كتاب الفرائض

৭০- উত্তরাধিকার সংক্রান্ত

Chapter 70 · 47 hadith

উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন ........ পরবর্তী দুই আয়াত পর্যন্ত।

كِتَابُ الفَرَائِضِ بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلاَدِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنْثَيَيْنِ، فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ، وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ، وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ، إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ، فَإِنْ كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ، مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ، آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لاَ تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ، إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا، وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ، إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ، فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ، وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ، إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكُمْ وَلَدٌ، فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ، مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ، وَإِنْ كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلاَلَةً أَوِ امْرَأَةٌ، وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ، فَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ، مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَى بِهَا، أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ وَصِيَّةً مِنَ اللَّهِ، وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ} [النساء: 12]

6268

6723 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ المُنْكَدِرِ، سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، يَقُولُ: " مَرِضْتُ فَعَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ، وَهُمَا مَاشِيَانِ، فَأَتَانِي وَقَدْ أُغْمِيَ عَلَيَّ، فَتَوَضَّأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَبَّ عَلَيَّ وَضُوءَهُ فَأَفَقْتُ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ أَصْنَعُ فِي مَالِي؟ كَيْفَ أَقْضِي فِي مَالِي؟ فَلَمْ يُجِبْنِي بِشَيْءٍ حَتَّى نَزَلَتْ آيَةُ المَوَارِيثِ "

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬২৬৮। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি অসুস্থ হয়ে পড়লাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) আমার শুশ্রুষা করলেন। তাঁরা উভয়েই পদব্রজে আসলেন এবং আমার কাছে উপস্থিত হলেন। আমি তখন বেহুশ অবস্থায় ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উযু করলেন এবং আমার উপর উযুর পানি ঢেলে দিলেন। আমি হুশে এসে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার সম্পদের ব্যাপারে কি করব। আমার সস্পদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করব? তখন তিনি আমাকে কোন উত্তর দিলেন না। অবশেষে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হল।

২৭৯১. উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিদ্যা শিক্ষা দেওয়া।
উকবা ইবনে আমির (রাযিঃ) বলেন, যারা ধারণাপ্রসূত কথা বলে, তাদের এ ধরনের কথা বলার পূর্বেই তোমরা (উত্তরাধিকার বিদ্যা) শিখে নাও।

باب تَعْلِيمِ الْفَرَائِضِ وَقَالَ عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ تَعَلَّمُوا قَبْلَ الظَّانِّينَ، يَعْنِي الَّذِينَ يَتَكَلَّمُونَ بِالظَّنِّ

6269

6724 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الحَدِيثِ، وَلاَ تَحَسَّسُوا [ص:149]، وَلاَ تَجَسَّسُوا، وَلاَ تَبَاغَضُوا، وَلاَ تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৬৯। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা ধারণা করা পরিহার কর, কেননা, ধারণা করা হচ্ছে সর্বাধিক মিথ্যা। কারও দোষ তালাশ করো না, দোষ বের করার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করো না, একে অপরের প্রতি হিংসা পোষণ করো না, পরস্পরে সম্পর্কচ্ছেদ করো না। আল্লাহর বান্দা পরস্পরে ভাই ভাই হয়ে যাও।

২৭৯২. নবী (ﷺ) এর বাণীঃ আমাদের কোন উত্তরাধিকার হবে না, আর যা কিছু আমরা রেখে যাই তার সবই হবে সাদ্‌কা স্বরূপ।

باب قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ "

6270

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ فَاطِمَةَ، وَالْعَبَّاسَ ـ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ ـ أَتَيَا أَبَا بَكْرٍ يَلْتَمِسَانِ مِيرَاثَهُمَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُمَا حِينَئِذٍ يَطْلُبَانِ أَرْضَيْهِمَا مِنْ فَدَكَ، وَسَهْمَهُمَا مِنْ خَيْبَرَ. فَقَالَ لَهُمَا أَبُو بَكْرٍ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ، إِنَّمَا يَأْكُلُ آلُ مُحَمَّدٍ مِنْ هَذَا الْمَالِ ". قَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لاَ أَدَعُ أَمْرًا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَصْنَعُهُ فِيهِ إِلاَّ صَنَعْتُهُ. قَالَ فَهَجَرَتْهُ فَاطِمَةُ، فَلَمْ تُكَلِّمْهُ حَتَّى مَاتَتْ.

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬২৭০। আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রেখে যাওয়া সস্পত্তির) উত্তরাধিকারিত্ব চাওয়ার জন্য একদা ফাতিমা ও আব্বাস (রাযিঃ) আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) এর কাছে আসলেন। তাঁরা ঐ সময় ফাদাক ভূখণ্ডের এবং খায়বরের অংশ দাবি করছিলেন। তখন আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) তাদের উভয়ের প্রতি লক্ষ্য করে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আমাদের কোন উত্তরাধিকারী হবে না, আমরা যা রেখে যাব তা সবই হবে সাদ্‌কা। এ মাল থেকে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পরিবার ভোগ করবেন। আবু বকর (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমি এতে যেভাবে করতে দেখেছি, তা সেভাবেই বাস্তবায়িত করব।
রাবী বলেন, এরপর থেকে ফাতিমা (রাযিঃ) তাঁকে পরিহার করেছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তার সাথে কথা বলেন নাই।
6271

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ ".

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬২৭১। ইসমাঈল ইবনে আবান (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ আমাদের কোন উত্তরাধিকারী হবে না। আমরা যা কিছু রেখে যাব, সবই হবে সাদ্‌কাস্বরূপ।

6272

6728 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي مَالِكُ بْنُ أَوْسِ بْنِ الحَدَثَانِ، وَكَانَ مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، ذَكَرَ لِي مِنْ حَدِيثِهِ ذَلِكَ، فَانْطَلَقْتُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ: انْطَلَقْتُ حَتَّى أَدْخُلَ عَلَى عُمَرَ، فَأَتَاهُ حَاجِبُهُ يَرْفَأُ فَقَالَ: هَلْ لَكَ فِي عُثْمَانَ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَالزُّبَيْرِ، وَسَعْدٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، فَأَذِنَ لَهُمْ، ثُمَّ قَالَ: هَلْ لَكَ فِي عَلِيٍّ، وَعَبَّاسٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ عَبَّاسٌ: يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا، قَالَ أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ، هَلْ تَعْلَمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ» يُرِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَفْسَهُ، فَقَالَ الرَّهْطُ: قَدْ قَالَ ذَلِكَ، فَأَقْبَلَ عَلَى عَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ، فَقَالَ: هَلْ تَعْلَمَانِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَلِكَ؟ قَالاَ: قَدْ قَالَ ذَلِكَ. قَالَ عُمَرُ: فَإِنِّي أُحَدِّثُكُمْ عَنْ هَذَا الأَمْرِ، إِنَّ اللَّهَ قَدْ كَانَ خَصَّ رَسُولَهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الفَيْءِ بِشَيْءٍ لَمْ يُعْطِهِ أَحَدًا غَيْرَهُ، فَقَالَ عَزَّ وَجَلَّ: {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ} [الحشر: 7]- إِلَى قَوْلِهِ - {قَدِيرٌ} [الحشر: 6] فَكَانَتْ خَالِصَةً لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَاللَّهِ مَا احْتَازَهَا دُونَكُمْ وَلاَ اسْتَأْثَرَ بِهَا عَلَيْكُمْ، لَقَدْ أَعْطَاكُمُوهَا وَبَثَّهَا فِيكُمْ حَتَّى بَقِيَ مِنْهَا هَذَا المَالُ، فَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ مِنْ هَذَا المَالِ نَفَقَةَ سَنَتِهِ، ثُمَّ يَأْخُذُ مَا بَقِيَ فَيَجْعَلُهُ مَجْعَلَ مَالِ اللَّهِ، فَعَمِلَ بِذَاكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيَاتَهُ، أَنْشُدُكُمْ بِاللَّهِ هَلْ تَعْلَمُونَ ذَلِكَ؟ قَالُوا: نَعَمْ، ثُمَّ قَالَ [ص:150] لِعَلِيٍّ وَعَبَّاسٍ: أَنْشُدُكُمَا بِاللَّهِ، هَلْ تَعْلَمَانِ ذَلِكَ؟ قَالاَ: نَعَمْ، فَتَوَفَّى اللَّهُ نَبِيَّهُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: أَنَا وَلِيُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَبَضَهَا فَعَمِلَ بِمَا عَمِلَ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ تَوَفَّى اللَّهُ أَبَا بَكْرٍ فَقُلْتُ: أَنَا وَلِيُّ وَلِيِّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَبَضْتُهَا سَنَتَيْنِ أَعْمَلُ فِيهَا مَا عَمِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ جِئْتُمَانِي وَكَلِمَتُكُمَا وَاحِدَةٌ وَأَمْرُكُمَا جَمِيعٌ، جِئْتَنِي تَسْأَلُنِي نَصِيبَكَ مِنَ ابْنِ أَخِيكَ. وَأَتَانِي هَذَا يَسْأَلُنِي نَصِيبَ امْرَأَتِهِ مِنْ أَبِيهَا، فَقُلْتُ: إِنْ شِئْتُمَا دَفَعْتُهَا إِلَيْكُمَا بِذَلِكَ، فَتَلْتَمِسَانِ مِنِّي قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ؟ فَوَاللَّهِ الَّذِي بِإِذْنِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ، لاَ أَقْضِي فِيهَا قَضَاءً غَيْرَ ذَلِكَ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ، فَإِنْ عَجَزْتُمَا فَادْفَعَاهَا إِلَيَّ فَأَنَا أَكْفِيكُمَاهَا "

Narrator: হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.

