالَ: «إِنَّمَا بَعَثْتُ إِلَيْكَ لِتَبِيعَهَا، أَوْ تَكْسُوَهَا»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪২৩। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, উমর (রাযিঃ) একটি রেশমী হুল্লা (সেলাই বিহীন লুঙ্গি ও চাঁদরের একজোড়া কাপড়) বিক্রি হতে দেখে বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি যদি এটি খরীদ করে নিতেন, তাহলে যখন কোন প্রতিনিধিদল আপনার কাছে আসে, তখন এবং জুমআর দিনে তা পরিধান করতে পারতেন। তিনি বললেনঃ এটা সে ব্যক্তিই পরতে পারে, যার আখিরাতে কোন অংশ নেই। পরবর্তী সময়ে নবী (ﷺ) উমর (রাযিঃ) এর নিকট ডোরাকাটা রেশমী হুল্লা হাদিয়া পাঠান। তিনি কেবল তাকেই পরতে দেন। উমর (রাযিঃ) বললেনঃ আপনি এখন আমাকে এটা পরতে দিয়েছেন, অথচ এ সম্পর্কে যা বলার তা আমি আপনাকে বলতে শুনেছি। তিনি বললেনঃ আমি তোমার কাছে এটা এজন্য পাঠিয়েছি যে, তুমি এটি বিক্রি করে দিবে অথবা অন্য কাউকে পরতে দিবে।

5424

5842 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: «أَنَّهُ رَأَى عَلَى أُمِّ كُلْثُومٍ عَلَيْهَا السَّلاَمُ، بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، بُرْدَ حَرِيرٍ سِيَرَاءَ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪২৪। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কন্যা উম্মে কুলসুমের পরিধানে হালকা নকশা করা রেশমী চাদর দেখেছেন।

৩০৯০. নবী (ﷺ) কী ধরনের পোশাক ও বিছানা গ্রহণ করতেন।

باب مَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَتَجَوَّزُ مِنَ اللِّبَاسِ وَالْبُسْطِ

5425

5843 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: لَبِثْتُ سَنَةً وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَ عُمَرَ، عَنِ المَرْأَتَيْنِ اللَّتَيْنِ تَظَاهَرَتَا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَعَلْتُ أَهَابُهُ، فَنَزَلَ يَوْمًا مَنْزِلًا فَدَخَلَ الأَرَاكَ، فَلَمَّا خَرَجَ سَأَلْتُهُ فَقَالَ: عَائِشَةُ وَحَفْصَةُ، ثُمَّ قَالَ: كُنَّا فِي الجَاهِلِيَّةِ لاَ نَعُدُّ النِّسَاءَ شَيْئًا، فَلَمَّا جَاءَ الإِسْلاَمُ وَذَكَرَهُنَّ اللَّهُ، رَأَيْنَا لَهُنَّ بِذَلِكَ عَلَيْنَا حَقًّا، مِنْ غَيْرِ أَنْ نُدْخِلَهُنَّ فِي شَيْءٍ مِنْ أُمُورِنَا، وَكَانَ بَيْنِي وَبَيْنَ امْرَأَتِي كَلاَمٌ، فَأَغْلَظَتْ لِي، فَقُلْتُ لَهَا: وَإِنَّكِ لَهُنَاكِ؟ قَالَتْ: تَقُولُ هَذَا لِي وَابْنَتُكَ تُؤْذِي النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَيْتُ حَفْصَةَ فَقُلْتُ لَهَا: إِنِّي أُحَذِّرُكِ أَنْ تَعْصِي اللَّهَ وَرَسُولَهُ، وَتَقَدَّمْتُ إِلَيْهَا فِي أَذَاهُ، فَأَتَيْتُ أُمَّ سَلَمَةَ فَقُلْتُ لَهَا، فَقَالَتْ: أَعْجَبُ مِنْكَ يَا عُمَرُ، قَدْ دَخَلْتَ فِي أُمُورِنَا، فَلَمْ يَبْقَ إِلَّا أَنْ تَدْخُلَ بَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَزْوَاجِهِ؟ فَرَدَّدَتْ، وَكَانَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ إِذَا غَابَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَشَهِدْتُهُ أَتَيْتُهُ بِمَا يَكُونُ، وَإِذَا غِبْتُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَشَهِدَ أَتَانِي بِمَا يَكُونُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ مَنْ حَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِ اسْتَقَامَ لَهُ، فَلَمْ يَبْقَ إِلَّا مَلِكُ غَسَّانَ بِالشَّأْمِ، كُنَّا نَخَافُ أَنْ يَأْتِيَنَا، فَمَا شَعَرْتُ إِلَّا بِالأَنْصَارِيِّ وَهُوَ يَقُولُ: إِنَّهُ قَدْ حَدَثَ أَمْرٌ، قُلْتُ لَهُ: وَمَا هُوَ، أَجَاءَ الغَسَّانِيُّ؟ قَالَ: أَعْظَمُ مِنْ ذَاكَ، طَلَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاءَهُ، فَجِئْتُ فَإِذَا البُكَاءُ مِنْ حُجَرِهِنَّ كُلِّهَا، وَإِذَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ صَعِدَ فِي مَشْرُبَةٍ لَهُ، وَعَلَى بَابِ المَشْرُبَةِ وَصِيفٌ، فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ: اسْتَأْذِنْ لِي، فَأَذِنَ لِي، فَدَخَلْتُ، «فَإِذَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حَصِيرٍ قَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِهِ، وَتَحْتَ رَأْسِهِ مِرْفَقَةٌ مِنْ أَدَمٍ حَشْوُهَا لِيفٌ، وَإِذَا أُهُبٌ مُعَلَّقَةٌ وَقَرَظٌ» فَذَكَرْتُ الَّذِي قُلْتُ لِحَفْصَةَ وَأُمِّ سَلَمَةَ، وَالَّذِي رَدَّتْ عَلَيَّ أُمُّ سَلَمَةَ، «فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَبِثَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ لَيْلَةً ثُمَّ نَزَلَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪২৫। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবছর যাবত অপেক্ষায় ছিলাম যে, উমর (রাযিঃ) এর কাছে সে দু’টি মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব, যারা নবী (ﷺ) এর বিরুদ্ধে জোট বেঁধেছিলো। কিন্তু আমি তাকে খুব ভয় করে চলতাম। একদিন তিনি কোন এক স্থানে নামলেন এবং (প্রাকৃতিক প্রয়োজনে) আরাক গাছের কাছে গেলেন। যখন তিনি বেরিয়ে এলেন, আমি তাকে (সে সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ (তারা হলেন) আয়েশা (রাযিঃ) ও হাফসা (রাযিঃ)। এরপর তিনি বললেনঃ জাহিলীযুগে আমরা নারীদের কোনকিছু বলে গণ্যই করতাম না। যখন ইসলাম আবির্ভূত হলো এবং (কুরআনে) আল্লাহ নারীদের (মর্যাদা ও অধিকারের কথা) উল্লেখ করলেন। তাতে আমরা দেখলাম যে, আমাদের উপর তাদের অনেক হক আছে। তথাপি/যদিও/তবে আমরা তাদের পুরুষদের সংশ্লিষ্ট বিষয়াদিতে অন্তর্ভুক্ত করতাম না।
একদা আমার স্ত্রী ও আমার মধ্যে কিছু কথাবার্তা হাচ্ছিল। সে আমার উপর রুঢ় ভাষা ব্যবহার করলো। আমি তাকে বললামঃ তুমি তো সীমা অতিক্রম করছ। স্ত্রী তখন বললেনঃ তুমি আমাকে এরূপ বলছ, অথচ তোমার কন্যা নবী (ﷺ) কে কষ্ট দিচ্ছে। এরপর আমি হাফসার কাছে এলাম এবং বললামঃ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের অসন্তোষজনক আচরণ করা থেকে আমি তোমাকে সতর্ক করে দিচ্ছি। নবী (ﷺ) কে কষ্ট দেওয়ায় আমি হাফসার কাছেই প্রথমে আসি। এরপর আমি উম্মে সালামা (রাযিঃ)* এর কাছে এলাম এবং তাকেও অনুরূপ বললাম। তিনি বললেনঃ তোমার প্রতি আমার বিস্ময় হে উমর! তুমি আমার সকল ব্যাপারেই দখল দিচ্ছ, কিছুই বাকী রাখনি, এমনকি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তার সহধর্মিণীগণের ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করছ। এ কথা বলে তিনি (আমাকে) প্রত্যাখ্যান করলেন।
একজন আনসারী লোক ছিলেন। তিনি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মজলিস থেকে অনুপস্থিত থাকতেন এবং আমি উপস্থিত থাকতাম, তখন যা কিছু হতো, সেসব আমি তাকে গিয়ে জানাতাম। আর আমি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মজলিসে অনুপস্থিত থাকতাম এবং তিনি উপস্থিত থাকতেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এখানে যা কিছু ঘটতো, তিনি যাবতীয় খবর এসে আমাকে জানাতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চারপাশে যারা (রাজা-বাদশাহ) ছিল, তাদের উপর রাসূলের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। কেবল বাকী ছিল শামের (সিরিয়ার) গাসসান শাসক। তার আক্রমণের আমরা আশঙ্কা করতাম।
হঠাৎ একদা আনসারী ব্যক্তিটি যখন বললঃ এক বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে! আমি তাকে বললামঃ কি ঘটনা ঘটে গেছে! গাসসানী শাসক কি এসে পড়েছে? তিনি বললেনঃ এর চাইতেও ভয়াবহ ব্যাপার (ঘটে গেছে)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার সকল সহধর্মিণীকে তালাক দিয়েছেন। আমি সেখানে গেলাম। দেখলাম, সকল কক্ষ থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কক্ষের চিলেকুঠুরিতে অবস্থান করছিলেন। প্রবেশপথে অল্পবয়স্ক একজন খাদিম বসে আছে। আমি তার কাছে গেলাম এবং বললামঃ আমার জন্য অনুমতি চাও। অনুমতি পেয়ে আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম। দেখলাম, নবী (ﷺ) একটি চাটাইয়ের উপর শুয়ে আছেন, যা তার পার্শ্বদেশে দাগ বসিয়ে দিয়েছে। তার মাথার নীচে ছিল চামড়ার একটি বালিশ; তার ভেতরে রয়েছে খেজুর গাছের ছাল। কয়েকটি চামড়া ঝুলানো রয়েছে এবং বিশেষ গাছের পাতা। এরপর হাফসা ও উম্মে সালামাকে আমি যা বলেছিলাম এবং উম্মে সালামা আমাকে যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, সেসব আমি তাঁর কাছে ব্যক্ত করলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসলেন। তিনি ঊনত্রিশ রাত সেখানে (চিলেকুঠুরিতে) অবস্থান করার পর অবতরণ করেন।

* উম্মে সালামা (রাযিঃ) উমর রাঃ এর আত্নীয়া ছিলেন।
5426

5844 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَتْنِي هِنْدُ بِنْتُ الحَارِثِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ: اسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ يَقُولُ: «لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، مَاذَا أُنْزِلَ اللَّيْلَةَ مِنَ الفِتْنَةِ، مَاذَا أُنْزِلَ مِنَ الخَزَائِنِ، مَنْ [ص:153] يُوقِظُ صَوَاحِبَ الحُجُرَاتِ، كَمْ مِنْ كَاسِيَةٍ فِي الدُّنْيَا عَارِيَةٍ يَوْمَ القِيَامَةِ» قَالَ الزُّهْرِيُّ: «وَكَانَتْ هِنْدٌ لَهَا أَزْرَارٌ فِي كُمَّيْهَا بَيْنَ أَصَابِعِهَا»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৫৪২৬। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে জাগলেন। তখন তিনি বলছিলেনঃ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, কত যে ফিতনা এরাতে নাযিল হয়েছে, আরও কত যে ধনভাণ্ডার নাযিল হয়েছে। কে আছে এমন, যে এ হুজরাবাসীগণকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দেবে। পৃথিবীতে এমন অনেক পোশাক পরিহিতা মহিলা আছে, যারা কিয়ামতের দিন বিবস্ত্র থাকবে। যুহরী (রাহঃ) বলেন, হিন্দ বিনতে হারিসের জামার আস্তিনদ্বয়ে বোতাম লাগান ছিল।

৩০৯১. যে ব্যক্তি নতুন কাপড় পরিধান করবে, তার জন্য কী দুআ করা হবে?

باب مَا يُدْعَى لِمَنْ لَبِسَ ثَوْبًا جَدِيدًا

5427

5845 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَعِيدِ بْنِ العَاصِ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، قَالَ: حَدَّثَتْنِي أُمُّ خَالِدٍ بِنْتُ خَالِدٍ، قَالَتْ: أُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِثِيَابٍ فِيهَا خَمِيصَةٌ سَوْدَاءُ، قَالَ: «مَنْ تَرَوْنَ نَكْسُوهَا هَذِهِ الخَمِيصَةَ» فَأُسْكِتَ القَوْمُ، قَالَ: «ائْتُونِي بِأُمِّ خَالِدٍ» فَأُتِيَ بِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَلْبَسَنِيهَا بِيَدِهِ، وَقَالَ: «أَبْلِي وَأَخْلِقِي» مَرَّتَيْنِ، فَجَعَلَ يَنْظُرُ إِلَى عَلَمِ الخَمِيصَةِ وَيُشِيرُ بِيَدِهِ إِلَيَّ وَيَقُولُ: «يَا أُمَّ خَالِدٍ هَذَا سَنَا وَيَا أُمَّ خَالِدٍ هَذَا سَنَا» وَالسَّنَا بِلِسَانِ الحَبَشِيَّةِ الحَسَنُ قَالَ إِسْحَاقُ: حَدَّثَتْنِي امْرَأَةٌ مِنْ أَهْلِي: أَنَّهَا رَأَتْهُ عَلَى أُمِّ خَالِدٍ

Narrator: উম্মে খালিদ বিনতে খালিদ ইবনে সাঈদ (রাঃ)

৫৪২৭। আবুল ওয়ালীদ (রাহঃ) ......... খালিদের কন্যা উম্মে খালিদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কিছু কাপড় আনা হয়। তার মধ্যে একটি নকশাযুক্ত কালো চাঁদর ছিল। তিনি বললেনঃ আমি এ চাদরটি কাকে পরিধান করাব, এ ব্যাপারে তোমাদের অভিমত কি? সবাই নিরব থাকলেন। তিনি বললেনঃ উম্মে খালিদকে আমার কাছে নিয়ে এসো। সুতরাং তাকে নবী (ﷺ) এর কাছে নিয়ে আসা হল। তিনি স্বহস্তে তাকে ঐ চাদর পরিয়ে দিয়ে বললেনঃ পুরাতন কর ও দীর্ঘদিন ব্যবহার কর। তারপর তিনি চাদরের নকশার দিকে তাকাতে লাগলেন এবং হাতের দ্বারা আমাকে ইঙ্গিত করে বলতে থাকলেনঃ হে উম্মে খালিদ! এ সানা, হে উম্মে খালিদ! এ তো সানা। হাবশী ভাষায় (سَنَا) ″সানা″ অর্থ সুন্দর। ইসহাক (রাহঃ) বলেনঃ আমার পরিবারের জনৈক মহিলা আমাকে বলেছেন, তিনি উক্ত চাদর উম্মে খালিদের পরিধানে দেখেছেন।

৩০৯২. পুরুষের জন্য যাফরানী রংয়ের কাপড় পরিধান নিষিদ্ধ প্রসঙ্গে।

بَابُ النَّهْيِ عَنِ التَّزَعْفُرِ لِلرِّجَالِ

5428

5846 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، عَنْ عَبْدِ العَزِيزِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَتَزَعْفَرَ الرَّجُلُ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪২৮। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) পুরুষদের যাফরানী রংয়ের কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।

৩০৯৩. জাফরানী রংয়ের রঙ্গিন কাপড়।

باب الثَّوْبِ الْمُزَعْفَرِ

5429

5847 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَلْبَسَ المُحْرِمُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا بِوَرْسٍ أَوْ بِزَعْفَرَانٍ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪২৯। আবু নুআইম (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন, মুহরিম ব্যক্তি যেন ওয়ারস ঘাসের কিংবা যাফরানের রং দ্বারা রঞ্জিত কাপড় না পরে।

৩০৯৪. লাল কাপড় পরিধান।

باب الثَّوْبِ الأَحْمَرِ

5430

5848 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، سَمِعَ البَرَاءَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرْبُوعًا، وَقَدْ رَأَيْتُهُ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ، مَا رَأَيْتُ شَيْئًا أَحْسَنَ مِنْهُ»

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৫৪৩০। আবুল ওয়ালীদ (রাহঃ) ......... বারা' (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ছিলেন মধ্যম আকৃতির। আমি তাকে লাল হুল্লা পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কিছু আমি দেখিনি।

৩০৯৫. লাল ‘মীছারা’র বর্ণনা।

باب الْمِيثَرَةِ الْحَمْرَاءِ

5431

5849 - حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، عَنِ البَرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: " أَمَرَنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسَبْعٍ: عِيَادَةِ المَرِيضِ، وَاتِّبَاعِ الجَنَائِزِ، وَتَشْمِيتِ العَاطِسِ، وَنَهَانَا عَنْ سَبْعٍ: عَنْ لُبْسِ الحَرِيرِ، وَالدِّيبَاجِ، وَالقَسِّيِّ، وَالإِسْتَبْرَقِ، وَالمَيَاثِرِ الحُمْرِ "

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৫৪৩১। কাবীসা (রাহঃ) ......... বারা' (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের সাতটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেনঃ রোগীর সেবা করা, জানাযায় অংশগ্রহণ এবং হাঁচিদাতার জবাব প্রদান। আর তিনি আমাদের সাতটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেনঃ রেশমী কাপড়, মিহিন রেশমী কাপড়, রেশম মিশ্রিত কাতান কাপড়, মোটা রেশমী কাপড় এবং লাল মীসারা কাপড় পরিধান করতে।

