Masail
100%

পিতা-মাতার অবাধ্য স্ত্রীর হুকুম

Question

আমি বিয়ে করেছি বিগত কয়েক মাস পূর্বে। আমার স্ত্রী বিয়ের পর থেকে আমার আব্বা ও আম্মার কথা শুনছে না। এমন কি আমার খুমন যেভাবে চায়, সেভাবেও চলছে না। কয়েক বার বিচার করার পরও সে শুধু ক্ষমা চেয়ে যাচ্ছে। কয়েকবার ক্ষমা করা হয়েছে। তারপরও ঠিক হচ্ছে না। আমি এখন স্ত্রীর ব্যাপারে কি সিদ্ধান্ত নিতে পারি?

Answer

বৈধ কাজে স্বামীর আনুগত্য স্ত্রীর যিম্মায় ওয়াজিব। স্বামীর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেও মুরব্বী হিসাবে শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর খেদমত করাও ভাল। তবে স্ত্রীকে তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ীর খেদমতে বাধ্য করার অধিকার স্বামীর নাই। সুতরাং, আপনার আনুগত্যের জন্য বার বার বুঝানোর পরেও যদি আপনার সহীহ বুঝ বা পরামর্শ না মানে, আপনার পিতা-মাতার মান ইযযত রক্ষা করছে না, সে জন্য ইসলামী শরী‘আতের দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার জন্য সর্বোত্তম পন্থা হল, প্রথমে তাকে কুরআন-হাদীস দ্বারা তার কর্তব্য ও ভুল দিক বুঝিয়ে দিন। আপনি নিজে না পারলে কোন আলেমের সহযোগিতা নিবেন। এ নসীহতেও কাজ না হলে আপনি তার থেকে বিছানা পৃথক করবেন। এটেও কাজ ণা হোলে হালকা শাস্তিও দিতে পারেন। এতেও কাজ না হলে উভয় পক্ষের দু’জন মুরব্বীকে বসিয়ে তাদের মাধ্যমে ঘটনা নিষ্পত্তি করে নিন। এতেও ফায়দা না হলে তালাক দেয়া আপনার জন্য বৈধ হবে।

তালাক দেয়ার নিয়মঃ স্ত্রী যখন পবিত্র থাকবে অর্থাৎ হায়েয শেষ হয়ে পাক হবে এবং আপনি তার থেকে যৌন মিলন থেকে বিরত থাকবেন, তখন শুধু ১টি তালাক দিবেন এ কথা বলে যে, আমি তোমাকে এক তালাক দিলাম। এর সাথে বায়েন ইত্যাদি বলবেন না। ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর খোরপোষ ও মোহরান দাবী আদায় করে নিবেন। এ সুরতে ইদ্দতের ভিতরে বা পরে যদি স্ত্রী অনুতপ্ত হয় বা সংশোধন হয়ে আপনার নিকট থাকতে চায়, আর আপনিও গ্রহণ করতে চান, তাহলে সহজে তা করতে পারবেন। [প্রমাণঃ ফাতওয়া দারুল উলূম, ৯:৩৮-৩৪/ রদ্দুল মুহতার/ নফউল মুফতী, ৩৪০]