كتاب مواقيت الصلاة

৮- নামাযের ওয়াক্তের বিবরণ

Chapter 8 · 79 hadith

৩৫১। নামাযের ওয়াক্তসমূহঃ নামাযের সময় ও তার ফযীলত।
আল্লাহ তাআলার বাণীঃ নিশ্চয়ই নামায মু’মিনদের উপর নির্ধারিত ফরয। আয়াতে ব্যবহৃত মাওকুতান (مَوْقُوتًا) শব্দটি মুয়াক্কাতান (مُؤَقَّتاً) এর অর্থে ব্যবহৃত, অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ে ফরয — যা আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন।

كِتَابُ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ باب مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ وَفَضْلِهَا وَقَوْلِهِ: {إِنَّ الصَّلاَةَ كَانَتْ عَلَى المُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا} [النساء: 103] مُوَقَّتًا وَقَّتَهُ عَلَيْهِمْ "

497
521 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ: قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ العَزِيزِ أَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، فَأَخْبَرَهُ أَنَّ المُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلاَةَ يَوْمًا وَهُوَ بِالعِرَاقِ، فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيُّ، فَقَالَ: مَا هَذَا يَا مُغِيرَةُ أَلَيْسَ قَدْ [ص:111] عَلِمْتَ أَنَّ جِبْرِيلَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَزَلَ فَصَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى، فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: «بِهَذَا أُمِرْتُ» ، فَقَالَ عُمَرُ لِعُرْوَةَ: اعْلَمْ مَا تُحَدِّثُ، أَوَأَنَّ جِبْرِيلَ هُوَ أَقَامَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقْتَ الصَّلاَةِ؟ قَالَ عُرْوَةُ: كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ، عَنْ أَبِيهِ،

522 - قَالَ عُرْوَةُ: وَلَقَدْ حَدَّثَتْنِي عَائِشَةُ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي العَصْرَ، وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ»

Narrator: হযরত আবু মাসউদ বদরী আনসারী (রাঃ)

৪৯৭। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... ইবনে শিহাব (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) একদিন কোন এক নামায আদায়ে বিলম্ব করলেন। তখন উরওয়া ইবনে যুবাইর (রাযিঃ) তাঁর কাছে গেলেন এবং তাঁর কাছে বর্ণনা করলেন যে, ইরাকে অবস্থানকালে মুগীরা ইবনে শু’বা (রাযিঃ) একদিন এক নামায আদায়ে বিলম্ব করেছিলেন। ফলে আবু মাসউদ আনসারী (রাযিঃ) তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, হে মুগীরা! একি? তুমি কি অবগত নও যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করে নামায আদায় করলেন, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও নামায আদায় করলেন। আবার তিনি নামায আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও নামায আদায় করলেন। পুনরায় তিনি নামায আদায় করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও নামায আদায় করলেন। আবার তিনি নামায আদায় করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও নামায আদায় করলেন। পুনরায় তিনি নামায আদায় করলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও নামায আদায় করলেন। তারপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) বললেন, এরই জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি।*

উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) উরওয়া (রাহঃ)-কে বললেন, “তুমি যা রিওয়ায়াত করছ তা একটু ভেবে দেখ। জিবরাঈলই কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য নামায এর ওয়াক্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন?” উরওয়া (রাহঃ) বললেন, বশীর ইবনে আবু মাসউদ (রাহঃ) তার পিতা থেকে এরূপই বর্ণনা করতেন। উরওয়া (রাহঃ) বলেনঃ অবশ্য আয়িশা (রাযিঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন মুহূর্তে আসরের নামায আদায় করতেন যে, সূর্যরশ্মি তখনও তাঁর হুজরার মধ্যে বিরাজমান থাকত। তবে তা উপরের দিকে উঠে যাওয়ার আগেই।

*অর্থাৎ, যে সময়ে যে নামায আদায় করা হয়েছে, ঠিক সে সময়ে সেই নামায আদায় করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি।

৩৫২। আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আল্লাহর প্রতি নিবিষ্ট চিত্ত হয়ে এবং তোমরা তাঁকে ভয় কর আর নামায কায়িম কর, এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

بَابُ قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى: {مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلاَةَ وَلاَ تَكُونُوا مِنَ المُشْرِكِينَ} [الروم: 31]

498

523 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبَّادٌ هُوَ ابْنُ عَبَّادٍ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ القَيْسِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: إِنَّا مِنْ هَذَا الحَيِّ مِنْ رَبِيعَةَ وَلَسْنَا نَصِلُ إِلَيْكَ إِلَّا فِي الشَّهْرِ الحَرَامِ، فَمُرْنَا بِشَيْءٍ نَأْخُذْهُ عَنْكَ وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا، فَقَالَ: " آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ وَأَنْهَاكُمْ عَنْ أَرْبَعٍ الإِيمَانِ بِاللَّهِ، ثُمَّ فَسَّرَهَا لَهُمْ: شَهَادَةُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَأَنْ تُؤَدُّوا إِلَيَّ خُمُسَ مَا غَنِمْتُمْ، وَأَنْهَى عَنْ: الدُّبَّاءِ وَالحَنْتَمِ وَالمُقَيَّرِ وَالنَّقِيرِ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৪৯৮। কুতাইবা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আব্দুল কায়স গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরবারে এসে বলল, আপনার ও আমাদের মাঝে সে ‘রবীআ’ গোত্র থাকায় শাহরে হারাম (নিষিদ্ধ মাসসমূহ) ছাড়া অন্য কোন সময় আমরা আপনার নিকট আসতে পারি না। কাজেই আপনি আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন যা আমরা নিজেরাও গ্রহণ করব এবং আমাদের যারা পিছনে রয়ে গেছে তাদের প্রতিও আহবান জানাব।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের চারটি বিষয়ে নির্দেশ দিচ্ছি, আর চারটি বিষয় থেকে তোমাদের নিষেধ করছি। নির্দেশিত বিষয়ের মাঝে একটি হল ‘ঈমান বিল্লাহ্’ (আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা)। তারপর তিনি তাদেরকে ব্যাখ্যা করে বুঝালেন যে, ‘ঈমান বিল্লাহ’ অর্থ হল, এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, এক আল্লাহ্ ব্যতিত অন্য কোন ইলাহ্ নেই আর আমি আল্লাহর রাসূল, নামায কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, আর গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ দান করা। আর তোমাদের নিষেধ করছি কদুর পাত্র, সবুজ রংের মাটির পাত্র, বিশেষ ধরনের তৈলাক্ত পাত্র ও গাছের গুড়ি খোদাই করে তৈরী পাত্র ব্যবহার করতে।

৩৫৩। নামায কায়েমের বায়আত গ্রহণ।

باب الْبَيْعَةِ عَلَى إِقَامَةِ الصَّلاَةِ

499

524 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ المُثَنَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَيْسٌ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: «بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى إِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ»

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৪৯৯। মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) .... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নামায আদায়, যাকাত প্রদান এবং প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কল্যাণ কামনা করার বায়আত গ্রহণ করেছি।

৩৫৪। নামায হল (গুনাহের) কাফফারা।

باب الصَّلاَةُ كَفَّارَةٌ

500

525 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ الأَعْمَشِ، قَالَ: حَدَّثَنِي شَقِيقٌ، قَالَ: سَمِعْتُ حُذَيْفَةَ، قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فَقَالَ: أَيُّكُمْ يَحْفَظُ قَوْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الفِتْنَةِ، قُلْتُ أَنَا كَمَا قَالَهُ: قَالَ: إِنَّكَ عَلَيْهِ أَوْ عَلَيْهَا لَجَرِيءٌ، قُلْتُ: «فِتْنَةُ الرَّجُلِ فِي أَهْلِهِ وَمَالِهِ وَوَلَدِهِ وَجَارِهِ، تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ وَالصَّوْمُ وَالصَّدَقَةُ، وَالأَمْرُ وَالنَّهْيُ» ، قَالَ: لَيْسَ هَذَا أُرِيدُ، وَلَكِنِ الفِتْنَةُ الَّتِي تَمُوجُ كَمَا يَمُوجُ البَحْرُ، قَالَ: لَيْسَ عَلَيْكَ مِنْهَا بَأْسٌ يَا أَمِيرَ المُؤْمِنِينَ، إِنَّ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا بَابًا مُغْلَقًا، قَالَ: أَيُكْسَرُ أَمْ يُفْتَحُ؟ قَالَ: يُكْسَرُ، قَالَ: إِذًا لاَ يُغْلَقَ أَبَدًا، قُلْنَا: أَكَانَ عُمَرُ يَعْلَمُ البَابَ؟ قَالَ: نَعَمْ، كَمَا أَنَّ دُونَ الغَدِ اللَّيْلَةَ، إِنِّي حَدَّثْتُهُ بِحَدِيثٍ لَيْسَ بِالأَغَالِيطِ فَهِبْنَا أَنْ نَسْأَلَ حُذَيْفَةَ، فَأَمَرْنَا مَسْرُوقًا فَسَأَلَهُ، فَقَالَ: البَابُ عُمَرُ

Narrator: হযরত হুযায়ফা রাযি

৫০০। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা উমর (রাযিঃ) এর কাছে বসা ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ফিতনা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে স্মরণ রেখেছ? হুযাইফা (রাযিঃ) বললেন, যেমনি তিনি বলেছিলেন হুবহু তেমনিই আমি মনে রেখেছি। উমর (রাযিঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাণী স্মরণ রাখার ব্যাপারে তুমি খুব দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছ। আমি বললাম, (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন) মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফেতনায় পতিত হয় - নামায, রোযা, সাদ্‌কা, (ন্যায়ের) আদেশ ও (অন্যায়ের) নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়।
উমর (রাযিঃ) বললেন, তা আমার উদ্দেশ্যে নয়। বরং আমি সেই ফিতনার কথা বলছি, যা সমুদ্র তরং্গের ন্যায় ভয়াল হবে। হুযাইফা (রাযিঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোন কারণ নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিতনার মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। উমর (রাযিঃ) জিজ্ঞাসা করলেন, সে দরজাটি ভেঙ্গে ফেলা হবে, না খুলে দেওয়া হবে? হুযাইফা (রাযিঃ) বললেন, ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমর (রাযিঃ) বললেন, তাহলে তো আর কোন দিন তা বন্ধ করা যাবে না।
[হুযাইফা (রাযিঃ) এর ছাত্র শাকীক (রাহঃ) বললেন], আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, উমর (রাযিঃ) কি সে দরজাটি সম্পর্কে জানতেন? হুযাইফা (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ, দিনের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবে তিনি জানতেন। কেননা আমি তার কাছে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছি, যা মোটেও ভুল নয়। (দরজাটি কী) এ বিষয়ে হুযাইফা (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করতে আমরা ভয় পাছিলাম। তাই, আমরা মাসরূক (রাহঃ)-কে বললাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, দরজাটি উমর (রাযিঃ) নিজেই।
501

526 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ رَجُلًا أَصَابَ مِنَ امْرَأَةٍ قُبْلَةً، فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْبَرَهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: {أَقِمِ الصَّلاَةَ [ص:112] طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ، إِنَّ الحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ} [هود: 114] فَقَالَ الرَّجُلُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِي هَذَا؟ قَالَ: «لِجَمِيعِ أُمَّتِي كُلِّهِمْ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫০১। কুতাইবা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি জনৈক মহিলাকে চুম্বন করে বসে। পরে সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আছে এসে বিষয়টি তাঁর গোচরীভূত করে। তখন আল্লাহ তাআলা আয়াত নাযিল করেনঃ “দিনের দু’প্রান্তে-সকাল ও সন্ধ্যায় এবং রাতের প্রথম অংশে নামায কায়েম কর। নিশ্চয়ই ভাল কাজ পাপাচারকে মিটিয়ে দেয়”। লোকটি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! এ কি শুধু আমার বেলায়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার সকল উম্মতের জন্যই।

৩৫৫। যথাসময়ে নামায আদায়ের ফযীলত।

باب فَضْلِ الصَّلاَةِ لِوَقْتِهَا

502

527 - حَدَّثَنَا أَبُو الوَلِيدِ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ المَلِكِ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ الوَلِيدُ بْنُ العَيْزَارِ: أَخْبَرَنِي قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ، يَقُولُ: حَدَّثَنَا صَاحِبُ - هَذِهِ الدَّارِ وَأَشَارَ إِلَى دَارِ - عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّ العَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: «الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا» ، قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: «ثُمَّ بِرُّ الوَالِدَيْنِ» قَالَ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» قَالَ: حَدَّثَنِي بِهِنَّ، وَلَوِ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)

৫০২। আবুল ওয়ালীদ হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক (রাহঃ) .... আবু আমর শায়বানী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর বাড়ীর দিকে ইশারা করে বলেন, এ বাড়ীর মালিক আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন্ আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, যথাসময়ে নামায আদায় করা। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এরপর জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ্ (আল্লাহর পথে জিহাদ)। ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন, এগুলো তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেনই, যদি আমি আরও বেশী জানতে চাইতাম, তাহলে তিনি আরও বলতেন।

৩৫৬। পাঁচ ওয়াক্তের নামায (গুনাহসমূহের) কাফফারা।

باب الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ كَفَّارَةٌ

503

528 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي حَازِمٍ، وَالدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ يَزِيدَ يَعْنِي ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسًا، مَا تَقُولُ: ذَلِكَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ " قَالُوا: لاَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ شَيْئًا، قَالَ: «فَذَلِكَ مِثْلُ الصَّلَوَاتِ الخَمْسِ، يَمْحُو اللَّهُ بِهِ الخَطَايَا»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫০৩। ইবরাহীম ইবনে হামযা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, “বলত যদি তোমাদের কারো বাড়ীর সামনে একটি নদী থাকে, আর সে তাতে প্রত্যহ পাঁচবার গোসল করে, তাহলে কি তার দেহে কোন ময়লা থাকবে?” তারা বললেন, তার দেহে কোনরূপ ময়লা বাকী থাকবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ হল পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের উদাহরণ। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা (বান্দার) গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেন।

৩৫৭। নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে নামায আদায় করে তার হক নষ্ট করা।

باب تَضْيِيعِ الصَّلاَةِ عَنْ وَقْتِهَا

504

529 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ، عَنْ غَيْلاَنَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: " مَا أَعْرِفُ شَيْئًا مِمَّا كَانَ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قِيلَ: الصَّلاَةُ؟ قَالَ: أَلَيْسَ ضَيَّعْتُمْ مَا ضَيَّعْتُمْ فِيهَا "

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫০৪। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আজকাল কোন জিনিসই সে অবস্থায় পাই না, যেমন নবী (ﷺ) এর যুগে ছিল। প্রশ্ন করা হল, নামাযও কি? তিনি বললেন, সে ক্ষেত্রেও যা হক নষ্ট করার তা-কি তোমরা করনি?*

*অর্থাৎ, মুস্তাহাব ওয়াক্তে নামায আদায় না করে দেরী করে আদায় করা, কিংবা যথাসময়ে আদায় না করে সময় চলে যাওয়ার পর আদায় করা। মুহাল্লাব (রাহঃ) এর মতে, এখানে মুস্তাহাব সময় থেকে বিলম্ব করে আদায় করার কথা বুঝানো হয়েছে। কেননা, সে সময়কার গভর্নর হাজ্জাজ ইবন ইউসুফ ও বাদশাহ ওয়ালীদ ইবনে আব্দুল মালিক দেরী করে নামায আদায় করতেন। মূলতঃ আনাস (রাযিঃ) সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।--আইনী।
505