৬২৭২। ইয়াহয়া ইবনে বুকায়র (রাহঃ) ......... মালিক ইবনে আউস ইবনে হাদাছান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, – যুহরী বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতঈম আমাকে মালিক ইবনে আউস ইবনে হাদাছানের পক্ষ থেকে একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন। অতঃপর আমি মালিক ইবনে আউস (রাযিঃ) এর কাছে চলে গেলাম এবং ঘটনাটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম– তখন তিনি বললেন যে, আমি উমর (রাযিঃ) এর নিকট গিয়েছিলাম। এমন সময় তাঁর দারোয়ান ইয়ারফা সেখানে উপাস্থিত হয়ে বলল, আপনি উসমান, আব্দুর রহমান, যুবাইর ও সা’দ (রাযিঃ) কে ভিতরে আসার অনুমতি দিবেন কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি তাঁদেরকে ভিতরে প্রবেশ করার অনুমতি দিলেন। এরপর সে উমর (রাযিঃ) এর নিকট এসে বলল, আপনি আলী ও আব্বাস (রাযিঃ) কে ভিতরে আসার অনুমতি দিবেন কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ হে আমীরুল মু'মিনীন! আমার এবং এর মাঝে মীমাংসা করে দিন। উমর (রাযিঃ) বললেনঃ আপনাদেরকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলি যার হুকুমে আকাশ ও যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে; আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, আমাদের কোন উত্তরাধিকারী থাকবে না, আমরা যা কিছু রেখে যাব সবই হবে সাদ্‌কা স্বরূপ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দ্বারা নিজেকেই উদ্দেশ্য করেছিলেন। দলের লোকেরা বলল, অবশ্যই তিনি তা বলেছেন। এরপর তিনি আলী ও আব্বাস (রাযিঃ)-এর দিকে মুখ করে বললেনঃ আপনারা কি জানেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথা বলেছিলেন? তারা উভয়ে জবাব দিলেন, অবশ্যই তিনি তা বলেছেন।
উমর (রাযিঃ) বললেনঃ এখন আমি এ ব্যাপারে আপনাদের কাছে বর্ণনা করছি যে, আল্লাহ তা'আলা এ ফায় (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত ধনসম্পদ) এর ব্যাপারে তার রাসূলকে বিশেষত্ব প্রদান করেছেন, যা আর অন্য কাউকে প্রদান করেননি। তিনি (আল্লাহ তাআলা) বলেনঃ مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ থেকে قَدِيرٌ পর্যন্ত তিলাওয়াত করে শোনালেন এবং বললেনঃ এটা তো ছিল বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য। আল্লাহ তাআলার কসম! তিনি আপনাদের ব্যতীত অন্য কারও জন্য এ মাল সংরক্ষণ করেননি। আর আপনাদের ব্যতীত অন্য কাউকে এতে প্রাধান্য দেননি। এ মাল তো আপনাদেরই তিনি দিয়ে গিয়েছেন এবং আপনাদের মাঝেই বণ্টন করেছেন। পরিশেষে এ মালটুকু অবশিষ্ট ছিল। তখন তিনি তার পরিবার-পরিজনের বছরের ভরণ-পোষণের জন্য এ থেকে খরচ করতেন। এরপর যা অবশিষ্ট থাকত তা আল্লাহর মাল হিসেবে (তার রাস্তায়) খরচ করতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার গোটা জীবদ্দশায়ই এরূপ করে গিয়েছেন। আমি আপনাদের আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, এ কথাগুলো কি আপনারা জানেন? তারা বললেনঃ হ্যাঁ। এরপর তিনি আলী (রাযিঃ) ও আব্বাস (রাযিঃ) এর দিকে লক্ষ্য করে বললেনঃ আমি আপনাদের দু’জনকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, আপনারা কি এ কথাগুলো জানেন? তাঁরা উভয়ে বললেনঃ হ্যাঁ। এরপর আল্লাহ তাআলা তার নবীকে ওফাত দান করলেন, তখন আবু বকর (রাযিঃ) বললেনঃ আমি আল্লাহর রাসূলের ওলী। এরপর উক্ত মাল হস্তগত করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেভাবে তা ব্যবহার করেছিলেন তিনিও তা সেভাবে ব্যবহার করেছেন। এরপর আল্লাহ তা'আলা আবু বকর (রাযিঃ)-কে ওফাত দান করলেন। তখন আমি বললাম, আমি আল্লাহর রাসূলের ওলীর ওলী। আমি এ মাল হস্তগত করলাম এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাযিঃ) এ মালের ব্যাপারে যে নীতি অবলম্বন করেছিলেন, দু’বছর যাবত আমি এ মালের ব্যাপারে সেই নীতি অবলম্বন করে আসছি।
এরপর আপনারা আমার কাছে আসলেন আর আপনাদের উভয়ের বক্তব্যও এক এবং ব্যাপারটিও অনুরূপ। [হে আব্বাস (রাযিঃ)] আপনি তো আপনার ভাতিজার থেকে প্রাপ্য অংশ আমার কাছে চাইছেন। আর আলী (রাযিঃ) আমার কাছে তার স্ত্রীর অংশ যা তার পিতা থেকে প্রাপ্য, আমার কাছে তলব করছেন। সুতরাং আমি বলছি, আপনারা যদি এটা চান, তাহলে আমি আপনাদেরকে তা দিয়ে দিতে পারি। এরপর কি আপনারা অন্য কোন ফায়সালা আমার কাছে চাইবেন? ঐ আল্লাহর কসম! যার হুকুমে আকাশ ও যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে, আমি যে ফায়সালা প্রদান করলাম, কিয়ামত পর্যন্ত এ ছাড়া আর অন্য কোন ফায়সালা দিতে পারব না। আপনারা যদি এ ধনসম্পদের শৃংখলা বিধানে অক্ষম হন তবে তা আমার কাছে ফিরিয়ে দিবেন, আমি তার শৃংখলা বিধান করব।
6273

6729 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَقْتَسِمُ وَرَثَتِي دِينَارًا، مَا تَرَكْتُ بَعْدَ نَفَقَةِ نِسَائِي وَمَئُونَةِ عَامِلِي فَهُوَ صَدَقَةٌ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৭৩। ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার রেখে যাওয়া সম্পত্তির দীনার বন্টনযোগ্য নয়। আমার সহধর্মিণীগণের এবং আমার কর্মচারীবৃন্দের খরচ ব্যতীত যতটুকু থাকবে তা হবে সাদ্‌কা।

6274

6730 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَرَدْنَ أَنْ يَبْعَثْنَ عُثْمَانَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ يَسْأَلْنَهُ مِيرَاثَهُنَّ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: أَلَيْسَ قَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ نُورَثُ، مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬২৭৪। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ......... নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) এর ওফাতের পর তার সহধর্মিণীগণ আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) এর কাছে আপন আপন উত্তরাধিকার চাওয়ার জন্য উসমান (রাযিঃ) কে পাঠানোর ইচ্ছা করলেন। তখন আয়েশা (রাযিঃ) বললেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি এরূপ বলেননি, আমাদের কোন উত্তরাধিকারী নেই? আমরা যা রেখে যাব তার সবই হবে সাদ্‌কা স্বরূপ।

২৭৯৩. নবী (ﷺ) এর বাণীঃ যে ব্যক্তি মাল রেখে যায়, তা তার পরিবার-পরিজনের হবে।

باب قَوْلِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَرَكَ مَالاً فَلأَهْلِهِ "

6275

6731 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ، فَمَنْ مَاتَ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ وَلَمْ يَتْرُكْ وَفَاءً فَعَلَيْنَا قَضَاؤُهُ، وَمَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِوَرَثَتِهِ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৭৫। আবদান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মু’মিনদের নিকট তাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। যে ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত অবস্থায় মারা যায় আর সে যদি ঋণ পুরা করার মত কোন সম্পদ রেখে না যায়, তাহলে তা আদায় করার দায়িত্ব আমার। আর যে ব্যক্তি কোন মাল রেখে মারা যায়, তা হবে তার উত্তরাধিকারীদের জন্য।

২৭৯৪. পিতা-মাতার পক্ষ থেকে সন্তানের উত্তরাধিকার।
যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) বলেন, কোন পুরুষ বা নারী যদি কন্যা সন্তান রেখে যায় তাহলে সে অর্ধাংশ পাবে। আর যদি তাদের সংখ্যা দুই বা ততোধিক হয় তারা পাবে দুই তৃতীয়াংশ। আর যদি উক্ত কন্যা বা কন্যা সমূহের সঙ্গে পুরুষ থাকে তাহলে প্রথমে অংশীদারদেরকে তাদের প্রাপ্ত দেয়ার পর বাকি অংশ দুই নারী সমান এক পুরুষ ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে।

بَابُ مِيرَاثِ الوَلَدِ مِنْ أَبِيهِ وَأُمِّهِ وَقَالَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ: «إِذَا تَرَكَ رَجُلٌ أَوِ امْرَأَةٌ بِنْتًا فَلَهَا النِّصْفُ، وَإِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ فَلَهُنَّ الثُّلُثَانِ، وَإِنْ كَانَ مَعَهُنَّ ذَكَرٌ بُدِئَ بِمَنْ شَرِكَهُمْ فَيُؤْتَى فَرِيضَتَهُ، فَمَا بَقِيَ فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنْثَيَيْنِ»