৩০৯৬. পশমহীন চামড়ার জুতা ও অন্যান্য জুতা পরিধান।

باب النِّعَالِ السِّبْتِيَّةِ وَغَيْرِهَا

5432

5850 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدٍ أَبِي مَسْلَمَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسًا: أَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي نَعْلَيْهِ؟ قَالَ: «نَعَمْ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৩২। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু মাসলামা সাঈদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছি, নবী (ﷺ) ‘না’লাইন’ (চপ্পল বা জুতা) পায়ে দিয়ে নামায আদায় করেছেন কি? তিনি বলেছেনঃ হ্যাঁ।

5433

5851 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سَعِيدٍ المَقْبُرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُرَيْجٍ: أَنَّهُ قَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: رَأَيْتُكَ تَصْنَعُ أَرْبَعًا لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَصْحَابِكَ يَصْنَعُهَا، قَالَ: مَا هِيَ يَا ابْنَ جُرَيْجٍ؟ قَالَ: رَأَيْتُكَ لاَ تَمَسُّ مِنَ الأَرْكَانِ إِلَّا اليَمَانِيَيْنِ، وَرَأَيْتُكَ تَلْبَسُ النِّعَالَ السِّبْتِيَّةَ، وَرَأَيْتُكَ تَصْبُغُ بِالصُّفْرَةِ، وَرَأَيْتُكَ إِذَا كُنْتَ بِمَكَّةَ، أَهَلَّ النَّاسُ إِذَا رَأَوُا الْهِلاَلَ، وَلَمْ تُهِلَّ أَنْتَ حَتَّى كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ. فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: أَمَّا الأَرْكَانُ: " فَإِنِّي لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمَسُّ إِلَّا اليَمَانِيَيْنِ، وَأَمَّا النِّعَالُ السِّبْتِيَّةُ [ص:154]: فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ النِّعَالَ الَّتِي لَيْسَ فِيهَا شَعَرٌ وَيَتَوَضَّأُ فِيهَا، فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَلْبَسَهَا، وَأَمَّا الصُّفْرَةُ: فَإِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصْبُغُ بِهَا، فَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَصْبُغَ بِهَا، وَأَمَّا الإِهْلاَلُ: فَإِنِّي لَمْ أَرَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُهِلُّ حَتَّى تَنْبَعِثَ بِهِ رَاحِلَتُهُ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৩৩। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ......... উবাইদ ইবনে জুরায়জ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) কে বলেনঃ আমি আপনাকে এমন চারটি কাজ করতে দেখেছি, যা আপনার সঙ্গীদের মধ্যে কাউকে করতে দেখিনি। তিনি বললেনঃ সেগুলো কি, হে ইবনে জুরায়জ? তিনি বললেনঃ আমি দেখেছি আপনি তাওয়াফ করার সময় (কা'বার) রুকনগুলোর মধ্য হতে ইয়ামানী দুটি রুকন ছাড়া অন্য কোনটিকে স্পর্শ করেন না। আমি দেখেছি, আপনি পশম বিহীন চামড়ার জুতা পরিধান করেন। আমি দেখেছি, আপনি হলুদ রং দিয়ে রঙ্গিন করেন এবং যখন আপনি মক্কায় ছিলেন তখন দেখেছি, অন্য লোকেরা (যিলহজের) চাঁদ দেখেই ইহরাম বাধতো, আর আপনি তারবিয়ার দিন (অর্থাৎ যিলহজ্বের আট তারিখ) না আসা পর্যন্ত ইহরাম বাধতেন না।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) তাকে বললেনঃ আরকান সম্পর্কে কথা এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ইয়ামানী দুটি রুকন ব্যতীত অন্য কোনটিকে স্পর্শ করতে দেখিনি। আর পশমবিহীন চামড়ার জুতার ব্যাপার হলো, আমি দেখেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অনুরূপ জুতা পরতেন, যাতে কোন পশম থাকত না এবং তিনি জুতা পরিহিত অবস্থায়ই উযু করতেন (অর্থাৎ পা ধুতেন)। তাই আমি অনুরূপ জুতা পরতেই পছন্দ করি। আর হলুদ রংয়ের কথা হলো, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এ রং দিয়ে রংিন করতে দেখেছি। সুতরাং আমিও এর দ্বারাই রং করতে ভালবাসি। আর ইহরাম বাধার ব্যাপারে কথা এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে হজ্জের কাজ আরম্ভ করার জন্য তাঁর বাহনে উঠার আগে ইহরাম বাধতে দেখিনি।
5434

5852 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَلْبَسَ المُحْرِمُ ثَوْبًا مَصْبُوغًا بِزَعْفَرَانٍ أَوْ وَرْسٍ. وَقَالَ: «مَنْ لَمْ يَجِدْ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ، وَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৩৪। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন যে, মুহরিম (যে ইহরাম বেঁধেছে) ব্যক্তি যেন যাফরান কিংবা ওয়ারস ঘাস দ্বারা রং করা কাপড় পরিধান না করে। তিনি বলেছেনঃ যে (মুহরিম) ব্যক্তির জুতা নেই, সে যেন মোজা পরে এবং টাখনুর নীচ থেকে (মোজার উপরের অংশ) কেটে ফেলে (যাতে তা জুতার ন্যায় হয়ে যায়)।

5435

5853 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ إِزَارٌ فَلْيَلْبَسِ السَّرَاوِيلَ، وَمَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ نَعْلاَنِ فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৩৫। মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে (মুহরিম) লোকের ইযার নেই, সে যেন পায়জামা পরে, আর যার জুতা নেই, সে যেন মোজা পরিধান করে।

৩০৯৭. ডানদিক থেকে জুতা পরা আরম্ভ করা।

باب يَبْدَأُ بِالنَّعْلِ الْيُمْنَى

5436

5854 - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَشْعَثُ بْنُ سُلَيْمٍ، سَمِعْتُ أَبِي، يُحَدِّثُ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ التَّيَمُّنَ فِي طُهُورِهِ، وَتَرَجُّلِهِ، وَتَنَعُّلِهِ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪৩৬। হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবীজী (ﷺ) পবিত্রতা অর্জন করতে, মাথা আঁচড়াতে ও জুতা পায়ে দিতে ডান দিক থেকে আরম্ভ করা পছন্দ করতেন।

৩০৯৮. (খোলার সময় প্রথমে) বাঁ পায়ের জুতা খুলবে।

بَابُ يَنْزِعُ نَعْلَهُ اليُسْرَى

5437

5855 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا انْتَعَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِاليَمِينِ، وَإِذَا نَزَعَ فَلْيَبْدَأْ بِالشِّمَالِ، لِيَكُنِ اليُمْنَى أَوَّلَهُمَا تُنْعَلُ وَآخِرَهُمَا تُنْزَعُ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪৩৭। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ জুতা পরিধান করে, তখন সে যেন ডান দিক থেকে আরম্ভ করে, আর যখন জুতা খোলে, তখন সে যেন বাম দিক থেকে আরম্ভ করে, যাতে পরার বেলায় উভয় পায়ের মধ্যে ডান পা প্রথমে হয় এবং খোলার সময়ে শেষে হয়।

৩০৯৯. এক পায়ে জুতা পরে হাঁটবে না।

باب لاَ يَمْشِي فِي نَعْلٍ وَاحِدَةٍ

5438

5856 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَمْشِي أَحَدُكُمْ فِي نَعْلٍ وَاحِدَةٍ، لِيُحْفِهِمَا جَمِيعًا، أَوْ لِيُنْعِلْهُمَا جَمِيعًا»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪৩৮। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ এক পায়ে জুতা পরে যেন না হাঁটে। হয় উভয় পা সম্পূর্ণ খোলা রাখবে অথবা উভয় পায়ে জুতা পরিধান করবে।

৩১০০. এক চপ্পলে দু’ফিতা লাগানো, কারও মতে এক ফিতা লাগানোও বৈধ।

باب قِبَالاَنِ فِي نَعْلٍ وَمَنْ رَأَى قِبَالاً وَاحِدًا وَاسِعًا

5439

5857 - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَنَّ نَعْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ لَهَا قِبَالاَنِ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৩৯। হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর চপ্পলে দুটি করে ফিতা ছিল।

5440

5858 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ طَهْمَانَ، قَالَ: خَرَجَ إِلَيْنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، بِنَعْلَيْنِ لَهُمَا قِبَالاَنِ فَقَالَ ثَابِتٌ البُنَانِيُّ: «هَذِهِ نَعْلُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৪০। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... ঈসা ইবনে তাহমান (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, একবার আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এমন দুটি চপ্পল আমাদের কাছে আনলেন, যার দুটি করে ফিতা ছিল। তখন সাবিত বুনানী বললেনঃ এটি নবী (ﷺ) এর চপ্পল মুবারক ছিল।

৩১০১. লাল চামড়ার তাঁবু।

باب الْقُبَّةِ الْحَمْرَاءِ مِنْ أَدَمٍ

5441

5859 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: «أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ فِي قُبَّةٍ حَمْرَاءَ مِنْ أَدَمٍ، وَرَأَيْتُ بِلاَلًا أَخَذَ وَضُوءَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:155]، وَالنَّاسُ يَبْتَدِرُونَ الوَضُوءَ، فَمَنْ أَصَابَ مِنْهُ شَيْئًا تَمَسَّحَ بِهِ، وَمَنْ لَمْ يُصِبْ مِنْهُ شَيْئًا، أَخَذَ مِنْ بَلَلِ يَدِ صَاحِبِهِ»

Narrator: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৫৪৪১। মুহাম্মাদ ইবনে আরআরা (রাহঃ) ......... আওনের পিতা (আবু জুহাইফা রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর কাছে এলাম। তখন তিনি একটি লাল চামড়ার তাঁবুতে ছিলেন। আর বিলালকে দেখলাম, তিনি নবী (ﷺ) এর উযুর পানি উঠিয়ে দিচ্ছেন এবং লোকজন উযুর পানি নেয়ার জন্য ছুটাছুটি করছে। যে ওখান থেকে কিছু পায়, সে তা মুখে মেখে নেয়। আর যে সেখান থেকে কিছু পায় নি, সে তার সাথীর ভিজা হাত থেকে কিছু নিয়ে নেয়।

5442

5860 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، وَقَالَ اللَّيْثُ: حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «أَرْسَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْأَنْصَارِ وَجَمَعَهُمْ فِي قُبَّةٍ مِنْ أَدَمٍ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৪২। আবুল ইয়ামান ও লাঈস (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) আনসারদের কাছে সংবাদ পাঠান এবং তাদের (লাল) চামড়ার একটি তাবুতে সমবেত করেন।

৩১০২. চাটাই বা অনুরূপ কোন জিনিসের উপর বসা।

باب الْجُلُوسِ عَلَى الْحَصِيرِ وَنَحْوِهِ

5443

5861 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَحْتَجِرُ حَصِيرًا بِاللَّيْلِ فَيُصَلِّي عَلَيْهِ، وَيَبْسُطُهُ بِالنَّهَارِ فَيَجْلِسُ عَلَيْهِ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَثُوبُونَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيُصَلُّونَ بِصَلاَتِهِ حَتَّى كَثُرُوا، فَأَقْبَلَ فَقَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، خُذُوا مِنَ الأَعْمَالِ مَا تُطِيقُونَ، فَإِنَّ اللَّهَ لاَ يَمَلُّ حَتَّى تَمَلُّوا، وَإِنَّ أَحَبَّ الأَعْمَالِ إِلَى اللَّهِ مَا دَامَ وَإِنْ قَلَّ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪৪৩। মুহাম্মাদ ইবনে আবু বকর (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) রাত্রিবেলা চাটাই দ্বারা বেষ্টনী দিয়ে নামায আদায় করতেন। আর দিনের বেলা তা বিছিয়ে তার উপর বসতেন। লোকজন নবী (ﷺ) এর কাছে সমবেত হয়ে তার সঙ্গে নামায আদায় করতে লাগল। এমনকি বহুলোক সমবেত হল। তখন নবী (ﷺ) তাদের প্রতি লক্ষ্য করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা আমল করতে থাক তোমাদের সামর্থ অনুযায়ী। কারণ, আল্লাহ তাআলা ক্লান্ত হন না, অবশেষে তোমরাই ক্লান্ত হয়ে পড়বে। আর আল্লাহর নিকট ঐ আমল সবচেয়ে প্রিয়, যা সর্বদা করা হয় যদিও তা সামান্য হয়।

৩১০৩. স্বর্ণখচিত গুটি।
লাঈস (রাহঃ) বলেনঃ ইবনে আবু মুলায়কা ..... মিসওয়ার ইবনে মাখরামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তার পিতা মাখরামা (একদা) তাকে বললেনঃ হে প্রিয় বৎস! আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, নবী (ﷺ) এর নিকট কিছু কাবা এসেছে। তিনি সেগুলো বণ্টন করছেন। চলো, আমরা তাঁর কাছে যাই। আমরা গেলাম এবং নবী (ﷺ) কে তাঁর বাসগৃহে পেলাম। আমাকে (আমার পিতা) বললেনঃ বৎস! নবী (ﷺ) কে আমার কাছে ডাক। আমার নিকট কাজটি অতি কঠিন বলে মনে হল। আমি বললামঃ আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ডাকবো? তিনি বললেনঃ বৎস, তিনি তো কঠোর প্রকৃতির লোক নন। যা হোক, আমি তাঁকে ডাকলাম। তিনি বেরিয়ে এলেন, তাঁর গায়ে তখন স্বর্ণের বোতাম লাগান মিহিন রেশমী কাপড়ের কাবা ছিল। তিনি বললেনঃ হে মাখরামা! এটা আমি তোমার জন্য সংরক্ষিত করে রেখেছিলাম। এরপর তিনি এটা তাকে দিয়ে দিলেন।
৩১০৪. স্বর্ণের আংটি।

بَاب الْمُزَرَّرِ بِالذَّهَبِ وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ أَنَّ أَبَاهُ مَخْرَمَةَ قَالَ لَهُ يَا بُنَيِّ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَتْ عَلَيْهِ أَقْبِيَةٌ فَهُوَ يَقْسِمُهَا فَاذْهَبْ بِنَا إِلَيْهِ فَذَهَبْنَا فَوَجَدْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَنْزِلِهِ فَقَالَ لِي يَا بُنَيِّ ادْعُ لِي النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْظَمْتُ ذَلِكَ فَقُلْتُ أَدْعُو لَكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا بُنَيِّ إِنَّهُ لَيْسَ بِجَبَّارٍ فَدَعَوْتُهُ فَخَرَجَ وَعَلَيْهِ قَبَاءٌ مِنْ دِيبَاجٍ مُزَرَّرٌ بِالذَّهَبِ فَقَالَ يَا مَخْرَمَةُ هَذَا خَبَأْنَاهُ لَكَ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ<br>باب خَوَاتِيمِ الذَّهَبِ

5444

حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ سُلَيْمٍ، قَالَ سَمِعْتُ مُعَاوِيَةَ بْنَ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ نَهَانَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ سَبْعٍ نَهَى عَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ ـ أَوْ قَالَ حَلْقَةِ الذَّهَبِ ـ وَعَنِ الْحَرِيرِ، وَالإِسْتَبْرَقِ، وَالدِّيبَاجِ، وَالْمِيثَرَةِ الْحَمْرَاءِ، وَالْقَسِّيِّ، وَآنِيَةِ الْفِضَّةِ، وَأَمَرَنَا بِسَبْعٍ بِعِيَادَةِ الْمَرِيضِ، وَاتِّبَاعِ الْجَنَائِزِ، وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ، وَرَدِّ السَّلاَمِ، وَإِجَابَةِ الدَّاعِي، وَإِبْرَارِ الْمُقْسِمِ، وَنَصْرِ الْمَظْلُومِ.

