মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি বিক্রি করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেবJanuary 4, 2026কসম ও মান্নত

Question

জনৈক ব্যক্তি তার কিছু জমি মসজিদ ও গরীবদের জন্য ওয়াকফ করে। কিন্তু বেশ কিছু দিন পর তাঁর একজন পুত্র উক্ত জমি বিক্রি করে সে তার ছেলেকে বিদেশে পাঠায়। এবং ঐ ছেলে বিদেশে গিয়ে উক্ত টাকা দিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, উক্ত জমির মূল্য ৪০,০০০ টাকা এবং জমির পরিমাণ চারকাঠা কিন্তু বর্তমানে উক্ত টাকা দ্বারা ঐ পরিমান জমি কেনা আদৌ সম্ভব নয়। এই জন্য উক্ত টাকা দ্বারা বর্তমানে কিছু জমি বন্ধক রাখা হয়েছে। শরী‘আতের দৃষ্টিতে জমি বন্ধক রাখার হুকুম কি? এবং এই টাকা দ্বারা কি জমি বন্ধক রাখা ঠিক হয়েছে কি না। এবং বর্তমানে এই টাকা দ্বারা কি করলে ভাল হবে। সেই বিষয়ে পরামর্শ দানে বাধিত করবেন।

Answer

শরী‘আতের দৃষ্টিতে ওয়াকফকৃত জমি শর‘ঈ কারণ ব্যতীত পরিবর্তন বা বিক্রি করা জায়েয নাই। বরং বিক্রি করলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। এবং কিয়ামত পর্যন্ত সে জমি ওয়াকফকৃত জমি হিসাবেই বহাল থাকবে। সুতরাং, কেউ ওয়াকফকৃত জমি বিক্রি করে দিলে তার দায়িত্ব হল ক্রেতাকে যেভাবেই হোক বুঝিয়ে ও অনুরোধ করে তার টাকা ফিরিয়ে দিয়ে জমি ফিরিয়ে নেওয়া। আর বেচা-কেনা নাজায়েয হওয়ার কারণে ক্রেতার উপরও জমি ফিরিয়ে দেওয়া জরুরী এবং ইতিপূর্বে যতদিন সে উক্ত জমি ভোগ করছে, ততদিনের ভাড়া পরিশোধ করে দেয়া, অন্যথায় সে গুনাহগার হবে।

আর এলাকার মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব হল, তারা তাদের সামর্থ্য এবং ক্ষমতানুযায়ী চেষ্টা করবে, যেন ওয়াকফকৃত জমিটি ক্রেতার হাত থেকে উদ্ধার করে তার প্রকৃত খাতে অর্থাৎ মসজিদ এবং গরীবদের প্রয়োজনে ব্যবহার হয়।

আমাদের দেশে জমি বন্ধক রাখার যে প্রচলিত নিয়ম আছে অর্থাৎ কিছু টাকার বিনিময়ে জমি বন্ধক রাখার পর যতদিন জমির মালিককে সম্পূর্ণ টাকা শোধ করতে না পারবে, ততদিন গ্রহীতা জমির উৎপন্ন ফসল ভোগ করবে, তা শরী‘আতের দৃষ্টিতে নাজায়েয ও সুদের কারবার। কেননা, শরী‘আতে বন্ধক গ্রহণকারীর বন্ধকের জিনিস ভোগ করা, বা তা থেকে কোন প্রকার ফায়দা হাসিল করা সুদ ও হারাম। তাই প্রশ্নে বর্ণিত ওয়াকফকৃত জমির টাকা দিয়ে জমি বন্ধক রাখা নাজায়েয হয়েছে। (প্রমাণঃ দুররে মুখতার ৪:৩৫১, শামী ৪:৩৯৬, হিদায়া ২:৬৪১, রদ্দুল মুহতার ৫:৫৭, ফাতাওয়া রাহীমিয়াহ ৯: ১৭২, ফাতাওয়া রশিদিয়াহ ৫০৬ পৃঃ, আহসানুল ফাতাওয়া ৮:৪৯৮)