530 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ بْنُ وَاصِلٍ أَبُو عُبَيْدَةَ الحَدَّادُ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، أَخِي عَبْدِ العَزِيزِ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، قَالَ: سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ، يَقُولُ: دَخَلْتُ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ بِدِمَشْقَ وَهُوَ يَبْكِي، فَقُلْتُ: مَا يُبْكِيكَ؟ فَقَالَ: «لاَ أَعْرِفُ شَيْئًا مِمَّا أَدْرَكْتُ إِلَّا هَذِهِ الصَّلاَةَ وَهَذِهِ الصَّلاَةُ قَدْ ضُيِّعَتْ» وَقَالَ بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ البُرْسَانِيُّ، أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي رَوَّادٍ نَحْوَهُ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫০৫। আমর্ ইবনে যুরারা (রাহঃ) .... যুহরী (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দামেশকে আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে যা কিছু পেয়েছি তার মধ্যে কেবলমাত্র নামায ছাড়া আর কিছুই বহাল নেই। কিন্তু নামাযকেও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

বকর (রাহঃ) বলেন, আমার কাছে মুহাম্মাদ ইবনে বকর বুরসানী (রাহঃ) উসমান ইবনে আবু রাওওয়াদ (রাহঃ) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩৫৮। মুসল্লী নামাযে তার মহান প্রতিপালকের সাথে গোপনে কথা বলে।

باب الْمُصَلِّي يُنَاجِي رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ

506

531 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى يُنَاجِي رَبَّهُ، فَلاَ يَتْفِلَنَّ عَنْ يَمِينِهِ، وَلَكِنْ تَحْتَ قَدَمِهِ اليُسْرَى» وَقَالَ سَعِيدٌ: عَنْ قَتَادَةَ، «لاَ يَتْفِلُ قُدَّامَهُ أَوْ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمَيْهِ» وَقَالَ شُعْبَةُ: «لاَ يَبْزُقُ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ» وَقَالَ حُمَيْدٌ: عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ يَبْزُقْ فِي القِبْلَةِ، وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ، وَلَكِنْ عَنْ يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫০৬। মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সঙ্গে গোপনে কথা বলে। কাজেই, সে যেন ডানদিকে থুথু না ফেলে, তবে (প্রয়োজনে) বাম পায়ের নীচে ফেলতে পারে।
তবে সাঈদ (রাহঃ) কাতাদা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন, সে যেন সামনের দিকে থুথু না ফেলে, কিন্তু বামদিকে অথবা পায়ের নীচে ফেলতে পারে। আর শু’বা (রাহঃ) বলেন, সে যেন কিবলার দিকে অথবা ডান দিকে থুথু না ফেলে, কিন্তু বামদিকে অথবা পায়ের তলায় ফেলতে পারে।
আর হুমাইদ (রাহঃ) আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, সে যেন কিবলার দিকে বা ডানদিকে থুথু না ফেলে, কিন্ত বামদিকে অথবা পায়ের নীচে ফেলতে পারে।
507

532 - حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ [ص:113] صلّى الله عليه وسلم قَالَ: «اعْتَدِلُوا فِي السُّجُودِ، وَلاَ يَبْسُطْ ذِرَاعَيْهِ كَالكَلْبِ، وَإِذَا بَزَقَ فَلاَ يَبْزُقَنَّ بَيْنَ يَدَيْهِ، وَلاَ عَنْ يَمِينِهِ، فَإِنَّهُ يُنَاجِي رَبَّهُ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫০৭। হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সিজদায় মধ্যপন্থা* অবলম্বন কর। তোমাদের কেউ যেন তার বাহুদ্বয় কুকুরের মত বিছিয়ে না দেয় । আর যদি থুথু ফেলতে হয়, তাহলে সে যেন সামনে ও ডানে না ফেলে। কেননা, সে তখন তার প্রতিপালকের সঙ্গে গোপন কথায় মশগুল থাকে।

*সিজদায় মধ্যপন্থা অবলম্বন দ্বারা সিজদার সময় উভয় হাত মাটিতে স্থাপন করে কনুইকে ভূমি, পাঁজর, পেট ও উরু থেকে সম্পূর্ণ পৃথক করে রাখার কথা বলা হয়েছে।---আইনী।

৩৫৯। প্রচণ্ড গরমের সময় যোহরের নামায ঠাণ্ডায় আদায় করা।

باب الإِبْرَادِ بِالظُّهْرِ فِي شِدَّةِ الْحَرِّ

508

533 - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلاَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ، قَالَ: صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، حَدَّثَنَا الأَعْرَجُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَغَيْرُهُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَنَافِعٌ مَوْلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ: أَنَّهُمَا حَدَّثَاهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: «إِذَا اشْتَدَّ الحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ، فَإِنَّ شِدَّةَ الحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫০৮। আইয়ুব ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন গরমের প্রচণ্ডতা বৃদ্ধি পায়, তখন গরম কমলে নামায আদায় করবে। কেননা, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের অংশ।

509

535 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ المُهَاجِرِ أَبِي الحَسَنِ، سَمِعَ زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ: أَذَّنَ مُؤَذِّنُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الظُّهْرَ، فَقَالَ: «أَبْرِدْ أَبْرِدْ» أَوْ قَالَ: «انْتَظِرِ انْتَظِرْ» وَقَالَ: «شِدَّةُ الحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ، فَإِذَا اشْتَدَّ الحَرُّ فَأَبْرِدُوا عَنِ الصَّلاَةِ» حَتَّى رَأَيْنَا فَيْءَ التُّلُولِ

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৫০৯। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... আবু যর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুআযযীন আযান দিলে তিনি বললেনঃ ঠাণ্ডা হতে দাও, ঠাণ্ডা হতে দাও। অথবা তিনি বললেন, অপেক্ষা কর, অপেক্ষা কর। তিনি আরও বলেন, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের নিঃশ্বাসের ফলেই সৃষ্টি হয়। কাজেই গরম যখন বেড়ে যায় তখন গরম কমলেই নামায আদায় করবে। এমনকি (বিলম্ব করতে করতে বেলা এতটুকু গড়িয়ে গিয়েছিল যে) আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম।

510

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَفِظْنَاهُ مِنَ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ، فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ". " وَاشْتَكَتِ النَّارُ إِلَى رَبِّهَا فَقَالَتْ يَا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا. فَأَذِنَ لَهَا بِنَفَسَيْنِ نَفَسٍ فِي الشِّتَاءِ، وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ، فَهُوَ أَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِّ، وَأَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الزَّمْهَرِيرِ ".

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫১০। আলী ইবনে আব্দুল্লাহ মাদীনী (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন গরম বৃদ্ধি পায় তখন তোমরা তা কমে এলে (যোহরের) নামায আদায় করো। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপের অংশ। (তারপর তিনি বলেন), জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে এ বলে নালিশ করেছিল, হে আমার প্রতিপালক! (দহনের প্রচণ্ডতায়) আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলেছে। ফলে আল্লাহ্ তাআলা তাকে দু’টি শ্বাস ফেলার অনুমতি দিলেন, একটি শীতকালে আর একটি গ্রীষ্মকালে। আর সে দু’টি হল, তোমরা গ্রীষ্মকালে যে প্রচণ্ড উত্তাপ এবং শীতকালে যে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা অনুভব কর তাই।

511

538 - حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَبْرِدُوا بِالظُّهْرِ، فَإِنَّ شِدَّةَ الحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ» تَابَعَهُ سُفْيَانُ، وَيَحْيَى، وَأَبُو عَوَانَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫১১। উমর ইবনে হাফস (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যোহরের নামায গরম কমলে আদায় কর। কেননা, গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে।
সুফিয়ান, ইয়াহয়া এবং আবু আওয়ানা (রাহঃ) আ’মাশ (রাহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩৬০। সফরকালে গরম কমে গেলে যোহরের নামায আদায়।

باب الإِبْرَادِ بِالظُّهْرِ فِي السَّفَرِ

512

539 - حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُهَاجِرٌ أَبُو الحَسَنِ مَوْلَى لِبَنِي تَيْمِ اللَّهِ، قَالَ: سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ الغِفَارِيِّ، قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَأَرَادَ المُؤَذِّنُ أَنْ يُؤَذِّنَ لِلظُّهْرِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَبْرِدْ» ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُؤَذِّنَ، فَقَالَ لَهُ: «أَبْرِدْ» حَتَّى رَأَيْنَا فَيْءَ التُّلُولِ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ شِدَّةَ الحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ، فَإِذَا اشْتَدَّ الحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ» وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: « (تَتَفَيَّأُ) تَتَمَيَّلُ»

Narrator: হযরত আবু যার গিফারী (রাঃ)

৫১২। আদম ইবনে আবু ইয়াস (রাহঃ) ......... আবু যর গিফারী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় মুআযযীন যোহরের আযান দিতে চেয়েছিল। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ গরম কমতে দাও। কিছুক্ষণ পর আবার মুআযযীন আযান দিতে চাইলে নবী ﷺ (পুনরায়) বললেনঃ গরম কমতে দাও। এভাবে তিনি (নামায আদায়ে) এত বিলম্ব করলেন যে, আমারা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম। তারপর নবী (ﷺ) বললেনঃ গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ থেকে। কাজেই গরম প্রচন্ড হলে উত্তাপ কমার পর নামায আদায় করো।
ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, হাদীসে تَتَفَيَّأ শব্দটি تَتَمَيَّلُ ঝুঁকে পড়া, গড়িয়ে পড়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
৩৬১। যোহরের ওয়াক্ত হয় সূর্য ঢলে পড়লে।
জাবির (রাযিঃ) বলেন, দুপুরে নবী (ﷺ) নামায আদায় করতেন।

بَابٌ: وَقْتُ الظُّهْرِ عِنْدَ الزَّوَالِ وَقَالَ جَابِرٌ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي بِالهَاجِرَةِ»

513

540 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ، فَصَلَّى الظُّهْرَ، فَقَامَ عَلَى المِنْبَرِ، فَذَكَرَ السَّاعَةَ، فَذَكَرَ أَنَّ فِيهَا أُمُورًا عِظَامًا، ثُمَّ قَالَ: «مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَسْأَلَ عَنْ شَيْءٍ فَلْيَسْأَلْ، فَلاَ تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَّا أَخْبَرْتُكُمْ، مَا دُمْتُ فِي مَقَامِي هَذَا» فَأَكْثَرَ النَّاسُ [ص:114] فِي البُكَاءِ، وَأَكْثَرَ أَنْ يَقُولَ: «سَلُونِي» ، فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُذَافَةَ السَّهْمِيُّ، فَقَالَ: مَنْ أَبِي؟ قَالَ: «أَبُوكَ حُذَافَةُ» ثُمَّ أَكْثَرَ أَنْ يَقُولَ: «سَلُونِي» فَبَرَكَ عُمَرُ عَلَى رُكْبَتَيْهِ، فَقَالَ: رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا، وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا، فَسَكَتَ، ثُمَّ قَالَ: «عُرِضَتْ عَلَيَّ الجَنَّةُ وَالنَّارُ آنِفًا فِي عُرْضِ هَذَا الحَائِطِ، فَلَمْ أَرَ كَالخَيْرِ وَالشَّرِّ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫১৩। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন সূর্য ঢলে পড়লে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেরিয়ে এলেন এবং যোহরের নামায আদায় করলেন।** তারপর মিম্বরে দাঁড়িয়ে কিয়ামত সম্বন্ধে আলোচনা করেন এবং বলেন যে, কিয়ামতে বহু ভয়ানক ঘটনা ঘটবে। এরপর তিনি বলেন, আমাকে কেউ কোন বিষয়ে প্রশ্ন করতে চাইলে করতে পারে। আমি যতক্ষণ এ বৈঠকে আছি, এর মধ্যে তোমরা আমাকে যা কিছু জিজ্ঞাসা করবে আমি তা জানিয়ে দিব। এ শুনে লোকেরা খুব কাঁদতে শুরু করল। আর তিনি বলতে থাকলেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর, আমাকে প্রশ্ন কর।
এ সময় আব্দুল্লাহ্ ইবনে হুযাফা সাহমী (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার পিতা কে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমার পিতা ‘হুযাফা’। এরপর তিনি অনেকবার বললেনঃ আমাকে প্রশ্ন কর। তখন উমর (রাযিঃ) নতজানু হয়ে বসে বললেন, “আমরা আল্লাহকে প্রতিপালক হিসাবে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) কে নবী হিসাবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট। এরপর নবী (ﷺ) নীরব থাকলেন। কিছুক্ষণ পর বললেনঃ এক্ষুনি এ দেওয়ালের পাশে জান্নাত ও জাহান্নাম আমার সামনে তুলে ধরা হয়েছিল; এত উত্তম ও এত নিকৃষ্টের মত কিছু আমি আর দেখিনি।

৩৬১। যোহরের ওয়াক্ত হয় সূর্য ঢলে পড়লে।

باب وَقْتِ الظُّهْرِ عِنْدَ الزَّوَالِ

514

541 - حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا أَبُو المِنْهَالِ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ، " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الصُّبْحَ وَأَحَدُنَا يَعْرِفُ جَلِيسَهُ، وَيَقْرَأُ فِيهَا مَا بَيْنَ السِّتِّينَ إِلَى المِائَةِ، وَيُصَلِّي الظُّهْرَ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ، وَالعَصْرَ وَأَحَدُنَا يَذْهَبُ إِلَى أَقْصَى المَدِينَةِ، رَجَعَ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ - وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي المَغْرِبِ - وَلاَ يُبَالِي بِتَأْخِيرِ العِشَاءِ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ، ثُمَّ قَالَ: إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ " وَقَالَ مُعَاذٌ: قَالَ شُعْبَةُ: لَقِيتُهُ مَرَّةً، فَقَالَ: «أَوْ ثُلُثِ اللَّيْلِ»

Narrator: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৫১৪। হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... আবু বারযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এমন সময় ফজরের নামায আদায় করতেন, যখন আমাদের একজন তার পার্শ্ববর্তী আপরজনকে চিনতে পারত। আর এ নামাযে তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং যোহরের নামায আদায় করতেন যখন সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ত। তিনি আসরের নামায আদায় করতেন এমন সময়ে যে, আমাদের কেউ মদীনার শেষ প্রান্তে পৌছে আবার ফিরে আসতে পারত, তখনও সূর্য সতেজ থাকত। রাবী বলেন, মাগরিব সম্পর্কে তিনি [আবু বারযা (রাযিঃ)] কী বলেছিলেন, আমি তা ভুলে গেছি। আর ইশার নামায রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে তিনি কোনরূপ দ্বিধাবোধ করতেন না। তারপর রাবী বলেন, রাতের অর্ধাংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতে অসুবিধা বোধ করতেন না। আর মু’আয (রাহঃ) বর্ণনা করেন যে, শু’বা (রাহঃ) বলেছেন, পরে আবুল মিনহালের (রাহঃ) সঙ্গে সাক্ষাত হয়েছিল, সে সময় তিনি বলেছেন, রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করতে অসুবিধাবোধ করতেন না।

515

542 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ يَعْنِي ابْنَ مُقَاتِلٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنِي غَالِبٌ القَطَّانُ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ المُزَنِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالظَّهَائِرِ، فَسَجَدْنَا عَلَى ثِيَابِنَا اتِّقَاءَ الحَرِّ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫১৫। মুহাম্মাদ ইবনে মুকাতিল (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পিছনে গরমের সময় নামায আদায় করতাম, তখন উত্তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কাপড়ের উপর সিজদা করতাম।