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৫৪৪৪। আদম (রাহঃ) ......... বারা' ইবনে আযিব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের সাতটি জিনিস থেকে নিষেধ করেছেনঃ স্বর্ণের আংটি বা তিনি বলেছেন, স্বর্ণের বালা, মিহি রেশম, মোটা রেশম ও রেশম মিশ্রিত কাপড়, রেশমের তৈরী লাল রংয়ের পালান বা হাওদা, রেশম মিশ্রিত কাসসী কাপড় ও রূপার পাত্র। আর তিনি আমাদের সাতটি কাজের আদেশ করেছেনঃ রোগীর শুশ্রুষা করা, জানাযার পেছনে চলা, হাঁচির উত্তর দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া, দাওয়াত গ্রহণ করা, কসমকারীর কসম পূরণে সাহায্য করা এবং মযলুম ব্যক্তির সাহায্য করা।

৩১০৩. স্বর্ণখচিত গুটি।
পরিচ্ছেদঃ ৩১০৪. স্বর্ণের আংটি।

بَاب الْمُزَرَّرِ بِالذَّهَبِ <br>باب خَوَاتِيمِ الذَّهَبِ

5445

5864 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ «نَهَى عَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ» وَقَالَ عَمْرٌو، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ: سَمِعَ النَّضْرَ: سَمِعَ بَشِيرًا، مِثْلَهُ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪৪৫। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। আমর (রাহঃ).......... বশীর (রাহঃ) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।

5446

5865 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي نَافِعٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «اتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ، وَجَعَلَ فَصَّهُ [ص:156] مِمَّا يَلِي كَفَّهُ، فَاتَّخَذَهُ النَّاسُ، فَرَمَى بِهِ وَاتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ أَوْ فِضَّةٍ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৪৬। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বর্ণের একটি আংটি ব্যবহার করেন। আংটির মোহর হাতের তালুর দিকে ফিরিয়ে রাখেন। এতে লোকেরা অনুরূপ (আংটি) ব্যবহার করা আরম্ভ করলো। নবী (ﷺ) স্বর্ণের আংটিটি ফেলে দিয়ে চাঁদি বা রৌপ্যের আংটি বানিয়ে নিলেন।

৩১০৫. রূপার আংটি।

باب خَاتَمِ الْفِضَّةِ

5447

5866 - حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ، وَجَعَلَ فَصَّهُ مِمَّا يَلِي كَفَّهُ، وَنَقَشَ فِيهِ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، فَاتَّخَذَ النَّاسُ مِثْلَهُ، فَلَمَّا رَآهُمْ قَدِ اتَّخَذُوهَا رَمَى بِهِ وَقَالَ: «لاَ أَلْبَسُهُ أَبَدًا» . ثُمَّ اتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، فَاتَّخَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَ الفِضَّةِ قَالَ ابْنُ عُمَرَ: فَلَبِسَ الخَاتَمَ بَعْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ عُمَرُ، ثُمَّ عُثْمَانُ، حَتَّى وَقَعَ مِنْ عُثْمَانَ فِي بِئْرِ أَرِيسَ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৪৭। ইউসুফ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বর্ণের একটি আংটি পরিধান করেন। আংটির মোহর হাতের তালুর ভিতরের দিকে ফিরিয়ে রাখেন। তাতে তিনি مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ খোদাই করিয়েছিলেন। লোকেরাও অনুরূপ আংটি ব্যবহার করতে আরম্ভ করলো। যখন তিনি দেখলেন যে, তারাও অনুরূপ আংটি ব্যবহার করছে, তখন তিনি তা ছুড়ে ফেলে দিলেন এবং বললেনঃ কখনও এটি ব্যবহার করব না। এরপর তিনি একটি রূপার আংটি ব্যবহার করেন। ফলে লোকেরাও রূপার আংটি ব্যবহার আরম্ভ করে। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) এর পরে আবু বকর (রাযিঃ), তারপর উমর (রাযিঃ) ও তারপর উসমান (রাযিঃ) তা ব্যবহার করেছেন। শেষে উসমান (রাযিঃ) এর (হাত) থেকে আংটিটি ‘আরীস’ নামক কূপের মধ্যে পড়ে যায়।

5448

5867 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ، فَنَبَذَهُ فَقَالَ: «لاَ أَلْبَسُهُ أَبَدًا» فَنَبَذَ النَّاسُ خَوَاتِيمَهُمْ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৪৮। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) স্বর্ণের একটি আংটি ব্যবহার করতেন। এরপর তা ফেলে দেন এবং বলেনঃ আমি আর কখনও তা ব্যবহার করবো না। লোকেরাও তাদের আংটি খুলে ফেলে দেয়।

5449

5868 - حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ «أَنَّهُ رَأَى فِي يَدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ يَوْمًا وَاحِدًا، ثُمَّ إِنَّ النَّاسَ اصْطَنَعُوا الخَوَاتِيمَ مِنْ وَرِقٍ وَلَبِسُوهَا، فَطَرَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمَهُ، فَطَرَحَ النَّاسُ خَوَاتِيمَهُمْ» تَابَعَهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، وَزِيَادٌ، وَشُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، وَقَالَ ابْنُ مُسَافِرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ: أَرَى: خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৪৯। ইয়াহয়া ইবনে বুকায়র (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাতে রূপার একটি আংটি দেখলেন। তারপর লোকেরাও রূপার আংটি তৈরী করে এবং ব্যবহার করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরে তার আংটি পরা পরিহার করেন। এতে লোকেরাও তাদের আংটি পরিহার করে। যুহরীর সূত্রে ইবরাহীম ইবনে সা’দ, যিয়াদ ও শুয়াইব (রাহঃ)ও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩১০৭. আংটির মোহর।

باب فَصِّ الْخَاتَمِ

5450

5869 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، قَالَ: سُئِلَ أَنَسٌ، هَلِ اتَّخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا؟ قَالَ: أَخَّرَ لَيْلَةً صَلاَةَ العِشَاءِ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ، ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ، فَكَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ خَاتَمِهِ، قَالَ: «إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا وَنَامُوا، وَإِنَّكُمْ لَمْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُوهَا»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৫০। আবদান (রাহঃ) ......... হুমায়দ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস (রাযিঃ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হয় যে, নবী (ﷺ) আংটি পরেছেন কিনা? তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) এক রাতে এশার নামায আদায়ে অর্ধরাত পর্যন্ত দেরী করেন। এরপর তিনি আমাদের মাঝে আসেন। আমি যেন তাঁর আংটির চমক দেখতে পেলাম। তিনি বললেনঃ লোকজন নামায আদায় করে শুয়ে পড়েছে। আর যতক্ষণ তোমরা নামাযের অপেক্ষায় রয়েছ, ততক্ষণ তোমরা নামাযের মধ্যেই রয়েছ।

5451

5870 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا مُعْتَمِرٌ، قَالَ: سَمِعْتُ حُمَيْدًا، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ خَاتَمُهُ مِنْ فِضَّةٍ وَكَانَ فَصُّهُ مِنْهُ» وَقَالَ يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ: حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ: سَمِعَ أَنَسًا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৫১। ইসহাক (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (ﷺ) এর আংটি ছিল রূপার। আর তার নাগিনাটিও ছিল রূপার। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব → হুমায়দ → আনাস (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩১০৮. লোহার আংটি

باب خَاتَمِ الْحَدِيدِ

5452

5871 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَ سَهْلًا، يَقُولُ: جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: جِئْتُ أَهَبُ نَفْسِي، فَقَامَتْ طَوِيلًا، فَنَظَرَ وَصَوَّبَ، فَلَمَّا طَالَ مُقَامُهَا، فَقَالَ رَجُلٌ: زَوِّجْنِيهَا إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكَ بِهَا حَاجَةٌ، قَالَ: «عِنْدَكَ شَيْءٌ تُصْدِقُهَا؟» قَالَ: لاَ، قَالَ: «انْظُرْ» فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ فَقَالَ: وَاللَّهِ إِنْ وَجَدْتُ شَيْئًا، قَالَ: «اذْهَبْ فَالْتَمِسْ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ» فَذَهَبَ ثُمَّ رَجَعَ [ص:157] قَالَ: لاَ وَاللَّهِ وَلاَ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ، وَعَلَيْهِ إِزَارٌ مَا عَلَيْهِ رِدَاءٌ، فَقَالَ: أُصْدِقُهَا إِزَارِي، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِزَارُكَ إِنْ لَبِسَتْهُ لَمْ يَكُنْ عَلَيْكَ مِنْهُ شَيْءٌ، وَإِنْ لَبِسْتَهُ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهَا مِنْهُ شَيْءٌ» فَتَنَحَّى الرَّجُلُ فَجَلَسَ، فَرَآهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُوَلِّيًا، فَأَمَرَ بِهِ فَدُعِيَ، فَقَالَ: «مَا مَعَكَ مِنَ القُرْآنِ» قَالَ: سُورَةُ كَذَا وَكَذَا، لِسُوَرٍ عَدَّدَهَا، قَالَ: «قَدْ مَلَّكْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ القُرْآنِ»

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৫৪৫২। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ......... সাহল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললঃ আমি নিজেকে হিবা (দান-বিবাহ) করে দেওয়ার জন্য এসেছি। এ কথা বলে সে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল। তিনি তাকালেন ও মাথা নীচু করে রাখলেন। মহিলাটির দাঁড়িয়ে থাকা যখন দীর্ঘায়িত হল, তখন এক ব্যক্তি বললঃ আপনার যদি বিবাহের প্রয়োজন না থাকে, তবে একে আমার সাথে বিবাহ দিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তোমার কাছে মোহর দেওয়ার মত কিছু আছে কি? সে বললঃ না। তিনি বললেনঃ খুঁজে দেখ। সে চলে গেল। কিছুসময় পর ফিরে এসে বললঃ আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পেলাম না। তিনি বললেনঃ আবার যাও এবং তালাশ করো, একটি লোহার আংটিও যদি হয় (নিয়ে এসো)। সে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললঃ কসম আল্লাহর! কিছুই পেলাম না, একটি লোহার আংটিও না। তার পরিধানে ছিল একটি মাত্র লুঙ্গি, তার উপর চাঁদর ছিল না। সে আরয করলঃ আমি এ লুঙ্গিটি তাকে দান করে দেব। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমার লুঙ্গি যদি সে পরে, তবে তোমার পরনে কিছুই থাকে না। আর যদি তুমি পর, তবে তার গায়ে এর কিছু থাকে না। এরপর লোকটি একটু দূরে সরে গিয়ে বসে পড়ল। এরপর নবী করীম (ﷺ) দেখলেন যে, সে পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি তাকে থাকার জন্য হুকুম দিলেন। তাকে ডেকে আনা হল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ তোমার কি কুরআনের কিছু মুখস্ত আছে? সে বললঃ অমুক অমুক সূরা। সে সূরাগুলোকে গণনা করে বলল। তিনি বললেনঃ তোমার কাছে কুরআনের যা কিছু মুখস্ত আছে, তার দরুন মেয়েলোকটিকে তোমার মালিকানায় দিয়ে দিলাম।

৩১০৯. আংটিতে নকশা করা।

باب نَقْشِ الْخَاتَمِ

5453

5872 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَادَ أَنْ يَكْتُبَ إِلَى رَهْطٍ، أَوْ أُنَاسٍ مِنَ الأَعَاجِمِ» ، فَقِيلَ لَهُ: إِنَّهُمْ لاَ يَقْبَلُونَ كِتَابًا إِلَّا عَلَيْهِ خَاتَمٌ، " فَاتَّخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، نَقْشُهُ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، فَكَأَنِّي بِوَبِيصِ، أَوْ بِبَصِيصِ الخَاتَمِ فِي إِصْبَعِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَوْ فِي كَفِّهِ "

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৫৩। আব্দুল আ'লা (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী (ﷺ) অনারব একটি দলের কাছে বা কিছু লোকের কাছে পত্র লিখতে ইচ্ছা করেন। তখন তাঁকে জানানো হল যে, তারা এমন পত্র গ্রহণ করে না, যার উপর মোহরাঙ্কিত না থাকে। এরপর নবী (ﷺ) রূপার একটি আংটি তৈরী করান। তাতে অংকিত ছিল ‘مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ’ (বর্ণনাকারী আনাস (রাযিঃ) বলেন) আমি যেন (এখনও) নবী (ﷺ) এর আঙ্গুলে বা তার হাতে সে আংটির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি।

5454

5873 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: " اتَّخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ، وَكَانَ فِي يَدِهِ، ثُمَّ كَانَ بَعْدُ فِي يَدِ أَبِي بَكْرٍ، ثُمَّ كَانَ بَعْدُ فِي يَدِ عُمَرَ، ثُمَّ كَانَ بَعْدُ فِي يَدِ عُثْمَانَ، حَتَّى وَقَعَ بَعْدُ فِي بِئْرِ أَرِيسَ، نَقْشُهُ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৫৪। মুহাম্মাদ ইবনে সালাম (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রূপার একটি আংটি পরিধান করেন। সেটি তার হাতে ছিল। এরপর তা আবু বকর (রাযিঃ) এর হাতে আসে। পরে তা উমর (রাযিঃ) এর হাতে আসে। এরপর তা উসমান (রাযিঃ) এর হাতে আসে। শেষকালে তা আরীস নামক এক কূপের মধ্যে পড়ে যায়। তাতে অংকিত ছিল ‘مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ ’।

৩১১০. কনিষ্ঠ আঙ্গুলে আংটি পরা।

باب الْخَاتَمِ فِي الْخِنْصَرِ

5455

5874 - حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: صَنَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاتَمًا، قَالَ: «إِنَّا اتَّخَذْنَا خَاتَمًا، وَنَقَشْنَا فِيهِ نَقْشًا، فَلاَ يَنْقُشَنَّ عَلَيْهِ أَحَدٌ» قَالَ: فَإِنِّي لَأَرَى بَرِيقَهُ فِي خِنْصَرِهِ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৫৫। আবু মা’মার (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একটি আংটি তৈরী করেন। তারপর তিনি বলেনঃ আমি একটি আংটি তৈরী করেছি এবং তাতে একটি নকশা করেছি। সুতরাং কেউ যেন নিজের আংটিতে নকশা না করে। তিনি (আনাস) বলেনঃ আমি যেন তাঁর কনিষ্ঠ আঙ্গুলে আংটিটির ঔজ্জ্বল্য (এখনও) দেখতে পাচ্ছি।

৩১১১. কোন কিছুর উপর সীলমোহর দেওয়ার জন্য অথবা আহলে কিতাব ও অন্যান্যদের নিকট পত্র লেখার জন্য আংটি তৈরী করা।

باب اتِّخَاذُ الْخَاتَمِ لِيُخْتَمَ بِهِ الشَّىْءُ، أَوْ لِيُكْتَبَ بِهِ إِلَى أَهْلِ الْكِتَابِ وَغَيْرِهِمْ

5456

5875 - حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: " لَمَّا أَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَكْتُبَ إِلَى الرُّومِ قِيلَ لَهُ: إِنَّهُمْ لَنْ يَقْرَءُوا كِتَابَكَ إِذَا لَمْ يَكُنْ مَخْتُومًا، فَاتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، وَنَقْشُهُ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، فَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِهِ فِي يَدِهِ "

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৫৬। আদম ইবনে আবু ইয়াস (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) যখন রোম সম্রাটের নিকট পত্র লিখতে মনস্থ করেন, তখন তাঁকে বলা হল, আপনার পত্র যদি মোহরাঙ্কিত না হয়, তবে তারা তা পড়বে না। এরপর তিনি রূপার একটি আংটি বানালেন এবং তাতে مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ খোদাই করা ছিল। (আনাস রাযিঃ বলেন) আমি যেন (এখনও) তার হাতে সে আংটির শুভ্রতা প্রত্যক্ষ করছি।

৩১১২. যে লোক আংটির নাগিনা হাতের তালুর দিকে রাখে।

باب مَنْ جَعَلَ فَصَّ الْخَاتَمِ فِي بَطْنِ كَفِّهِ

5457

5876 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ، حَدَّثَهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اصْطَنَعَ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ، وَجَعَلَ فَصَّهُ فِي بَطْنِ كَفِّهِ إِذَا لَبِسَهُ، فَاصْطَنَعَ النَّاسُ خَوَاتِيمَ مِنْ ذَهَبٍ، فَرَقِيَ المِنْبَرَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، فَقَالَ: «إِنِّي كُنْتُ اصْطَنَعْتُهُ، وَإِنِّي لاَ أَلْبَسُهُ» فَنَبَذَهُ، فَنَبَذَ النَّاسُ قَالَ جُوَيْرِيَةُ: وَلاَ أَحْسِبُهُ إِلَّا قَالَ: فِي يَدِهِ اليُمْنَى

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৫৭। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) স্বর্ণের একটি আংটি তৈরী করেন। যখন তিনি তা পরতেন, তখন তার নাগিনা হাতের তালুর দিকে রাখতেন। (তার দেখাদেখি) লোকেরাও স্বর্ণের আংটি তৈরী আরম্ভ করে। এরপর তিনি একদা মিম্বরে আরোহণ করেন। আল্লাহর প্রশংসা ও গুণাবলী বয়ান করার পর বলেনঃ আমি এ আংটি তৈরী করেছিলাম। কিন্তু তা আর পরব না। এরপর তিনি তা ছুড়ে ফেলেন। ফলে লোকেরাও (তাদের আংটি) ছুড়ে ফেলল। জুওয়ায়রিয়া (রাহঃ) বলেনঃ আমার ধারণা যে, বর্ণনাকারী (নাফি' রাহঃ) এ কথাও বলেছেন যে, আংটিটি তাঁর ডানহাতে ছিল।

৩১১৩. নবী (ﷺ) এর বাণীঃ তার আংটির নকশার ন্যায় কেউ নকশা বানাতে পারবে না।

باب قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَنْقُشُ عَلَى نَقْشِ خَاتَمِهِ ".

5458

5877 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَبْدِ العَزِيزِ [ص:158] بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، وَنَقَشَ فِيهِ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، وَقَالَ: «إِنِّي اتَّخَذْتُ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ، وَنَقَشْتُ فِيهِ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، فَلاَ يَنْقُشَنَّ أَحَدٌ عَلَى نَقْشِهِ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৫৮। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রূপার একটি আংটি তৈরী করেন। তাতে مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ এর নকশা খোদাই করেন। এরপর তিনি বলেনঃ আমি একটি রূপার আংটি বানিয়েছি এবং তাতে مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ এর নকশা খোদাই করেছি। সুতরাং কেউ সেন তার আংটিতে এ নকশা খোদাই না করে।

৩১১৪. আংটির নকশা কি তিন লাইনে করা যায়?

باب هَلْ يُجْعَلُ نَقْشُ الْخَاتَمِ ثَلاَثَةَ أَسْطُرٍ

5459
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ لَمَّا اسْتُخْلِفَ كَتَبَ لَهُ، وَكَانَ نَقْشُ الْخَاتَمِ ثَلاَثَةَ أَسْطُرٍ. مُحَمَّدٌ سَطْرٌ، وَرَسُولُ سَطْرٌ، وَاللَّهِ سَطْرٌ.
وَزَادَنِي أَحْمَدُ حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ خَاتَمُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي يَدِهِ، وَفِي يَدِ أَبِي بَكْرٍ بَعْدَهُ، وَفِي يَدِ عُمَرَ بَعْدَ أَبِي بَكْرٍ، فَلَمَّا كَانَ عُثْمَانُ جَلَسَ عَلَى بِئْرِ أَرِيسَ ـ قَالَ ـ فَأَخْرَجَ الْخَاتَمَ، فَجَعَلَ يَعْبَثُ بِهِ فَسَقَطَ قَالَ فَاخْتَلَفْنَا ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ مَعَ عُثْمَانَ فَنَنْزَحُ الْبِئْرَ فَلَمْ نَجِدْهُ.