6276

6732 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَلْحِقُوا الفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬২৭৬। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মীরাস তার হকদারদেরকে পৌছিয়ে দাও। এরপর যা অবশিষ্ট থাকে, তা নিকটতম পুরুষের জন্য।

২৭৯৫. কন্যা সন্তানের উত্তরাধিকার।

باب مِيرَاثِ الْبَنَاتِ

6277

6733 - حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: مَرِضْتُ بِمَكَّةَ مَرَضًا، فَأَشْفَيْتُ [ص:151] مِنْهُ عَلَى المَوْتِ، فَأَتَانِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ لِي مَالًا كَثِيرًا، وَلَيْسَ يَرِثُنِي إِلَّا ابْنَتِي، أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَيْ مَالِي؟ قَالَ: «لاَ» قَالَ: قُلْتُ: فَالشَّطْرُ؟ قَالَ: «لاَ» قُلْتُ: الثُّلُثُ؟ قَالَ: «الثُّلُثُ كَبِيرٌ، إِنَّكَ إِنْ تَرَكْتَ وَلَدَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَتْرُكَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ، وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً إِلَّا أُجِرْتَ عَلَيْهَا، حَتَّى اللُّقْمَةَ تَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِكَ» فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، آأُخَلَّفُ عَنْ هِجْرَتِي؟ فَقَالَ: «لَنْ تُخَلَّفَ بَعْدِي، فَتَعْمَلَ عَمَلًا تُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ، إِلَّا ازْدَدْتَ بِهِ رِفْعَةً وَدَرَجَةً، وَلَعَلَّ أَنْ تُخَلَّفَ بَعْدِي حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ، لَكِنِ البَائِسُ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ» يَرْثِي لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ مَاتَ بِمَكَّةَ، قَالَ سُفْيَانُ: «وَسَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَيٍّ»

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬২৭৭। হুমায়দী (রাহঃ) ......... সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মক্কাতে একদা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লাম এবং এতে আমি মৃতপ্রায় হয়ে গিয়েছিলাম। নবী (ﷺ) সেবা শুশ্রুষা করার জন্য আমার কাছে তাশরীফ আনলেন। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার তো অনেক ধন-সম্পদ রয়েছে। আর আমার একমাত্র কন্যা ব্যতীত আর কোন উত্তরাধিকারী নেই। আমি কি দু’তৃতীয়াংশ মাল দান করে দেব? তিনি বললেনঃ না। (রাবী বলেন) আমি বললাম, তবে কি অর্ধেক দান করে দেব? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, এক তৃতীয়াংশ কি দান করে দেব? তিনি বললেন, এক তৃতীয়াংশও তো অনেক। তুমি তোমার সন্তানকে অভাবগ্রস্ত অবস্থায় রেখে যাবে আর সে মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষা করবে, এর চেয়ে তাকে সবল অবস্থায় রেখে যাওয়াটাই উত্তম।
তুমি (পবিবার-পরিজনের জন্য) যা খরচ করবে তার প্রতিদান তোমাকে দেওয়া হবে। এমনকি ঐ লোকমাটিরও প্রতিদান তোমাকে দেওয়া হবে যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আমার হিজরতকৃত স্থান থেকে পশ্চাতে থেকে যাব? তিনি বললেন, আমার পশ্চাতে থেকে গিয়ে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে আমলই করবে, তাতে তোমার মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি পাবে। সম্ভবত তুমি আমার পরেও জীবিত থাকবে। এমনকি তোমার দ্বারা বহু সম্প্রদায় উপকৃত হবে এবং অন্যেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু বেচারা সা’দ ইবনে খাওলার জন্য আফসোস। মক্কাতেই হয়েছিল তার মৃত্যু, সেজন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। সুফিয়ান (রাহঃ) বলেনঃ সা’দ ইবনে খাওলা (রাযিঃ) বনু আমির ইবনে লুআই গোত্রের লোক ছিলেন।
6278

6734 - حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو النَّضْرِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ شَيْبَانُ، عَنْ أَشْعَثَ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَ: أَتَانَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، بِاليَمَنِ مُعَلِّمًا وَأَمِيرًا، " فَسَأَلْنَاهُ عَنْ رَجُلٍ: تُوُفِّيَ وَتَرَكَ ابْنَتَهُ وَأُخْتَهُ، فَأَعْطَى الِابْنَةَ النِّصْفَ وَالأُخْتَ النِّصْفَ "

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৬২৭৮। মাহমুদ ইবনে গায়লান (রাহঃ) ......... আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) আমাদের নিকট মুআল্লিম ও আমীর হিসাবে ইয়ামানে এলে আমরা তাঁর কাছে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যে লোকটি এক কন্যা ও একটি ভগ্নি রেখে মারা গিয়েছে। তখন তিনি কন্যাটিকে সম্পত্তির অর্ধেক ও বোনকে অর্ধেক প্রদান করলেন।

২৭৯৬. পুত্রের অবর্তমানে নাতির উত্তরাধিকার।
যায়দ (রাযিঃ) বলেন, পুত্রের সন্তানাদি পুত্রের মতই, যখন তাকে ছাড়া আর কোন সন্তান না থাকে। নাতিগণ পুত্রদের মত আর নাতনীগণ কন্যাদের মত। পুত্রদের মত নাতনীগণও উত্তরাধিকারী হয়। আবার পুত্রগণ যেরূপ অন্যদেরকে মাহরুম করে, নাতিগণও সেরূপ অন্যদেরকে মাহরুম করে। আর নাতিগণ পুত্রদের বর্তমানে উত্তরাধিকারী হয় না।

بَابُ مِيرَاثِ ابْنِ الِابْنِ إِذَا لَمْ يَكُنِ ابْنٌ وَقَالَ زَيْدٌ: «وَلَدُ الأَبْنَاءِ بِمَنْزِلَةِ الوَلَدِ، إِذَا لَمْ يَكُنْ دُونَهُمْ وَلَدٌ ذَكَرُهُمْ كَذَكَرِهِمْ، وَأُنْثَاهُمْ كَأُنْثَاهُمْ، يَرِثُونَ كَمَا يَرِثُونَ، وَيَحْجُبُونَ كَمَا يَحْجُبُونَ، وَلاَ يَرِثُ وَلَدُ الِابْنِ مَعَ الِابْنِ»

6279

6735 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَلْحِقُوا الفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬২৭৯। মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রাপ্যাংশ (মিরাস) তাদের হকদারদের কাছে পৌছিয়ে দাও। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা নিকটতম পুরুষের জন্য।

২৭৯৭. কন্যার বর্তমানে পুত্র তরফের নাতনীর উত্তরাধিকার।

بَابُ مِيرَاثِ ابْنَةِ الِابْنِ مَعَ بِنْتٍ

6280

6736 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو قَيْسٍ، سَمِعْتُ هُزَيْلَ بْنَ شُرَحْبِيلَ، قَالَ: سُئِلَ أَبُو مُوسَى عَنْ بِنْتٍ وَابْنَةِ ابْنٍ وَأُخْتٍ، فَقَالَ: لِلْبِنْتِ النِّصْفُ، وَلِلْأُخْتِ النِّصْفُ، وَأْتِ ابْنَ مَسْعُودٍ، فَسَيُتَابِعُنِي، فَسُئِلَ ابْنُ مَسْعُودٍ، وَأُخْبِرَ بِقَوْلِ أَبِي مُوسَى فَقَالَ: لَقَدْ ضَلَلْتُ إِذًا وَمَا أَنَا مِنَ المُهْتَدِينَ، أَقْضِي فِيهَا بِمَا قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لِلاِبْنَةِ النِّصْفُ، وَلِابْنَةِ ابْنٍ السُّدُسُ تَكْمِلَةَ الثُّلُثَيْنِ، وَمَا بَقِيَ فَلِلْأُخْتِ» فَأَتَيْنَا أَبَا مُوسَى فَأَخْبَرْنَاهُ بِقَوْلِ ابْنِ مَسْعُودٍ، فَقَالَ: لاَ تَسْأَلُونِي مَا دَامَ هَذَا الحَبْرُ فِيكُمْ

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৬২৮০। আদম (রাহঃ) ......... হুযায়ল ইবনে শুরাহবীল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আবু মুসা (রাযিঃ) কে কন্যা, পুত্র পক্ষের নাতনী এবং ভগ্নির উত্তরাধিকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তখন তিনি বললেনঃ কন্যার জন্য অর্ধেক আর ভগ্নির জন্য অর্ধেক। (তিনি বললেন) তোমরা ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে দেখ, তিনিও হয়ত আমার মত উত্তর দিবেন। সুতরাং ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল এবং আবু মুসা (রাযিঃ) যা বলেছেন সে সম্পর্কেও তাকে অবহিত করা হল। তিনি বললেনঃ এতে সহমত পোষণ করলে আমি তো গোমরাহ হয়ে যাব, হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারব না। আমি এ ব্যাপারে তোমাদের মাঝে ঐ ফায়সালাই করব, নবী (ﷺ) যে ফায়সালা প্রদান করেছিলেন। কন্যা পাবে অর্ধাংশ আর নাতনী পাবে ষষ্ঠাংশ। এভাবে দুই তৃতীয়াংশ পূর্ণ হবে। অবশিষ্ট এক তৃতীয়াংশ থাকবে ভগ্নির জন্য। এরপর আমরা আবু মুসা (রাযিঃ)-এর কাছে আসলাম এবং ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) যা বললেন, সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলাম। তখন তিনি বললেনঃ যতদিন এ অভিজ্ঞ আলিম (জ্ঞানতাপস) তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকবেন, ততদিন আমার কাছে কিছু জিজ্ঞাসা করো না।