৩৬২। যোহরের নামায আসরের ওয়াক্তের আগ পর্যন্ত বিলম্ব করা।

باب تَأْخِيرِ الظُّهْرِ إِلَى الْعَصْرِ

516

543 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ زَيْدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: " أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِالْمَدِينَةِ سَبْعًا وَثَمَانِيًا: الظُّهْرَ وَالعَصْرَ وَالمَغْرِبَ وَالعِشَاءَ "، فَقَالَ أَيُّوبُ: لَعَلَّهُ فِي لَيْلَةٍ مَطِيرَةٍ، قَالَ: عَسَى

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫১৬। আবু নু’মান (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনা
শরীফে অবস্থানকালে (একবার) যোহর ও আসরের আট রাক'আত এবং মাগরিব ও ইশার সাত রাক'আত একত্রে মিলিয়ে আদায় করেন।*
আইয়ুব (রাহঃ) বলেন, সম্ভবত এটা বৃষ্টির রাতে হয়েছিল। জাবির (রাহঃ) বললেন, সম্ভবত তাই।

*ইমাম তিরমিযী (র.) বলেন, বাড়ীতে অবস্থানকালে কোন প্রকার ভয় বা বৃষ্টি না থাকলে এরূপ করা যাবে না। এতে কারো দ্বিমত নেই। তবে ওযর থাকলে, কিংবা সফরের অবস্থায় এরূপ মিলিয়ে পড়া যাবে বলে ইমাম শাফিঈ, আমদ ও মালিক (র.) মনে করেন । ইমাম আবূ হানীফা (র.)-এর মতে পৃথক পৃথক নিয়্যাতের মাধ্যমে প্রান্তিক সময়ে দু'টি সালাত আদায় করা যেতে পারে। তবে দু'টোই পৃথক পৃথকভাবে আদায় করতে হবে। এক নিয়্যাতে একত্রে আদায় করা জায়িয নয়।

৩৬৩। আসরের ওয়াক্ত

باب وَقْتِ الْعَصْرِ

517

544 - حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ المُنْذِرِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي العَصْرَ، وَالشَّمْسُ لَمْ تَخْرُجْ مِنْ حُجْرَتِهَا» وَقَالَ أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ: «مِنْ قَعْرِ حُجْرَتِهَا»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫১৭। ইবরাহীম ইবনে মুনযির (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন সময় আসরের নামায আদায় করতেন যে, তখনো সূর্যরশ্মি ঘরের বাইরে যায়নি।

518

545 - حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى العَصْرَ، وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا لَمْ يَظْهَرِ الفَيْءُ مِنْ حُجْرَتِهَا»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫১৮। কুতাইবা (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমন সময় আসরের নামায আদায় করেছেন যে, সূর্যরশ্মি তখনো তাঁর ঘরের মধ্যে ছিল, আর ছায়া তখনো তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েনি।

519

546 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «يُصَلِّي صَلاَةَ العَصْرِ وَالشَّمْسُ طَالِعَةٌ فِي حُجْرَتِي لَمْ يَظْهَرِ الفَيْءُ بَعْدُ» ، وَقَالَ مَالِكٌ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، وَشُعَيْبٌ، وَابْنُ أَبِي حَفْصَةَ: «وَالشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫১৯। আবু নু’আইম (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আসরের নামায আদায় করতেন, আর সূর্যকিরণ তখনো আমার ঘরে থাকত। নামায আদায় করার পরও পশ্চিমের ছায়া ঘরে দৃষ্টিগোচর হত না।
আবু আব্দুল্লাহ [ইমাম বুখারী (রাহঃ)] বলেন, ইমাম মালিক, ইয়াহয়া ইবনে সাঈদ, শুআইব ও ইবনে আবু হাফস্ (রাহঃ) উক্ত সনদে এ হাদীসটির বর্ণনায় ’সূর্যরশ্মি আমার ঘরের ভিতরে থাকত, ঘরের মেঝেতে ছায়া নেমে আসেনি’ এরূপ বলেছেন।
520

547 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَوْفٌ، عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلاَمَةَ، قَالَ: دَخَلْتُ أَنَا وَأَبِي عَلَى أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ، فَقَالَ لَهُ أَبِي: كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي المَكْتُوبَةَ؟ فَقَالَ: «كَانَ يُصَلِّي الهَجِيرَ، الَّتِي تَدْعُونَهَا الأُولَى، حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي العَصْرَ، ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى المَدِينَةِ [ص:115]، وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ - وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي المَغْرِبِ - وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ العِشَاءَ، الَّتِي تَدْعُونَهَا العَتَمَةَ، وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا، وَالحَدِيثَ بَعْدَهَا، وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلاَةِ الغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ، وَيَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى المِائَةِ»

Narrator: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৫২০। মুহাম্মাদ ইবনে মুকাতিল (রাহঃ) .... সায়্যার ইবনে সালামা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি ও আমার পিতা আবু বারযা আসলামী (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরয নামাযসমূহ কিভাবে আদায় করতেন? তিনি বললেন, আল-হাজীর, যাকে তোমরা আল-উলা বা যোহর বলে থাক, তা তিনি আদায় করতেন যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ত। আর আসরের নামায এমন সময় আদায় করতেন যে, তারপর আমাদের কেউ মদীনার শেষ প্রান্তে তার ঘরে ফিরে যেতো সূর্য তখনও সতেজ থাকতো। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কি বলেছিলেন তা আমি ভুলে গেছি। আর ইশার নামায যাকে তোমরা আতামা বলে থাক, তা তিনি বিলম্বে আদায় করা পছন্দ করতেন। আর তিনি ইশার নামাযের আগে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। তিনি ফজরের নামায এমন সময় সমাপ্ত করতেন যখন প্রত্যেকে তার পাশ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারত। এ নামাযে তিনি ষাট থেকে একশ’ আয়াত তিলাওয়াত করতেন।

521

548 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «كُنَّا نُصَلِّي العَصْرَ، ثُمَّ يَخْرُجُ الإِنْسَانُ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ، فَنَجِدُهُمْ يُصَلُّونَ العَصْرَ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫২১। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে আসরের নামায আদায় করতাম। নামাযের পর লোকেরা আমর ইবনে আওফ গোত্রের মহল্লায় গিয়ে তাদেরকে নামায আদায় করা অবস্থায় পেত।*

*বনু আমর মদীনা শরীফ থেকে দু'মাইল দূরে কুবা নামক স্থানে বসবাসরত ছিল। এ হাদীস থেকে বুঝা যায় মসজিদে নববীতে আসরের নামায একটু আগে আদায় করা হত। আর অপরাপর মসজিদে একটু বিলম্বে আদায় করা হত। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) সাধারণ মানুষের প্রতি লক্ষ্য রেখে অন্যান্য বিশুদ্ধ হাদীসের আলোকে দেরীতে আসর পড়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে অবশ্যই তা সূর্যকিরণ নিস্প্রভ হওয়ার আগে হতে হবে।
522

549 - حَدَّثَنَا ابْنُ مُقَاتِلٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ بْنَ سَهْلٍ، يَقُولُ: صَلَّيْنَا مَعَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ العَزِيزِ الظُّهْرَ، ثُمَّ خَرَجْنَا حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَوَجَدْنَاهُ يُصَلِّي العَصْرَ، فَقُلْتُ: يَا عَمِّ مَا هَذِهِ الصَّلاَةُ الَّتِي صَلَّيْتَ؟ قَالَ: «العَصْرُ، وَهَذِهِ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّتِي كُنَّا نُصَلِّي مَعَهُ»

Narrator: আবু উমামা বাহিলী রাযি.

৫২২। মুহাম্মাদ ইবনে মুকাতিল (রাহঃ) ..... আবু উমামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ)-এর সঙ্গে যোহরের নামায আদায় করলাম। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। আমরা গিয়ে তাঁকে আসরের নামায আদায়ে রত পেলাম। আমি তাঁকে বললাম চাচা! এ কোন নামায যা আপনি আদায় করলেন? তিনি বললেন, আসরের নামায আর এ হল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নামায, যা আমরা তাঁর সাথে আদায় করতাম।

523

551 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «كُنَّا نُصَلِّي العَصْرَ، ثُمَّ يَذْهَبُ الذَّاهِبُ مِنَّا إِلَى قُبَاءٍ، فَيَأْتِيهِمْ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫২৩। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আসরের নামায আদায় করতাম, তারপর আমাদের কোন গমনকারী কুবার দিকে যেত এবং সূর্য যথেষ্ট উপরে থাকতেই সে তাদের কাছে পৌঁছে যেত।

524

550 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي العَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ، فَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى العَوَالِي، فَيَأْتِيهِمْ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ» وَبَعْضُ العَوَالِي مِنَ المَدِينَةِ عَلَى أَرْبَعَةِ أَمْيَالٍ أَوْ نَحْوِهِ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫২৪। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের নামায আদায় করতেন, আর সূর্য তখনও যথেষ্ট উপরে উজ্জ্বল অবস্থায় বিরাজমান থাকত। নামাযের পর কোন গমনকারী 'আওয়ালী'*র দিকে রওয়ানা হয়ে তাদের কাছে পৌঁছে যেত, আর তখনও সূর্য উপরে থাকত। আওয়ালীর কোন কোন অংশ ছিল মদীনা থেকে চার মাইল বা তার কাছাকাছি দূরত্বে।

*আওয়ালী বা উঁচু এলাকা। মদীনার উপকন্ঠে নজদের দিকের গ্রামগুলোকে 'আওয়ালী' বা উঁচু এলাকা ধরা হত। আর তিহামার দিকের গ্রামগুলোকে 'সাফিলা' (سافلة) বা নিম্নএলাকা বলা হত।

৩৬৫। যে ব্যক্তির আসরের নামায ফউত হল তার গুনাহ।

باب إِثْمِ مَنْ فَاتَتْهُ الْعَصْرُ

525

552 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ العَصْرِ، كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: {يَتِرَكُمْ} [محمد: 35] «وَتَرْتُ الرَّجُلَ إِذَا قَتَلْتَ لَهُ قَتِيلًا أَوْ أَخَذْتَ لَهُ مَالًا»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫২৫। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তির আসরের নামায ছুটে যায়, তাহলে যেন তার পরিবার-পরিজন ও মাল-সম্পদ সব কিছুই ধ্বংস হয়ে গেল।
আবু আব্দুল্লাহ বুখারী রাহঃ বলেন, (আরবী পরিভাষায়) وترت الرجل বাক্যটি ব্যবহার করা হয় যখন কেউ কাউকে হত্যা করে অথবা মাল-সম্পদ ছিনিয়ে নেয়।

৩৬৬। যে ব্যক্তি আসরের নামায ছেড়ে দিল তার গুনাহ

باب مَنْ تَرَكَ الْعَصْرَ

526

553 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي المَلِيحِ، قَالَ: كُنَّا مَعَ بُرَيْدَةَ فِي غَزْوَةٍ فِي يَوْمٍ ذِي غَيْمٍ، فَقَالَ: بَكِّرُوا بِصَلاَةِ العَصْرِ، فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ صَلاَةَ العَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ»

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৫২৬। মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... আবু মালীহ্ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক যুদ্ধে আমরা বুরাইদা (রাযিঃ) এর সঙ্গে ছিলাম। দিনটি ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তাই বুরাইদা (রাযিঃ) বলেন, শীঘ্র আসরের নামায আদায় করে নাও। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের নামায ছেড়ে দেয় তার আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।*
*আসরের নামায ছেড়ে দেওয়ার কারণে আমল বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার কথাটি সম্ভবত রাসূল (ﷺ) আসরের নামাযের প্রতি গুরুত্বারোপ করার জন্য বলেছেন। কেননা, এ সময় ব্যবসায়ীরা কেনা-কাটার ও কৃষকরা তাড়াতাড়ি কাজ সেরে বাড়ি ফেরার চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। আসরের নামায ছেড়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে বিরাট গুনাহ; কিন্তু একটি গুনাহের জন্য অন্যসব নেক আমল বিনষ্ট হয় না।

৩৬৭। আসরের নামাযের ফযীলত

باب فَضْلِ صَلاَةِ الْعَصْرِ

527

554 - حَدَّثَنَا الحُمَيْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ قَيْسٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنَظَرَ إِلَى القَمَرِ لَيْلَةً - يَعْنِي البَدْرَ - فَقَالَ: «إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ، كَمَا تَرَوْنَ هَذَا القَمَرَ، لاَ تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ، فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا» ثُمَّ قَرَأَ: {وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الغُرُوبِ} [ق: 39] ، قَالَ إِسْمَاعِيلُ: «افْعَلُوا لاَ تَفُوتَنَّكُمْ»

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৫২৭। হুমাইদী (রাহঃ) ......... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি রাতে (পূর্ণিমার) চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ ঐ চাঁদকে তোমরা যেমন দেখছ, ঠিক তেমনি অচিরেই তোমাদের প্রতিপালককে তোমরা দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা কোন ভীড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই সূর্য উদয়ের এবং অস্ত যাওয়ার আগের নামায (শয়তানের প্রভাবমুক্ত হয়ে) আদায় করতে পারলে তোমরা তাই করবে। তারপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত পাঠ করলেন, “কাজেই তোমার প্রতিপালকের প্রশংসায় তাসবীহ্ পাঠ কর সূর্য উদয়ের আগে ও অস্ত যাওয়ার আগে।” (৫০ : ৩৯)
ইসমাঈল (রাহঃ) বলেন, এর অর্থ হলঃ এমনভাবে আদায় করার চেষ্টা করবে যেন কখনো ছুটে না যায়।
528

555 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يَتَعَاقَبُونَ [ص:116] فِيكُمْ مَلاَئِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلاَئِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلاَةِ الفَجْرِ وَصَلاَةِ العَصْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ، فَيَسْأَلُهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ: كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي؟ فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫২৮। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ফিরিশতাগণ পালা বদল করে তোমাদের মাঝে আগমন করেন; একদল দিনে, একদল রাতে। আসর ও ফজরের নামাযে উভয় দল একত্র হন। তারপর তোমাদের মাঝে রাত যাপনকারী দলটি উঠে যান। তখন তাদের প্রতিপালক তাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দাদের কোন্ অবস্থায় রেখে এলে? অবশ্য তিনি নিজেই তাদের ব্যাপারে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত। উত্তরে তাঁরা বলেনঃ আমরা তাদের নামাযে রেখে এসেছি, আর আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা নামাযরত ছিলেন।

৩৬৮। সূর্যাস্তের পূর্বে যে ব্যক্তি আসরের এক রাকআত পায়।

باب مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ الْغُرُوبِ

529

556 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا أَدْرَكَ أَحَدُكُمْ سَجْدَةً مِنْ صَلاَةِ العَصْرِ، قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ، فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ، وَإِذَا أَدْرَكَ سَجْدَةً مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ، قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ، فَلْيُتِمَّ صَلاَتَهُ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫২৯। আবু নুআইম (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে আসরের নামাযের এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন নামায পূর্ণ করে নেয়। আর যদি সূর্য উদিত হওয়ার আগে ফজরের নামাযের এক সিজদা পায়, তাহলে সে যেন নামায পূর্ণ করে নেয়।*
*হাদীসে উল্লিখিত সিজদা শব্দটি রাকআতের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। হানাফী মতাবলম্বীগণের নিকট এরূপ সময়ে আসরের নামায পূর্ণ করে নিতে হবে বটে, তবে ফজরের সময় এমন অবস্থা দেখা দিলে সূর্য উঠার পর তা কাযা করতে হয়।
530