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৫৯। মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, আবু বকর (রাযিঃ) যখন খলীফা নির্বাচিত হন, তখন তিনি তার (আনাস রাযিঃ) কাছে (যাকাতের পরিমাণ সম্পর্কে) একটি পত্র লেখেন। আংটিটির নকশা তিন লাইনে ছিল। এক লাইনে ছিল مُحَمَّدٌ, এক লাইনে ছিল رَسُول আর এক লাইনে ছিল اللَّه.
আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেনঃ আহমদের সূত্রে আনাস (রাযিঃ) থেকে এ কথা অতিরিক্ত বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এর আংটি (তার জীবদ্দশায়) তার হাতেই ছিল। তার (ইন্‌তিকালের) পরে তা আবু বকর (রাযিঃ) এর হাতে থাকে। আবু বকর (রাযিঃ) এর (ইন্‌তিকালের) পরে তা উমর (রাযিঃ) এর হাতে থাকে। যখন উসমান (রাযিঃ) এর খিলাফতকাল এল, তখন (একদিন) তিনি ঐ আংটি হাতে নিয়ে আরীস নামক কূপের উপর বসেন। আংটিটি বের করে নাড়াচাড়া করছিলেন। হঠাৎ তা (কূপের মধ্যে) পড়ে যায়। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমরা তিনদিন যাবত উসমানের (রাযিঃ) সাথে অনুসন্ধান চালালাম, কূপের পানি ফেলে দেয়া হল, কিন্তু আংটি আর আমরা পেলাম না।

৩১১৫. মহিলাদের আংটি পরিধান করা। আয়িশা (রাযিঃ) এর স্বর্ণের কয়েকটি আংটি ছিল।

بَابُ الخَاتَمِ لِلنِّسَاءِ وَكَانَ عَلَى عَائِشَةَ، خَوَاتِيمُ ذَهَبٍ

5460

5880 - حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنَا الحَسَنُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، «شَهِدْتُ العِيدَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى قَبْلَ الخُطْبَةِ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَزَادَ ابْنُ وَهْبٍ، عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ: «فَأَتَى النِّسَاءَ، فَجَعَلْنَ يُلْقِينَ الفَتَخَ وَالخَوَاتِيمَ فِي ثَوْبِ بِلاَلٍ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৬০। আবু আসিম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) এর সাথে এক ঈদে উপস্থিত ছিলাম। তিনি খুতবার আগেই নামায আদায় করলেন। আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম বুখারী) বলেনঃ ইবনে ওয়াহব, ইবনে জুরায়জ থেকে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, এরপর তিনি মহিলাদের কাছে আসেন। তারা (সাদ্‌কা হিসেবে) বিলাল (রাযিঃ) এর কাপড়ে মালা ও আংটি ফেলতে লাগল।

৩১১৬. মহিলাদের হার পরিধান করা, সুগন্ধি ও ফুলের মালা পরা।

باب الْقَلاَئِدِ وَالسِّخَابِ لِلنِّسَاءِ يَعْنِي قِلاَدَةً مِنْ طِيبٍ وَسُكٍّ

5461

5881 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عِيدٍ، فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، لَمْ يُصَلِّ قَبْلُ وَلاَ بَعْدُ، ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ، فَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ، فَجَعَلَتِ المَرْأَةُ تَصَدَّقُ بِخُرْصِهَا وَسِخَابِهَا»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৬১। মুহাম্মাদ ইবনে আরআরা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) এক ঈদের দিনে বের হন এবং (ঈদের) দু’রাকআত নামায আদায় করেন। তার আগে এবং পরে আর কোন নফল নামায আদায় করেননি। তারপর তিনি মহিলাদের কাছে আসেন এবং তাদের সাদ্‌কা করার জন্য আদেশ দেন। ফলে মহিলারা তাদের হার ও মালা সাদ্‌কা করতে থাকলেন।

৩১১৭. হার ধার নেয়া।

باب اسْتِعَارَةِ الْقَلاَئِدِ

5462

5882 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: «هَلَكَتْ قِلاَدَةٌ لِأَسْمَاءَ، فَبَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي طَلَبِهَا رِجَالًا، فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ وَلَيْسُوا عَلَى وُضُوءٍ، وَلَمْ يَجِدُوا مَاءً، فَصَلَّوْا وَهُمْ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ، فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ» زَادَ ابْنُ نُمَيْرٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ: اسْتَعَارَتْ مِنْ أَسْمَاءَ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪৬২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, (একবার কোন এক সফরে) আসমার একটি হার (আমার নিকট থেকে) হারিয়ে যায়। নবী (ﷺ) কয়েকজন পুরুষলোককে সেটির সন্ধানে পাঠান। এমন সময় নামাযের সময় উপস্থিত হল। তাদের কারও উযু ছিল না এবং তারা উযুর পানিও পেলেন না। সুতরাং বিনা উযুতেই তাঁরা নামায আদায় করে নিলেন। (ফিরে এসে) তারা নবী (ﷺ) এর নিকট এ বিষয়টির উল্লেখ করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল করেন।
ইবনে নুমাইর হিশামের সূত্রে বর্ণনায় এ কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, ঐ হার আয়েশা (রাযিঃ) আসমা (রাযিঃ) থেকে ধার নিয়েছিলেন।
৩১১৮. মহিলাদের কানের দুল।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) (একবার) মহিলাদের সাদ্‌কা করার নির্দেশ দেন। তখন আমি দেখলাম, তারা তাদের নিজ নিজ কান ও গলার দিকে হাত বাড়াচ্ছেন।

بَابُ القُرْطِ لِلنِّسَاءِوَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «أَمَرَهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالصَّدَقَةِ، فَرَأَيْتُهُنَّ يَهْوِينَ إِلَى آذَانِهِنَّ وَحُلُوقِهِنَّ»

5463

5883 - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَدِيٌّ، قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدًا، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «صَلَّى [ص:159] يَوْمَ العِيدِ رَكْعَتَيْنِ، لَمْ يُصَلِّ قَبْلَهَا وَلاَ بَعْدَهَا، ثُمَّ أَتَى النِّسَاءَ وَمَعَهُ بِلاَلٌ، فَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ، فَجَعَلَتِ المَرْأَةُ تُلْقِي قُرْطَهَا»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৬৩। হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) (একবার) ঈদের দিনে দু’রাকআত নামায আদায় করেন। তিনি এর আগে কোন নামায আদায় করেননি এবং এর পরেও নয়। তারপর তিনি মহিলাদের কাছে আসেন, তখন তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল (রাযিঃ), তিনি মহিলাদের সাদ্‌কা করার নির্দেশ দেন। তারা নিজেদের কানের দুলগুলো ছুড়ে ফেলতে লাগল।

৩১১৯. শিশুদের মালা পরানো।

باب السِّخَابِ لِلصِّبْيَانِ

5464

5884 - حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كُنْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سُوقٍ مِنْ أَسْوَاقِ المَدِينَةِ، فَانْصَرَفَ فَانْصَرَفْتُ، فَقَالَ: «أَيْنَ لُكَعُ - ثَلاَثًا - ادْعُ الحَسَنَ بْنَ عَلِيٍّ» . فَقَامَ الحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ يَمْشِي وَفِي عُنُقِهِ السِّخَابُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ هَكَذَا، فَقَالَ الحَسَنُ بِيَدِهِ هَكَذَا، فَالْتَزَمَهُ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ، وَأَحِبَّ مَنْ يُحِبُّهُ» وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَمَا كَانَ أَحَدٌ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنَ الحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، بَعْدَ مَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا قَالَ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪৬৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম হানযালী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মদীনার কোন এক বাজারে ছিলাম। তিনি (বাজার থেকে) ফিরে আসলেন। আমিও ফিরে আসলাম। তিনি বললেনঃ ছোট শিশুটি কেথায়? এ কথা তিনবার বললেন। হাসান ইবনে আলীকে ডাক। দেখা গেল, হাসান ইবনে আলী হেঁটে চলছে। তার গলায় ছিল মালা। নবী (ﷺ) এভাবে তার হাত উত্তোলন করলেন। হাসানও এভাবে নিজের হাত উত্তোলন করলেন। তারপর তিনি তাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেনঃ হে আল্লাহ! আমি একে ভালবাসি, আপনিও তাকে ভালবাসুন এবং যে ব্যক্তি তাকে ভালবাসে, তাকেও আপনি ভালবাসুন। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর একথা বলার পর থেকে হাসান ইবনে আলীর চেয়ে কেউ আমার কাছে অধিক প্রিয় হয়নি।

৩১২০. পুরুষের নারীর বেশ ধারণ করা এবং নারীর পুরুষের বেশ ধারণ করা।

باب الْمُتَشَبِّهُونَ بِالنِّسَاءِ وَالْمُتَشَبِّهَاتُ بِالرِّجَالِ

5465

5885 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المُتَشَبِّهِينَ مِنَ الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالمُتَشَبِّهَاتِ مِنَ النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ» تَابَعَهُ عَمْرٌو، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৬৫। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) ঐসব পুরুষকে লা’নত করেছেন, যারা নারীর বেশ ধারণ করে এবং ঐসব নারীকেও (লা'নত করেছেন), যারা পুরুষের বেশ ধারণ করে।
আমর রাহঃ ও অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩১২১. নারীর বেশধারী পুরুষদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া।

باب إِخْرَاجِ الْمُتَشَبِّهِينَ بِالنِّسَاءِ مِنَ الْبُيُوتِ

5466

5886 - حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المُخَنَّثِينَ مِنَ الرِّجَالِ، وَالمُتَرَجِّلاَتِ مِنَ النِّسَاءِ، وَقَالَ: «أَخْرِجُوهُمْ مِنْ بُيُوتِكُمْ» قَالَ: فَأَخْرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فُلاَنًا، وَأَخْرَجَ عُمَرُ فُلاَنًا

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৬৬। মুআয ইবনে ফাযালা (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) পুরুষ হিজড়াদের উপর এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী মহিলাদের উপর লা’নত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ ওদেরকে ঘর থেকে বের করে দাও। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেনঃ নবী (ﷺ) অমুককে বের করেছেন এবং উমর (রাযিঃ) অমুককে বের করে দিয়েছেন।

5467

5887 - حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، أَنَّ عُرْوَةَ، أَخْبَرَهُ: أَنَّ زَيْنَبَ بِنْتَ أَبِي سَلَمَةَ، أَخْبَرَتْهُ: أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ أَخْبَرَتْهَا: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عِنْدَهَا وَفِي البَيْتِ مُخَنَّثٌ، فَقَالَ لِعَبْدِ اللَّهِ أَخِي أُمِّ سَلَمَةَ: يَا عَبْدَ اللَّهِ، إِنْ فَتَحَ اللَّهُ لَكُمْ غَدًا الطَّائِفَ، فَإِنِّي أَدُلُّكَ عَلَى بِنْتِ غَيْلاَنَ، فَإِنَّهَا تُقْبِلُ بِأَرْبَعٍ وَتُدْبِرُ بِثَمَانٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ يَدْخُلَنَّ هَؤُلاَءِ عَلَيْكُنَّ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: " تُقْبِلُ بِأَرْبَعٍ وَتُدْبِرُ، يَعْنِي أَرْبَعَ عُكَنِ بَطْنِهَا، فَهِيَ تُقْبِلُ بِهِنَّ، وَقَوْلُهُ: وَتُدْبِرُ بِثَمَانٍ، يَعْنِي أَطْرَافَ هَذِهِ العُكَنِ الأَرْبَعِ، لِأَنَّهَا مُحِيطَةٌ بِالْجَنْبَيْنِ حَتَّى لَحِقَتْ، وَإِنَّمَا قَالَ بِثَمَانٍ، وَلَمْ يَقُلْ بِثَمَانِيَةٍ، وَوَاحِدُ الأَطْرَافِ، وَهُوَ ذَكَرٌ، لِأَنَّهُ لَمْ يَقُلْ ثَمَانِيَةَ أَطْرَافٍ "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৫৪৬৭। মালিক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) একদা তার ঘরে ছিলেন। তখন ঐঘরে একজন হিজড়া ছিল। সে উম্মে সালামার ভাই আব্দুল্লাহকে বললঃ হে আব্দুল্লাহ! আগামীকাল তায়েফের উপর যদি তোমাদের জয়লাভ হয়, তাহলে আমি তোমাকে বিনতে গায়লানকে দেখাবো। সে যখন সামনের দিকে আসে, তখন (তার পেটে) চার ভাজ দৃষ্ট হয়। আর যখন সে পিছনের দিকে যায়, তখন (তার পিঠে) আট ভাজ দৃষ্ট হয়। নবী (ﷺ) বললেনঃ ওরা যেন তোমাদের নিকট কখনও না আসে।

৩১২২. গোঁফ ছাটা।
ইবনে উমর (রাঃ) গোঁফ এতো ছোট করতেন যে, চামড়ার শুভ্রতা দেখা যেত এবং তিনি গোঁফ ও দাঁড়ির মাঝের পশম কেটে ফেলতেন।

باب قَصِّ الشَّارِبِ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُحْفِي شَارِبَهُ حَتَّى يُنْظَرَ إِلَى بَيَاضِ الْجِلْدِ، وَيَأْخُذُ هَذَيْنِ، يَعْنِي بَيْنَ الشَّارِبِ وَاللِّحْيَةِ

5468

5888 - حَدَّثَنَا المَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ حَنْظَلَةَ، عَنْ نَافِعٍ، ح قَالَ أَصْحَابُنَا: عَنِ المَكِّيِّ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مِنَ الفِطْرَةِ قَصُّ الشَّارِبِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৬৮। মাক্কী ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ গোঁফ কেটে ফেলা ফিতরতের (সৃষ্টিগত স্বভাবের) অন্তর্ভুক্ত।

৩১২২. গোঁফ ছাটা।

باب قَصِّ الشَّارِبِ

5469

5889 - حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: الزُّهْرِيُّ، حَدَّثَنَا، عَنْ سَعِيدِ بْنِ المُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رِوَايَةً: " الفِطْرَةُ خَمْسٌ، أَوْ خَمْسٌ مِنَ الفِطْرَةِ: الخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَنَتْفُ الإِبْطِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪৬৯। আলী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ ফিতরাত (অর্থাৎ মানুষের সৃষ্টিগত স্বভাব) পাঁচটিঃ খাতনা করা, ক্ষুর ব্যবহার করা (নাভির নীচে), বোগলের পশম উপড়ে ফেলা, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা।

৩১২৩. নখ কাটা।

باب تَقْلِيمِ الأَظْفَارِ

5470

5890 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ ابْنُ أَبِي رَجَاءٍ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ حَنْظَلَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " مِنَ الفِطْرَةِ: حَلْقُ العَانَةِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَقَصُّ الشَّارِبِ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৭০। আহমদ ইবনে আবু রাজা (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নাভির নীচের পশম কামানো, নখ কাটা ও গোঁফ ছোট করা মানুষের ফিতরতের অন্তর্ভুক্ত।

5471

5891 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ المُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " الفِطْرَةُ خَمْسٌ: الخِتَانُ، وَالِاسْتِحْدَادُ، وَقَصُّ الشَّارِبِ، وَتَقْلِيمُ الأَظْفَارِ، وَنَتْفُ الآبَاطِ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪৭১। আহমাদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ ফিতরাত পাঁচটিঃ খাতনা করা, (নাভির নীচে) ক্ষুর ব্যবহার করা, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা ও বগলের পশম উপড়ে ফেলা।

5472

5892 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " خَالِفُوا المُشْرِكِينَ: وَفِّرُوا اللِّحَى، وَأَحْفُوا الشَّوَارِبَ " وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ: «إِذَا حَجَّ أَوِ اعْتَمَرَ قَبَضَ عَلَى لِحْيَتِهِ، فَمَا فَضَلَ أَخَذَهُ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৭২। মুহাম্মাদ ইবনে মিনহাল (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, তোমরা মুশরিকদের বিপরীত করবে; দাঁড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে। ইবনে উমর (রাযিঃ) যখন হজ্জ বা উমরা করতেন, তখন তিনি তার দাঁড়ি খাট করে ধরতেন এবং মুষ্টির বাইরে যতটুকু অতিরিক্ত থাকত, তা কেটে ফেলতেন।

৩১২৪. দাঁড়ি বড় রাখা।

بَابُ إِعْفَاءِ اللِّحَى{عَفَوْا} [النساء: 43] : «كَثُرُوا وَكَثُرَتْ أَمْوَالُهُمْ»

5473

5893 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «انْهَكُوا الشَّوَارِبَ، وَأَعْفُوا اللِّحَى»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৭৩। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা গোঁফ বেশী ছোট করবে এবং দাঁড়ি বড় রাখবে।

৩১২৫. বার্ধক্যকালে (খিযাব লাগানো সম্পর্কে) বর্ণনা।

باب مَا يُذْكَرُ فِي الشَّيْبِ

5474

5894 - حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسًا: أَخَضَبَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: «لَمْ يَبْلُغِ الشَّيْبَ إِلَّا قَلِيلًا»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৭৪। মুআল্লা ইবনে আসাদ (রাহঃ) ......... মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, নবী (ﷺ) কি খিযাব লাগিয়েছেন? তিনি বললেনঃ বার্ধক্য তাকে অতি সামান্যই পেয়েছিল।

5475

5895 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، قَالَ: سُئِلَ أَنَسٌ، عَنْ خِضَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «إِنَّهُ لَمْ يَبْلُغْ مَا يَخْضِبُ، لَوْ شِئْتُ أَنْ أَعُدَّ شَمَطَاتِهِ فِي لِحْيَتِهِ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৭৫। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... সাবিত (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস (রাযিঃ) কে নবী (ﷺ) এর খিযাব লাগানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) খিযাব লাগাবার অবস্থা পর্যন্ত পৌছেননি। আমি যদি তার সাদা দাঁড়িগুলো গুণতে চাইতাম, তবে সহজেই গুণতে পারতাম।

5476

5896 - حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، قَالَ: أَرْسَلَنِي أَهْلِي إِلَى أُمِّ سَلَمَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ - وَقَبَضَ إِسْرَائِيلُ ثَلاَثَ أَصَابِعَ مِنْ قُصَّةٍ - فِيهِ شَعَرٌ مِنْ شَعَرِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَكَانَ إِذَا أَصَابَ الإِنْسَانَ عَيْنٌ أَوْ شَيْءٌ بَعَثَ إِلَيْهَا مِخْضَبَهُ، فَاطَّلَعْتُ فِي الجُلْجُلِ، فَرَأَيْتُ شَعَرَاتٍ حُمْرًا

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৫৪৭৬। মালিক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমাকে আমার পরিবারের লোকেরা এক পেয়ালা পানিসহ উম্মে সালামা রাঃ এর কাছে পাঠাল। (উম্মে সালামার কাছে রক্ষিত) একটি রূপার (পানি ভর্তি) পাত্র থেকে (আনাসের পুত্র) ইসরাঈল তিনটি আঙ্গুল দিয়ে কিছু পানি তুলে নিল। ঐ পাত্রের মধ্যে নবী (ﷺ) এর কয়েকটি চুল মুবারক ছিল। কোন লোকের যদি চোখ (বদনযর) লাগতো কিংবা অন্য কোন রোগ দেখা দিত, তবে উম্মে সালামা রাঃ এর কাছ থেকে পানি আনার জন্য একটি পাত্র পাঠিয়ে দিত। আমি সে পাত্রের মধ্যে একবার লক্ষ্য করে দেখলাম, তাতে লাল রংয়ের কয়েকটি চুল আছে।

5477
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا سَلاَّمٌ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، قَالَ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَأَخْرَجَتْ إِلَيْنَا شَعَرًا مِنْ شَعَرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مَخْضُوبًا.
وَقَالَ لَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا نُصَيْرُ بْنُ أَبِي الأَشْعَثِ، عَنِ ابْنِ مَوْهَبٍ، أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ، أَرَتْهُ شَعَرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَحْمَرَ.