২৭৯৮. পিতা ও ভ্রাতৃবৃন্দের বর্তমানে দাদার উত্তরাধিকার।
আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ), ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এবং ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) বলেন যে, দাদা পিতার মতই। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এরূপ পড়েছেন يَا بَنِي آدَمَ، وَاتَّبَعْتُ مِلَّةَ آبَائِي إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ আর এরকম শোনাও যায়নি যে, আবু বকর (রাযিঃ) এর যমানায় কেউ এতে তার বিরুদ্ধাচরণ করেছেন, অথচ সে সময়ে নবী করীম (ﷺ) এর অনেক সাহাবী বিদ্যমান ছিলেন।
আর ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমার নাতি আমার উত্তরাধিকারী হবে, আমার ভাই নয়। তবে আমি আমার নাতির উত্তরাধিকারী হব না। তবে উমর, আলী, ইবনে মাসউদ ও যায়দ (রাযিঃ) থেকে এ সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যায়।

بَابُ مِيرَاثِ الجَدِّ مَعَ الأَبِ وَالإِخْوَةِوَقَالَ أَبُو بَكْرٍ، وَابْنُ عَبَّاسٍ، وَابْنُ الزُّبَيْرِ: «الجَدُّ أَبٌ» وَقَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ: {يَا بَنِي آدَمَ} [الأعراف: 26] {وَاتَّبَعْتُ مِلَّةَ آبَائِي إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ} «وَلَمْ يُذْكَرْ أَنَّ أَحَدًا خَالَفَ أَبَا بَكْرٍ فِي زَمَانِهِ، وَأَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَوَافِرُونَ» وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ [ص:152]: «يَرِثُنِي ابْنُ ابْنِي دُونَ إِخْوَتِي، وَلاَ أَرِثُ أَنَا ابْنَ ابْنِي؟» وَيُذْكَرُ عَنْ عُمَرَ، وَعَلِيٍّ، وَابْنِ مَسْعُودٍ، وَزَيْدٍ، أَقَاوِيلُ مُخْتَلِفَةٌ.

6281

6737 - حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَلْحِقُوا الفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَلِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬২৮১। সুলাইমান ইবনে হারব (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ প্রাপ্যাংশ (মিরাছ) তার হকদারকে পৌছিয়ে দাও। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা নিকটতম পুরুষের জন্য।

২৭৯৮. পিতা ও ভ্রাতৃবৃন্দের বর্তমানে দাদার উত্তরাধিকার।

باب مِيرَاثِ الْجَدِّ مَعَ الأَبِ وَالإِخْوَةِ

6282

6738 - حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: أَمَّا الَّذِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ هَذِهِ الأُمَّةِ خَلِيلًا لاَتَّخَذْتُهُ، وَلَكِنْ خُلَّةُ الإِسْلاَمِ أَفْضَلُ، أَوْ قَالَ: خَيْرٌ، فَإِنَّهُ أَنْزَلَهُ أَبًا، أَوْ قَالَ: قَضَاهُ أَبًا "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬২৮২। আবু মা’মার (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি যদি এ উম্মত থেকে কাউকে খলীল (অন্তরঙ্গ বন্ধু) বানাতাম তবে তাকে [আবু বকর (রাযিঃ)] বানাতাম। কিন্তু ইসলামী বন্ধুত্বই হচ্ছে সর্বোত্তম। أَفْضَلُ শব্দ বলেছেন নাকি خَيْرٌ, এতে রাবীর সন্দেহ আছে। তিনি দাদাকে পিতার মর্যাদা দিয়েছেন أَنْزَلَهُ أَبًا অথবা قَضَاهُ أَبًا বলেছেন।

২৭৯৯. সন্তানাদির বর্তমানে স্বামীর উত্তরাধিকার।

باب مِيرَاثِ الزَّوْجِ مَعَ الْوَلَدِ وَغَيْرِهِ

6283

6739 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «كَانَ المَالُ لِلْوَلَدِ، وَكَانَتِ الوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ، فَنَسَخَ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ مَا أَحَبَّ، فَجَعَلَ لِلذَّكَرِ مِثْلَ حَظِّ الأُنْثَيَيْنِ، وَجَعَلَ لِلْأَبَوَيْنِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ، وَجَعَلَ لِلْمَرْأَةِ الثُّمُنَ وَالرُّبُعَ، وَلِلزَّوْجِ الشَّطْرَ وَالرُّبُعَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬২৮৩। মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (প্রথমে) মাল ছিল সন্তানাদির আর ওসিয়ত ছিল পিতামাতার জন্য। কিন্তু পরে আল্লাহ তা রহিত করে দিয়ে এর চেয়ে উত্তমটি প্রবর্তন করেছেন। পূরুষের জন্য নারীদের দু’জনের সমতুল্য অংশ নির্ধারণ করেছেন। আর পিতা মাতার প্রত্যেকের জন্য এক ষষ্ঠাংশ নির্ধারণ করেছেন। স্ত্রীর জন্য নির্ধারণ করেছেন (সন্তান থাকা অবস্থায়) এক অষ্টমাংশ এবং (সন্তান না থাকলে) এক চতুর্থাংশ। আর স্বামীর জন্য (সন্তান না থাকলে) অর্ধেক আর (সন্তান থাকলে) এক চতুর্থাংশ।

২৮০০. সন্তানাদির বর্তমানে স্বামী ও স্ত্রীর উত্তরাধিকার।

باب مِيرَاثِ الْمَرْأَةِ وَالزَّوْجِ مَعَ الْوَلَدِ وَغَيْرِهِ

6284

6740 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ المُسَيِّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ: «قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنِينِ امْرَأَةٍ مِنْ بَنِي لَحْيَانَ سَقَطَ مَيِّتًا بِغُرَّةٍ، عَبْدٍ أَوْ أَمَةٍ، ثُمَّ إِنَّ المَرْأَةَ الَّتِي قَضَى لَهَا بِالْغُرَّةِ تُوُفِّيَتْ، فَقَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَنَّ مِيرَاثَهَا لِبَنِيهَا وَزَوْجِهَا، وَأَنَّ العَقْلَ عَلَى عَصَبَتِهَا»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৮৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লিহয়ান গোত্রের জনৈকা মহিলার একটি ভ্রুণপাত সংক্রান্ত ব্যাপারে নবী (ﷺ) একটি গোলাম বা দাসী প্রদানের নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি যে মহিলাটিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সে মারা গেল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফায়সালা দিলেন, তার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি তার পুত্রগণ ও স্বামীর জন্য। আর দিয়াত (গোলাম বা বাদী) তার আসাবার জন্য।

২৮০১. কন্যাদের বর্তমানে ভগ্নি আসাবা হিসাবে উত্তরাধিকারিণী হয়।

باب مِيرَاثِ الأَخَوَاتِ مَعَ الْبَنَاتِ عَصَبَةً

6285

6741 - حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، قَالَ: قَضَى فِينَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «النِّصْفُ لِلاِبْنَةِ وَالنِّصْفُ لِلْأُخْتِ» ثُمَّ قَالَ سُلَيْمَانُ: قَضَى فِينَا، وَلَمْ يَذْكُرْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

Narrator: হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ)

৬২৮৫। বিশর ইবনে খালিদ (রাহঃ) ......... আসওয়াদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআয ইবনে জাবাল (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যমানায় আমাদের মাঝে এ ফায়সালা দিয়েছিলেন যে, কন্যা পাবে সম্পত্তির অর্ধেক আর ভগ্নির জন্যও অর্ধেক।
এরপর সনদস্থিত রাবী সুলাইমান বলেন, তিনি (আসওয়াদ) আমাদের এ ব্যাপারেও মীমাংসা করেছিলেন। তবে عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যমানায়) কথাটি উল্লেখ করেনি।
6286

6742 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبَّاسٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ هُزَيْلٍ، قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: لَأَقْضِيَنَّ فِيهَا بِقَضَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «للاِبْنَةِ النِّصْفُ، وَلِابْنَةِ الِابْنِ السُّدُسُ، وَمَا بَقِيَ فَلِلْأُخْتِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬২৮৬। আমর ইবনে আব্বাস (রাহঃ) ......... হুযায়ল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেছেন, আমি এতে ঐ ফায়সালাই করব যা নবী (ﷺ) করেছিলেন। অথবা তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ (তা হচ্ছে) কন্যার জন্য সম্পত্তির অর্ধেক আর পৌত্রীর (পুত্র পক্ষের নাতনীদের) জন্য এক ষষ্ঠাংশ। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে তা ভগ্নির জন্য।

২৮০২. ভগ্নিগণ ও ভ্রাতৃগণের উত্তরাধিকার।

باب مِيرَاثِ الأَخَوَاتِ وَالإِخْوَةِ

6287

6743 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ المُنْكَدِرِ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرًا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: " دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا مَرِيضٌ، فَدَعَا بِوَضُوءٍ فَتَوَضَّأَ، ثُمَّ نَضَحَ عَلَيَّ مِنْ وَضُوئِهِ فَأَفَقْتُ، فَقُلْتُ [ص:153]: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّمَا لِي أَخَوَاتٌ، فَنَزَلَتْ آيَةُ الفَرَائِضِ "