557 - حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأُوَيْسِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: " إِنَّمَا بَقَاؤُكُمْ فِيمَا سَلَفَ قَبْلَكُمْ مِنَ الأُمَمِ كَمَا بَيْنَ صَلاَةِ العَصْرِ إِلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ، أُوتِيَ أَهْلُ التَّوْرَاةِ التَّوْرَاةَ، فَعَمِلُوا حَتَّى إِذَا انْتَصَفَ النَّهَارُ عَجَزُوا، فَأُعْطُوا قِيرَاطًا قِيرَاطًا، ثُمَّ أُوتِيَ أَهْلُ الإِنْجِيلِ الإِنْجِيلَ، فَعَمِلُوا إِلَى صَلاَةِ العَصْرِ، ثُمَّ عَجَزُوا، فَأُعْطُوا قِيرَاطًا قِيرَاطًا، ثُمَّ أُوتِينَا القُرْآنَ، فَعَمِلْنَا إِلَى غُرُوبِ الشَّمْسِ، فَأُعْطِينَا قِيرَاطَيْنِ قِيرَاطَيْنِ، فَقَالَ: أَهْلُ الكِتَابَيْنِ: أَيْ رَبَّنَا، أَعْطَيْتَ هَؤُلاَءِ قِيرَاطَيْنِ قِيرَاطَيْنِ، وَأَعْطَيْتَنَا قِيرَاطًا قِيرَاطًا، وَنَحْنُ كُنَّا أَكْثَرَ عَمَلًا؟ قَالَ: قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: هَلْ ظَلَمْتُكُمْ مِنْ أَجْرِكُمْ مِنْ شَيْءٍ؟ قَالُوا: لاَ، قَالَ: فَهُوَ فَضْلِي أُوتِيهِ مَنْ أَشَاءُ "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩০। আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) .... সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন যে, পূর্বেকার উম্মতের স্থায়িত্বের তুলনায় তোমাদের স্থায়িত্ব হল আসর থেকে নিয়ে সূর্য অস্ত যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের অনুরূপ। তাওরাত অনুসারীদেরকে তাওরাত দেওয়া হয়েছিল। তারা তদনুসারে কাজ করতে লাগল; যখন দুপুর হল, তখন তারা অপারগ হয়ে পড়ল। তাদের এক এক ‘কীরাত’* করে পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। তারপর ইনজীল অনুসারীদেরকে ইনজীল দেওয়া হল। তারা আসরের নামায পর্যন্ত কাজ করে অপারগ হয়ে পড়ল। তাদেরকে এক এক ‘কীরাত’ করে পারিশ্রমিক দেওয়া হল। তারপর আমাদেরকে কুরআন দেওয়া হল। আমরা সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করলাম।** আমদের দুই দুই ‘কীরাত’ করে দেওয়া হল। এতে উভয় কিতাবী সম্প্রদায় বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের দুই দুই ‘কীরাত’ করে দান করেছেন, আর আমাদেরকে দিয়েছেন এক এক কীরাত করে; অথচ আমলের দিক দিয়ে আমরাই বেশী। আল্লাহ তাআলা বললেনঃ তোমাদের পারিশ্রমিকের ব্যাপারে আমি কি তোমাদের প্রতি কোনরূপ যুলুম করেছি? তারা বলল, না। তখন আল্লাহ্ তাআলা বললেনঃ এ হল আমার অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তাকে দেই।

*এখানে 'কীরাত' শব্দ দিয়ে সাওয়াবের বিশেষ পরিমাণ বুঝানো হয়েছে।

**হাদীসের এ দৃষ্টান্ত সময়ের দীর্ঘতা ও হ্রস্বতার দ্বারা যথাক্রমে আমলের আধিক্য ও স্বল্পতা ব্যক্ত করা হয়েছে। এর দ্বারা আসরের ওয়াক্ত প্রতিটি বস্তুর ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার পর আরম্ভ হওয়া প্রমাণিত হয়- যা ইমাম আবু হানিফা (রাহঃ)-এর প্রসিদ্ধ অভিমত। কারণ, অন্যান্য ইমামগণের মতানুসারে এক গুণ ছায়া হওয়ার পরপরই আসরের ওয়াক্ত এসে যাওয়া মেনে নিলে উম্মতে মুহাম্মাদীর আমলের হ্রস্বতা প্রকাশ পায়।----কিরমানী।
531

558 - حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَثَلُ المُسْلِمِينَ وَاليَهُودِ وَالنَّصَارَى، كَمَثَلِ رَجُلٍ اسْتَأْجَرَ قَوْمًا، يَعْمَلُونَ لَهُ عَمَلًا إِلَى اللَّيْلِ، فَعَمِلُوا إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ فَقَالُوا: لاَ حَاجَةَ لَنَا إِلَى أَجْرِكَ، فَاسْتَأْجَرَ آخَرِينَ، فَقَالَ: أَكْمِلُوا بَقِيَّةَ يَوْمِكُمْ وَلَكُمُ الَّذِي شَرَطْتُ، فَعَمِلُوا حَتَّى إِذَا كَانَ حِينَ صَلاَةِ العَصْرِ، قَالُوا: لَكَ مَا عَمِلْنَا، فَاسْتَأْجَرَ قَوْمًا، فَعَمِلُوا بَقِيَّةَ يَوْمِهِمْ حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ، وَاسْتَكْمَلُوا أَجْرَ الفَرِيقَيْنِ "

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৫৩১। আবু কুরাইব (রাহঃ) ......... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেন, মুসলিম, ইয়াহুদী ও নাসারাদের উদাহরণ হল এরূপ, এক ব্যক্তি একদল লোককে কাজে নিয়োগ করল, তারা তার জন্য রাত পর্যন্ত কাজ করবে। কিন্তু অর্ধদিবস পর্যন্ত কাজ করার পর তারা বলল, আপনার পারিশ্রমিকের আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। সে ব্যক্তি অন্য আরেক দল লোককে কাজে নিয়োগ করল এবং বলল, তোমরা দিনের বাকী অংশ কাজ কর, তোমরা আমার নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাবে। তারা কাজ করতে শুরু করল। যখন আসরের নামাযের সময় হল, তখন তারা বলল, আমরা যা কাজ করেছি তা আপনার জন্য রেখে গেলাম। তারপর সে ব্যক্তি আরেক দল লোককে কাজে নিয়োগ করল। তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের বাকী অংশে কাজ করল এবং সে দুই দলের পূর্ণ পারিশ্রমিক হাসিল করে নিল।*

*পূর্বোক্ত হাদীসে উভয় দলের পারিশ্রমিক গ্রহণ করার কথা উল্লেখ আছে, আর বর্তমান হাদীসে বাহ্যত বুঝা যায়, তারা পারিশ্রমিক পায়নি। সুস্পষ্ট যে, পূর্বের হাদীসটি ইয়াহুদীবাদ ও খৃষ্টবাদ রহিত হওয়ার পূর্বেকার ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে। আর বর্তমান হাদীসটি যারা রাসূল (ﷺ) এর নবুওয়াতকে অস্বীকার করেছে, তাদের প্রসঙ্গে।
৩৬৯। মাগরিবের ওয়াক্ত।
আতা (রাহঃ) বলেন, রুগ্ন ব্যক্তি মাগরিব ও ইশার নামায একত্রে আদায় করতে পারবে।

باب وَقْتِ الْمَغْرِبِ - وَقَالَ عَطَاءٌ يَجْمَعُ الْمَرِيضُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ

532

559 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الوَلِيدُ، قَالَ: حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو النَّجَاشِيِّ صُهَيْبٌ مَوْلَى رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ: سَمِعْتُ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ، يَقُولُ: «كُنَّا نُصَلِّي المَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَيَنْصَرِفُ أَحَدُنَا وَإِنَّهُ لَيُبْصِرُ مَوَاقِعَ نَبْلِهِ»

Narrator: রাফি' ইবনে খাদীজ (রাঃ)

৫৩২। মুহাম্মাদ ইবনে মিহরান (রাহঃ) .... রাফি’ ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে মাগরিবের নামায আদায় করে এমন সময় ফিরে আসতাম যে, আমাদের কেউ (তীর নিক্ষেপ করলে) নিক্ষিপ্ত তীর পতিত হওয়ার স্থান দেখতে পেত।

৩৬৯। মাগরিবের ওয়াক্ত।

باب وَقْتِ الْمَغْرِبِ

533

560 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: قَدِمَ الحَجَّاجُ فَسَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، فَقَالَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالهَاجِرَةِ، وَالعَصْرَ وَالشَّمْسُ نَقِيَّةٌ، وَالمَغْرِبَ إِذَا [ص:117] وَجَبَتْ، وَالعِشَاءَ أَحْيَانًا وَأَحْيَانًا، إِذَا رَآهُمُ اجْتَمَعُوا عَجَّلَ، وَإِذَا رَآهُمْ أَبْطَؤُوا أَخَّرَ، وَالصُّبْحَ كَانُوا - أَوْ كَانَ - النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّيهَا بِغَلَسٍ»

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৩৩। মুহাম্মাদ ইবনে বাশশার (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, মুহাম্মাদ ইবনে আমর (রাহঃ) বলেন, হাজ্জাজ (ইবনে ইউসুফ) (মদীনা শরীফে) এলে আমরা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ)-কে নামাযের ওয়াক্ত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম, (কেননা, হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ বিলম্ব করে নামায আদায় করতেন)। তিনি বললেন, নবী (ﷺ) যোহরের নামায প্রচন্ড গরমের সময় আদায় করতেন। আর আসরের নামায সূর্য উজ্জ্বল থাকতে আদায় করতেন, মাগরিবের নামায সূর্য অস্ত যেতেই আর ইশার নামায বিভিন্ন সময়ে আদায় করতেন। যদি দেখতেন, সবাই সমবেত হয়েছেন, তাহলে আগে আগে আদায় করতেন। আর যদি দেখতেন, লোকজন আসতে দেরী করছে, তাহলে বিলম্বে আদায় করতেন। আর ফজরের নামায তাঁরা কিংবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অন্ধকার থাকতে আদায় করতেন।*

*হানাফী মাযহাব অনুসারীগণ সুবহে সাদিকের পর ভোরের আলো ফর্সা হয়ে গেলে ফজরের জামাত আদায় করা মুস্তাহাব বলে থাকেন এবং তিরমিযী শরীফে উদ্ধৃত রাফে' ইবনে খাদীজ (রাযিঃ) সূত্রের সহীহ হাদীসখানা প্রমাণরূপে গ্রহণ করেন। যাতে বলা হয়েছে- “তোমরা ফর্সা হয়ে গেলে ফজর আদায় করো। কেননা, তাতে সাওয়াব অনেক বেশী।” ইমাম তিরমিযী (রাহঃ) হাদীসখানাকে উত্তম ও বিশুদ্ধ বলে অভিমত দিয়েছেন এবং তার আরও অনেক রাবীর নাম উল্লেখ করেছেন। তবে মাহে রমযানে, ব্যাপকভাবে রাত জাগরণের পর্বে, মুসাফির ও রোগীর জন্য এবং একাকী নামায আদায়কারী নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে আলোচ্য হাদীসের আমল যথার্থ। (দ্রষ্টব্য: মূল আরবী তিরমিযী শরীফ, খ-১, পৃ-৪০)
534

561 - حَدَّثَنَا المَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ، قَالَ: «كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المَغْرِبَ إِذَا تَوَارَتْ بِالحِجَابِ»

Narrator: সালামা ইবনুল আকওয়া' (রাঃ)

৫৩৪। মক্কী ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ..... সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্য পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে মাগরিবের নামায আদায় করতাম।

535

562 - حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ: سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعًا جَمِيعًا وَثَمَانِيًا جَمِيعًا»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৩৫। আদম (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) (মাগরিব ও ইশার) সাত রাকআত ও (যোহর ও আসরের) আট রাক'আত একসাথে আদায় করেছেন।*

*হাদীসটির ভাষা ব্যতিক্রম ও বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এর মানে এ রকম নয় যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যোহর ও আসরের নামায একসাথে একই ওয়াক্তে এবং মাগরিব ও ইশার নামায একসাথে একই ওয়াক্তে আদায় করেছেন, যেমনটি কেউ কেউ মনে করে থাকেন। এরূপ মনে করার সুযোগ এ কারণে নেই যে, আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক নামাযকে সুনির্দিষ্ট ওয়াক্তে আদায় করাকেই ফরয করেছেন। ইরশাদ হয়েছে- “নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করা মু'মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য" (৪:১০৩)।
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ আদেশ অনুযায়ী সর্বদা প্রত্যেক নামাযকে তার নির্ধারিত সময়েই আদায় করতেন। 'আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বলেন: “যে আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই তাঁর শপথ, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কখনো কোন নামাযকে তার অন্য ওয়াক্তে আদায় করেননি। ব্যতিক্রম কেবল (হজ্জের সময়ে) আরাফা-মুযদালিফা” (বুখারী, খ-১, পৃ-২২৮; মুসলিম, খ-১, পৃ-৪১৭)।
এ কারণেই হানাফীগণ বলেন যে, হজ্জের সময়ে আরাফা ও মুযদালিফা ছাড়া অন্য কোথাও কখনো দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে এক ওয়াক্তে আদায় করা জায়িয নয়। তারা এ হাদীসের ব্যাখ্যা দান করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যোহরের নামায যোহরের ওয়াক্তের শেষপ্রান্তে এবং আসরের নামায আসরের ওয়াক্তের একদম শুরুর দিকে আদায় করেন। ফলে উভয় নামায খুব কাছাকাছি সময়ে আদায় করা হয়েছে। বর্ণনাকারী একেই যোহর ও আসরের আট রাক'আত নামায একত্রে আদায় করেছেন- শব্দে ব্যক্ত করেছেন। একই ব্যাখ্যা মাগরির ও ইশার সাত রাকআতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এ ব্যাখ্যাও হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত । যেমন হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কর্তৃক দুই নামায একত্রে আদায় করা সম্পর্কিত হাদীস বর্ণিত আছে, কিন্তু সে একত্রীকরণ কিভাবে হত নিজ আমল দ্বারাই তিনি তা দেখিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং সালিম (রাহঃ) বলেন, “সফরে হযরত ইবনে উমর (রাযিঃ)-এর যখন ব্যস্ততা দেখা দিত, মাগরিবের তিন রাক'আত আদায়ের পর সামান্য একটু দেরি করতেন। তারপর যখন পশ্চিমাকাশের লালিমা অস্ত যেত, অমনি ইশার নামায আদায় করতেন” (বুখারী: হাদীস নং- ১১০৯; আবু দাউদ : ১২১২)। এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে গেল যে, উভয় নামায আপাতদৃষ্টিতে একত্র করা হত বটে, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে তা আদায় করা হত আপন আপন ওয়াক্তে।

৩৭০। মাগরিবকে ইশা বলা যিনি পছন্দ করেন না।

باب مَنْ كَرِهَ أَنْ يُقَالَ لِلْمَغْرِبِ الْعِشَاءُ

536

563 - حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَارِثِ، عَنِ الحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُغَفَّلٍ المُزَنِيُّ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ تَغْلِبَنَّكُمُ الأَعْرَابُ عَلَى اسْمِ صَلاَتِكُمُ المَغْرِبِ» قَالَ الأَعْرَابُ: وَتَقُولُ: هِيَ العِشَاءُ

Narrator: আব্দুল্লাহ মুযানী (রাঃ)