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন উম্মে সালামা (রাঃ)

৫৪৭৭। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মাওহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একবার) আমি উম্মে সালামার (রাযিঃ) নিকট গেলাম। তখন তিনি নবী (ﷺ) এর কয়েকটি চুল বের করলেন, যাতে খিযাব লাগানো ছিল।
আবু নুআইম ......... ইবনে মাওহাবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, উম্মে সালামা (রাযিঃ) তাকে (ইবনে মাওহাব) নবী (ﷺ) এর লাল রংয়ের চুল দেখিয়েছেন।

৩১২৬. খিযাবের বর্ণনা।

باب الْخِضَابِ

5478

5899 - حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، وَسُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اليَهُودَ وَالنَّصَارَى لَا يَصْبُغُونَ، فَخَالِفُوهُمْ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৪৭৮। হুমায়দী (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ইয়াহুদ ও নাসারারা (চুল ও দাঁড়িতে) রং লাগায় না। সুতরাং তোমরা তাদের বিপরীত করবে।

৩১২৭. কোঁকড়ানো চুল।

باب الْجَعْدِ

5479

5900 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ البَائِنِ، وَلاَ بِالقَصِيرِ، وَلَيْسَ بِالأَبْيَضِ الأَمْهَقِ، وَلَيْسَ بِالْآدَمِ، وَلَيْسَ بِالْجَعْدِ القَطَطِ، وَلاَ بِالسَّبْطِ، بَعَثَهُ اللَّهُ عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً، فَأَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ، وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ، وَتَوَفَّاهُ اللَّهُ عَلَى رَأْسِ سِتِّينَ سَنَةً، وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعَرَةً بَيْضَاءَ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৭৯। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অতিরিক্ত লম্বা ছিলেন না, খাটও ছিলেন না। ধবধবে সাদা ছিলেন না, আর ফ্যাকাশে সাদাও ছিলেন না। চুল অতিশয় কোঁকড়ানোও ছিল না, আর সম্পূর্ণ সোজাও ছিল না। চল্লিশ বছর বয়সে আল্লাহ তাআলা তাঁকে নবুওয়াত দান করেন। এরপর মক্কায় দশ বছর এবং মদীনায় তিনি দশ বছর অবস্থান করেন। ষাট বছর বয়সে আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করেন। এ সময় তার মাথায় ও দাঁড়িতে বিশটি চুলও সাদা হয়নি।

5480

5901 - حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، سَمِعْتُ البَرَاءَ، يَقُولُ: «مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَحْسَنَ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ» قَالَ بَعْضُ أَصْحَابِي، عَنْ مَالِكٍ: «إِنَّ جُمَّتَهُ لَتَضْرِبُ قَرِيبًا مِنْ مَنْكِبَيْهِ» قَالَ أَبُو إِسْحَاقَ: - «سَمِعْتُهُ يُحَدِّثُهُ غَيْرَ مَرَّةٍ، مَا حَدَّثَ بِهِ قَطُّ إِلَّا ضَحِكَ -» قَالَ شُعْبَةُ: «شَعَرُهُ يَبْلُغُ شَحْمَةَ أُذُنَيْهِ»

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৫৪৮০। মালিক ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... বারা' (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লাল জোড়া কাপড় পরিহিত অবস্থায় নবী (ﷺ) থেকে অন্য কাউকে আমি অধিক সুন্দর দেখিনি।
(ইমাম বুখারী বলেন) আমার জনৈক সঙ্গী মালিক রাহঃ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) এর মাথার চুল তার কাঁধ পর্যন্ত পৌছতো। আবু ইসহাক (রাহঃ) বলেনঃ আমি বারা' (রাযিঃ) কে একাধিকবার এ হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি। যখনই তিনি এ হাদীস বর্ণনা করতেন, তখনই হেসে দিতেন। শু'বা বলেছেনঃ নবী (ﷺ) এর চুল তার উভয় কানের লতি পর্যন্ত পৌছতো।
5481

5902 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " أُرَانِي اللَّيْلَةَ عِنْدَ الكَعْبَةِ، فَرَأَيْتُ رَجُلًا آدَمَ، كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنْ أُدْمِ الرِّجَالِ، لَهُ لِمَّةٌ كَأَحْسَنِ مَا أَنْتَ رَاءٍ مِنَ اللِّمَمِ قَدْ رَجَّلَهَا، فَهِيَ تَقْطُرُ مَاءً، مُتَّكِئًا عَلَى رَجُلَيْنِ، أَوْ عَلَى عَوَاتِقِ رَجُلَيْنِ، يَطُوفُ بِالْبَيْتِ، فَسَأَلْتُ: مَنْ هَذَا؟ فَقِيلَ: المَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ، وَإِذَا أَنَا بِرَجُلٍ جَعْدٍ قَطَطٍ، أَعْوَرِ العَيْنِ اليُمْنَى، كَأَنَّهَا عِنَبَةٌ طَافِيَةٌ، فَسَأَلْتُ: مَنْ هَذَا؟ فَقِيلَ: المَسِيحُ الدَّجَّالُ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৮১। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি এক রাতে স্বপ্নে কা'বা ঘরের নিকট একজন গেরুয়া বর্ণের পুরুষলোক দেখতে পেলাম। এমন সুন্দর গেরুয়া লোক তুমি কখনও দেখনি। তার মাথার চুল ছিল কাঁধ পর্যন্ত। কাঁধ পর্যন্ত লম্বা এমন সুন্দর চুল তুমি কখনও দেখনি। লোকটি চুল আচড়িয়েছে, আর তা থেকে ফোটা ফোটা পানি পড়ছে। সে দু’জন লোকের উপর ভর করে কিংবা দু’জন লোকের কাঁধের উপর ভর করে কা'বা ঘর তাওয়াফ করছেন। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ এ লোকটি কে? জবাব দেওয়া হলো, তিনি মারয়ামের পুত্র (ঈসা) মাসীহ! আর দেখলাম অন্য একজন লোক, যার চুল ছিল অতিশয় কোকড়ানো, ডান চোখ টেরা, যেন তা একটি ফুলে উঠা আঙ্গুর। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ লোকটি কে? বলা হলোঃ এ মাসীহ দাজ্জাল।

5482

5903 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا حِبَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ: «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَضْرِبُ شَعَرُهُ مَنْكِبَيْهِ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৮২। ইসহাক (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) এর মাথার চুল (কখনো কখনো) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হত।

5483

5904 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، «كَانَ يَضْرِبُ شَعَرُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْكِبَيْهِ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৮৩। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) এর চুল (কোন কোন সময়) কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হত।

5484

5905 - حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ: سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ شَعَرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «كَانَ شَعَرُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجِلًا [ص:162]، لَيْسَ بِالسَّبِطِ وَلاَ الجَعْدِ، بَيْنَ أُذُنَيْهِ وَعَاتِقِهِ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৮৪। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চুল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চুল মধ্যম ধরনের ছিল, না একেবারে সোজা লম্বা, না অতি কোঁকড়ানো। আর তা ছিল দু’কান ও দু-কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান পর্যন্ত।

5485

5906 - حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَخْمَ اليَدَيْنِ، لَمْ أَرَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ، وَكَانَ شَعَرُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجِلًا، لاَ جَعْدَ وَلاَ سَبِطَ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৮৫। মুসলিম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুবারক হাত গোশতে পরিপূর্ণ ছিল। তার পরে আর কাউকে তেমন দেখিনি। আর নবী (ﷺ) এর চুল ছিল মধ্যম ধরনের, বেশী কোকড়ানোও না, আর একেবারে সোজাও না।

5486

5907 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَخْمَ اليَدَيْنِ وَالقَدَمَيْنِ، حَسَنَ الوَجْهِ، لَمْ أَرَ بَعْدَهُ وَلَا قَبْلَهُ مِثْلَهُ، وَكَانَ بَسِطَ الكَفَّيْنِ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৮৬। আবু নু’মান (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর দু’হাত ও দু’পা ছিল গোশতবহুল। চেহারা ছিল সুন্দর; তাঁর আগে ও তাঁর পরে আমি তাঁর মত (এত অধিক সুন্দর) কাউকে দেখিনি। তাঁর হাতের তালু ছিল চওড়া।

5487
حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هَانِئٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ،. أَوْ عَنْ رَجُلٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ضَخْمَ الْقَدَمَيْنِ، حَسَنَ الْوَجْهِ، لَمْ أَرَ بَعْدَهُ مِثْلَهُ.
وَقَالَ هِشَامٌ عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم شَثْنَ الْقَدَمَيْنِ وَالْكَفَّيْنِ.
وَقَالَ أَبُو هِلاَلٍ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسٍ،. أَوْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ضَخْمَ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ، لَمْ أَرَ بَعْدَهُ شَبَهًا لَهُ.

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৮৭। আমর ইবনে আলী (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) ও আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) এর দু’পা ছিল গোশতবহুল। চেহারা ছিল সুন্দর। আমি তার পরে তার ন্যায় (কাউকে এমন সুন্দর) দেখিনি।
হিশাম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন যে, নবী (ﷺ) এর দু’পা ও হাতের তালুদ্বয় গোশতে পরিপূর্ণ ছিল।
আবু হিলাল (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) অথবা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ নবী (ﷺ) এর তালুদ্বয় ও দুটি পা গোশতপূর্ণ ছিল। আমি তার পরে তার ন্যায় (কাউকে এত অধিক সুন্দর) দেখিনি।
5488

5913 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: فَذَكَرُوا الدَّجَّالَ، فَقَالَ: إِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ، وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: لَمْ أَسْمَعْهُ قَالَ ذَاكَ، وَلَكِنَّهُ قَالَ: «أَمَّا إِبْرَاهِيمُ فَانْظُرُوا إِلَى صَاحِبِكُمْ، وَأَمَّا مُوسَى فَرَجُلٌ آدَمُ جَعْدٌ، عَلَى جَمَلٍ أَحْمَرَ، مَخْطُومٍ بِخُلْبَةٍ، كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ إِذِ انْحَدَرَ فِي الوَادِي يُلَبِّي»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৮৮। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... মুজাহিদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একদা ইবনে আব্বাসের নিকট ছিলাম। তখন লোকজন দাজ্জালের কথা আলোচনা করল। একজন বললঃ তার দু’চোখের মাঝখানে লেখা থাকবে ‘কাফির’। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বললেনঃ আমি এমন কথা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনিনি। তবে তিনি বলেছেনঃ তোমরা যদি ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) কে দেখতে চাও, তাহলে তোমাদের সঙ্গী (নবী ﷺ) এর দিকে তাকাও। আর মুসা (আলাইহিস সালাম) হচ্ছেন শ্যাম বর্ণের লোক, কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট, নাকে লাগাম পরানো লাল উটে আরোহণকারী। আমি যেন তাঁকে দেখতে পাচ্ছি যে, তিনি তালবিয়া (লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক.....) পাঠরত অবস্থায় (মক্কা) উপত্যকায় অবতরণ করছেন।

৩১২৮. মাথার চুল জট করা।

باب التَّلْبِيدِ

5489

5914 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ: سَمِعْتُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ: «مَنْ ضَفَّرَ فَلْيَحْلِقْ، وَلاَ تَشَبَّهُوا بِالتَّلْبِيدِ» وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ، يَقُولُ: «لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُلَبِّدًا»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৮৯। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি উমর (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি চুল জট করে, সে যেন তা মুড়িয়ে ফেলে। আর তোমরা মাথার চুল জটকারীদের ন্যায় জট করো না। ইবনে উমর (রাযিঃ) বলতেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে চুল জট করা অবস্থায় দেখেছি।

5490

5915 - حَدَّثَنِي حِبَّانُ بْنُ مُوسَى، وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُهِلُّ مُلَبِّدًا يَقُولُ: «لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالمُلْكَ، لاَ شَرِيكَ لَكَ» لاَ يَزِيدُ عَلَى هَؤُلاَءِ الكَلِمَاتِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৯০। হিব্বান ইবনে মুসা ও আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে চুল জট করা অবস্থায় ইহরামকালে উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ লাব্বাইক...... আমি হাযির, হে আল্লাহ! আমি হাযির, আমি হাযির, আপনার কোন শরীক নেই। আমি হাযির, নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা এবং অনুগ্রহ কেবল আপনারই, আর রাজত্বও। এতে আপনার কোন শরীক নেই। এ শব্দগুলো থেকে বাড়িয়ে তিনি অতিরিক্ত কিছু বলেননি।

5491

5916 - حَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ حَفْصَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا شَأْنُ النَّاسِ حَلُّوا بِعُمْرَةٍ وَلَمْ تَحْلِلْ أَنْتَ مِنْ عُمْرَتِكَ؟ قَالَ: «إِنِّي لَبَّدْتُ رَأْسِي، وَقَلَّدْتُ هَدْيِي فَلاَ أَحِلُّ حَتَّى أَنْحَرَ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হাফসা (রাঃ)

৫৪৯১। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... হাফসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ হে আল্লাহর রাসূল! লোকজনের কি হল, তারা তাদের উমরার ইহরাম খুলে ফেলেছে অথচ আপনি এখনও আপনার ইহরাম খুলেননি ? তিনি বললেনঃ আমি আমার মাথার চুল জড়ো করে রেখেছি এবং আমার হাদী (কুরবানীর পশু) কে কিলাদা পরিয়েছি। তাই তা যবেহ করার পূর্বে আমি ইহরাম খুলবো না।

৩১২৯. মাথার চুল মাথার মাঝখানে (সিঁথি) দুইভাগে বিভক্ত করে রাখা।

باب الْفَرْقِ

5492

5917 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ [ص:163]، حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ مُوَافَقَةَ أَهْلِ الكِتَابِ فِيمَا لَمْ يُؤْمَرْ فِيهِ، وَكَانَ أَهْلُ الكِتَابِ يَسْدِلُونَ أَشْعَارَهُمْ، وَكَانَ المُشْرِكُونَ يَفْرُقُونَ رُءُوسَهُمْ، فَسَدَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاصِيَتَهُ، ثُمَّ فَرَقَ بَعْدُ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৯২। আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) সেসব ব্যাপারে আহলে কিতাবের সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলা পছন্দ করতেন, যেসব ব্যাপারে তাকে (কুরআনে) কোন সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়নি। আর আহলে কিতাবরা তাদের চুল ঝুলিয়ে রাখতো এবং মুশরিকরা তাদের মাথার চুল সিঁথি কেটে রাখতো। নবী (ﷺ) তার চুল ঝুলিয়েও রাখতেন এবং সিঁথিও কাটতেন।

5493

5918 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ، قَالاَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: «كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ الطِّيبِ فِي مَفَارِقِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ» قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فِي مَفْرِقِ النَّبِيِّ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪৯৩। আবুল ওয়ালীদ ও আব্দুল্লাহ ইবনে রাজা (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) ইহরাম অবস্থায় সিথিতে যে খুশবু লাগাতেন, আমি যেন তার চমক এখনও দেখতে পাচ্ছি।