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৬২৮৭। আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান (রাহঃ) ......... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি অসুস্থ ছিলাম। তখন নবী (ﷺ) আমার নিকট তাশরীফ আনলেন। এসে উযুর পানি চাইলেন এবং উযু করলেন। তারপর উযুর বেঁচে যাওয়া পানি থেকে আমার উপর ঢেলে দিলেন। তখন আমি প্রকৃতিস্থ হলাম এবং আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ভগ্নিগণ আছে, ঐসময় উত্তরাধিকার বিষয়ক আয়াত নাযিল হয়।

২৮০৩. (মহান আল্লাহর বাণীঃ) মানুষ আপনার নিকট ফতোয়া জানতে চায়। অতএব, আপনি বলে দিন, আল্লাহ তোমাদিগকে কালালাহ'র মীরাস সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশ বাতলে দিচ্ছেন, যদি কোন পুরুষ মারা যায় এবং তার কোন সন্তানাদি না থাকে এবং এক বোন থাকে, তবে সে পাবে তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তির অর্ধেক অংশ এবং সে যদি নিঃসন্তান হয়, তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। তা দুই বোন থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ। পক্ষান্তরে যদি ভাই ও বোন উভয়ই থাকে, তবে একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর সমান। তোমরা বিভ্রান্ত হবে আল্লাহ তোমাদিগকে সুস্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন। আর আল্লাহ হচ্ছেন সর্ব বিষয়ে পরিজ্ঞাত (নিসা:১৭৬)।

بَابُ {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الكَلاَلَةِ، إِنِ امْرُؤٌ هَلَكَ لَيْسَ لَهُ وَلَدٌ وَلَهُ أُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ، وَهُوَ يَرِثُهَا إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا وَلَدٌ فَإِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثَانِ مِمَّا تَرَكَ، وَإِنْ كَانُوا إِخْوَةً رِجَالًا وَنِسَاءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الأُنْثَيَيْنِ، يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ أَنْ تَضِلُّوا وَاللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} [النساء: 176]

6288

6744 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ البَرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: " آخِرُ آيَةٍ نَزَلَتْ خَاتِمَةُ سُورَةِ النِّسَاءِ: {يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الكَلاَلَةِ} [النساء: 176] "

Narrator: হযরত বারা’ ইবনে আযিব (রাঃ)

৬২৮৮। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... বারা’ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত হচ্ছে সূরা নিসার শেষ আয়াতঃ يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ....
মানুষ আপনার নিকট ফতোয়া জানতে চায় অতএব, আপনি বলে দিন, আল্লাহ তোমাদিগকে কালালাহ এর মীরাস সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশ বাতলে দিচ্ছেন।

২৮০৪. (কোন মেয়েলোকের) দু’জন চাচাতো ভাই, তন্মধ্যে যদি একজন মা শরীক ভাই আর অপরজন স্বামী হয়। এক্ষেত্রে আলী (রাযিঃ) বলেন, স্বামীর জন্য অংশ হচ্ছে অর্ধেক আর মা শরীক ভাইয়ের অংশ এক ষষ্ঠাংশ। এরপর অবশিষ্টাংশ দুয়ের মাঝে আধাআধি হারে দিতে হবে।

بَابُ ابْنَيْ عَمٍّ: أَحَدُهُمَا أَخٌ لِلْأُمِّ، وَالآخَرُ زَوْجٌ وَقَالَ عَلِيٌّ: «لِلزَّوْجِ النِّصْفُ، وَلِلْأَخِ مِنَ الأُمِّ السُّدُسُ، وَمَا بَقِيَ بَيْنَهُمَا نِصْفَانِ»

6289

6745 - حَدَّثَنَا مَحْمُودٌ، أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ، فَمَنْ مَاتَ وَتَرَكَ مَالًا فَمَالُهُ لِمَوَالِي العَصَبَةِ، وَمَنْ تَرَكَ كَلًّا أَوْ ضَيَاعًا فَأَنَا وَلِيُّهُ، فَلِأُدْعَى لَهُ» الكَلُّ: العِيَالُ

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৮৯। মাহমুদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমি মু'মিনদের নিকট তাদের প্রাণের চেয়েও অধিক প্রিয়। যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ রেখে মারা যায়, তার ধন-সম্পদ তার আসাবাগণ লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি বোঝা (ঋণ) অথবা সন্তানাদি রেখে মারা যায়, আমিই হব তার অভিভাবক। সুতরাং আমার কাছেই যেন তা চাওয়া হয়।

২৮০৪. (কোন মেয়েলোকের) দু’জন চাচাতো ভাই, তন্মধ্যে যদি একজন মা শরীক ভাই আর অপরজন স্বামী হয়।

باب ابْنَىْ عَمٍّ أَحَدُهُمَا أَخٌ لِلأُمِّ وَالآخَرُ زَوْجٌ

6290

6746 - حَدَّثَنَا أُمَيَّةُ بْنُ بِسْطَامٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ رَوْحٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَلْحِقُوا الفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا تَرَكَتِ الفَرَائِضُ فَلِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬২৯০। উমাইয়্যা ইবনে বিসতাম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ প্রাপ্যাংশ তার হকদারের কাছে পৌছিয়ে দাও। এরপর যা অবশিষ্ট থাকবে, তার মালিক হবে তার নিকটতম পুরুষ ব্যক্তি।

২৮০৫. যাবিল আরহাম (আত্নীয় স্বজনের প্রসঙ্গ)।

باب ذَوِي الأَرْحَامِ

6291

6747 - حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: قُلْتُ لِأَبِي أُسَامَةَ: حَدَّثَكُمْ إِدْرِيسُ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: {وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ} [النساء: 33] (وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ) قَالَ: " كَانَ المُهَاجِرُونَ حِينَ قَدِمُوا المَدِينَةَ يَرِثُ الأَنْصَارِيُّ المُهَاجِرِيَّ دُونَ ذَوِي رَحِمِهِ، لِلْأُخُوَّةِ الَّتِي آخَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمْ، فَلَمَّا نَزَلَتْ: {وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ} [النساء: 33] " قَالَ: " نَسَخَتْهَا: (وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ) "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৬২৯১। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ, وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ এ আয়াতদ্বয় সম্পর্কে বলেন যে, মুহাজিরগণ যখন মদীনায় আগমন করলেন, তখন নবী (ﷺ) মুহাজির ও আনসারগনের মাঝে যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করে দিয়েছিলেন, সে প্রেক্ষিতে আনসারগণের সাথে যাদের যাবিল আরহামের (আত্নীয়তার) সম্পর্ক ছিল তা বাদ দিয়ে মুহাজিরগগ আনসারগণের সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতেন। এরপর যখন وَلِكُلٍّ جَعَلْنَا مَوَالِيَ এই আয়াত নাযিল হয়, তখন وَالَّذِينَ عَقَدَتْ أَيْمَانُكُمْ আয়াতের বিধানটি রহিত হয়ে যায়।

২৮০৬. লিআনকারীদের উত্তরাধিকার।

باب مِيرَاثِ الْمُلاَعَنَةِ

6292

6748 - حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ قَزَعَةَ، حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: «أَنَّ رَجُلًا لاَعَنَ امْرَأَتَهُ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَانْتَفَى مِنْ وَلَدِهَا، فَفَرَّقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَهُمَا، وَأَلْحَقَ الوَلَدَ بِالْمَرْأَةِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬২৯২। ইয়াহয়া ইবনে কাযাআ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর যমানায় তার স্ত্রীর সঙ্গে লিআন করেছিল এবং তার সন্তানটিকেও অস্বীকার করল। তখন নবী (ﷺ) তাদের দু’জনের মাঝে (বিবাহ) বিচ্ছেদ করে দিলেন এবং সন্তানটি মহিলাকে দিয়ে দিলেন।

২৮০৭. শয্যাসঙ্গিনী আযাদ হোক বা বাঁদী, সন্তান শয্যাধিপতির।

باب الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ حُرَّةً كَانَتْ أَوْ أَمَةً

6293

6749 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: كَانَ عُتْبَةُ عَهِدَ إِلَى أَخِيهِ سَعْدٍ: أَنَّ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ مِنِّي، فَاقْبِضْهُ إِلَيْكَ، فَلَمَّا كَانَ عَامَ الفَتْحِ أَخَذَهُ سَعْدٌ، فَقَالَ: ابْنُ أَخِي عَهِدَ إِلَيَّ فِيهِ [ص:154]، فَقَامَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ، فَقَالَ: أَخِي وَابْنُ وَلِيدَةِ أَبِي، وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ، فَتَسَاوَقَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، ابْنُ أَخِي، قَدْ كَانَ عَهِدَ إِلَيَّ فِيهِ، فَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ: أَخِي وَابْنُ وَلِيدَةِ أَبِي، وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ بْنَ زَمْعَةَ، الوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الحَجَرُ» ثُمَّ قَالَ لِسَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ: «احْتَجِبِي مِنْهُ» لِمَا رَأَى مِنْ شَبَهِهِ بِعُتْبَةَ، فَمَا رَآهَا حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬২৯৩। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, উতবা তার ভাই সা’দকে ওসীয়ত করল যে, যামআর বাদীর সন্তানটি আমার। তাই তুমি তাকে তোমার হস্তগত করে নাও। মক্কা বিজয়ের বছর সা’দ তাকে হস্তগত করলেন এবং বললেন যে, এ আমার ভ্রাতুষ্পুত্র। আমার ভাই এর সম্পর্কে ওসীয়ত করে গিয়েছিলেন। তখন আবদ ইবনে যামআ দাঁড়িয়ে বললেন, এ তো আমার ভাই। কেননা, এ হচ্ছে আমার পিতার বাঁদীর পুত্র। এবং সে আমার পিতার শয্যাসঙ্গিনীর গর্ভে জন্ম নিয়েছে। উভয়েই তাঁদের মুকাদ্দমা নবী (ﷺ) এর কাছে পেশ করলেন।
তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবদ ইবনে যামআ, এ ছেলে তুমিই পাবে। কেননা, সন্তান সে-ই পেয়ে থাকে যার শয্যাসঙ্গিনীর গর্ভে সে জন্ম নেয়। আর ব্যভিচারকারীর জন্য হল পাথর। এরপর তিনি সাওদা বিনতে যামআকে বললেনঃ তুমি এ ছেলে থেকে পর্দা করবে। কেননা, তিনি তার মাঝে উতবার সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছিলেন। সুতরাং সাওদা (রাযিঃ) সে ছেলেটিকে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাত (মৃত্যু) পর্যন্ত আর দেখেননি।
6294

