অবৈধ গর্ভকে ঔষধের মাধ্যমে নষ্ট করা

Question

কোন ব্যক্তি কোন এক মহিলাকে ভালবাসে এবং তাদের উভয়ের মধ্যে বিবাহের প্রতিক্ষা আছে। কিন্তু বিবাহের পুর্বেই তাদের মিলামিশার কারণে পেটে সন্তান চলে আসে। বিবাহের বয়স ৪ মাস, আর পেটের সন্তানের বয়স ৫ মাস। এ অবস্থায় সন্তান জারজ হয়, তাহলে ঔষধের মাধ্যমে সন্তান নষ্ট করা জায়িয হবে কি না? আর শরী‘আত মুতাবিক তাদের উভয়ের জন্য কোন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে কিনা?

Answer

বিবাহ আগে এসব ভালবাসা হারাম এবং পরিণাম অত্যন্ত খারাপ। সন্তানটি যদি বিবাহের ছয় মাস পরে জম্ম গ্রহণ করে, তাহলে তাকে বৈধ সন্তান হিসাবে গণ্য করা হবে। কোন সন্তান যদি বিবাহের পর ছয় মাসের কমে জম্মগ্রহণ করে তাহলে সন্তানটি বংশসূত্র পিতার থেকে সাবিত হবে না। বরং জারজ সন্তান বলে বিবেচিত হবে। তবে পিতা যদি উক্ত সন্তানকে নিজের সন্তান বলে দাবী করে এবং যীনার কথা স্বীকার না করে, তাহলে তার থেকে নসব সাবিত হবে। তবে যিনার কথা স্বীকার করলে, তার থেকে সন্তানের বংশসূত্র প্রমাণ হবে না । তবে মেয়েটির বিবাহ তার সঙ্গে বৈধ হয়েছে।

সন্তানের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যদি গঠিত হয়ে যায় এবং প্রাণ এসে যায় (যার সময় সীমা ১২০ দিন অর্থাৎ চার মাস), এমতাবস্থায় গর্ভপাত ঘটানোর জায়িয নয়। ৫ মাসের গর্ভপাত ঘটানো জায়িয নয়। ৫ মাসের গর্ভপাত করানো জায়িয নয়।

যিনাকারী মহিলা পুরুষ যদি বিবাহিতা হয় এবং তাদের এ অপকর্মের উপর প্রত্যক্ষদর্শী চারজন পুরুষ স্বাক্ষী থাকে বা তারা নিজেরা স্বীকার করে, তাহলে শর‘ঈ বিধান হল, তাদেরকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করা। আর যদি অবিবাহিতা হয়, তাহলে একশত বেত্রাঘাত করা। এটাই শর‘ঈ হদ (শাস্তি)। কিন্তু প্রকাশ থাকে যে শর‘ঈ হদ প্রয়োগ করার জন্য দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামী হুকুমত থাকা আবাশ্যক। যেহেতু আমাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শরী‘আত অনুযায়ী ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত নেই, তাই শরী‘আতের উল্লেখিত দণ্ডবিধি কার্যকর করা যাবে না। তবে তা‘জীর বা সাধারণ শাস্তি হিসাবে স্থানীয় প্রশাসনের চেয়ারম্যান- মেম্বার, স্থানীয় ও গণ্যমান্য মুরব্বী ব্যক্তিবর্গ হক্কানী মুফতীগণের তত্ত্বাবধের অনুর্ধ ৩৯ টি বেত্রাঘাত ইত্যাদি মেরে শাস্তি দিতে পারবেন। যাতে করে সমাজে এ ধরণের অপরাধ বাড়তে প্রয়াস না পায়।

[প্রমাণঃ ফাতাওয়া রাহীমিয়া ৬:২৭৫, যখীরা ৫:৩২৯, ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪:২০২-৩ পৃ. ফাতাওয়া দারুল উলূম ১১-১৯-৪৩ পৃ. হিদায়া ২:৪৩২ পৃ. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী ১:৫৩৬-৫৪০ পৃ. ইমদাদুল মুফতীন ৫২৪ পৃ. ফাতাওয়ায়ে মাহমূদিয়া ৩:২৬১-২৭৭ পৃ.]