৩১৩০. চুলের ঝুটি।

باب الذَّوَائِبِ

5494

5919 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا الفَضْلُ بْنُ عَنْبَسَةَ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، ح وحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: بِتُّ لَيْلَةً عِنْدَ مَيْمُونَةَ بِنْتِ الحَارِثِ خَالَتِي، وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَهَا فِي لَيْلَتِهَا، قَالَ: «فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ، فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ» قَالَ: «فَأَخَذَ بِذُؤَابَتِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ» حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ: بِهَذَا، وَقَالَ: بِذُؤَابَتِي، أَوْ بِرَأْسِي

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৯৪। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার আমি আমার খালা মায়মুনা বিনতে হারিসের নিকট রাত যাপন করছিলাম। ঐ রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছে ছিলেন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে রাতের নামায আদায় করতে লাগলেন। আমি তাঁর বামপাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। তখন তিনি আমার চুলের ঝুটি ধরে আমাকে তার ডানপাশে নিয়ে দাঁড় করালেন।

5495

5919 - .......... حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ: بِهَذَا، وَقَالَ: بِذُؤَابَتِي، أَوْ بِرَأْسِي

Narrator: আবু বিশর (রহঃ)

৫৪৯৫। আমর ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু বিশর (রাহঃ) থেকে উক্ত বর্ণনায় بِذُؤَابَتِي অথবা بِرَأْسِي বলে বর্ণনা করেছেন।

৩১৩১. ‘কাযা’ অর্থাৎ মাথার কিছু অংশের চুল মুড়ে ফেলা ও কিছু অংশে চুল রেখে দেয়া।

باب الْقَزَعِ

5496

5920 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَخْلَدٌ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ حَفْصٍ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ نَافِعٍ، أَخْبَرَهُ، عَنْ نَافِعٍ، مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ: أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا يَقُولُ: «سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْهَى عَنِ القَزَعِ» قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: قُلْتُ: وَمَا القَزَعُ؟ فَأَشَارَ لَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ قَالَ: إِذَا حَلَقَ الصَّبِيَّ، وَتَرَكَ هَا هُنَا شَعَرَةً وَهَا هُنَا وَهَا هُنَا، فَأَشَارَ لَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ إِلَى نَاصِيَتِهِ وَجَانِبَيْ رَأْسِهِ. قِيلَ لِعُبَيْدِ اللَّهِ: فَالْجَارِيَةُ وَالغُلاَمُ؟ قَالَ: لاَ أَدْرِي، هَكَذَا قَالَ: الصَّبِيُّ. قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: وَعَاوَدْتُهُ، فَقَالَ: أَمَّا القُصَّةُ وَالقَفَا لِلْغُلاَمِ فَلاَ بَأْسَ بِهِمَا، وَلَكِنَّ القَزَعَ أَنْ يُتْرَكَ بِنَاصِيَتِهِ شَعَرٌ، وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ غَيْرُهُ، وَكَذَلِكَ شَقُّ رَأْسِهِ هَذَا وَهَذَا

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৯৬। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কাযা' থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। রাবী উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ ‘কাযা’ কি? তখন উবাইদুল্লাহ আমাদের ইশারা দিয়ে দেখিয়ে বললেনঃ শিশুদের যখন চুল কামানো হয়, তখন এই এই জায়গায় চুল রেখে দেওয়া। এ কথা বলার সময় উবাইদুল্লাহ তার কপাল ও মাথার দু’পাশ দেখালেন। পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলঃ বালক ও বালিকার কি একই হুকুম? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। এভাবে তিনি বালকের কথা বলেছেন। উবাইদুল্লাহ বলেনঃ আমি এ কথা পূনরায় জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেনঃ ছেলে শিশুর মাথার সামনের ও পিছনের দিকের চুল কামানো দোষনীয় নয়। আর (অন্য এক ব্যাখ্যা মতে) ‘কাযা’ বলা হয়, কপালের উপরে কিছু চুল রেখে বাকী মাথার কোথাও চুল না রাখা। অনুরূপভাবে মাথার চুল একপাশ থেকে অথবা অপরপাশ থেকে কাটা।

5497

5921 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ المُثَنَّى بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ القَزَعِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৯৭। মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাযা' করতে নিষেধ করেছেন।

৩১৩২. স্ত্রী কর্তৃক নিজ হাতে স্বামীকে খুশবু লাগিয়ে দেওয়া।

باب تَطْيِيبِ الْمَرْأَةِ زَوْجَهَا بِيَدَيْهَا

5498

5922 - حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ القَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «طَيَّبْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِي لِحُرْمِهِ، وَطَيَّبْتُهُ [ص:164] بِمِنًى قَبْلَ أَنْ يُفِيضَ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪৯৮। আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে তার মুহরিম অবস্থায় নিজ হাতে খুশবু লাগিয়ে দিয়েছি এবং মিনাতেও, সেখান থেকে রওয়ানা হওয়ার পূর্বে তাঁকে আমি খুশবু লাগিয়েছি।

৩১৩৩. মাথায় ও দাঁড়িতে খুশবু লাগানো।

باب الطِّيبِ فِي الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ

5499

5923 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كُنْتُ أُطَيِّبُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَطْيَبِ مَا يَجِدُ، حَتَّى أَجِدَ وَبِيصَ الطِّيبِ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪৯৯। ইসহাক ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যত উত্তম খোশবু পেতাম, তা নবী (ﷺ) কে লাগিয়ে দিতাম। এমনকি সে খোশবুর চমক তার মাথায় ও দাঁড়িতে দেখতে পেতাম।

৩১৩৪. চিরুনি করা।

باب الاِمْتِشَاطِ

5500

5924 - حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ: أَنَّ رَجُلًا اطَّلَعَ مِنْ جُحْرٍ فِي دَارِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَحُكُّ رَأْسَهُ بِالْمِدْرَى فَقَالَ: «لَوْ عَلِمْتُ أَنَّكَ تَنْظُرُ، لَطَعَنْتُ بِهَا فِي عَيْنِكَ، إِنَّمَا جُعِلَ الإِذْنُ مِنْ قِبَلِ الأَبْصَارِ»

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৫৫০০। আদম ইবনে আবু ইয়াস (রাহঃ) ......... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, একজন লোক একটি ছিদ্রপথ দিয়ে নবী (ﷺ) এর ঘরে উঁকি মারে। নবী (ﷺ) তখন চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়াচ্ছিলেন। তিনি বললেনঃ আমি যদি বুঝতাম যে, তুমি ছিদ্র দিয়ে তাকিয়ে দেখছ, তা হলে এ (চিরুনি) দিয়ে আমি তোমার চোখ ঘায়েল করে দিতাম। দৃষ্টি থেকে বাঁচাবার জন্যই তো অনুমতি গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।

৩১৩৫. হায়য অবস্থায় স্বামীর মাথা আঁচড়ে দেওয়া।

باب تَرْجِيلِ الْحَائِضِ زَوْجَهَا

5501

5925 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: «كُنْتُ أُرَجِّلُ رَأْسَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا حَائِضٌ» حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ: مِثْلَهُ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫০১। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি হায়য অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মাথা আঁচড়িয়ে দিয়েছি।
আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ..... হিশাম সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।

৩১৩৬. চিরুনি দ্বারা মাথা আঁচড়ানো ও ডানদিক থেকে আরম্ভ করা।

بَابُ التَّرْجِيلِ وَالتَّيَمُّنِ

5502

5926 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ سُلَيْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَّهُ كَانَ يُعْجِبُهُ التَّيَمُّنُ مَا اسْتَطَاعَ، فِي تَرَجُّلِهِ وَوُضُوئِهِ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫০২। আবুল ওয়ালীদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) চিরুনি দ্বারা মাথা আঁচড়াতে ও উযু করতে যতদূর সম্ভব ডানদিক থেকে আরম্ভ করতে পছন্দ করতেন।

৩১৩৭. মিশকের বর্ণনা।

باب مَا يُذْكَرُ فِي الْمِسْكِ

5503

5927 - حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ المُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصَّوْمَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ المِسْكِ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫০৩। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ বনী আদমের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্যই কেবল রোযা ব্যতীত, কেননা তা আমার জন্য এবং আমি নিজেই তার পুরস্কার দেব। আর রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের ঘ্রাণের চেয়ে অধিক সুগন্ধিযুক্ত।

৩১৩৮. খুশবু লাগানো মুস্তাহাব।

باب مَا يُسْتَحَبُّ مِنَ الطِّيبِ

5504

5928 - حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: «كُنْتُ أُطَيِّبُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ إِحْرَامِهِ بِأَطْيَبِ مَا أَجِدُ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫০৪। মুসা (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যেসব সুগন্ধি পেতাম, তার মধ্যে সবচাইতে উত্তম সুগন্ধিটি নবী (ﷺ) কে তার ইহরাম অবস্থায় লাগিয়ে দিতাম।

৩১৩৯. খুশবু প্রত্যাখ্যান না করা।

باب مَنْ لَمْ يَرُدَّ الطِّيبَ

5505

5929 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا عَزْرَةُ بْنُ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي ثُمَامَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّهُ كَانَ لاَ يَرُدُّ الطِّيبَ، وَزَعَمَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «كَانَ لاَ يَرُدُّ الطِّيبَ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৫০৫। আবু নুআইম (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, (কেউ তাকে খোশবু হাদিয়া দিলে) তিনি (সে) খোশবু ফিরিয়ে দিতেন না এবং বলতেন, নবী করীম (ﷺ) খোশবু প্রত্যাখ্যান করতেন না।

৩১৪০. যারীরা নামক সুগন্ধি।

باب الذَّرِيرَةِ

5506

5930 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ الهَيْثَمِ، أَوْ مُحَمَّدٌ عَنْهُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُرْوَةَ، سَمِعَ عُرْوَةَ، وَالقَاسِمَ، يُخْبِرَانِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «طَيَّبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدَيَّ بِذَرِيرَةٍ فِي حَجَّةِ الوَدَاعِ، لِلْحِلِّ وَالإِحْرَامِ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫০৬। উসমান ইবনে হায়সাম অথবা তার থেকে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নিজহাতে যারীরা নামক সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি, হালাল অবস্থায় এবং ইহরাম অবস্থায়।

৩১৪১. সৌন্দর্যের জন্য সামনের দাঁত কেটে সরু করা ও দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করা।

باب الْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ

5507

5931 - حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، حَدَّثَنَا [ص:165] جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «لَعَنَ اللَّهُ الوَاشِمَاتِ وَالمُسْتَوْشِمَاتِ، وَالمُتَنَمِّصَاتِ، وَالمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ، المُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ تَعَالَى» مَالِي لاَ أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ فِي كِتَابِ اللَّهِ: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ} [الحشر: 7]

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৫০৭। উসমান (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হোক সেসব নারীদের উপর, যারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি উৎকীর্ন করে এবং যারা উৎকীর্ণ করায়, আর সেসব নারীদের উপর, যারা চুল, ভ্রূ উঠিয়ে ফেলে এবং সেসব নারীদের উপরও, যারা সৌন্দর্যের জন্য সামনের দাঁত কেটে সরু করে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, এটা করে তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন এনে দেয়। রাবী বলেনঃ আমি কেন তার উপর লা'নত করবো না, যাকে নবী (ﷺ) লা'নত করেছেন? আর আল্লাহর কিতাবে আছেঃ ″ রাসূল ﷺ তোমাদের কাছে যে বিধান এনেছেন তা গ্রহণ করো।″

৩১৪২. পরচুলা লাগানো।

باب الْوَصْلِ فِي الشَّعَرِ

5508
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ، عَامَ حَجَّ وَهْوَ عَلَى الْمِنْبَرِ، وَهْوَ يَقُولُ ـ وَتَنَاوَلَ قُصَّةً مِنْ شَعَرٍ كَانَتْ بِيَدِ حَرَسِيٍّ ـ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْ مِثْلِ هَذِهِ وَيَقُولُ " إِنَّمَا هَلَكَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ حِينَ اتَّخَذَ هَذِهِ نِسَاؤُهُمْ ".
وَقَالَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَعَنَ اللَّهُ الْوَاصِلَةَ وَالْمُسْتَوْصِلَةَ، وَالْوَاشِمَةَ وَالْمُسْتَوْشِمَةَ ".

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৫৫০৮। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... হুমায়দ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি হজ্জ করার সময় মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাযিঃ) কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন, ঐ সময় তিনি জনৈক দেহরক্ষীর হস্তস্থিত একগুচ্ছ চুল নিজ হাতে নিয়ে বললেনঃ তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এরূপ করা থেকে নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলতেনঃ বনী ইসরাঈল তখনই ধ্বংস হয়েছে, যখন তাদের নারীরা এরূপ করা শুরু করে।
ইবনে আবু শাঈবা (রাহঃ).......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা লা'নত করেন সেসব নারীদেরকে, যারা নিজেরা পরচুলা ব্যবহার করে এবং যারা অপরকে তা লাগিয়ে দেয়, যারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি উৎকীর্ণ করে এবং অন্যকে তা করিয়ে দেয়।
5509

5934 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، قَالَ: سَمِعْتُ الحَسَنَ بْنَ مُسْلِمِ بْنِ يَنَّاقٍ، يُحَدِّثُ، عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ جَارِيَةً مِنَ الأَنْصَارِ تَزَوَّجَتْ، وَأَنَّهَا مَرِضَتْ فَتَمَعَّطَ شَعَرُهَا، فَأَرَادُوا أَنْ يَصِلُوهَا، فَسَأَلُوا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الوَاصِلَةَ وَالمُسْتَوْصِلَةَ» تَابَعَهُ ابْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ أَبَانَ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ الحَسَنِ، عَنْ صَفِيَّةَ، عَنْ عَائِشَةَ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫০৯। আদম (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, জনৈক আনসারী মহিলা বিবাহ করে। এরপর সে এক রোগে আক্রান্ত হল, ফলে তার সব চুল ঝরে যায়। লোকজন তাকে পরচুলা লাগিয়ে দিতে ইচ্ছা করে। আর তারা নবী (ﷺ) এর কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ লা'নত করেন ঐসব নারীকে, যারা নিজেরা পরচুলা লাগায় এবং যারা অপরকে তা লাগিয়ে দেয়।
ইবনে ইসহাক সূত্রেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।
5510

5935 - حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ المِقْدَامِ، حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ سُلَيْمَانَ، حَدَّثَنَا مَنْصُورُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ: حَدَّثَتْنِي أُمِّي، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: إِنِّي أَنْكَحْتُ ابْنَتِي، ثُمَّ أَصَابَهَا شَكْوَى، فَتَمَرَّقَ رَأْسُهَا، وَزَوْجُهَا يَسْتَحِثُّنِي بِهَا، أَفَأَصِلُ رَأْسَهَا؟ " فَسَبَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الوَاصِلَةَ وَالمُسْتَوْصِلَةَ "

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৫৫১০। আহমাদ ইবনে মিকদাম (রাহঃ) ......... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, জনৈক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে বললঃ আমি আমার একটি মেয়েকে বিবাহ দিয়েছি। এরপর সে রোগাক্রান্ত হয়, এতে তার মাথার চুল ঝরে যায়। তার স্বামী এর কারণে আমাকে তিরস্কার করে। আমি কি তার মাথায় পরচুলা লাগিয়ে দিব? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে পরচুলা লাগায় এবং যে তা অন্যকে লাগিয়ে দেয়, তাদের নিন্দা করলেন।

5511

5936 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ امْرَأَتِهِ فَاطِمَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: «لَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الوَاصِلَةَ وَالمُسْتَوْصِلَةَ»

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৫৫১১। আদম (রাহঃ) ......... আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে মহিলা পরচুলা লাগায়, আর যে অপরকে পরচুলা লাগিয়ে দেয়, নবী (ﷺ) তাদের উপর লা'নত করেছেন।

5512

5937 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الوَاصِلَةَ وَالمُسْتَوْصِلَةَ، وَالوَاشِمَةَ وَالمُسْتَوْشِمَةَ» وَقَالَ نَافِعٌ: «الوَشْمُ فِي اللِّثَةِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫১২। মুহাম্মাদ ইবনে মুকাতিল (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ ঐ নারীর উপর অভিশাপ বর্ষণ করেন, যে পরচুলা লাগায়, আর অপরকে পরচুলা লাগিয়ে দেয়। আর যে নারী উল্কি উৎকীর্ণ করে এবং যে তা করায়। নাফি’ রাহঃ বলেনঃ উল্কি উৎকীর্ণ করা হয় (সাধারণত) উঁচু গোশতের উপরে।

5513

5938 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ، سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ المُسَيِّبِ، قَالَ: قَدِمَ مُعَاوِيَةُ المَدِينَةَ، آخِرَ قَدْمَةٍ قَدِمَهَا، فَخَطَبَنَا فَأَخْرَجَ كُبَّةً مِنْ شَعَرٍ، قَالَ: مَا كُنْتُ أَرَى أَحَدًا [ص:166] يَفْعَلُ هَذَا غَيْرَ اليَهُودِ «إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمَّاهُ الزُّورَ. يَعْنِي الوَاصِلَةَ فِي الشَّعَرِ»

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৫৫১৩। আদম (রাহঃ) ......... সা’ঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ মুআবিয়া (রাযিঃ) শেষ বারের মত যখন মদীনায় আসেন, তখন তিনি আমাদের সামনে ভাষণ দেন। তিনি এক গোছা চুল বের করে বললেন, আমি ইয়াহুদী ব্যতীত অন্য কাউকে এ জিনিস ব্যবহার করতে দেখিনি। নবী (ﷺ) একে অর্থাৎ পরচুলা ব্যবহারকারী নারীকে প্রতারক বলেছেন।

৩১৪৩. ভ্রূ উপড়ে ফেলা।

باب الْمُتَنَمِّصَاتِ

5514

5939 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ: «لَعَنَ عَبْدُ اللَّهِ، الوَاشِمَاتِ وَالمُتَنَمِّصَاتِ، وَالمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ المُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ» فَقَالَتْ أُمُّ يَعْقُوبَ: مَا هَذَا؟ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: «وَمَا لِي لاَ أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ، وَفِي كِتَابِ اللَّهِ؟» قَالَتْ: وَاللَّهِ لَقَدْ قَرَأْتُ مَا بَيْنَ اللَّوْحَيْنِ فَمَا وَجَدْتُهُ، قَالَ: " وَاللَّهِ لَئِنْ قَرَأْتِيهِ لَقَدْ وَجَدْتِيهِ: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: 7] "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৫১৪। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আলকামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে যেসব নারী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উল্কি উৎকীর্ণ করে, যেসব নারী ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যেসব নারী দাঁত সরু করে কেটে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে যা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করে দেয়, তাদের উপর আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) লা'নত করেছেন। উম্মে ইয়াকুব বললঃ এ কেমন কথা? আব্দুল্লাহ বললেনঃ আমি কেন তাকে লানত করবো না, যাকে আল্লাহর রাসূল ﷺ লানত করেছেন এবং আল্লাহর কিতাবেও। উম্মে ইয়াকুব বললঃ আল্লাহর কসম! আমি সম্পূর্ণ কুরআন পড়েছি, কিন্তু এ কথা তো কোথাও পাইনি। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! তুমি যদি তা পড়তে, তবে অবশ্যই পেতেঃ وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا
″রাসূল তোমাদের কাছে যা এনেছেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা বর্জন কর।″(হাশরঃ ০৭)

৩১৪৪. পরচুলা লাগানো।

باب الْمَوْصُولَةِ

5515

5940 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «لَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الوَاصِلَةَ وَالمُسْتَوْصِلَةَ، وَالوَاشِمَةَ وَالمُسْتَوْشِمَةَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫১৫। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ যে নারী পরচুলা লাগায় আর অপরকে পরচুলা লাগিয়ে দেয়, এবং উল্কি উৎকীর্ণকারী নারী এবং যে উৎকীর্ণ করে, আল্লাহর নবী (ﷺ) তাদের অভিশাপ করেছেন।

5516

5941 - حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَنَّهُ سَمِعَ فَاطِمَةَ بِنْتَ المُنْذِرِ، تَقُولُ: سَمِعْتُ أَسْمَاءَ، قَالَتْ: سَأَلَتِ امْرَأَةٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ ابْنَتِي أَصَابَتْهَا الحَصْبَةُ، فَامَّرَقَ شَعَرُهَا، وَإِنِّي زَوَّجْتُهَا، أَفَأَصِلُ فِيهِ؟ فَقَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الوَاصِلَةَ وَالمَوْصُولَةَ»

Narrator: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি.