6750 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ: أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الوَلَدُ لِصَاحِبِ الفِرَاشِ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬২৯৪। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, সন্তান হল শয্যাধিপতির।

২৮০৮. অভিভাবকত্ব ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আযাদ করবে এবং লাকীতের উত্তরাধিকার।
উমর (রাযিঃ) বলেন, লাকীত (কুড়িয়ে পাওয়া) ব্যক্তি আযাদ।

بَابٌ: الوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ، وَمِيرَاثُ اللَّقِيطِ وَقَالَ عُمَرُ: «اللَّقِيطُ حُرٌّ»

6295

6751 - حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: اشْتَرَيْتُ بَرِيرَةَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اشْتَرِيهَا، فَإِنَّ الوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ» وَأُهْدِيَ لَهَا شَاةٌ، فَقَالَ: «هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ» قَالَ الحَكَمُ: «وَكَانَ زَوْجُهَا حُرًّا» وَقَوْلُ الحَكَمِ مُرْسَلٌ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: «رَأَيْتُهُ عَبْدًا»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬২৯৫। হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বারীরা (নামক বাঁদী) কে ক্রয় করতে চাইলাম। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করতে পার। কেননা, অভিভাবকত্ব তো ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আযাদ করে। বারীরাকে একদা একটি বকরী সাদ্‌কা দেওয়া হল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটি তার জন্য সাদ্‌কা আর আমাদের জন্য হাদিয়া। হাকাম বলেন, বারীরার স্বামী একজন আযাদ ব্যক্তি ছিল। আবু আব্দুল্লাহ [বুখারী (রাহঃ)] বলেনঃ হাকামের বর্ণনা সনদ হিসাবে মুরসাল।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তাকে (বারীরার স্বামীকে) গোলামরূপে দেখেছি।

২৮০৮. অভিভাবকত্ব ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আযাদ করবে এবং লাকীতের উত্তরাধিকার।

باب الْوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ، وَمِيرَاثُ اللَّقِيطِ

6296

6752 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّمَا الوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬২৯৬। ইসমাঈল ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ নিশ্চয়ই অভিভাবকত্ব ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আযাদ করবে।

২৮০৯. সায়েবার উত্তরাধিকার।

باب مِيرَاثِ السَّائِبَةِ

6297

6753 - حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ هُزَيْلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «إِنَّ أَهْلَ الإِسْلاَمِ لاَ يُسَيِّبُونَ، وَإِنَّ أَهْلَ الجَاهِلِيَّةِ كَانُوا يُسَيِّبُونَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৬২৯৭। কাবীসা ইবনে উকবা (রাহঃ) ......... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহলে ইসলাম (মুসলমানগণ) সায়েবা বানায় না। সায়েবা তো বানাত জাহিলী যমানার লোকেরা ।

6298

6754 - حَدَّثَنَا مُوسَى، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، اشْتَرَتْ بَرِيرَةَ لِتُعْتِقَهَا، وَاشْتَرَطَ أَهْلُهَا وَلاَءَهَا، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي اشْتَرَيْتُ بَرِيرَةَ لِأُعْتِقَهَا، وَإِنَّ أَهْلَهَا يَشْتَرِطُونَ وَلاَءَهَا، فَقَالَ: «أَعْتِقِيهَا، فَإِنَّمَا الوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» أَوْ قَالَ: «أَعْطَى الثَّمَنَ» قَالَ: فَاشْتَرَتْهَا فَأَعْتَقَتْهَا، قَالَ: وَخُيِّرَتْ فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا، وَقَالَتْ: لَوْ أُعْطِيتُ كَذَا وَكَذَا مَا كُنْتُ مَعَهُ قَالَ الأَسْوَدُ: وَكَانَ زَوْجُهَا حُرًّا " قَوْلُ الأَسْوَدِ مُنْقَطِعٌ. وَقَوْلُ ابْنِ عَبَّاسٍ: رَأَيْتُهُ عَبْدًا، أَصَحُّ "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬২৯৮। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... আসওয়াদ ইবনে ইয়াযীদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) বারীরা বাদীকে আযাদ করার উদ্দেশ্যে ক্রয় করতে চাইলেন। আর তার মনিব তার ওয়ালার (অভিভাবকত্বের) শর্ত করল (নিজেদের জন্য)। তখন আয়েশা (রাযিঃ) আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি বারীরাকে আযাদ করার উদ্দেশ্যে ক্রয় করতে চাই, অথচ তার মনিবরা তার ওয়ালার শর্ত করছে। তিনি বললেনঃ তাকে (ক্রয় করে) আযাদ কর। কেননা, অভিভাবকত্ব ঐ ব্যক্তির জন্যই হয়ে থাকে, যে আযাদ করে। অথবা তিনি বললেনঃ তার মূল্য দিয়ে দাও। তিনি বলেনঃ তখন তিনি তাকে ক্রয় করলেন এবং আযাদ করে দিলেন। তিনি আরও বললেন, তাকে তার (স্বামীর সাথে) যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপারে ইখতিয়ার দেওয়া হল। সে নিজেকে ইখতিয়ার করল এবং বলল, আমাকে যদি এরূপ এরূপ কিছু দেওয়াও হয় তবুও আমি তার সাথী হব না। আসওয়াদ (রাহঃ) বলেনঃ তার স্বামী আযাদ ছিল। আবু আব্দুল্লাহ বুখারী (রাহঃ) বলেনঃ আসওয়াদের বক্তব্য মুনকাতি'-বিচ্ছিন্ন। ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর বক্তব্য ‘আমি তাকে (বারীরার স্বামীকে) গোলামরূপে দেখেছি’ বিশুদ্ধতর।

২৮১০. যে গোলাম তার মনিবদের ইচ্ছার খেলাফ কাজ করে তার গুনাহ।

باب إِثْمِ مَنْ تَبَرَّأَ مِنْ مَوَالِيهِ

6299

6755 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: مَا عِنْدَنَا كِتَابٌ نَقْرَؤُهُ إِلَّا كِتَابُ اللَّهِ غَيْرَ هَذِهِ الصَّحِيفَةِ، قَالَ: فَأَخْرَجَهَا، فَإِذَا فِيهَا أَشْيَاءُ مِنَ الجِرَاحَاتِ وَأَسْنَانِ الإِبِلِ، قَالَ: وَفِيهَا: «المَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْرٍ، فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا، أَوْ آوَى مُحْدِثًا، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ يَوْمَ [ص:155] القِيَامَةِ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ. وَمَنْ وَالَى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ يَوْمَ القِيَامَةِ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ. وَذِمَّةُ المُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ، يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ، فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يُقْبَلُ مِنْهُ يَوْمَ القِيَامَةِ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ»

Narrator: হযরত আলী ইবনে আবী তালিব (রাঃ)

৬২৯৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবরাহীম তায়মী তাঁর পিতা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আলী (রাযিঃ) বলেছেন, কিতাবুল্লাহ ব্যতীত আমাদের আর কোন কিতাব নেই যা আমরা পাঠ করতে পারি। তবে এ লিপিখানা আছে। রাবী বলেন, এরপর তিনি তা বের করলেন। দেখা গেল যে, তাতে যখম ও উটের বয়স সংক্রান্ত কথা লিপিবদ্ধ আছে। রাবী বলেন, তাতে আরও লিপিবদ্ধ ছিল যে, আইর থেকে নিয়ে ছাওর নামক স্থানের মধ্যবর্তী স্থান মদীনার হারাম। এখানে যে (ধর্মীয় ব্যাপারে) বিদআত করবে বা বিদআতকারীকে আশ্রয় দিবে, তার উপর আল্লাহর ফিরিশতা এবং সকল মানুষের লা'নত। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার কোন ফরয এবং নফল আমল কবুল করবেন না। যে ব্যক্তি মনিবের অনুমতি ছাড়া কোন গোলামকে আশ্রয় প্রদান করে, তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতা এবং সমস্ত মামুষের লা’নত। তার কোন ফরয বা নফল ইবাদত কিয়ামতের দিন কবুল করা হবে না। সমস্ত মুসলমানের জিম্মাই (আশ্রয় প্রদান) এক, একজন সাধারণ মুসলমানও এর চেষ্টা করবে। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের আশ্রয় প্রদানকে বানচাল করে, তার উপর আল্লাহ তাআলা, ফিরিশতা এবং সকল মানুষের লা’নত। কিয়ামতের দিন তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল করা হবে না।

