জান্নাতের আমল না করে পীরের উপর ভরসা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেবJanuary 5, 2026ঈমান আক্বাইদ, আত্মশুদ্ধি, বিবিধ

Question

অনেকে মনে করে কোন আল্লাহওয়ালা শাইখের হাতে হাত দিয়ে বাই‘আত হয়ে গেলে আমল না করলেও তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। কারন ঐ পীর তার কবরের সাওয়ালের জওয়াব দিয়ে দিবে এবং হাশরের ময়দানে পুলসিরাত হাত ধরে পার করে দিবে। এ ধারণার কারনেই তারা আর পীরের সাথে নিয়মিত সম্পর্ক রেখে আত্নশুদ্ধির কোন ফিকির করে না। তাদের এ ধারণার কোন ভিক্তি আছে কি?

Answer

কোন পীরের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক কায়েম করার মাকসাদ হল যে, পীর সাহেব আল্লাহর হুকুম ও রাসূল ﷺ-এর হুকুম আহকাম মুতাবিক নির্দেশনা দিবেন। আর মুরীদ সেই মুতাবিক আমল করে নিজের জীবনকে হুযূর ﷺ- এর আদর্শে আদর্শবান করে তুলবেন। এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব হবেন। পীর-মুরীদের মধ্যে উদ্দেশ্য আল্লাহকে পাওয়া, পীর শুধু আল্লাহকে পাওয়ার জন্য মাধ্যম। তিনি দুনিয়া ও আখেরাতের কোন বিষয়ের মালিক বা স্বয়ং সম্পন্ন নন। তিনি ইচ্ছা করলে মুরীদকে যা কিছু দিতে চান তা দিতে পারেন না। নবী ﷺ স্বীয় চাচার হেদায়েত চেয়েছিলেন আরো অন্য আত্নীয়স্বজনের হেদায়েত চেয়েছিলেন কিন্তু আল্লাহর ফয়সালা হয় নাই বলে নবী ﷺ-এর শত চেষ্টা সত্ত্বেও তারা হেদায়েত পায় নাই, তাহলে পীর বেচারা নিজের ইচ্ছা মাফিক মুরীদকে কী দিতে পারে? তিনি তো শুধু সহীহ রাস্তা দেখানোর মালিক। এ পর্যন্ত তার দায়িত্ব শেষ।

হাদীসে রয়েছে, انما الاعمال بالخواتيم (নিশ্চয়ই সকল আমল শেষ পরিণামের উপর নির্ভরশীল) যার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, যে ঈমান সহ মৃত্যুবরন করতে পারল সেই কামিয়াব।

কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে,

فَمَن زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ

এর আলোকে প্রতীয়মান হয়, যে জান্নাতে যেতে পারলো সেই কামিয়াব। আর কেউ বলতে পারে না যে তার মৃত্যু কিসের উপর হবে। হুযূর ﷺ- এর সমস্ত গুনাহ মাফ, তিনি নিষ্পাপ তা সত্ত্বেও বলেছেন,

والله لا ادرى والله لا ادرى وانا رسول الله ما يفعل بي ولا بكم

আল্লাহর কসম আমি রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না আমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করা হবে। রাসূল ﷺ -এর চেয়ে বড় পীর আর কে হতে পারে? তিনি স্বয়ং নিজের প্রাণাধিক প্রিয় কন্যা কলিজার টুকরা হযরত ফাতেমা রাযি.-কে বলেছেন,

فاطمة انقذى نفسك من النار

হে ফাতেমা! তুমি তোমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও। অর্থাৎ নিজেই নিজের নফসের ইসলাহ করো, শরী‘আতের পাবন্দী কর, বাবা নবী বলে আমল ছেড়ে বাবার উপর ভরসা করে বসে থেকো না। [কসদুস সাবিল পৃঃ-১২]

উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হল যে, হাক্কানী পীরের হাতে হাত দিয়ে বাই‘আত হলেই নাজাতের জন্য যথেষ্ট না বরং হক্কানী পীরের নির্দেশ অনুযায়ী নিজের আমল নিজে করে জান্নাতের সামান নিজেরই প্রস্তুত করে যেতে হবে। পীর সাহেব আখেরাতের মুআমালায় কোন অধিকার রাখেন না। সুতরাং পীর সাহেব ইচ্ছা করলেই মুরীদকে জান্নাতে পৌঁছাতে পারবেন না। কবরে মুনকার নাকীরের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিবেন না। এসব বাতিল ধারণা ও কুসংস্কার মাত্র। উল্লেখ্য, পীর সাহেব নিজে বেহেশতে যাবেন তার কি গ্যারান্টি আছে? তাহলে অন্যকে কিভাবে বেহেশতে নেয়ার দায়িত্ব তিনি নিতে পারেন? কোন হক্কানী পীর এ ধরনের দায়িত্ব কখনো নিতে পারেন না। হাশরের ময়দানে নবীদের পিত্তা পানি হয়ে যাবে, হে আল্লাহ সালামত দাও এ দুআ করতে থাকবে। সেখানে পীর বেচারার কি অধিকার থাকবে? সুতরাং এ ধরনের গলদ আকীদা থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। [প্রমাণঃ মিশকাত শরীফঃ ২/৪৫৬, ৪৬০]