৫৫১৬। হুমায়দী (রাহঃ) ......... আসমা (বিনতে আবু বকর) রাযিঃ থেকে বর্ণিত, জনৈক মহিলা নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার এক মেয়ের বসন্ত রোগ হয়ে মাথার সব চুল ঝরে পড়ে গেছে। আমি তাকে বিবাহ দিয়েছি। তার মাথায় কি পরচুলা লাগিয়ে দিব? তিনি বললেনঃ যে নারী পরচুলা লাগায় এবং যে অপরকে পরচুলা লাগিয়ে দেয়, আল্লাহ তাদের অভিশাপ দিয়েছেন।

5517

5942 - حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ، حَدَّثَنَا صَخْرُ بْنُ جُوَيْرِيَةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَوْ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الوَاشِمَةُ وَالمُوتَشِمَةُ، وَالوَاصِلَةُ وَالمُسْتَوْصِلَةُ» يَعْنِي: لَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫১৭। ইউসুফ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) থেকে শুনেছি অথবা বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ উল্কি উৎকীর্নকারী এবং পেশা অবলম্বনকারী নারী আর পরচুলা ব্যবহারকারী নারী ও পরচুলা লাগাবার পেশা অবলম্বনকারী নারীকে নবী (ﷺ) লা'নত করেছেন।

5518

5943 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ الوَاشِمَاتِ وَالمُسْتَوْشِمَاتِ، وَالمُتَنَمِّصَاتِ وَالمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ، المُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ» مَا لِي لاَ أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ فِي كِتَابِ اللَّهِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৫১৮। মুহাম্মাদ ইবনে মুকাতিল (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সৌন্দর্যের জন্য উল্কি উৎকীর্ণকারী ও উল্কি গ্রহণকারী, ভ্রু উত্তোলনকারী নারী এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য দাঁত চিকন করে মাঝে ফাঁক সৃষ্টিকারী নারী, যা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন সাধন করে, তাদের উপর আল্লাহর লা'নত বর্ষিত হোক। (রাবী বলেন) আমি কেন তাকে লা'নত করবো না, যাকে আল্লাহর রাসূল ﷺ লানত করেছেন এবং তা আল্লাহর কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে।

৩১৪৫. উল্কি উৎকীর্ণকারী নারী।

باب الْوَاشِمَةِ

5519

5944 - حَدَّثَنِي يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «العَيْنُ حَقٌّ» وَنَهَى عَنِ الوَشْمِ حَدَّثَنِي ابْنُ بَشَّارٍ: حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: ذَكَرْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، حَدِيثَ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، فَقَالَ: سَمِعْتُهُ مِنْ أُمِّ يَعْقُوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، مِثْلَ حَدِيثِ مَنْصُورٍ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫১৯। ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ চোখলাগা (বদনযর) বাস্তব সত্য এবং তিনি উল্কি উংকীর্ন করা থেকে নিষেধ করেছেন।

5520

5944 - ........ حَدَّثَنِي ابْنُ بَشَّارٍ: حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: ذَكَرْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ، حَدِيثَ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، فَقَالَ: سَمِعْتُهُ مِنْ أُمِّ يَعْقُوبَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، مِثْلَ حَدِيثِ مَنْصُورٍ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৫২০। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... সুফিয়ান সাওরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আব্দুর রহমান ইবনে আবিসের নিকট মানসুর কর্তৃক বর্ণিত আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ রাঃ) এর হাদীস উল্লেখ করি। তখন আব্দুর রহমান ইবনে আবিস বলেন, আমি উম্মে ইয়াকুবের মাধ্যমে আব্দুল্লাহ থেকে মানসুর কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনেছি।

5521

5945 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ: رَأَيْتُ أَبِي، فَقَالَ: «إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الدَّمِ، وَثَمَنِ الكَلْبِ، وَآكِلِ الرِّبَا وَمُوكِلِهِ، وَالوَاشِمَةِ وَالمُسْتَوْشِمَةِ»

Narrator: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৫৫২১। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আওন ইবনে আবু জুহায়ফা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, নবী (ﷺ) রক্তের মূল্য ও কুকুরের মুল্য নিতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি সুদ গ্রহণকারী, সুদ দাতা, উল্কি উৎকীর্ণকারী ও উল্কি গ্রহণকারী নারীদের উপর লা'নত করেছেন।

৩১৪৬. যে নারী অঙ্গ প্রত্যঙ্গে উল্কি উৎকীর্ণ করায়।

باب الْمُسْتَوْشِمَةِ

5522

5946 - حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ [ص:167]، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أُتِيَ عُمَرُ بِامْرَأَةٍ تَشِمُ، فَقَامَ فَقَالَ: أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ، مَنْ سَمِعَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الوَشْمِ؟ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَقُمْتُ فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ أَنَا سَمِعْتُ، قَالَ: مَا سَمِعْتَ؟ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لاَ تَشِمْنَ وَلاَ تَسْتَوْشِمْنَ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫২২। যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) এর নিকট এক মহিলাকে আনা হল। সে অঙ্গ প্রত্যঙ্গে উল্কি উৎকীর্ণ করত। তিনি দাঁড়ালেন এবং বললেন, আমি তোমাদের আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, (তোমাদের মধ্যে) এমন কে আছে, যে উল্কি উৎকীর্ন করা সম্পর্কে নবী (ﷺ) থেকে কিছু শুনেছে? আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আমি দাঁড়িয়ে বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন। আমি শুনেছি। তিনি বললেন, কি শুনেছ? আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, মহিলারা যেন উল্কি উৎকীর্ণ না করে এবং উল্কি উৎকীর্ণ না করায়।

5523

5947 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: «لَعَنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الوَاصِلَةَ وَالمُسْتَوْصِلَةَ، وَالوَاشِمَةَ وَالمُسْتَوْشِمَةَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫২৩। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (ﷺ) পরচুলা ব্যবহারকারী এবং এ পেশা অবলম্বনকারী এবং উল্কি উৎকীর্ণকারী এবং তা গ্রহণকারী নারীদের লা'নত করেছেন।

5524

5948 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: «لَعَنَ اللَّهُ الوَاشِمَاتِ وَالمُسْتَوْشِمَاتِ، وَالمُتَنَمِّصَاتِ، وَالمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ، المُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ» مَا لِي لاَ أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ فِي كِتَابِ اللَّهِ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৫২৪। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে যে নারী উল্কি উৎকীর্ণ করে ও করায়, যে নারী ভ্রু উপড়ে ফেলে এবং যে নারী দাঁত কেটে সরু করে দাঁতের মাঝখানে ফাঁক বানায়- যা দ্বারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন সাধিত হয়, এদের উপর আল্লাহ অভিশাপ বর্ষণ করেন। আমি কেন তাদের উপর অভিশাপ বর্ষণ করবো না, যাদের উপর আল্লাহর রাসূল ﷺ অভিশাপ বর্ষণ করেছেন। এবং মহান আল্লাহর কিতাবেই তা বিদ্যমান আছে।

৩১৪৭. ছবি।

باب التَّصَاوِيرِ

5525

5949 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ تَدْخُلُ المَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ كَلْبٌ وَلاَ تَصَاوِيرُ» وَقَالَ اللَّيْثُ: حَدَّثَنِي يُونُسُ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ: سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ: سَمِعْتُ أَبَا طَلْحَةَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

Narrator: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

৫৫২৫। আদম (রাহঃ) ......... আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ফিরিশতা ঐ ঘরে প্রবেশ করে না, যে ঘরে কুকুর থাকে এবং ঐ ঘরেও না, যে ঘরে ছবি থাকে।
লাঈস (রাহঃ) সূত্রে ..….... আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) থেকে (এ বিষয়ে) শুনেছি।

৩১৪৮. কিয়ামতের দিন ছবি নির্মাতাদের শাস্তি প্রসঙ্গে।

باب عَذَابِ الْمُصَوِّرِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ

5526

5950 - حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ مُسْلِمٍ، قَالَ: كُنَّا مَعَ مَسْرُوقٍ، فِي دَارِ يَسَارِ بْنِ نُمَيْرٍ، فَرَأَى فِي صُفَّتِهِ تَمَاثِيلَ، فَقَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَذَابًا عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ القِيَامَةِ المُصَوِّرُونَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫৫২৬। হুমায়দী (রাহঃ) ......... মুসলিম (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা (একবার) মাসরুকের সাথে ইয়াসার ইবনে নুমাইরের ঘরে ছিলাম। মাসরুক রাহঃ ইয়াসারের ঘরের আঙ্গিনায় কতগুলো মুর্তি দেখতে পেয়ে বললেনঃ আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে শুনেছি এবং তিনি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন যে, (কিয়ামতের দিন) মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে তাদের, যারা ছবি বানায়।

5527

5951 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ المُنْذِرِ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَخْبَرَهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ الَّذِينَ يَصْنَعُونَ هَذِهِ الصُّوَرَ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، يُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫২৭। ইবরাহীম ইবনে মুনযির (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যারা এ জাতীয় (প্রাণীর) ছবি তৈরী করে, কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দেয়া হবে। তাদের বলা হবে, তোমরা যা বানিয়েছিলে তা জীবিত কর।

৩১৪৯. ছবি ভেঙ্গে ফেলা।

باب نَقْضِ الصُّوَرِ

5528

5952 - حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حِطَّانَ، أَنَّ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا حَدَّثَتْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «لَمْ يَكُنْ يَتْرُكُ فِي بَيْتِهِ شَيْئًا فِيهِ تَصَالِيبُ إِلَّا نَقَضَهُ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫২৮। মুআয ইবনে ফাযালা (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) নিজের ঘরের এমন কিছুই না ভেঙ্গে ছাড়তেন না, যাতে কোন (প্রাণীর) ছবি থাকত।

5529

5953 - حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ، قَالَ: دَخَلْتُ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ، دَارًا بِالْمَدِينَةِ، فَرَأَى أَعْلاَهَا مُصَوِّرًا يُصَوِّرُ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي، فَلْيَخْلُقُوا حَبَّةً، وَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً» ثُمَّ دَعَا بِتَوْرٍ مِنْ [ص:168] مَاءٍ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ حَتَّى بَلَغَ إِبْطَهُ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، أَشَيْءٌ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: مُنْتَهَى الحِلْيَةِ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫২৯। মুসা (রাহঃ) ......... আবু যুরআ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সাথে মদীনার এক ঘরে প্রবেশ করি। ঘরের উপরে এক ছবি নির্মাতাকে তিনি ছবি তৈরী করতে দেখলেন। তিনি বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ (আল্লাহ বলেছেন) ঐ ব্যক্তির চেয়ে অধিক যালিম আর কে আছে, যে আমার সৃষ্টির অনুরূপ কোনকিছু সৃষ্টি করতে যায়? তাহলে তারা একটি দানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি অণু পরিমাণ কণা সৃষ্টি করুক? তারপর তিনি একটি পানির পাত্র চেয়ে আনালেন এবং (উযু করতে গিয়ে) বগল পর্যন্ত দু’হাত ধুলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলামঃ হে আবু হুরায়রা! (এ ব্যাপারে) আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কিছু শুনেছেন কি? তিনি বললেনঃ (হ্যাঁ, শুনেছিঃ) অলংকার পরার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত (ধোয়া উত্তম)।

৩১৫০. ছবিযুক্ত কাপড় দিয়ে বসার আসন তৈরী করা।

باب مَا وُطِئَ مِنَ التَّصَاوِيرِ

5530

5954 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ: سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ القَاسِمِ، وَمَا بِالْمَدِينَةِ يَوْمَئِذٍ أَفْضَلُ مِنْهُ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، قَالَ: سَمِعْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ سَفَرٍ، وَقَدْ سَتَرْتُ بِقِرَامٍ لِي عَلَى سَهْوَةٍ لِي فِيهَا تَمَاثِيلُ، فَلَمَّا رَآهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَتَكَهُ وَقَالَ: «أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ القِيَامَةِ الَّذِينَ يُضَاهُونَ بِخَلْقِ اللَّهِ» قَالَتْ: فَجَعَلْنَاهُ وِسَادَةً أَوْ وِسَادَتَيْنِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫৩০। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (তাবুক যুদ্ধের) সফর থেকে প্রত্যাগমন করলেন। আমি আমার কক্ষে পাতলা কাপড়ের পর্দা ঝুলিয়েছিলাম। তাতে ছিল (প্রাণীর) অনেকগুলো ছবি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এটা দেখলেন, তখন তা ছিড়ে ফেললেন এবং বললেনঃ কিয়ামতের দিন সেসব মানুষের সবচেয়ে কঠিন আযাব হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির (প্রাণীর) অনুরূপ তৈরী করবে। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ এরপর আমরা তা দিয়ে একটি বা দু’টি বসার আসন তৈরী করি।

5531
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ سَفَرٍ، وَعَلَّقْتُ دُرْنُوكًا فِيهِ تَمَاثِيلُ، فَأَمَرَنِي أَنْ أَنْزِعَهُ، فَنَزَعْتُهُ.
وَكُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ.

