Masail
100%

পুরুষ ও মহিলা শিক্ষকের সমন্বয়ে মহিলা মাদরাসা করা

Question

বর্তমান যামানায় মহিলাগণ বেপর্দাভাবে বিভিন্ন স্কুল-কলেজও এনজিওদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের ঈমানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন, মুহূর্তে বালেগা মহিলা মাদরাসা করে আবাসিকভাবে তাদেরকে দ্বীনী শিক্ষা দেয়া শরী‘আতের দৃষ্টিতে কোন অসুবিধা আছে কিনা? উস্তাদ যদি মহিলা হয় কিংবা কোন পুরুষ উস্তাদ পর্দা রক্ষা করে সাউন্ডবক্স এর মাধ্যমে শিক্ষা দিতে পারবেন কিনা?

Answer

ফরযে আইন পরিমাণ দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা সকল মুসলিম নর-নারীর উপর ফরয। এই ফরয আদায়ের জন্য ছেলে-মেয়ে সকলের জন্য ব্যবস্থা থাকা জরুরী। কারণ, সকল মাতাপিতা এতটুকু দ্বীনী জ্ঞান রাখেন না, যার দ্বারা নিজের ছেলে মেয়েদের ফরযে আইন পরিমাণ ইলমে দ্বীন শিক্ষা দিতে পারেন। উক্ত জরুরতের প্রেক্ষিতে নাবালিগা অল্প বয়স্কা মেয়েদের জন্য মাদরাসা করার ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। অনুরূপভাবে বালিকা মহিলাদের জন্যও শর‘ঈ পর্দা রক্ষার পুর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা করে নিরাপদ ও ঘরোয়া পরিবেশে মকতব বা মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা জায়িয আছে। হাদীস শরীফে এর সমর্থন পাওয়া যায়। যেমন, ইমাম বুখারী রহ. স্বীয় হাদীস গ্রন্থ বুখারী শরীফে মহিলাদের শিক্ষাদান প্রসঙ্গে একটি ভিন্ন অধ্যায় কায়িম করেছেন এবং এর আওতায় ঐ সব হাদীস উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর মধ্যে মহিলাদের একটি নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত করে ইলম দ্বীন শিক্ষা দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়ছে। (বুখারী ১ম খন্ড ২০ পৃঃ) তবে বালিগা মেয়েদের জন্য মহিলা মাদরাসা করা খুবই ঝুকিপূর্ণ কাজ। পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন না করলে, এতে বিপরীত হওয়া সম্ভাবনাই বেশী। তাই মহিলাদের জন্য আবাসিক বা অনাবাসিক মাদরাসা কায়িম করতে হলে, তার জন্য নিম্মের শর্ত দু’টি পূরণ করতে হবেঃ

(১) হক্কানী উলামায়ে কিরামের সঙ্গে পরামর্শপূর্বক তাদের সক্রিয় তত্ত্বাবধানে মহিলা মাদরাসা কায়িম করা। কেননা মহিলাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন রকমের ফিতনার আশংকা থাকে। তত্ত্বাতধায়ক আলেম কোন ফিতনা বা কোন রকম খিলাপে শরা কাজ যাতে না হয়, বা দুর্ঘটনা না ঘটে, তার প্রতি সর্বদা সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন এবং দেখাশুনা করবেন ও খবরাখবর নিবেন। তিনি সব ধরনের জটিলতা ও সমস্যার সমাধান করবেন।

(২) ছাত্রীদের তালীম ও তরবিয়্যত এবং তাদের দেখাশুনায় দক্ষ মহিলা শিক্ষিকা দ্বারা মাদরাসা আভ্যন্তরীন কাযর্কলাপ পরিচালনা করা। প্রয়োজনে বয়স্ক, আলেম, বিবাহিত, পরহেজগার, মুত্তাকী পুরুষ শিক্ষকদের দ্বারাও পর্দার ব্যবস্থা করে মহিলাদের দ্বীনী তালীম দেয়া যেতে পারে। [কিফায়াতুল মুফতী ২:৩৫]