6300

6756 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «نَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَيْعِ الوَلاَءِ وَعَنْ هِبَتِهِ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৩০০। আবু নুয়াঈম (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) অভিভাবকত্ব বিক্রয় এবং তা দান করতে নিষেধ করেছেন।

২৮১১. কাফির যদি কোন মুসলমানের হাতে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে হাসান (রাঃ) তার জন্য এতে ওয়ালার স্বীকৃতি দিতেন না।
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ ওয়ালা ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আযাদ করে।
তামীম দারী (রাযিঃ) থেকে মারফু’ রিওয়ায়ত বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (ﷺ) বলেছেন, ওয়ালা তার আযাদকারীর কাছে অন্যান্য মানুষের তুলনায় তার মৃত্যু ও জীবন যাপনের দিক দিয়ে অধিকতর নিকটে। তবে এ খবরের সত্যতার ব্যাপারে অন্যরা মতানৈক্য করেছেন।

بَابُ إِذَا أَسْلَمَ عَلَى يَدَيْهِ وَكَانَ الحَسَنُ «لاَ يَرَى لَهُ وِلاَيَةً» وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ» وَيُذْكَرُ عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، رَفَعَهُ قَالَ: «هُوَ أَوْلَى النَّاسِ بِمَحْيَاهُ وَمَمَاتِهِ» وَاخْتَلَفُوا فِي صِحَّةِ هَذَا الخَبَرِ "

6301

6757 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ عَائِشَةَ أُمَّ المُؤْمِنِينَ: أَرَادَتْ أَنْ تَشْتَرِيَ جَارِيَةً تُعْتِقُهَا، فَقَالَ أَهْلُهَا: نَبِيعُكِهَا عَلَى أَنَّ وَلاَءَهَا لَنَا، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «لاَ يَمْنَعُكِ ذَلِكِ، فَإِنَّمَا الوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৩০১। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (রাযিঃ) আযাদ করার জন্য একটি বাদী ক্রয় করতে চাইলেন। তখন তার মনিবরা তাকে বলল যে, আমরা এ বাদী আপনার কাছে এ শর্তে বিক্রি করতে পারি যে, ওয়ালা হবে আমাদের জন্য। তিনি এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে আলোচনা করলেন। তখন তিনি বললেনঃ এটা তোমার জন্য কোন বাধা নয়। কারণ ওয়ালা (মালিকানা) হচ্ছে ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আযাদ করে।

২৮১১. কাফির যদি কোন মুসলমানের হাতে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে হাসান (রাঃ) তার জন্য এতে ওয়ালার স্বীকৃতি দিতেন না।

باب إِذَا أَسْلَمَ عَلَى يَدَيْهِ وَكَانَ الْحَسَنُ لاَ يَرَى لَهُ وِلاَيَةً.

6302

6758 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: اشْتَرَيْتُ بَرِيرَةَ، فَاشْتَرَطَ أَهْلُهَا وَلاَءَهَا. فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «أَعْتِقِيهَا، فَإِنَّ الوَلاَءَ لِمَنْ أَعْطَى الوَرِقَ» قَالَتْ: فَأَعْتَقْتُهَا. قَالَتْ: فَدَعَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَخَيَّرَهَا مِنْ زَوْجِهَا، فَقَالَتْ: لَوْ أَعْطَانِي كَذَا وَكَذَا مَا بِتُّ عِنْدَهُ، فَاخْتَارَتْ نَفْسَهَا قَالَ: وَكَانَ زَوْجُهَا حُرًّا

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৩০২। মুহাম্মাদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বারীরা বাদীকে আমি ক্রয় করলাম। তখন তার মালিকরা তার ওয়ালার শর্ত করল। এ ব্যাপারে আমি নবী (ﷺ) এর কাছে আলোচনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাকে আযাদ করে দাও। কেননা, ওয়ালা ঐ ব্যক্তির জন্য, যে রৌপ্য প্রদান করে। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ আমি তাকে আযাদ করে দিলাম। তিনি বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বারীরাকে ডাকলেন এবং তার স্বামীর ব্যাপারে তাকে স্বাধীনতা দিলেন। তখন সে বলল, সে যদি আমাকে এরূপ এরূপ মালও দেয়, তবুও আমি তার সাথে রাত যাপন করব না। এবং সে নিজেকেই ইখতিয়ার করল।

২৮১২. নারীগণ ওয়ালার উত্তরাধিকারী হতে পারে।

باب مَا يَرِثُ النِّسَاءُ مِنَ الْوَلاَءِ

6303

6759 - حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: أَرَادَتْ عَائِشَةُ، أَنْ تَشْتَرِيَ بَرِيرَةَ، فَقَالَتْ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّهُمْ يَشْتَرِطُونَ الوَلاَءَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اشْتَرِيهَا، فَإِنَّمَا الوَلاَءُ لِمَنْ أَعْتَقَ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৬৩০৩। হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ......... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়েশা (রাযিঃ) বারীরা বাদীকে ক্রয় করার ইচ্ছা করলেন। তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে বললেন যে, তারা (মালিকরা) ওয়ালার শর্ত করছে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করে নাও। কেননা, ওয়ালা তো হচ্ছে ঐ ব্যক্তির, যে আযাদ করে।

6304

6760 - حَدَّثَنَا ابْنُ سَلاَمٍ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الوَلاَءُ لِمَنْ أَعْطَى الوَرِقَ، وَوَلِيَ النِّعْمَةَ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৩০৪। ইবনে সালাম (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ওয়ালা হল ঐ ব্যক্তির জন্য, যে রৌপ্য (মূল্য) প্রদান করে। আর সে নিআমতের অধিকারী হয়।

২৮১৩. কোন কওমের আযাদকৃত গোলাম তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আর বোনের ছেলেও ঐ কওমের অন্তর্ভুক্ত।

باب مَوْلَى الْقَوْمِ مِنْ أَنْفُسِهِمْ، وَابْنُ الأُخْتِ مِنْهُمْ

6305

6761 - حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ قُرَّةَ، وَقَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَوْلَى القَوْمِ مِنْ أَنْفُسِهِمْ» أَوْ كَمَا قَالَ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৩০৫। আদম (রাহঃ) ......... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন কওমের (আযাদকৃত) গোলাম তাদেরই অন্তর্ভুক্ত অথবা এজাতীয় কোন কথা বলেছেন।

6306

6762 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ابْنُ أُخْتِ القَوْمِ مِنْهُمْ - أَوْ: مِنْ أَنْفُسِهِمْ - "

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৬৩০৬। আবুল ওয়ালিদ (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোন কওমের বোনের পুত্র সে কওমেরই অন্তর্ভুক্ত। এখানে তিনি مِنْهُمْ বলেছেন অথবা مِنْ أَنْفُسِهِمْ বলেছেন।

২৮১৪. বন্দীর উত্তরাধিকার।
শুরায়হ (রাহঃ) শত্রুদের হাতে বন্দী মুসলমানদের উত্তরাধিকার প্রদান করতেন এবং বলতেন, এ বন্দী লোক উত্তরাধিকারের প্রতি বেশী মুখাপেক্ষী। উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) বলেন, বন্দী ব্যক্তির ওসিয়ত, তাকে আযাদ করা এবং তার মালের ব্যবহারকে জায়েয মনে কর, যতক্ষণ না সে আপন ধর্ম থেকে ফিরে যায়। কেননা, এ হচ্ছে তারই মাল। সে এতে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে।

باب مِيرَاثِ الأَسِيرِ قَالَ وَكَانَ شُرَيْحٌ يُوَرِّثُ الأَسِيرَ فِي أَيْدِي الْعَدُوِّ وَيَقُولُ هُوَ أَحْوَجُ إِلَيْهِ. وَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَجِزْ وَصِيَّةَ الأَسِيرِ، وَعَتَاقَهُ، وَمَا صَنَعَ فِي مَالِهِ، مَا لَمْ يَتَغَيَّرْ عَنْ دِينِهِ، فَإِنَّمَا هُوَ مَالُهُ، يَصْنَعُ فِيهِ مَا يَشَاءُ

6307

6763 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيٍّ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِوَرَثَتِهِ، وَمَنْ تَرَكَ كَلًّا فَإِلَيْنَا»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৩০৭। আবুল ওয়ালীদ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ধনসস্পদ রেখে মারা যায়, সে ধন-সম্পদ তার উত্তরাধিকারীদের জন্য। আর যে ঋণ রেখে (মারা) যায়, তা (আদায় করা) আমাদের যিম্মায়।

২৮১৫. মুসলমান কাফিরের এবং কাফির মুসলমানের উত্তরাধিকারী হয় না। কোন ব্যক্তি সম্পত্তি বন্টনের পূর্বে মুসলিম হয়ে গেলে সে মিরাস পাবে না।

باب لاَ يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ وَلاَ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ، وَإِذَا أَسْلَمَ قَبْلَ أَنْ يُقْسَمَ الْمِيرَاثُ فَلاَ مِيرَاثَ لَهُ

6308

6764 - حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَرِثُ المُسْلِمُ الكَافِرَ وَلاَ الكَافِرُ المُسْلِمَ»

Narrator: হযরত উসামা ইবন যায়দ রাযি.