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫৩১। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এক সফর থেকে প্রত্যাগমন করেন। সে সময় আমি নকশাদার (প্রাণীর) ছবিযুক্ত কাপড় দিয়ে (ঘরের) পর্দা ঝুলিয়েছিলাম। আমাকে তিনি তা খুলে ফেলার হুকুম করেন। তখন আমি খুলে ফেললাম। আর আমি ও নবী (ﷺ) একই পাত্র থেকে (পানি নিয়ে) গোসল করতাম।

৩১৫১. ছবির উপর বসা অপছন্দনীয়।

باب مَنْ كَرِهَ الْقُعُودَ عَلَى الصُّورَةِ

5532

5957 - حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ القَاسِمِ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّهَا اشْتَرَتْ نُمْرُقَةً فِيهَا تَصَاوِيرُ، فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْبَابِ فَلَمْ يَدْخُلْ، فَقُلْتُ: أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مِمَّا أَذْنَبْتُ، قَالَ: «مَا هَذِهِ النُّمْرُقَةُ» قُلْتُ: لِتَجْلِسَ عَلَيْهَا وَتَوَسَّدَهَا، قَالَ: " إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، يُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ، وَإِنَّ المَلاَئِكَةَ لاَ تَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ الصُّورَةُ "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫৩২। হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার ছবিযুক্ত গদি খরীদ করেন। নবী (ﷺ) (বাহির থেকে এসে এ অবস্থা দেখে) দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকলেন, প্রবেশ করলেন না। আমি বললামঃ যে কাজ আমি করেছি তা থেকে আল্লাহর কাছে তাওবা করছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এ গদি কিসের জন্য? আমি বললামঃ আপনি এতে বসবেন ও হেলান দিবেন। তিনি বললেনঃ এসব ছবির নির্মাতাদের কিয়ামতের দিন আযাব দেওয়া হবে। তাদের বলা হবে, যা তোমরা তৈরী করেছিলে, সেগুলো জীবিত কর। আর যে ঘরে ছবি থাকে, সে ঘরে ফিরিশতা প্রবেশ করেন না।

5533

5958 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ بُكَيْرٍ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي طَلْحَةَ، صَاحِبِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ المَلاَئِكَةَ لاَ تَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ الصُّورَةُ» قَالَ بُسْرٌ: ثُمَّ اشْتَكَى زَيْدٌ، فَعُدْنَاهُ، فَإِذَا عَلَى بَابِهِ سِتْرٌ فِيهِ صُورَةٌ، فَقُلْتُ لِعُبَيْدِ اللَّهِ، رَبِيبِ مَيْمُونَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَلَمْ يُخْبِرْنَا زَيْدٌ عَنِ الصُّوَرِ يَوْمَ الأَوَّلِ؟ فَقَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ: أَلَمْ تَسْمَعْهُ حِينَ قَالَ: «إِلَّا رَقْمًا فِي ثَوْبٍ» وَقَالَ ابْنُ وَهْبٍ: أَخْبَرَنَا عَمْرٌو هُوَ ابْنُ الحَارِثِ، حَدَّثَهُ بُكَيْرٌ، حَدَّثَهُ بُسْرٌ، حَدَّثَهُ زَيْدٌ، حَدَّثَهُ أَبُو طَلْحَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

Narrator: আবূ তালহা আনসারী (রাঃ)

৫৫৩৩। কুতায়বা (রাহঃ) ......... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহাবী আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ঘরে ছবি থাকে, সে ঘরে ফিরিশতা প্রবেশ করে না। (এ হাদীসের এক রাবী) বুসর বলেনঃ যায়দ রাঃ একবার অসুস্থ হয়ে পড়লেন। আমরা তার সেবা শুশ্রুষার জন্য গেলাম। তখন তার ঘরের দরজায় ছবিযুক্ত পর্দা দেখতে পেলাম। আমি নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী মায়মুনা (রাযিঃ) এর নিকট প্রতিপালিত উবাইদুল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম, ছবি সম্পর্কে প্রথম দিনই কি যায়দ আমাদের জানান নি? তখন উবাইদুল্লাহ বললেন, তিনি যখন বলেছিলেন, তখন কি তুমি শুননি যে, কারুকার্য করা কাপড় ব্যতিরেকে?
ইবনে ওয়াহব অন্য সূত্রে আবু তালহা (রাযিঃ) থেকে নবী (ﷺ) এর এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

৩১৫২. ছবিযুক্ত কাপড়ে নামায পড়া মাকরূহ।

باب كَرَاهِيَةِ الصَّلاَةِ فِي التَّصَاوِيرِ

5534

5959 - حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: كَانَ قِرَامٌ لِعَائِشَةَ، سَتَرَتْ بِهِ جَانِبَ بَيْتِهَا، فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمِيطِي عَنِّي، فَإِنَّهُ لاَ تَزَالُ تَصَاوِيرُهُ تَعْرِضُ لِي فِي صَلاَتِي»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৫৩৪। ইমরান ইবনে মায়সারা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা (রাযিঃ) এর নিকট কিছু পর্দার কাপড় ছিল, তা দিয়ে তিনি ঘরের একদিকে পর্দা ঝুলান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ আমার থেকে এটা সরিরে নাও, কেননা এর ছবিগুলো আমার নামাযের মধ্যে বাঁধার সৃষ্টি করে।

৩১৫৩. যে ঘরে ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করেন না।

باب لاَ تَدْخُلُ الْمَلاَئِكَةُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ

5535

5960 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ [ص:169]: حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: " وَعَدَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جِبْرِيلُ، فَرَاثَ عَلَيْهِ، حَتَّى اشْتَدَّ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَقِيَهُ، فَشَكَا إِلَيْهِ مَا وَجَدَ، فَقَالَ لَهُ: إِنَّا لاَ نَدْخُلُ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ وَلاَ كَلْبٌ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫৩৫। ইয়াহয়া ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) ......... সালিমের পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) (একবার) নবী (ﷺ) এর নিকট (আগমনের) ওয়াদা করেন। কিন্তু তিনি আসতে দেরী করেন। এতে নবী (ﷺ) এর খুবই কষ্ট হচ্ছিল। এরপর নবী (ﷺ) বের হয়ে পড়লেন। তখন জিবরাঈলের সাথে তার সাক্ষাত হল। তিনি যে মানসিক কষ্ট পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে তার কাছে বর্ণনা করলেন। তখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বললেনঃ যে ঘরে ছবি বা কুকুর থাকে, সে ঘরে আমরা কখনও প্রবেশ করি না।

৩১৫৪. যে ঘরে ছবি রয়েছে, তাতে যিনি প্রবেশ করেন না।

باب مَنْ لَمْ يَدْخُلْ بَيْتًا فِيهِ صُورَةٌ

5536

5961 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ القَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ: أَنَّهَا اشْتَرَتْ نُمْرُقَةً فِيهَا تَصَاوِيرُ، فَلَمَّا رَآهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ عَلَى البَابِ فَلَمْ يَدْخُلْ، فَعَرَفَتْ فِي وَجْهِهِ الكَرَاهِيَةَ، قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَتُوبُ إِلَى اللَّهِ وَإِلَى رَسُولِهِ، مَاذَا أَذْنَبْتُ؟ قَالَ: «مَا بَالُ هَذِهِ النُّمْرُقَةِ» فَقَالَتْ: اشْتَرَيْتُهَا لِتَقْعُدَ عَلَيْهَا وَتَوَسَّدَهَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ أَصْحَابَ هَذِهِ الصُّوَرِ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، وَيُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ " وَقَالَ: «إِنَّ البَيْتَ الَّذِي فِيهِ الصُّوَرُ لاَ تَدْخُلُهُ المَلاَئِكَةُ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫৩৬। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, (একবার) তিনি ছবিযুক্ত গদি খরীদ করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (বাহির থেকে এসে) যখন তা দেখতে পেলেন, তখন দরজার উপর দাঁড়িয়ে গেলেন। (ভিতরে) প্রবেশ করলেন না। [আয়েশা (রাযিঃ)] নবী (ﷺ) এর চেহারায় অসন্তুষ্টির ভাব বুঝতে পারলেন। তখন তিনি বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহ ও তার রাসূলের নিকট তাওবা করছি, কি ভূল করেছি? নবী (ﷺ) বললেনঃ এ গদি কোত্থেকে? আয়েশা (রাযিঃ) বললেনঃ আপনার বসার ও আসন গ্রহণের জন্য আমি এটি খরীদ করেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেনঃ এসব ছবির নির্মাতাদের কিয়ামতের দিন আযাব দেওয়া হবে এবং তাদের বলা হবেঃ তোমরা যা বানিয়েছিলে, তা জীবিত কর। তিনি আরো বললেনঃ যে ঘরে (প্রাণীর) ছবি থাকে, সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করে না।

৩১৫৫. ছবি নির্মাণকারীকে যিনি লা’নত করেছেন।

باب مَنْ لَعَنَ الْمُصَوِّرَ

5537

5962 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنِي غُنْدَرٌ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، عَنْ أَبِيهِ: أَنَّهُ اشْتَرَى غُلاَمًا حَجَّامًا، فَقَالَ: «إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ ثَمَنِ الدَّمِ، وَثَمَنِ الكَلْبِ، وَكَسْبِ البَغِيِّ، وَلَعَنَ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ، وَالوَاشِمَةَ وَالمُسْتَوْشِمَةَ وَالمُصَوِّرَ»

Narrator: হযরত আবু জুহাইফা (রাঃ)

৫৫৩৭। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না (রাহঃ) ......... আবু জুহায়ফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) রক্তের মূল্য, কুকুরের মূল্য ও যিনাকারীর উপার্জন গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। আর তিনি সুদ গ্রহিতা, সুদদাতা, অঙ্গ প্রত্যঙ্গে (সূচের মাথা দিয়ে ছিদ্র করে) উল্কি উৎকীর্নকারী নারী ও যে তা করায় এবং ছবি নির্মাণকারীকে লা'নত করেছেন।

৩১৫৬. যে ব্যক্তি ছবি নির্মাণ করে, তাকে কিয়ামতের দিন তাতে রূহ দানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে, কিন্তু সে এতে সক্ষম হবে না।

باب مَنْ صَوَّرَ صُورَةً كُلِّفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ، وَلَيْسَ بِنَافِخٍ

5538

5963 - حَدَّثَنَا عَيَّاشُ بْنُ الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، قَالَ: سَمِعْتُ النَّضْرَ بْنَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، يُحَدِّثُ قَتَادَةَ قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَهُمْ يَسْأَلُونَهُ، وَلاَ يَذْكُرُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى سُئِلَ، فَقَالَ: سَمِعْتُ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا كُلِّفَ يَوْمَ القِيَامَةِ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ، وَلَيْسَ بِنَافِخٍ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৫৩৮। আইয়াশ ইবনে ওয়ালীদ (রাহঃ) ......... নযর ইবনে আনাস (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর নিকট ছিলাম। আর (উপস্থিত) লোকজন তার কাছে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছিল। কিন্তু (কোন কথার উত্তরেই) তিনি নবী (ﷺ) এর (হাদীস) উল্লেখ করছিলেন না। অবশেষে তাঁকে (ছবি সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেনঃ আমি মুহাম্মাদ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন প্রাণীর ছবি নির্মাণ করে, কিয়ামতের দিন তাকে বাধ্য করা হবে ঐ ছবির মধ্যে রূহ দান করার জন্য, কিন্তু সে তাতে রূহ দান করতে পারবে না।

৩১৫৭. সওয়ারীর উপর কারও পশ্চাতে বসা।

باب الاِرْتِدَافِ عَلَى الدَّابَّةِ

5539

5964 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَفْوَانَ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «رَكِبَ عَلَى حِمَارٍ، عَلَى إِكَافٍ عَلَيْهِ قَطِيفَةٌ فَدَكِيَّةٌ، وَأَرْدَفَ أُسَامَةَ وَرَاءَهُ»

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৫৫৩৯। কুতায়বা (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার গাধার পিঠে আরোহণ করেন। পিঠের উপরে ফাদাকের তৈরী মোটা গদি ছিল। উসামাকে তিনি তাঁর পেছনে বসান।

৩১৫৮. এক সওয়ারীর উপর তিনজন বসা।

باب الثَّلاَثَةِ عَلَى الدَّابَّةِ

5540

5965 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: «لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ، اسْتَقْبَلَهُ أُغَيْلِمَةُ بَنِي عَبْدِ المُطَّلِبِ، فَحَمَلَ وَاحِدًا بَيْنَ يَدَيْهِ، وَالآخَرَ خَلْفَهُ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৫৪০। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) যখন মক্কায় আগমন করেন, তখন আব্দুল মুত্তালিব গোত্রের তরুণ বালকেরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। তাদের একজনকে বাহনে তিনি তার সামনে এবং অন্য একজনকে তার পেছনে উঠিয়ে নেন।

৩১৫৯. সওয়ারী জানোয়ারের মালিক অন্যকে সামনে বসাতে পারে কি না? কেউ কেউ বলেছেন, জানোয়ারের মালিক সামনে বসার বেশী হকদার, তবে যদি কাউকে সে অনুমতি দেয়, তবে তা ভিন্ন কথা।

باب حَمْلِ صَاحِبِ الدَّابَّةِ غَيْرَهُ بَيْنَ يَدَيْهِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ صَاحِبُ الدَّابَّةِ أَحَقُّ بِصَدْرِ الدَّابَّةِ، إِلاَّ أَنْ يَأْذَنَ لَهُ

5541

5966 - حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ: - ذُكِرَ شَرُّ الثَّلاَثَةِ عِنْدَ - عِكْرِمَةَ، فَقَالَ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «أَتَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَدْ حَمَلَ قُثَمَ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَالفَضْلَ خَلْفَهُ، أَوْ قُثَمَ خَلْفَهُ، وَالفَضْلَ بَيْنَ يَدَيْهِ. فَأَيُّهُمْ شَرٌّ أَوْ أَيُّهُمْ خَيْرٌ؟»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৫৪১। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আইয়ুব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিন ব্যক্তির আরোহণ নিন্দনীয় হওয়ার কথা ইকরিমা রাহঃ এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি (এর খণ্ডনে) বলেনঃ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মক্কায় আসেন, তখন তিনি কুসামকে (তার সওয়ারীর) সামনে ও ফযলকে পশ্চাতে বসান। অথবা কুসামকে পশ্চাতে ও ফযলকে সামনে বসান। এখন তাদের মধ্যে কে মন্দ অথবা কে ভাল? (অর্থাৎ এটি ভালো মন্দের নির্ণয়ক কিছু নয় এবং বাহনে তিন ব্যক্তির আরোহণ জায়েয আছে)।

5542

5967 - حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَيْنَا أَنَا رَدِيفُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ إِلَّا أَخِرَةُ الرَّحْلِ، فَقَالَ: «يَا مُعَاذُ بْنَ جَبَلٍ» قُلْتُ: لَبَّيْكَ رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ، ثُمَّ سَارَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ: «يَا مُعَاذُ» قُلْتُ: لَبَّيْكَ رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ، ثُمَّ سَارَ سَاعَةً ثُمَّ قَالَ: «يَا مُعَاذُ» قُلْتُ: لَبَّيْكَ رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ، قَالَ: «هَلْ تَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «حَقُّ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ أَنْ يَعْبُدُوهُ، وَلاَ يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا» ثُمَّ سَارَ سَاعَةً، ثُمَّ قَالَ: «يَا مُعَاذُ بْنَ جَبَلٍ» قُلْتُ: لَبَّيْكَ رَسُولَ اللَّهِ وَسَعْدَيْكَ، فَقَالَ: «هَلْ تَدْرِي مَا حَقُّ العِبَادِ عَلَى اللَّهِ إِذَا فَعَلُوهُ» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «حَقُّ العِبَادِ عَلَى اللَّهِ أَنْ لاَ يُعَذِّبَهُمْ»

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৫৫৪২। হুদবা ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক রাঃ সূত্রে মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি বাহনে নবী (ﷺ) এর পেছনে বসা ছিলাম। আমার ও তার মাঝে লাগামের রশির প্রান্তদেশ ভিন্ন অন্য কিছুই ছিল না। তিনি বললেনঃ মুআয! আমি বললামঃ হাযির আছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারপর কিছুক্ষণ চললেন। পুনরায় তিনি বললেনঃ হে মুআয! আমি বললামঃ হাযির আছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তারপর আরও কিছুক্ষণ চললেন। তারপর আবার বললেনঃ হে মুআয ইবনে জাবাল! আমি বললামঃ হাযির আছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ তুমি জান, বান্দার উপর আল্লাহর কী হক? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ বান্দার উপর আল্লাহর হক এই যে, তারা কেবল তারই ইবাদত করবে, অন্য কিছুকে তাঁর শরীক করবে না। এরপর কিছু সময় চললেন। তারপর বললেনঃ হে মুআয ইবনে জাবাল! আমি বললামঃ হাযির আছি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেনঃ বান্দারা যখন তাদের দায়িত্বপালন করে, তখন আল্লাহর প্রতি বান্দাদের অধিকার কি, তা জান কি? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তার রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর উপর বান্দার অধিকার এই যে, তিনি তাদের আযাব দিবেন না।

৩১৬১. সওয়ারীর উপর পুরুষের পিছনে মহিলার বসা।

باب إِرْدَافِ الْمَرْأَةِ خَلْفَ الرَّجُلِ

5543

5968 - حَدَّثَنَا الحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ صَبَّاحٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خَيْبَرَ، وَإِنِّي لَرَدِيفُ أَبِي طَلْحَةَ وَهُوَ يَسِيرُ، وَبَعْضُ نِسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَدِيفُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذْ عَثَرَتِ النَّاقَةُ، فَقُلْتُ: المَرْأَةَ، فَنَزَلْتُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهَا أُمُّكُمْ» فَشَدَدْتُ الرَّحْلَ وَرَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا دَنَا، أَوْ: رَأَى المَدِينَةَ قَالَ: «آيِبُونَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ، لِرَبِّنَا حَامِدُونَ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৫৪৩। হাসান ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে খায়বর থেকে (মদীনায়) ফিরে আসলাম। আমি আবু তালহার সওয়ারীর উপর পেছনে বসাছিলাম, আর তিনি সওয়ারী চালাচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জনৈক সহধর্মিণী তার সওয়ারীর পশ্চাতে বসেছিলেন। হঠাৎ উটনীটি হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল। আমি বললাম মহিলা, এরপর আমি নেমে পড়লাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইনি তোমাদের মা। আমি হাওদাটি শক্ত করে বেঁধে দিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সওয়ারীতে উঠলেন। যখন তিনি মদীনার নিকটবর্তী হলেন, কিংবা রাবী বলেছেন, তিনি যখন (মদীনা) দেখতে পেলেন, তখন বললেনঃ আমরা প্রত্যাগমনকারী, তাওবাকারী, আমাদের রবের ইবাদতকারী এবং তার প্রশংসাকারী।

৩১৬২. চিৎ হয়ে শয়ন করা এবং এক পা অন্য পায়ের উপর রাখা।

باب الاِسْتِلْقَاءِ وَوَضْعِ الرِّجْلِ عَلَى الأُخْرَى

5544

5969 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ: أَنَّهُ أَبْصَرَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يَضْطَجِعُ فِي المَسْجِدِ، رَافِعًا إِحْدَى رِجْلَيْهِ عَلَى الأُخْرَى»

Narrator: আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ আনসারী (রাঃ)

৫৫৪৪। আহমদ ইবনে ইউনুস (রাহঃ) ......... আব্বাদ ইবনে তামীম তাঁর চাচা [আব্দুল্লাহ ইবনে যায়দ (রাযিঃ)] থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (ﷺ) কে মসজিদের মধ্যে এক পায়ের উপরে অন্য পা উঠিয়ে চিৎ হয়ে শয়ন করতে দেখেছেন।