৫৩৬। আবু মা’মার আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ মুযানী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বেদুঈনরা মাগরিবের নামাযের নামের ব্যাপারে তোমাদের উপর যেন প্রভাব বিস্তার না করে।
রাবী [আব্দুল্লাহ মুযানী (রাযিঃ)] বলেন, বেদুঈনরা মাগরিবকে ইশা বলে থাকে।
৩৭১। ইশা ও আতামা এর বর্ণনা এবং যিনি এতে কোন আপত্তি করেন না।
আবু হুরাইরা (রাযিঃ) নবী (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মুনাফিকদের জন্য সবচে কষ্টকর নামায হল ইশা ও ফজর। তিনি আরও বলেছেন যে, তারা যদি জানত, আতামা (ইশা) ও ফজরে কি কল্যাণ নিহিত আছে।
ইমাম বুখারি (রাহঃ) বলেন, ইশা শব্দ ব্যবহার করাই উত্তম। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ (وَمِنْ بَعْدِ صَلاَةِ الْعِشَاءِ)
আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমরা পালাক্রমে নবী (ﷺ) এর এখানে ইশার নামাযের সময় যেতাম। একবার তিনি তা দেরি করে আদায় করেন।
ইবনে আব্বাস ও আয়িশা (রাযিঃ) (এরূপ) বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) আতামা দেরি করে আদায় করেন। জাবির (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) ইশার নামায আদায় করলেন।
আবু বারযা (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) ইশার নামায বিলম্বে আদায় করতেন।
আনাস (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) শেষ ইশা বিলম্বে আদায় করলেন।
ইবনে উমর, আবু আইয়ুব ও ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) মাগরিব ও ইশার নামায আদায় করেন।

بَابُ ذِكْرِ العِشَاءِ وَالعَتَمَةِ، وَمَنْ رَآهُ وَاسِعًا قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَثْقَلُ الصَّلاَةِ عَلَى المُنَافِقِينَ العِشَاءُ وَالفَجْرُ» وَقَالَ: «لَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي العَتَمَةِ وَالفَجْرِ» قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: " وَالِاخْتِيَارُ: أَنْ يَقُولَ العِشَاءُ، لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمِنْ بَعْدِ صَلاَةِ العِشَاءِ} [النور: 58] " وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: «كُنَّا نَتَنَاوَبُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ صَلاَةِ العِشَاءِ فَأَعْتَمَ بِهَا» وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، وَعَائِشَةُ: «أَعْتَمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالعِشَاءِ» وَقَالَ بَعْضُهُمْ، عَنْ عَائِشَةَ: «أَعْتَمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالعَتَمَةِ» وَقَالَ جَابِرٌ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي العِشَاءَ» وَقَالَ أَبُو بَرْزَةَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤَخِّرُ العِشَاءَ» وَقَالَ أَنَسٌ: «أَخَّرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ العِشَاءَ الآخِرَةَ» وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ، وَأَبُو أَيُّوبَ، وَابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ: «صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ المَغْرِبَ وَالعِشَاءَ»

537

564 - حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: سَالِمٌ، أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً صَلاَةَ العِشَاءِ، وَهِيَ الَّتِي يَدْعُو النَّاسُ العَتَمَةَ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَأَقْبَلَ عَلَيْنَا، فَقَالَ: «أَرَأَيْتُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ، فَإِنَّ رَأْسَ مِائَةِ سَنَةٍ مِنْهَا، لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ أَحَدٌ»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৩৭। আবদান (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে রাসূল (ﷺ) আমাদের নিয়ে ইশার নামায আদায় করেন, যে নামাযকে লোকেরা আতামা বলে থাকে। তারপর তিনি ফিরে আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, আজকের এ রাত সম্পর্কে তোমরা জান কি? এ রাত থেকে নিয়ে একশ’ বছরের শেষ মাথায় আজ যারা ভূপৃষ্ঠে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না।

৩৭২। ইশার নামাযের ওয়াক্ত লোকজন জমায়েত হয়ে গেলে বা বিলম্বে এলে

باب وَقْتِ الْعِشَاءِ إِذَا اجْتَمَعَ النَّاسُ أَوْ تَأَخَّرُوا

538

565 - حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو هُوَ ابْنُ الحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ: سَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ صَلاَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «كَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالهَاجِرَةِ، وَالعَصْرَ وَالشَّمْسُ [ص:118] حَيَّةٌ، وَالمَغْرِبَ إِذَا وَجَبَتْ، وَالعِشَاءَ إِذَا كَثُرَ النَّاسُ عَجَّلَ، وَإِذَا قَلُّوا أَخَّرَ، وَالصُّبْحَ بِغَلَسٍ»

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৩৮। মুসলিম ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) .... মুহাম্মাদ ইবনে আমর ইবনে হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ)-কে নবী (ﷺ) এর নামায সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, মধ্যাহ্ন গড়ালেই নবী (ﷺ) যোহরের নামায আদায় করতেন এবং সূর্য সতেজ থাকতেই আসর আদায় করতেন, আর সূর্য অস্ত গেলেই মাগরিব আদায় করতেন, আর লোক বেশী হয়ে গেলে ইশার নামায তাড়াতাড়ি আদায় করতেন এবং লোক কম হলে দেরী করতেন, আর ফজরের নামায অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন।

৩৭৩। ইশার নামাযের ফযীলত

باب فَضْلِ الْعِشَاءِ

539

566 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ، قَالَتْ: أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً بِالعِشَاءِ، وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَفْشُوَ الإِسْلاَمُ، فَلَمْ يَخْرُجْ حَتَّى قَالَ عُمَرُ: نَامَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ، فَخَرَجَ، فَقَالَ لِأَهْلِ المَسْجِدِ: «مَا يَنْتَظِرُهَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ غَيْرَكُمْ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৩৯। ইয়াহয়া ইবনে বুকাইর (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায আদায় করতে বিলম্ব করলেন। এ হল ব্যাপকভাবে ইসলাম প্রসারের আগের কথা। (নামাযের জন্য) তিনি বেরিয়ে আসেননি, এমন কি উমর (রাযিঃ) বললেন, মহিলা ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। এরপর তিনি বেরিয়ে এলেন এবং মসজিদের লোকদের লক্ষ্য করে বললেনঃ তোমরা ব্যতীত যমীনের অধিবাসীদের কেউ ইশার নামাযের জন্য অপেক্ষায় নেই।*

*এ হাদীসে ইশার নামাযের ফযীলতের প্রতি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে। আর তা এভাবে যে, ইশার নামাযের জন্য ঘুম বর্জন করে অপেক্ষা করতে হয়, যা অন্য নামাযে নেই। সুতরাং এই অতিরিক্ত কষ্ট ও অপেক্ষার জন্য অধিক সাওয়াব পাওয়া যাবে, তাই স্বাভাবিক। কিংবা হাদীসটির অর্থ হচ্ছে- তোমরা ছাড়া যমীনের আর কেউ ইশার নামাযের জন্য অপেক্ষায় নেই- অর্থাৎ এ নামায কেবল এই উম্মতেরই বৈশিষ্ট্য। অতএব, এর ফযীলত সুস্পষ্ট।
540

567 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ العَلاَءِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ: كُنْتُ أَنَا وَأَصْحَابِي الَّذِينَ قَدِمُوا مَعِي فِي السَّفِينَةِ نُزُولًا فِي بَقِيعِ بُطْحَانَ، وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ، فَكَانَ يَتَنَاوَبُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ صَلاَةِ العِشَاءِ كُلَّ لَيْلَةٍ نَفَرٌ مِنْهُمْ، فَوَافَقْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَأَصْحَابِي، وَلَهُ بَعْضُ الشُّغْلِ فِي بَعْضِ أَمْرِهِ، فَأَعْتَمَ بِالصَّلاَةِ حَتَّى ابْهَارَّ اللَّيْلُ، ثُمَّ خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى بِهِمْ، فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُ، قَالَ لِمَنْ حَضَرَهُ: «عَلَى رِسْلِكُمْ، أَبْشِرُوا، إِنَّ مِنْ نِعْمَةِ اللَّهِ عَلَيْكُمْ، أَنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ يُصَلِّي هَذِهِ السَّاعَةَ غَيْرُكُمْ» أَوْ قَالَ: «مَا صَلَّى هَذِهِ السَّاعَةَ أَحَدٌ غَيْرُكُمْ» لاَ يَدْرِي أَيَّ الكَلِمَتَيْنِ قَالَ، قَالَ أَبُو مُوسَى فَرَجَعْنَا، فَفَرِحْنَا بِمَا سَمِعْنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৫৪০। মুহাম্মাদ ইবনে আলা' (রাহঃ) ..... আবু মুসা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ও আমার সঙ্গীরা-যারা (আবিসিনিয়া থেকে) জাহাজ যোগে আমার সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন- বাকী’য়ে বুতহানের একটি মুক্ত এলাকায় বসবাসরত ছিলাম। তখন নবী (ﷺ) থাকতেন মদীনায়। বুতহানের অধিবাসীরা পালাক্রমে একদল করে প্রতি রাতে ইশার নামাযের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খিদমতে আসতেন। পালাক্রমে ইশার নামাযের সময় আমি ও আমার কতিপয় সঙ্গী নবী (ﷺ) এর কাছে হাযির হলাম। তখন তিনি কোন কাজে খুব ব্যস্ত ছিলেন, ফলে নামায আদায়ে বিলম্ব করলেন। এমন কি রাত অর্ধেক হয়ে গেল।
তারপর নবী (ﷺ) বেরিয়ে এলেন এবং সবাইকে নিয়ে নামায আদায় করলেন। নামায শেষে তিনি উপস্থিত ব্যক্তিদেরকে বললেনঃ প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে বসে যাও। তোমাদের সুসংবাদ দিচ্ছি যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য এটি এক নিআমত যে, তোমরা ব্যতীত মানুষের মধ্যে কেউ এ মুহূর্তে নামায আদায় করছে না। কিংবা তিনি বলেছিলেনঃ তোমরা ব্যতীত কোন উম্মত এ সময় নামায আদায় করেনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন বাক্যটি বলেছিলেন বর্ণনাকারী তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। আবু মুসা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর এ কথা শুনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত মনে বাড়ি ফিরলাম।

৩৭৪। ইশার নামাযের আগে ঘুমানো মাকরূহ।

باب مَا يُكْرَهُ مِنَ النَّوْمِ قَبْلَ الْعِشَاءِ

541

568 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ الحَذَّاءُ، عَنْ أَبِي المِنْهَالِ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَ العِشَاءِ وَالحَدِيثَ بَعْدَهَا»

Narrator: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৫৪১। মুহাম্মাদ ইবনে সালাম (রাহঃ) .... আবু বারযা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার পূর্বে নিদ্রা যাওয়া এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন।

৩৭৫। ঘুম প্রবল হলে ইশার আগে ঘুমানো।

باب النَّوْمِ قَبْلَ الْعِشَاءِ لِمَنْ غُلِبَ

542

569 - حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ سُلَيْمَانَ هُوَ ابْنُ بِلاَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ هُوَ ابْنُ بِلاَلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ كَيْسَانَ، أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ: أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالعِشَاءِ حَتَّى نَادَاهُ عُمَرُ: الصَّلاَةَ نَامَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ، فَخَرَجَ، فَقَالَ: «مَا يَنْتَظِرُهَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ غَيْرُكُمْ» ، قَالَ: وَلاَ يُصَلَّى يَوْمَئِذٍ إِلَّا بِالْمَدِينَةِ، وَكَانُوا يُصَلُّونَ فِيمَا بَيْنَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ الأَوَّلِ

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৪২। আইয়ুব ইবনে সুলাইমান (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায আদায় করতে দেরী করলেন। উমর (রাযিঃ) তাঁকে বললেন, আস্‌-সালাত। নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তারপর তিনি বেরিয়ে আসলেন এবং বললেনঃ তোমরা ব্যতীত পৃথিবীর আর কেউ এ নামাযের জন্য অপেক্ষা করছে না। (রাবী বলেন) তখন মদীনা ব্যতীত অন্য কোথাও নামায আদায় করা হত না। (তিনি আরও বলেন যে) পশ্চিম আকাশের ‘শাফাক’ অন্তর্হিত হওয়ার পর থেকে রাতের প্রথম এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে তাঁরা ইশার নামায আদায় করতেন।

543

570 - حَدَّثَنَا مَحْمُودٌ يَعْنِي ابْنَ غَيْلاَنَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي نَافِعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شُغِلَ عَنْهَا لَيْلَةً، فَأَخَّرَهَا حَتَّى رَقَدْنَا فِي المَسْجِدِ، ثُمَّ اسْتَيْقَظْنَا، ثُمَّ رَقَدْنَا، ثُمَّ اسْتَيْقَظْنَا، ثُمَّ خَرَجَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: «لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ غَيْرُكُمْ» وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ: «لاَ يُبَالِي أَقَدَّمَهَا أَمْ أَخَّرَهَا، إِذَا كَانَ لاَ يَخْشَى أَنْ يَغْلِبَهُ النَّوْمُ عَنْ وَقْتِهَا، وَكَانَ يَرْقُدُ قَبْلَهَا»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৪৩। মাহমুদ (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক রাতে কর্মব্যস্ততার কারণে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায আদায়ে দেরী করলেন, এমন কি আমরা মসজিদে ঘুমিয়ে পড়লাম। তারপর জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর আবার জেগে উঠলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে এলেন, তারপর বললেনঃ তোমরা ব্যতীত পৃথিবীর আর কেউ এ নামাযের অপেক্ষা করছে না। ঘুম প্রবল হওয়ার কারণে এশার নামায বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে ইবনে উমর (রাযিঃ) তা আগেভাগে বা বিলম্ব করে আদায় করতে দ্বিধা করতেন না। কখনও কখনও তিনি ইশার আগে নিদ্রাও যেতেন।

544
قَالَ** ابْنُ جُرَيْجٍ: قُلْتُ لِعَطَاءٍ:
571 - وَقَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ: أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً بِالعِشَاءِ، حَتَّى رَقَدَ النَّاسُ وَاسْتَيْقَظُوا، وَرَقَدُوا وَاسْتَيْقَظُوا، فَقَامَ عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ فَقَالَ: الصَّلاَةَ - قَالَ عَطَاءٌ: قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ -: فَخَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ الآنَ، يَقْطُرُ رَأْسُهُ مَاءً، وَاضِعًا يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ، فَقَالَ: «لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي، لَأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُصَلُّوهَا هَكَذَا» فَاسْتَثْبَتُّ عَطَاءً كَيْفَ وَضَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَأْسِهِ يَدَهُ، كَمَا أَنْبَأَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَبَدَّدَ لِي عَطَاءٌ بَيْنَ أَصَابِعِهِ شَيْئًا مِنْ تَبْدِيدٍ، ثُمَّ وَضَعَ أَطْرَافَ أَصَابِعِهِ عَلَى قَرْنِ الرَّأْسِ، ثُمَّ ضَمَّهَا يُمِرُّهَا كَذَلِكَ عَلَى الرَّأْسِ، حَتَّى مَسَّتْ إِبْهَامُهُ طَرَفَ الأُذُنِ، مِمَّا يَلِي الوَجْهَ عَلَى الصُّدْغِ، وَنَاحِيَةِ اللِّحْيَةِ، لاَ يُقَصِّرُ وَلاَ يَبْطُشُ إِلَّا كَذَلِكَ، وَقَالَ: «لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُصَلُّوا هَكَذَا»

** قوله قال بن جريج هو بالإسناد الذي قبله وهو محمود عن عبد الرزاق عن بن جريج ووهم من زعم أنه معلق وقد أخرجه عبد الرزاق في مصنفه بالإسنادين وأخرجه من طريقه الطبراني وعنه أبو نعيم في مستخرجه كما في فتح الباري.

