শুধু পীরের মুহব্বতেই কি আত্মশুদ্ধি হয়ে যায়
Question
অনেকে বিশেষ আল্লাহওয়ালাদের সাথে মুহাব্বত রাখেন। মাঝে মধ্যে যাতায়াত করে হাদিয়া পেশ করেন। পীর সাহেবও তাকে খুব আদর আপ্পায়ন করেন কিন্তু ঐ ব্যক্তি পীর সাহেব এর নিকট নিজের অন্তরের রোগের কথা বলে কোন চিকিৎসা নেন না। তাহলে তার উল্লেখিত কাজটি আত্মশুদ্ধির মধ্যে গণ্য হবে? না কি তার জন্য ভিন্নভাবে আত্মশুদ্ধি করাতে হবে।
Answer
কোন ব্যক্তি কোন বুযুর্গের দরবারে খুব আসা যাওয়া করেন, সেই বুযুর্গ ও তাকে আদর আপ্যায়ন করেন কিন্তু উক্ত ব্যক্তি অন্তরের দশটি রোগ থেকে আত্মার পরিশুদ্ধির জন্য সেই বুযুর্গের নিকট নিজের অবস্থা পেশ করে তার থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে না, এ ব্যক্তির আত্মশুদ্ধি হবে না বরং তার আত্মার রোগ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে, ঐ ব্যক্তির উদাহরণ ঐ শারীরিক রোগীর ন্যায় যে দেশের শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানীর সাথে উঠা বসা করে ঠিক, মুহাব্বত করে তার বাড়ীতে খাওয়া দাওয়াও করে কিন্তু তার নিকট ধ্বংসাত্মক রোগের কথা প্রকাশ করে তার থেকে উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করে না। এটা খুবই স্পষ্ট এবং স্বতসিদ্ধ বিষয় যে, এই রোগী যদি সারাটা জীবনও ঐ ডাক্তারের সংস্পর্শে কাটিয়ে দেয়, তথাপিও তার ঐ সমস্ত রোগের চিকিৎসা কখনো হবে না। কারণ, ডাক্তার তার রোগ সম্পর্কে অবগত নয় বা অবগত হলেও যতক্ষণ সে নিজেকে নিজে রোগী হিসাবে পেশ না করে ডাক্তার তার চিকিৎসা করে না, এটাই ডাক্তারদের চিরাচরিত নিয়ম যে, ডাক্তার যদি রোগীর সাথীর মধ্যে কোন রোগ লক্ষ্য করেন কিন্তু ঐ ব্যক্তি সেই রোগের চিকিৎসা না চায় তো ডাক্তার নিজের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসা পত্র লিখেন না। ঠিক তদ্রুপ কোন আল্লাহওয়ালার দরবারে যদি কারো সারাটা জীবনও কেটে যায়, আর সে ঐ বুযুর্গকে নিজের আত্মিক ব্যাধির সম্পর্কে অবহিত না করে শুধু খেদমতই করতে থাকে, এর দ্বারা তার আত্মার রোগের চিকিৎসা তথা আত্মশুদ্ধি কখনোই সম্ভব নয়। বরং বুযুর্গের আদর আপ্যায়নে তার নফস ফুলে সে অহংকারে লিপ্ত হতে পারে যে অমুক বুজুর্গ আমাকে এত মুহাব্বত করেন তাহলে নিশ্চয় আমার মধ্যে বিশেষ গুণ আছে নতুবা তিনি কেন আমাকে এত সম্মান দেখান। তার বুঝা উচিত এটাতো এই ব্যক্তি মেহমানের সম্মান দেখানোর জন্য করে থাকেন যা হাদীসের নির্দেশ, চাই ঐ মেহমান যে দরজার হোক না কেন? সুতরাং তার দ্বারা নিজেকে বুজুর্গ ভাবা বেওকুবী ছাড়া আর কি?
তাই তাদের জন্য তাযকিয়া তথা আত্মশুদ্ধির পূর্ণতা অর্জন করতে হলে কোন একজনকে ইসলাহী মুরব্বী মেনে তার নিকট থেকে আত্মার দশটি রোগের চিকিৎসার মাধ্যমে জাহেরী গুনাহ তরক করে অন্তরের ১০টি ভাল গুণ অর্জন ও সর্বক্ষণ আল্লাহর ধ্যান ও স্মরণ রাখার সিফাত হাসিল করতে হবে, আর এটাই অভিজ্ঞতা সর্ব স্বীকৃত তরীকা। [প্রমাণ ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৫/৮৮]