৬৩০৮। আবু আসিম (রাহঃ) ......... উসামা ইবনে যায়দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মুসলমান কাফিরের উত্তরাধিকারী হয় না আর কাফিরও মুসলমানের উত্তরাধিকারী হয় না।

২৮১৬. নাসারা গোলাম ও নাসারা মুকাতাবের মিরাস এবং যে ব্যক্তি আপন সন্তানকে অস্বীকার করে তার গুনাহ।
পরিচ্ছেদঃ ২৮১৭. যে ব্যক্তি কাউকে ভাই বা ভ্রাতুষ্পুত্র হওয়ার দাবি করে।

بَابُ مِيرَاثِ العَبْدِ النَّصْرَانِيِّ، وَالمُكَاتَبِ النَّصْرَانِيِّ، وَإِثْمِ مَنِ انْتَفَى مِنْ وَلَدِهِ<br>بَابُ مَنِ ادَّعَى أَخًا أَوِ ابْنَ أَخٍ

6309

6765 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا قَالَتْ: اخْتَصَمَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ وَعَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ فِي غُلاَمٍ، فَقَالَ سَعْدٌ: هَذَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ابْنُ أَخِي عُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَهِدَ إِلَيَّ أَنَّهُ ابْنُهُ، انْظُرْ إِلَى شَبَهِهِ، وَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ: هَذَا أَخِي يَا رَسُولَ اللَّهِ، وُلِدَ عَلَى فِرَاشِ أَبِي مِنْ وَلِيدَتِهِ، فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى شَبَهِهِ فَرَأَى شَبَهًا بَيِّنًا بِعُتْبَةَ، فَقَالَ: «هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ بْنَ زَمْعَةَ، الوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الحَجَرُ، وَاحْتَجِبِي مِنْهُ يَا سَوْدَةُ بِنْتَ زَمْعَةَ» قَالَتْ: فَلَمْ يَرَ سَوْدَةَ قَطُّ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৩০৯। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) ও আবদ ইবনে যামআ একটি ছেলের ব্যাপারে পরস্পরে কথা কাটাকাটি করেন। সা’দ (রাযিঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ ছেলেটি আমার ভাই উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাস-এর পুত্র। তিনি আমাকে ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন যে, এ ছেলেটি তার পুত্র। আপনি তার আকৃতির দিকে লক্ষ্য করে দেখুন।
আবদ ইবনে যামআ বললো, এ আমার ভাই, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ আমার পিতার ঔরসে তার বাদীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছে। তখন নবী (ﷺ) তার আকৃতির দিকে নযর করলেন এবং উতবার আকৃতির সাথে তার আকৃতির প্রকাশ্য মিল দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেনঃ হে আবদ, এ ছেলে তুমিই পাবে। কেননা সন্তান যথাযথ শয্যাপতির আর ব্যভিচারীর জন্য হল পাথর। আর হে সাওদা বিনতে যামআ! তুমি তার থেকে পর্দা কর। আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ এরপরে সে কখনও সাওদার সাথে দেখা দেয়নি।

২৮১৮. প্রকৃত পিতা ব্যতীত অন্যকে পিতা বলে দাবি করা।

باب مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ

6310

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ ـ هُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ ـ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ سَعْدٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ، وَهْوَ يَعْلَمُ أَنَّهُ غَيْرُ أَبِيهِ، فَالْجَنَّةُ عَلَيْهِ حَرَامٌ ". فَذَكَرْتُهُ لأَبِي بَكْرَةَ فَقَالَ وَأَنَا سَمِعَتْهُ أُذُنَاىَ، وَوَعَاهُ، قَلْبِي مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

Narrator: হযরত সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস রাযি.

৬৩১০। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি অন্য লোককে পিতা বলে দাবি করে অথচ সে জানে যে সে তার পিতা নয়, জান্নাত তার জন্য হারাম।
রাবী বলেন, আমি এ কথাটি আবু বাকরা (রাযিঃ) এর কাছে আলোচলা করলাম। তখন তিনি বললেন, আমার কান দু’টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এ কথা শুনেছে এবং আমার অন্তর তা সংরক্ষণ করেছে।
6311

6768 - حَدَّثَنَا أَصْبَغُ بْنُ الفَرَجِ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عِرَاكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «لاَ تَرْغَبُوا عَنْ آبَائِكُمْ، فَمَنْ رَغِبَ عَنْ أَبِيهِ فَهُوَ كُفْرٌ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৩১১। আসবাগ ইবনে ফারাজ (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না (অস্বীকার করো না)। কেননা, যে ব্যক্তি আপন পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় (পিতাকে অস্বীকার করে), এটি কুফরী।

২৮১৯. কোন মহিলা কাউকে পুত্র হিসাবে দাবি করলে তার বিধান।

باب إِذَا ادَّعَتِ الْمَرْأَةُ ابْنًا

6312

6769 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " كَانَتِ امْرَأَتَانِ مَعَهُمَا ابْنَاهُمَا، جَاءَ الذِّئْبُ فَذَهَبَ بِابْنِ إِحْدَاهُمَا، فَقَالَتْ لِصَاحِبَتِهَا: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ [ص:157]، وَقَالَتِ الأُخْرَى: إِنَّمَا ذَهَبَ بِابْنِكِ، فَتَحَاكَمَتَا إِلَى دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ فَقَضَى بِهِ لِلْكُبْرَى، فَخَرَجَتَا عَلَى سُلَيْمَانَ بْنِ دَاوُدَ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ فَأَخْبَرَتَاهُ، فَقَالَ: ائْتُونِي بِالسِّكِّينِ أَشُقُّهُ بَيْنَهُمَا، فَقَالَتِ الصُّغْرَى: لاَ تَفْعَلْ يَرْحَمُكَ اللَّهُ هُوَ ابْنُهَا فَقَضَى بِهِ لِلصُّغْرَى " قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: «وَاللَّهِ إِنْ سَمِعْتُ بِالسِّكِّينِ قَطُّ إِلَّا يَوْمَئِذٍ، وَمَا كُنَّا نَقُولُ إِلَّا المُدْيَةَ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৬৩১২। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দু’জন মহিলার সঙ্গে তাদের দু’টি ছেলে ছিল। বাঘ এসে (একদিন) তাদের একজনের ছেলেকে নিয়ে গেল। একজন মহিলা তার অপর সঙ্গিনীকে বলল যে, বাঘে তোমার ছেলেকে নিয়ে গেছে। অপরজন বলল যে, বাঘে তোমার ছেলেকে নিয়ে গেছে। তারা উভয়ে দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর কাছে তাদের মুকাদ্দমা দায়ের করল। তিনি বড় মহিলাটির সম্পর্কে ফায়সালা প্রদান করলেন। এরপর তারা বের হয়ে দাউদ (আলাইহিস সালাম) এর পুত্র সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) এর কাছে গেল এবং উভয়েই তাকে তাদের ঘটনা অবহিত করল। তখন তিনি বললেন, আমাকে একটি ছুরি দাও, আমি একে দু’টুকরা করে দু’জনের মধ্যে ভাগ করে দেব। তখন ছোট মহিলাটি বলল, আপনি এরূপ করবেন না, আল্লাহ আপনার উপর দয়া করুন। এ ছেলেটি তারই। তিনি ছেলেটি ছোট মহিলার পক্ষে রায় দিলেন। আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি ছুরি অর্থে سكين শব্দটি সে দিনই শুনেছি, পূর্বে তো আমরা একে مدية বলতাম।

২৮২০. চিহ্ন ধরে অনুসরণ।

باب الْقَائِفِ

6313

6770 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، قَالَتْ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيَّ مَسْرُورًا، تَبْرُقُ أَسَارِيرُ وَجْهِهِ، فَقَالَ: " أَلَمْ تَرَيْ أَنَّ مُجَزِّزًا نَظَرَ آنِفًا إِلَى زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ وَأُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، فَقَالَ: إِنَّ هَذِهِ الأَقْدَامَ بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৩১৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে এলেন এত প্রফুল্ল অবস্থায় যে, তার চেহারার চিহ্নগুলি চমকাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ তুমি কি দেখনি যে, মুজাযযিয (চিহ্ন ধরে বংশ উদঘাটনকারী) যায়দ ইবনে হারিসা এবং উসামা ইবনে যায়দের দিকে সন্ধানী দৃষ্টিতে তাকিয়েছে। এরপর সে বলেছে, এদের দু’জনের কদম একে অপর থেকে।

6314

6771 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ وَهُوَ مَسْرُورٌ، فَقَالَ: " يَا عَائِشَةُ، أَلَمْ تَرَيْ أَنَّ مُجَزِّزًا المُدْلِجِيَّ دَخَلَ عَلَيَّ فَرَأَى أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ وَزَيْدًا وَعَلَيْهِمَا قَطِيفَةٌ، قَدْ غَطَّيَا رُءُوسَهُمَا وَبَدَتْ أَقْدَامُهُمَا، فَقَالَ: إِنَّ هَذِهِ الأَقْدَامَ بَعْضُهَا مِنْ بَعْضٍ "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৬৩১৪। কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ......... আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে প্রফুল্ল অবস্থায় এলেন এবং বললেনঃ হে আয়েশা! (চিহ্ন ধরে বংশ উদঘাটনকারী) এসেছে, তা কি তুমি দেখনি? এসেই সে উসামা এবং যায়দ এর দিকে নযর করেছে। তারা উভয়ে চাদর পরিহিত অবস্থায় ছিল। তাদের মাথা ঢাকা ছিল। তবে তাদের পা গুলো দেখা যাচ্ছিল। তখন সে বলল, এদের পা গুলো একে অপর থেকে।