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৪৪। ইবনে জুরাইজ (রাহঃ) বলেন, এ বিষয়ে আমি আতা (রাহঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার নামায আদায় করতে দেরী করেছিলেন, এমন কি লোকজন একবার ঘুমিয়ে জেগে উঠল, আবার ঘুমিয়ে পড়ে জাগ্রত হল। তখন উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) উঠে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন, ‘নামায’।
আতা (রাহঃ) বলেন যে, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন, তারপর আল্লাহর নবী (ﷺ) বেরিয়ে এলেন-যেন এখনো আমি তাঁকে দেখছি- তাঁর মাথা থেকে পানি টপকে পড়ছিল এবং তাঁর হাত মাথার উপর ছিল। তিনি এসে বললেনঃ যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে এভাবে (বিলম্ব করে) ইশার নামায আদায় করার নির্দেশ দিতাম।
ইবনে জুরাইজ (রাহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে মাথায় হাত রেখেছিলেন তা কিভাবে রেখেছিলেন, বিষয়টি সুস্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করার জন্য আতা (রাহঃ)-কে বললাম। আতা (রাহঃ) তাঁর আঙ্গুলগুলো সামান্য ফাঁকা করলেন, তারপর সেগুলোর অগ্রভাগ সম্মুখ দিক থেকে (চুলের অভ্যন্তরে) প্রবেশ করালেন। তারপর আঙ্গুলীগুলো একত্রিত করে মাথার উপর দিয়ে এভাবে টেনে নিলেন যে, তার বৃদ্ধাঙ্গুলী কানের সে পার্শ্বকে স্পর্শ করে গেল যা মুখমণ্ডল সংলগ্ন চোয়ালের হাড্ডির উপর শ্মশ্রুর পাশে অবস্থিত। নবী (ﷺ) চুলের পানি ঝরাতে কিংবা চুল চাপড়াতে এরূপই করতেন। এবং তিনি বলেছিলেনঃ যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে তাদেরকে এভাবেই (বিলম্ব করে) নামায আদায় করার নির্দেশ দিতাম।
৩৭৬। রাতের অর্ধাংশ পর্যন্ত ইশার ওয়াক্ত।
আবু বারযা (রাযিঃ) বলেন, নবী (ﷺ) ইশার নামায দেরীতে আদায় করা পছন্দ করতেন।

بَابُ وَقْتِ العِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ وَقَالَ أَبُو بَرْزَةَ: «كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَحِبُّ تَأْخِيرَهَا»

545

572 - حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ المُحَارِبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: أَخَّرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاَةَ العِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ، ثُمَّ صَلَّى، ثُمَّ قَالَ: «قَدْ صَلَّى النَّاسُ وَنَامُوا، أَمَا إِنَّكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُوهَا» ، وَزَادَ ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ، سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ: «كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ خَاتَمِهِ لَيْلَتَئِذٍ»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৫। আব্দুর রহীম মুহারিবী (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একরাতে নবী (ﷺ) ইশার নামায অর্ধেক রাত পর্যন্ত বিলম্ব করলেন। তারপর নামায আদায় করে তিনি বললেনঃ লোকেরা নিশ্চয়ই নামায আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। শোন! তোমরা যতক্ষণ নামাযের অপেক্ষায় ছিলে ততক্ষণ তোমরা নামাযেই ছিলে।
ইবনে আবু মারইয়াম (রাহঃ)-এর বর্ণনায় আরও আছে, তিনি বলেন, ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব (রাহঃ) হুমাইদ (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (হুমাইদ) আনাস (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছেন, সে রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আংটির উজ্জ্বলতা আমি যেন এখনও দেখতে পাচ্ছি।

৩৭৭। ফজরের নামাযের ফযীলত

باب فَضْلِ صَلاَةِ الْفَجْرِ

546
573 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا قَيْسٌ، قَالَ لِي جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ نَظَرَ إِلَى القَمَرِ لَيْلَةَ البَدْرِ، فَقَالَ: «أَمَا إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا، لاَ تُضَامُّونَ - أَوْ لاَ تُضَاهُونَ - فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا، فَافْعَلُوا» ثُمَّ قَالَ: «وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا»
قال أبو عبد الله: زاد أبو شهاب، عن إسماعيل بن أبي خالد، عن قيس بن أبي حازم، عن جرير بن عبد الله: قال النبي صلى الله عليه وسلم إنكم سترون ربكم عيانا.

Narrator: জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ)

৫৪৬। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে নবী (ﷺ) এর নিকট ছিলাম। হঠাৎ তিনি পূর্ণিমা রাতের চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, শোন! এটি যেমন দেখতে পাচ্ছ— তোমাদের প্রতিপালককেও তোমরা তেমনি দেখতে পাবে। তাঁকে দেখতে তোমরা ভিড়ের সম্মুখীন হবে না। কাজেই তোমরা যদি সূর্য উঠার আগের নামায ও সূর্য ডুবার আগের নামায আদায়ে সমর্থ হও, তাহলে তাই কর। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ “সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে আপনি আপনার প্রতিপালকের প্রশংসায় তাসবীহ্ পাঠ করুন।”
আবু আব্দুল্লাহ্ (ইমাম বুখারী রাহঃ) বলেন, আবু শিহাব (রাহঃ).................. জারীর (রাযিঃ) থেকে আরো বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে খালি চোখে দেখতে পাবে।
547
574 - حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنِي أَبُو جَمْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ صَلَّى البَرْدَيْنِ دَخَلَ الجَنَّةَ» ،
وَقَالَ ابْنُ رَجَاءٍ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ أَبِي جَمْرَةَ، أَنَّ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ أَخْبَرَهُ بِهَذَا، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ

Narrator: আবু মুসা আশ'আরী (রাঃ)

৫৪৬। হুদবা ইবনে খালিদ (রাহঃ) ..... আবু বকর ইবনে আবু মুসা (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দুই শীতের (ফজর ও আসরের) নামায আদায় করবে, সে জান্নাতে দাখিল হবে।
ইবনে রাজা (রাহঃ) বলেন, হাম্মাম (রাহঃ) আবু জামরা (রাহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স (রাহঃ) তাঁর নিকট এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
ইসহাক (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

৩৭৮। ফজরের ওয়াক্ত

باب وَقْتِ الْفَجْرِ

548

575 - حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، حَدَّثَهُ: " أَنَّهُمْ تَسَحَّرُوا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَامُوا إِلَى الصَّلاَةِ، قُلْتُ: كَمْ بَيْنَهُمَا؟ قَالَ: قَدْرُ خَمْسِينَ أَوْ سِتِّينَ "، يَعْنِي آيَةً

Narrator: যায়দ ইবনে ছাবিত (রাঃ)

৫৪৮। আমর ইবনে আসিম (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাঁরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে সাহরী খেয়েছেন, তারপর ফজরের নামাযে দাঁড়িয়েছেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ দু’য়ের মাঝে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ বা ষাট আয়াত তিলাওয়াত করা যায়, এরূপ সময়ের ব্যবধান ছিল।

549

576 - حَدَّثَنَا حَسَنُ بْنُ صَبَّاحٍ [ص:120]، سَمِعَ رَوْحَ بْنَ عُبَادَةَ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ: أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَزَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ: «تَسَحَّرَا فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ سَحُورِهِمَا، قَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الصَّلاَةِ، فَصَلَّى» ، قُلْنَا لِأَنَسٍ: كَمْ كَانَ بَيْنَ فَرَاغِهِمَا مِنْ سَحُورِهِمَا وَدُخُولِهِمَا فِي الصَّلاَةِ؟ قَالَ: «قَدْرُ مَا يَقْرَأُ الرَّجُلُ خَمْسِينَ آيَةً»

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৪৯। হাসান ইবনে সাব্বাহ্ (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর নবী (ﷺ) ও যায়দ ইবনে সাবিত (রাযিঃ) একসাথে সাহরী খাচ্ছিলেন, যখন তাঁদের খাওয়া হয়ে গেল— আল্লাহর নবী (ﷺ) (ফজরের) নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং নামায আদায় করলেন। কাতাদা (রাহঃ) বলেন, আমরা আনাস (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁদের সাহরী খাওয়া থেকে অবসর হয়ে নামায শুরু করার মধ্যে কতটুকু সময়ের ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, একজন লোক পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে এতটুকু সময়।

550

577 - حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، عَنْ أَخِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، أَنَّهُ سَمِعَ سَهْلَ بْنَ سَعْدٍ، يَقُولُ: «كُنْتُ أَتَسَحَّرُ فِي أَهْلِي، ثُمَّ يَكُونُ سُرْعَةٌ بِي، أَنْ أُدْرِكَ صَلاَةَ الفَجْرِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»

Narrator: হযরত সাহল ইবনে সা'দ সাঈ'দী (রাঃ)

৫৫০। ইসমাঈল ইবনে আবু উওয়াইস (রাহঃ) .... সাহল ইবনে সা’দ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পরিবার-পরিজনের সাথে সাহরী খেতাম। খাওয়ার পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ফজরের নামায পাওয়ার জন্য আমাকে খুব তাড়াহুড়া করতে হত।

551

578 - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ: أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ، قَالَتْ: «كُنَّ نِسَاءُ المُؤْمِنَاتِ يَشْهَدْنَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاَةَ الفَجْرِ مُتَلَفِّعَاتٍ بِمُرُوطِهِنَّ، ثُمَّ يَنْقَلِبْنَ إِلَى بُيُوتِهِنَّ حِينَ يَقْضِينَ الصَّلاَةَ، لاَ يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ مِنَ الغَلَسِ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৫১। ইয়াহয়া ইবনে বুকাইর (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মুসলিম মহিলাগণ সর্বাঙ্গ চাদরে ঢেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ফজরের জামাআতে হাযির হতেন। তারপর নামায আদায় করে তারা যার যার ঘরে ফিরে যেতেন। আবছা আঁধারে কেউ তাঁদের চিনতে পারত না।

৩৭৯। যে ব্যক্তি ফজরের এক রাকআত পেল।

باب مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْفَجْرِ رَكْعَةً

552

579 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، وَعَنِ الأَعْرَجِ يُحَدِّثُونَهُ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الصُّبْحِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ، فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ، وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ العَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ، فَقَدْ أَدْرَكَ العَصْرَ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫২। আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সূর্য উঠার আগে ফজরের নামাযের এক রাকআত পায়, সে ফজরের নামায পেল।* আর যে ব্যক্তি সূর্য ডুবার আগে আসরের নামাযের এক রাকআত পেল সে আসরের নামায পেল।**

*অর্থাৎ, তার উপর তা ওয়াজিব হয়ে যাবে এবং পরবর্তী সময়ে তা কাযা করে নিতে হবে।
**এ অবস্থায় তাকে তখনই আসর পড়ে নিতে হবে এবং পরে আর কাযার প্রয়োজন নেই।

৩৮০। যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকআত পেল।

باب مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الصَّلاَةِ رَكْعَةً

553

580 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصَّلاَةِ، فَقَدْ أَدْرَكَ الصَّلاَةَ»

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫৩। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন নামাযের এক রাকআত পায়, সে নামায পেল।*

*অর্থাৎ, এক রাকআত নামায আদায়ের সমপরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকতেও যদি কারো উপর নামায ফরয হয়, তাহলে তাকে এ নামায পরবর্তী যে কোন সময় কাযা করে নিতে হবে ।

৩৮১। ফজরের পর সূর্য উঠার আগে নামায আদায়।

باب الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَرْتَفِعَ الشَّمْسُ

554

581 - حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي العَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: شَهِدَ عِنْدِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ، «أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَشْرُقَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ العَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ» ،

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৫৪। হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ......... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কয়েকজন আস্থাভাজন ব্যক্তি আমার কাছে — যাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন উমর (রাযিঃ) — আমাকে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের পর সূর্য উজ্জ্বল হয়ে না উঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।

555

582 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، سَمِعْتُ أَبَا العَالِيَةِ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي نَاسٌ بِهَذَا

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.

৫৫৫। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার নিকট কয়েক ব্যক্তি এরূপ বর্ণনা করেছেন।

556
583 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبِي، قَالَ: أَخْبَرَنِي ابْنُ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لاَ تَحَرَّوْا بِصَلاَتِكُمْ طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلاَ غُرُوبَهَا»
وَقَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا طَلَعَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَرْتَفِعَ، وَإِذَا غَابَ حَاجِبُ الشَّمْسِ فَأَخِّرُوا الصَّلاَةَ حَتَّى تَغِيبَ» تَابَعَهُ عَبْدَةُ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫৬। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামায আদায়ের ইচ্ছা করো না।
উরওয়া (রাহঃ) বলেন, ইবনে উমর (রাযিঃ) আমাকে আরও বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যদি সূর্যের একাংশ প্রকাশ পেয়ে যায়, তাহলে পূর্ণরূপে উদিত না হওয়া পর্যন্ত নামায আদায়ে বিলম্ব করো। আর যদি তার একাংশ ডুবে যায় তাহলে সম্পূর্ণরূপে অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত নামায আদায়ে বিলম্ব করো। আবদাও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
557

584 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي [ص:121] أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: " أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ بَيْعَتَيْنِ، وَعَنْ لِبْسَتَيْنِ وَعَنْ صَلاَتَيْنِ: نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ العَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ، وَعَنِ اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ، وَعَنْ الِاحْتِبَاءِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ، يُفْضِي بِفَرْجِهِ إِلَى السَّمَاءِ، وَعَنِ المُنَابَذَةِ، وَالمُلاَمَسَةِ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৫৭। উবাইদ ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’ধরণের বেচা-কেনা করতে, দু’ভাবে পোশাক পরিধান করতে এবং দু’সময়ে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন।
ফজরের পর সূর্য পূর্ণরূপে উদিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোন নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আর পুরো শরীর জড়িয়ে কাপড় পরতে এবং এক কাপড়ে (যেমন লুঙ্গি ইত্যাদি পরে) হাঁটু খাড়া করে এমনভাবে বসতে যাতে লজ্জাস্থান উপরের দিকে খুলে যায় — নিষেধ করেছেন। আর মুনাবাযা* ও মুলামাসা* (এর পন্থায় বেচা-কেনা) নিষেধ করেছেন।

*মুনাবাযাঃ বিভিন্ন দরের একাধিক পণ্যদ্রব্য একস্থানে রেখে মূল্য হিসেবে একটি অংক নির্ধারণ করে এ শর্তে বিক্রি করা যে, ক্রেতা নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্ব থেকে পাথর নিক্ষেপ করে যে পণ্যের গায়ে লাগাতে পারবে, উল্লেখিত মূল্যে তাকে তা বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করতে হবে। এ পন্থার বেচা-কেনা 'মুনাবাযা' বলে অভিহিত।
*মুলামাসাঃ একাধিক পণ্যের প্রত্যেকটির ভিন্ন ভিন্নভাবে মূল্য নির্ধারণ করে এভাবে বিক্রি করা যে, ক্রেতা যেটি স্পর্শ করবে, পূর্ব নির্ধারিত মূল্যে তাকে অবশ্যই তা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের বেচাকেনা শরয়ী পরিভাষায় ‘মুলামাসা’ বলে অভিহিত। যেহেতু এতে পছন্দ অপছন্দের স্বাধীনতা থাকে না, তাই শরীয়ত এ দু’টো পন্থাকে নিষিদ্ধ করেছে।

৩৮২। সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্তে নামায আদায়ের উদ্যোগ নিবে না।

باب لاَ يَتَحَرَّى الصَّلاَةَ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ

558

585 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَتَحَرَّى أَحَدُكُمْ، فَيُصَلِّي عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلاَ عِنْدَ غُرُوبِهَا»

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৫৮। আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ (রাহঃ) ..... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় নামায আদায়ের উদ্যোগ না নেয়।*

*এ হাদীসের “সূর্যাস্তের সময়" থেকে একটি ব্যতিক্রম বিধান আছে। তা হচ্ছে, কোন ব্যক্তির কারণ বশত আসর কাযা হয়ে গেলে তিনি কেবল ওই দিনকার আসরের ফরয নামায সূর্য ডুবা অবস্থায়ও পড়তে পারবেন।
559

586 - حَدَّثَنَا عَبْدُ العَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ الجُنْدَعِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ، يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لاَ صَلاَةَ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَرْتَفِعَ الشَّمْسُ، وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ العَصْرِ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ»

Narrator: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)

৫৫৯। আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, ফজরের পর সূর্য উদিত হয়ে (একটু) উপরে না উঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত কোন নামায নেই।

560

587 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ: سَمِعْتُ حُمْرَانَ بْنَ أَبَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: «إِنَّكُمْ لَتُصَلُّونَ صَلاَةً لَقَدْ صَحِبْنَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَا رَأَيْنَاهُ يُصَلِّيهَا، وَلَقَدْ نَهَى عَنْهُمَا» ، يَعْنِي: الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ العَصْرِ

Narrator: মুআবিয়া ইবনে আবু সুফয়ান (রাঃ)

৫৬০। মুহাম্মাদ ইবনে আবান (রাহঃ) .... মুআবিয়া (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা এমন এক নামায আদায় করে থাক, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাহচর্য লাভ করা সত্ত্বেও আমরা তাঁকে কখনও তা আদায় করতে দেখিনি। বরং তিনি তা থেকে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ আসরের পর দু’রাকআত আদায় করতে।

561

588 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ خُبَيْبٍ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: " نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَلاَتَيْنِ: بَعْدَ الفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ العَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ "

Narrator: হযরত আবু হুরায়রা রাযি.

