হুযূর ﷺ-এর দাফনে বিলম্ব
Question
হাদীস শরীফে আছে মানুষ ইন্তিকালের পরে বিলম্ব না করে তাড়াতাড়ি দাফন করবে। কিন্তু শুনা যায় হুযূর ﷺ –কে তিনদিন পর দাফন করা হয়েছে। এর কারণ কি?
Answer
হ্যাঁ, মাসআলা সহীহ। কোন মানুষের ইন্তিকালের পর যত শীঘ্র তার দাফনের ব্যবস্থা করা তার অভিভাবকদের জন্য জরুরী এবং এটাই শরী‘আতের বিধান। আমাদের দেশে বিভিন্ন কারণে দাফনে বিলম্ব করা হয় যা শরী‘আতে মাকরুহে তাহরীমী ও নাজায়িয, যেমন- তার চেহারা দেখানোর জন্য কয়েক ঘন্টা দেরী করা হয়। তার ছেলে বা অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন দূর-দূরান্ত থেকে পৌঁছার জন্য দেরী করা হয়। কখনও কয়েক ঘন্টা পরে জুমু‘আ বা কোন জামা’আতের পর অধিক লোক জানাযার জামা’আতে শরীক হতে পারবে এ আশায় দেরী করা হয়, অথচ ঐ ওয়াক্তের পূর্বেই দাফন কার্য সহজেই শেষ করা সম্ভব ছিল। আবার কখনো মাইয়্যিতের লাশ এক দেশ থেকে বা শহর থেকে অন্যত্র স্থানান্তর করতে গিয়ে দাফনে বিলম্ব হয় অথচ এসব সুরতে দাফনে বিলম্ব করা শরী‘আতে নিষেধ।
হুযূর ﷺ-এর দাফনে দেরী হওয়ার কারণ
সোমাবার দুপুর বেলা হুযূর ﷺ ইন্তিকাল করেন। অধিকাংশের মতে মঙ্গবার দিবাগত রাত্রে হুযূর ﷺ –এর দেহ মুবারক সমাহিত করা হয়। কেউ মঙ্গবার আবার কেউ বুধবার এর কথা উল্লেখ করেছে। মূলত এ দেরী ওফাত নিশ্চিত এবং নামাযে জানাযার জন্য হয়েছে, আর এ জরুরতে যতটুকু সময় লাগে তাতো দিতেই হবে। খামাখা দাফনে কোন বিলম্ব হয়নি, যা বিলম্ব হয়েছে দীর্ঘক্ষণ ব্যাপী লোকদের জানাযার নামায পড়ার জন্যই হয়েছে। হুযূর ﷺ দীর্ঘ ২৩ বৎসর যে শিক্ষা-সংস্কৃতি ও উত্তম আদর্শের নজীর স্থাপন করে গেছেন, তাকে টিকিয়ে রাখার জন্য খলীফা নিযুক্ত করা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ কাজটি সমাধার জন্য হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযি. হযরত উমর ফারুক রাযি. এর ন্যায় বড় বড় সাহাবীগণ খলীফা নির্বাচনে ব্যস্ত থাকায় হযরত আলী রাযি. প্রমুখগণ গোসল, কাফন ইত্যাদি আনজাম দেন তবে দাফনে দেরী হয় এ কারণে যে, হুযূর ﷺ ইন্তেকাল করেছেন একথা প্রথমে অনেকেরই বিশ্বাস হয়নি। হুযূরের ﷺ ইন্তিকালের ব্যাপারে সকলের বিশ্বাস হতেও অনেক বিলম্ব হয়েছে। এমনকি হযরত উমর রাযি. একথা ঘোষণাই করেছিলেন, যে ব্যক্তি বলবে মুহাম্মদ ﷺ ইন্তিকাল করেছেন তাকে তলোয়ার দ্বারা দ্বিখণ্ডিত করে ফেলবো।।
দ্বিতীয় কারণ হলো, হুযূর ﷺ-এর জানাযার নামায পড়তে অনেক সময় ব্যয় হয়েছে। কারণ হুযূর ﷺ-এর জানাযায় কেউ ইমাম হয়ে নামায পড়েন নি। বরং দু’চার জন করে হযরত আয়েশা রাযি.-এর হুযূরায ঢুকেছেন এবং সকলেই একা একা নামায পড়েছেন। হাজার হাজার সাহাবীর রাযি. এভাবে অল্প জায়গায় নামায পড়তে অনেক সময় লেগেছে। এ সকল কারণে হুযূর ﷺ-এর দাফন কাজে বিলম্ব হয়েছে। সুতরাং এর উপর অন্য কাউকে তুলনা করা সহীহ হবে না।
বর্তমানে লাশ দূরবর্তী স্থানে স্থানান্তর করা এবং জানাযা ও দাফনে ২/১ দিন দেরী হওয়া রেওয়াজে পরিণত হয়ে গেছে, এমনকি অনেক আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিদের সাথে তার আত্মীয়-স্বজনগণ এরুপ আচরণ শুরু করেছে। এহেন মুহুর্তে এ বদ রসমকে বন্ধ করার জন্য তৎপর হওয়া এবং ওসীয়তনামা লিখে যাওয়া উচিত।
[প্রমাণঃ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫;২৬০# জুরকানী শরহে মুয়াত্তা ২:১৬# আসাহহুল সিয়ার ৫৪৪ # সীরাতে মুস্তফা ৩:১৮৭-১৮৯]