জুমু‘আর নামাযের শরঈ হুকুম
Question
জুমু‘আর নামাযের যাবতীয় শর্ত পাওয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে জুমু‘আর নামায প্রতিটি ব্যক্তির উপর ফরযে আইন, ওয়াজিব, না সুন্নাত? বর্তমান অবস্থায় জুমু‘আর নামাযের সমস্ত শর্ত পাওয়া যাওয়ার পরে স্বেচ্ছায় কেউ জুমু‘আর নামায তরক করে যুহরের নামায আদায় করলে, সে ফরযে আইন তরককারী সাব্যস্ত হবে কি-না?
বর্তমান বাংলাদেশের সর্বত্র যেমন-শহর, বন্দর ও বাজার তথা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত জুমু‘আর নামায চালু আছে। এটা কি হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সম্পূর্ণ জায়িয?
Answer
আমাদের জানা মতে, বাংলাদেশের অধিকাংশ স্থান এমন যেখানে শহরের বা বড়গ্রামের সংজ্ঞা প্রযোজ্য হয়। তাই আমরা বলব, আমাদের দেশের অধিকাংশ স্থানে জুমু‘আ ফরয এবং যদি এমন কোন দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চল পাওয়া যায়, যা শহর বা বড় গ্রামের সংজ্ঞায় পড়ে না, তাহলে তথায় জুমু‘আ সহীহ হবে না। সেখানে যোহর পড়া জরুরী।
যে জায়গায় জুমু‘আর শর্ত পাওয়া যায়, সে জায়গায় জুমু‘আর নামায পড়া বালেগ পুরুষের জন্য ফরজে আইন।[প্রমাণঃ আদ-দুররুল মুখতার ২:১৩৭ পৃঃ]
ইচ্ছাকৃতভাবে জুমু‘আ তরক করা হারাম। যে তরক করবে, সে ফাসিক। [প্রমাণঃ ফাতাওয়া দারুল উলূম ৫:১১৮ ,৫:৫৬পৃঃ]
জুমু‘আ তরক করায় দরুন মারাত্মক গুনাহগার হবে। এমনকি হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে- যে ব্যক্তি বিনা কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে তিন জুমু‘আ না পড়ে, আল্লাহ তা‘আলা তার অন্তর মুনাফেকীর মহর মেরে দেন। [মিশকাত ১:১২১# ফাতাওয়া শামী ২:৩৭পৃঃ]
পূর্বে উল্লেখ হয়েছে যে, বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকা শহর বা বড় গ্রামের আওতায় পড়ে। সুতরাং, সেখানে জুমু‘আ পড়া জরুরী।
বিঃদ্রঃ শহর ও বড় গ্রামের সংজ্ঞা অন্যত্র বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।