৫৬১। মুহাম্মাদ ইবনে সালাম (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’ সময়ে নামায আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের পর সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত।

৩৮৩। যিনি আসরের ও ফজরের পর ব্যতিত অন্য সময়ে নামায আদায় মাকরূহ মনে করেন না।
উমর, ইবনে উমর, আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরা (রাযিঃ) এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

باب مَنْ لَمْ يَكْرَهِ الصَّلاَةَ إِلاَّ بَعْدَ الْعَصْرِ وَالْفَجْرِ رَوَاهُ عُمَرُ وَابْنُ عُمَرَ وَأَبُو سَعِيدٍ وَأَبُو هُرَيْرَةَ

562

589 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: " أُصَلِّي كَمَا رَأَيْتُ أَصْحَابِي يُصَلُّونَ: لاَ أَنْهَى أَحَدًا يُصَلِّي بِلَيْلٍ وَلاَ نَهَارٍ مَا شَاءَ، غَيْرَ أَنْ لاَ تَحَرَّوْا طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلاَ غُرُوبَهَا "

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৬২। আবু নু’মান (রাহঃ) ...... ইবনে উমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার সঙ্গীদের যেভাবে নামায আদায় করতে দেখেছি সেভাবেই আমি নামায আদায় করি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে নামাযের ইচ্ছা করা ব্যতীত রাতে বা দিনে যে কোন সময় কেউ নামায আদায় করতে চাইলে আমি নিষেধ করি না।

৩৮৪। আসরের পর কাযা বা অনুরূপ কোন নামায আদায় করা।
কুরায়ব (রাহঃ) উম্মে সালামা (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (ﷺ) আসরের পর দু’রাকআত নামায আদায় করলেন এবং বললেন, আব্দুল কায়স গোত্রের লোকেরা আমাকে যোহরের পরবর্তী দু’রাকআত নামায আদায় থেকে ব্যস্ত রেখেছিল।

بَابٌ: مَا يُصَلَّى بَعْدَ العَصْرِ مِنَ الفَوَائِتِ وَنَحْوِهَا قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَ كُرَيْبٌ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ العَصْرِ رَكْعَتَيْنِ، وَقَالَ: «شَغَلَنِي نَاسٌ مِنْ عَبْدِ القَيْسِ عَنِ الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الظُّهْرِ»

563

590 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ بْنُ أَيْمَنَ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، سَمِعَ عَائِشَةَ، قَالَتْ: وَالَّذِي ذَهَبَ بِهِ، مَا تَرَكَهُمَا حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ، وَمَا لَقِيَ اللَّهَ تَعَالَى حَتَّى ثَقُلَ عَنِ الصَّلاَةِ، وَكَانَ يُصَلِّي كَثِيرًا مِنْ صَلاَتِهِ قَاعِدًا - تَعْنِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ العَصْرِ - «وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّيهِمَا، وَلاَ يُصَلِّيهِمَا فِي المَسْجِدِ، مَخَافَةَ أَنْ يُثَقِّلَ عَلَى أُمَّتِهِ، وَكَانَ يُحِبُّ مَا يُخَفِّفُ عَنْهُمْ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৬৩। আবু নু’আইম (রাহঃ)......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সে মহান সত্তার শপথ, যিনি তাঁকে (নবী (ﷺ) - কে) উঠিয়ে নিয়েছেন, আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি দু’রাকআত নামায কখনই ছাড়েননি। আর নামাযে দাঁড়ানো যখন তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি, তখনই তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে গেছেন। তিনি তাঁর এ নামায অধিকাংশ সময় বসে বসেই আদায় করতেন। আয়িশা (রাযিঃ) এ নামায দ্বারা আসরের পরবর্তী দু’রাকআতের কথা বুঝিয়েছেন। রাসূল (ﷺ) এ দু’রাকআত নামায আদায় করতেন, তবে উম্মতের উপর বোঝা হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তা মসজিদে আদায় করতেন না। কেননা, উম্মতের জন্য যা সহজ হয় তাই তাঁর কাম্য ছিল।

৩৮৪। আসরের পর কাযা বা অনুরূপ কোন নামায আদায় করা।

بَابٌ: مَا يُصَلَّى بَعْدَ العَصْرِ مِنَ الفَوَائِتِ وَنَحْوِهَا

564

591 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ: أَخْبَرَنِي [ص:122] أَبِي، قَالَتْ عَائِشَةُ: ابْنَ أُخْتِي «مَا تَرَكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ السَّجْدَتَيْنِ بَعْدَ العَصْرِ عِنْدِي قَطُّ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৬৪। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হে ভাগিনে! নবী (ﷺ) আমার কাছে উপস্থিত থাকার কালে আসরের পরবর্তী দু’রাকআত কখনও ছাড়েননি।

565

592 - حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الوَاحِدِ، قَالَ: حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: " رَكْعَتَانِ لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَعُهُمَا سِرًّا وَلاَ عَلاَنِيَةً: رَكْعَتَانِ قَبْلَ صَلاَةِ الصُّبْحِ، وَرَكْعَتَانِ بَعْدَ العَصْرِ "

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৬৫। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দু’রাকআত নামায রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন অবস্থাতেই ছাড়তেন না। তা হল ফজরের নামাযের আগের দু’রাকআত ও আসরের পরের দু’রাকআত।

566

593 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَرْعَرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، قَالَ: رَأَيْتُ الأَسْوَدَ، وَمَسْرُوقًا، شَهِدَا عَلَى عَائِشَةَ قَالَتْ: «مَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْتِينِي فِي يَوْمٍ بَعْدَ العَصْرِ، إِلَّا صَلَّى رَكْعَتَيْنِ»

Narrator: উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা রাযি.

৫৬৬। মুহাম্মাদ ইবনে আরআরা (রাহঃ) ..... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে দিনই আসরের পর আমার কাছে আসতেন সে দিনই দু’রাকআত নামায আদায় করতেন।**

**পূর্বে উল্লিখিত একটি হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আসরের পর আর কোন নামায নেই। অথচ এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের পর দু' রাক'আত পড়েছেন। এ দু' রাক'আত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ব্যক্তিগত আমল ছিল। উম্মতের জন্য তা অনুসরণীয় নয়।

৩৮৫। মেঘলা দিনে শীঘ্র নামায আদায় করা।

باب التَّبْكِيرِ بِالصَّلاَةِ فِي يَوْمِ غَيْمٍ

567

594 - حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى هُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، أَنَّ أَبَا المَلِيحِ حَدَّثَهُ، قَالَ: كُنَّا مَعَ بُرَيْدَةَ فِي يَوْمٍ ذِي غَيْمٍ، فَقَالَ: بَكِّرُوا بِالصَّلاَةِ، فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ صَلاَةَ العَصْرِ حَبِطَ عَمَلُهُ»

Narrator: হযরত বুরায়দা আসলামী (রাঃ)

৫৬৭। মুআয ইবনে ফাযালা (রাহঃ) ..... আবু মালীহ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মেঘলা দিনে আমরা বুরাইদা (রাযিঃ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, শীঘ্র নামায আদায় করে নাও। কেননা, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আসরের নামায ছেড়ে দেয় তার সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যায়।

৩৮৬। ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর আযান দেওয়া।

باب الأَذَانِ بَعْدَ ذَهَابِ الْوَقْتِ

568

595 - حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: سِرْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْلَةً، فَقَالَ: بَعْضُ القَوْمِ: لَوْ عَرَّسْتَ بِنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «أَخَافُ أَنْ تَنَامُوا عَنِ الصَّلاَةِ» قَالَ بِلاَلٌ: أَنَا أُوقِظُكُمْ، فَاضْطَجَعُوا، وَأَسْنَدَ بِلاَلٌ ظَهْرَهُ إِلَى رَاحِلَتِهِ، فَغَلَبَتْهُ عَيْنَاهُ فَنَامَ، فَاسْتَيْقَظَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَدْ طَلَعَ حَاجِبُ الشَّمْسِ، فَقَالَ: «يَا بِلاَلُ، أَيْنَ مَا قُلْتَ؟» قَالَ: مَا أُلْقِيَتْ عَلَيَّ نَوْمَةٌ مِثْلُهَا قَطُّ، قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ قَبَضَ أَرْوَاحَكُمْ حِينَ شَاءَ، وَرَدَّهَا عَلَيْكُمْ حِينَ شَاءَ، يَا بِلاَلُ، قُمْ فَأَذِّنْ بِالنَّاسِ بِالصَّلاَةِ» فَتَوَضَّأَ، فَلَمَّا ارْتَفَعَتِ الشَّمْسُ وَابْيَاضَّتْ، قَامَ فَصَلَّى

Narrator: হযরত আবু কাতাদা আনসারী (রাঃ)

৫৬৮। ইমরান ইবনে মায়সারা (রাহঃ) .... আবু কাতাদা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে ছিলাম। যাত্রী দলের কেউ কেউ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! রাতের এ শেষ প্রহরে আমাদের নিয়ে যদি একটু বিশ্রাম নিতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার ভয় হচ্ছে নামাযের সময়ও তোমরা ঘুমিয়ে থাকবে। বিলাল (রাযিঃ) বললেন, আমি আপনাদের জাগিয়ে দিব। কাজেই সবাই শুয়ে পড়লেন। এ দিকে বিলাল (রাযিঃ) তাঁর হাওদার গায়ে একটু হেলান দিয়ে বসলেন। এতে তাঁর দু’চোখ মুদে আসল। ফলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন।
সূর্য কেবল উঠতে শুরু করেছে, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাগ্রত হলেন এবং বিলাল (রাযিঃ)-কে ডেকে বললেন, হে বিলাল! তোমার কথা গেল কোথায়? বিলাল (রাযিঃ) বললেন, আমার এত অধিক ঘুম আর কখনও পায়নি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তাআলা যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তোমাদের রূহ কবয করে নিয়েছেন; আবার যখন ইচ্ছা করেছেন তখন তা তোমাদের ফিরিয়ে দিয়েছেন।* হে বিলাল! উঠ, লোকদের জন্য নামাযের আযান দাও। তারপর তিনি উযু করলেন এবং সূর্য যখন উপরে উঠল এবং উজ্জ্বল হল তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং নামায আদায় করলেন।

*অর্থাৎ,পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বনের পরও জাগ্রত হতে না পারা এ ইচ্ছাকৃত ত্রুটি নয়। কাজেই তা ওযর হিসাবে গণ্য হবে।

৩৮৭। ওয়াক্ত চলে যাওয়ার পর লোকদের নিয়ে জামাআতে নামায আদায় করা।

باب مَنْ صَلَّى بِالنَّاسِ جَمَاعَةً بَعْدَ ذَهَابِ الْوَقْتِ

569

596 - حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ، جَاءَ يَوْمَ الخَنْدَقِ، بَعْدَ مَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ فَجَعَلَ يَسُبُّ كُفَّارَ قُرَيْشٍ، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا كِدْتُ أُصَلِّي العَصْرَ، حَتَّى كَادَتِ الشَّمْسُ تَغْرُبُ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَاللَّهِ مَا صَلَّيْتُهَا» فَقُمْنَا إِلَى بُطْحَانَ، فَتَوَضَّأَ لِلصَّلاَةِ وَتَوَضَّأْنَا لَهَا، فَصَلَّى العَصْرَ بَعْدَ مَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى بَعْدَهَا المَغْرِبَ

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৬৯। মুআয ইবনে ফাযালা (রাহঃ) ..... জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, খন্দকের দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার পর উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) এসে কুরাইশ গোত্রীয় কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি এখনও আসরের নামায আদায় করতে পারিনি, এমন কি সূর্য অস্ত যায় যায় অবস্থা। নবী (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর শপথ! আমিও তা আদায় করিনি। তারপর আমরা উঠে বুতহানের দিকে গেলাম। সেখানে তিনি নামাযের জন্য উযু করলেন এবং আমরাও উযু করলাম; এরপর সূর্য ডুবে গেলে আসরের নামায আদায় করেন, তারপর মাগরিবের নামায আদায় করেন।

৩৮৮। কেউ যদি কোন ওয়াক্তের নামায আদায় করতে ভুলে যায়, তাহলে যখন স্মরণ হবে, তখন সে তা আদায় করে নিবে। সে নামায ব্যতিত অন্য নামায পুনরায় আদায় করতে হবে না।
ইবরাহীম (রাহঃ) বলেন, কেউ যদি বিশ বছরও এক ওয়াক্তের নামায ছেড়ে দিয়ে থাকে তাহলে তাকে সে ওয়াক্তের নামাযই পুনরায় আদায় করতে হবে।

بَابُ مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّ إِذَا ذَكَرَ، وَلاَ يُعِيدُ إِلَّا تِلْكَ الصَّلاَةَ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ: «مَنْ تَرَكَ صَلاَةً وَاحِدَةً عِشْرِينَ سَنَةً، لَمْ يُعِدْ إِلَّا تِلْكَ الصَّلاَةَ الوَاحِدَةَ»

570

597 - حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:123] قَالَ: " مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّ إِذَا ذَكَرَهَا، لاَ كَفَّارَةَ لَهَا إِلَّا ذَلِكَ {وَأَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي} [طه: 14] "، قَالَ مُوسَى: قَالَ هَمَّامٌ: سَمِعْتُهُ يَقُولُ: بَعْدُ: «وَأَقِمِ الصَّلاَةَ للذِّكْرَى» ، قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: وَقَالَ حَبَّانُ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৭০। আবু নু’আইম ও মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যদি কেউ কোন নামাযের কথা ভুলে যায়, তাহলে যখনই স্মরণ হবে, তখন তাকে তা আদায় করতে হবে। এ ব্যতীত সে নামাযের অন্য কোন কাফফারা নেই। (কেননা, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন) أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي “আমাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে নামায কায়েম কর”।
মুসা (রাহঃ) বলেন, হাম্মাম (রাহঃ) বলেছেন যে, আমি তাকে (কাতাদা রাহঃ) পরে বলতে শুনেছি, “আমাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে নামায কায়েম কর।”
আবু আব্দুল্লাহ বললেনঃ হাব্বান (রাহঃ) আনাস (রাযিঃ) এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে।

৩৮৯। একাধিক নামাযের কাযা ধারাবাহিকভাবে আদায় করা।

باب قَضَاءِ الصَّلَوَاتِ الأُولَى فَالأُولَى

571

598 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى القَطَّانُ، أَخْبَرَنَا هِشَامٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى هُوَ ابْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: " جَعَلَ عُمَرُ يَوْمَ الخَنْدَقِ يَسُبُّ كُفَّارَهُمْ، وَقَالَ: مَا كِدْتُ أُصَلِّي العَصْرَ حَتَّى غَرَبَتْ، قَالَ: فَنَزَلْنَا بُطْحَانَ، فَصَلَّى بَعْدَ مَا غَرَبَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى المَغْرِبَ "

Narrator: জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ)

৫৭১। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খন্দকের যুদ্ধকালে এক সময় উমর (রাযিঃ) কুরাইশ কাফিরদের ভর্ৎসনা করতে লাগলেন এবং বললেন, সূর্যাস্তের পূর্বে আমি আসরের নামায আদায় করতে পরিনি, (জাবির (রাযিঃ) বলেন) তারপর আমরা বুতহান উপত্যকায় উপস্থিত হলাম। সেখানে তিনি সূর্যাস্তের পর সে নামায আদায় করলেন, তারপরে মাগরিবের নামায আদায় করলেন।

৩৯০। ইশার নামাযের পর গল্প গুজব করা মাকরূহ।
(পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত) سامر শব্দটি السَّمرِ ধাতু থেকে নির্গত। এর বহুবচন السُّمَّارُ, এ আয়াতে سامر শব্দ বহুবচনরূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

باب مَا يُكْرَهُ مِنَ السَّمَرِ بَعْدَ الْعِشَاءِ السَّامِرُ مِنَ السَّمَرِ وَالْجَمْعُ السُّامَّارُ وَالسَّامِرُ هَاهُنَا فِيْ مَوْضِعِ الْجَمْعِ

572

599 - حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو المِنْهَالِ، قَالَ: انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي إِلَى أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ، فَقَالَ لَهُ أَبِي: حَدِّثْنَا كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي المَكْتُوبَةَ؟ قَالَ: " كَانَ يُصَلِّي الهَجِيرَ - وَهِيَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الأُولَى - حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي العَصْرَ، ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى أَهْلِهِ فِي أَقْصَى المَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ - وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي المَغْرِبِ - قَالَ: وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ العِشَاءَ، قَالَ: وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا، وَالحَدِيثَ بَعْدَهَا، وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلاَةِ الغَدَاةِ، حِينَ يَعْرِفُ أَحَدُنَا جَلِيسَهُ، وَيَقْرَأُ مِنَ السِّتِّينَ إِلَى المِائَةِ "

Narrator: হযরত আবু বারযা আসলামী রাযি.

৫৭২। মুসাদ্দাদ (রাহঃ) .... আবু মিনহাল (রাহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে আবু বারযা আসলামী (রাযিঃ)-এর নিকট গেলাম। আমার পিতা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরয নামাযসমূহ কোন সময় আদায় করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যোহরের নামায যাকে তোমরা প্রথম নামায বলে থাক, সূর্য ঢলে পড়লে আদায় করতেন। আর তিনি আসরের নামায এমন সময় আদায় করতেন যে, আমাদের কেউ সূর্য সজীব থাকতেই মদীনার শেষ প্রান্তে নিজ পরিজনের কাছে ফিরে আসতে পারত। মাগরিব সম্পর্কে তিনি কি বলেছিলেন, তা আমি ভুলে গেছি। তারপর আবু বারযা (রাযিঃ) বলেন, ইশার নামায একটু বিলম্বে আদায় করাকে তিনি পছন্দ করতেন। আর ইশার আগে ঘুমানো এবং পরে কথাবার্তা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর এমন মুহূর্তে তিনি ফজরের নামায শেষ করতেন যে, আমাদের যে কেউ তার পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিকে চিনতে পারত। এ নামাযে তিনি ষাট থেকে একশ’ আয়াত তিলাওয়াত করতেন।

৩৯১। ইশার পর জ্ঞানচর্চা ও কল্যাণকর বিষয়ের আলোচনা।

باب السَّمَرِ فِي الْفِقْهِ وَالْخَيْرِ بَعْدَ الْعِشَاءِ

573

600 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: انْتَظَرْنَا الحَسَنَ وَرَاثَ عَلَيْنَا حَتَّى قَرُبْنَا مِنْ وَقْتِ قِيَامِهِ، فَجَاءَ فَقَالَ: دَعَانَا جِيرَانُنَا هَؤُلاَءِ، ثُمَّ قَالَ: قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: انْتَظَرْنَا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ، حَتَّى كَانَ شَطْرُ اللَّيْلِ يَبْلُغُهُ، فَجَاءَ فَصَلَّى لَنَا، ثُمَّ خَطَبَنَا، فَقَالَ: «أَلاَ إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا ثُمَّ رَقَدُوا، وَإِنَّكُمْ لَمْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاَةَ - قَالَ الحَسَنُ - وَإِنَّ القَوْمَ لاَ يَزَالُونَ بِخَيْرٍ مَا انْتَظَرُوا الخَيْرَ» قَالَ قُرَّةُ: هُوَ مِنْ حَدِيثِ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

Narrator: হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)

৫৭৩। আব্দুল্লাহ ইবনে সাব্বাহ (রাহঃ) ..... কুররা ইবনে খালিদ (রাহঃ) থকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা হাসান বসরী (রাহঃ) এর অপেক্ষায় ছিলাম। তিনি এত বিলম্বে আসলেন যে, নিয়মিত নামায শেষে চলে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসল। এরপর তিনি এসে বললেন, আমাদের এ প্রতিবেশীগণ আমাদের ডেকেছিলেন। তারপর তিনি বললেন, আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন, এক রাতে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর অপেক্ষায় ছিলাম। এমন কি প্রায় অর্ধেক রাত হয়ে গেল, তখন এসে তিনি আমাদের নিয়ে নামায আদায় করলেন। এরপর আমাদের সম্বোধন করে তিনি বললেনঃ জেনে রাখ! লোকেরা নামায আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে, তবে তোমরা যতক্ষণ নামাযের অপেক্ষায় ছিলে ততক্ষণ নামাযেই রত ছিলে।

হাসন বসরী (রাহঃ) বলেন, মানুষ যতক্ষণ কল্যাণের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ তারা কল্যাণেই রত থাকে। কুররা (রাহঃ) বলেন, এ উক্তি আনাস (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাদীসেরই অংশ।
574

601 - حَدَّثَنَا أَبُو اليَمَانِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، وَأَبُو بَكْرٍ ابْنُ أَبِي حَثْمَةَ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، قَالَ: صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاَةَ العِشَاءِ فِي آخِرِ حَيَاتِهِ، فَلَمَّا سَلَّمَ، قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «أَرَأَيْتَكُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ، فَإِنَّ رَأْسَ مِائَةٍ، لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ اليَوْمَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ أَحَدٌ» فَوَهِلَ النَّاسُ فِي مَقَالَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِلَى مَا يَتَحَدَّثُونَ مِنْ هَذِهِ الأَحَادِيثِ، عَنْ مِائَةِ سَنَةٍ، وَإِنَّمَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ [ص:124]: «لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ اليَوْمَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْضِ» يُرِيدُ بِذَلِكَ أَنَّهَا تَخْرِمُ ذَلِكَ القَرْنَ

Narrator: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)

৫৭৪। আবুল ইয়ামান (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) থকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার তাঁর শেষ জীবনে ইশার নামায আদায় করে সালাম ফিরাবার পর বললেনঃ আজকের এ রাত সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কি? আজ থেকে নিয়ে একশ’ বছরের মাথায় আজ যারা ভূ-পৃষ্ঠে আছে তাদের কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। কিন্তু সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ‘একশ’ বছরের’ এ উক্তি সম্পর্কে নানাবিধ জল্পনা-কল্পনা করতে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আজকে যারা জীবিত আছে তাদের কেউ ভূ-পৃষ্ঠে থাকবে না। এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, এ শতাব্দী ঐ যুগের পরিসমাপ্তি ঘটাবে।

৩৯২। পরিবার-পরিজন ও মেহমানের সাথে রাতে কথাবার্তা বলা।

باب السَّمَرِ مَعَ الضَّيْفِ وَالأَهْلِ

575

602 - حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو عُثْمَانَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ أَصْحَابَ الصُّفَّةِ، كَانُوا أُنَاسًا فُقَرَاءَ وَأَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ كَانَ عِنْدَهُ طَعَامُ اثْنَيْنِ فَلْيَذْهَبْ بِثَالِثٍ، وَإِنْ أَرْبَعٌ فَخَامِسٌ أَوْ سَادِسٌ» وَأَنَّ أَبَا بَكْرٍ جَاءَ بِثَلاَثَةٍ، فَانْطَلَقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَشَرَةٍ، قَالَ: فَهُوَ أَنَا وَأَبِي وَأُمِّي - فَلاَ أَدْرِي قَالَ: وَامْرَأَتِي وَخَادِمٌ - بَيْنَنَا وَبَيْنَ بَيْتِ أَبِي بَكْرٍ، وَإِنَّ أَبَا بَكْرٍ تَعَشَّى عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ لَبِثَ حَيْثُ صُلِّيَتِ العِشَاءُ، ثُمَّ رَجَعَ، فَلَبِثَ حَتَّى تَعَشَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَجَاءَ بَعْدَ مَا مَضَى مِنَ اللَّيْلِ مَا شَاءَ اللَّهُ، قَالَتْ لَهُ امْرَأَتُهُ: وَمَا حَبَسَكَ عَنْ أَضْيَافِكَ - أَوْ قَالَتْ: ضَيْفِكَ - قَالَ: أَوَمَا عَشَّيْتِيهِمْ؟ قَالَتْ: أَبَوْا حَتَّى تَجِيءَ، قَدْ عُرِضُوا فَأَبَوْا، قَالَ: فَذَهَبْتُ أَنَا فَاخْتَبَأْتُ، فَقَالَ يَا غُنْثَرُ فَجَدَّعَ وَسَبَّ، وَقَالَ: كُلُوا لاَ هَنِيئًا، فَقَالَ: وَاللَّهِ لاَ أَطْعَمُهُ أَبَدًا، وَايْمُ اللَّهِ، مَا كُنَّا نَأْخُذُ مِنْ لُقْمَةٍ إِلَّا رَبَا مِنْ أَسْفَلِهَا أَكْثَرُ مِنْهَا - قَالَ: يَعْنِي حَتَّى شَبِعُوا - وَصَارَتْ أَكْثَرَ مِمَّا كَانَتْ قَبْلَ ذَلِكَ، فَنَظَرَ إِلَيْهَا أَبُو بَكْرٍ فَإِذَا هِيَ كَمَا هِيَ أَوْ أَكْثَرُ مِنْهَا، فَقَالَ لِامْرَأَتِهِ: يَا أُخْتَ بَنِي فِرَاسٍ مَا هَذَا؟ قَالَتْ: لاَ وَقُرَّةِ عَيْنِي، لَهِيَ الآنَ أَكْثَرُ مِنْهَا قَبْلَ ذَلِكَ بِثَلاَثِ مَرَّاتٍ، فَأَكَلَ مِنْهَا أَبُو بَكْرٍ، وَقَالَ: إِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ مِنَ الشَّيْطَانِ - يَعْنِي يَمِينَهُ - ثُمَّ أَكَلَ مِنْهَا لُقْمَةً، ثُمَّ حَمَلَهَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَصْبَحَتْ عِنْدَهُ، وَكَانَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمٍ عَقْدٌ، فَمَضَى الأَجَلُ، فَفَرَّقَنَا اثْنَا عَشَرَ رَجُلًا، مَعَ كُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ أُنَاسٌ، اللَّهُ أَعْلَمُ كَمْ مَعَ كُلِّ رَجُلٍ، فَأَكَلُوا مِنْهَا أَجْمَعُونَ، أَوْ كَمَا قَالَ

Narrator: আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাঃ)

৫৭৫। মাহমুদ (রাহঃ) .... আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, আসহাবে সুফফা ছিলেন খুবই দরিদ্র। (একদা) নবী (ﷺ) বললেনঃ যার কাছে দু’জনের আহার আছে সে যেন (তাঁদের থেকে) তৃতীয় জনকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। আর যার কাছে চারজনের আহারের সংস্থান আছে, সে যেন পঞ্চম বা ষষ্ঠজন সঙ্গে নিয়ে যায়। আবু বকর (রাযিঃ) তিনজন সাথে নিয়ে আসেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দশজন নিয়ে আসেন। আব্দুর রহমান (রাযিঃ) বলেন, আমাদের ঘরে এবং আবু বকরের ঘরে আমি, আমার পিতা ও মাতা (এই তিন জন সদস্য) ছিলাম। রাবী বলেন, আমি জানিনা, তিনি আমার স্ত্রী এবং খাদিম একথা বলেছিলেন কি না?
আবু বকর (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘরেই রাতের আহার করেন এবং ইশার নামায পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। ইশার নামাযের পর তিনি আবার (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ঘরে) ফিরে আসেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর রাতের আহার শেষ করা পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। আল্লাহর ইচ্ছায় কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর বাড়ী ফিরলে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, মেহমানদের কাছে আসতে কিসে আপনাকে ব্যস্ত রেখেছিল? কিংবা তিনি বলেছিলেন, (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) মেহমান থেকে। আবু বকর (রাযিঃ) বললেন, এখনও তাদের খাবার দাওনি? তিনি বললেন, আপনি না আসা পর্যন্ত তারা খেতে অস্বীকার করেন। তাদের সামনে হাযির করা হয়েছিল, তবে তারা খেতে সম্মত হননি।
আব্দুর রহমান (রাযিঃ) বলেন, (পিতার তিরষ্কারের ভয়ে) আমি সরে গিয়ে আত্মগোপন করলাম। তিনি (রাগান্বিত হয়ে) বললেন, ওরে বোকা এবং ভর্ৎসনা করলেন। আর (মেহমানদের) বললেন, খেয়ে নিন। আপনারা অস্বস্তিতে ছিলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি এটা কখনই খাব না। আব্দুর রহমান (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমরা লুকমা উঠিয়ে নিতেই নীচ থেকে তা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, সকলেই পেট ভরে খেলেন। অথচ আগের চাইতে অধিক খাবার রয়ে গেল।
আবু বকর (রাযিঃ) খাবারের দিকে তাকিয়ে দেখেতে পেলেন তা আগের সমপরিমাণ কিংবা তার চাইতেও বেশী। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, হে বনু ফিরাসের বোন। এ কি? তিনি বললেন, আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এতো এখন আগের চাইতে তিনগুণ বেশী! আবু বকর (রাযিঃ)-ও তা থেকে আহার করলেন এবং বললেন, আমার সে শপথ শয়তানের পক্ষ থেকেই হয়েছিল। এরপর তিনি আরও লুকমা মুখে দিলেন এবং অবশিষ্ট খাবার নবী (ﷺ) এর দরবারে নিয়ে গেলেন।
ভোর পর্যন্ত সে খাদ্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সেখানেই ছিল। এদিকে আমাদের ও অন্য একটি গোত্রের মাঝে যে সন্ধি ছিল তার সময়সীমা পূর্ণ হয়ে যায়। (এবং তারা মদীনায় আসে) আমরা তাদের বারজনের নেতৃত্বে ভাগ করে দেই। তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই কিছু কিছু লোক ছিল। তবে প্রত্যেকের সঙ্গে কতজন ছিল তা আল্লাহই জানেন। তারা সকলেই সেই খাদ্য থেকে আহার করেন। (রাবী বলেন) কিংবা আব্দুর রহমান (রাযিঃ) যেভাবে বর্ণনা করেছেন।