Masail
100%

ঘুষ দিয়ে বা প্রতারণা করে চাকুরী গ্রহণ

Question

আমি ১৯৯৩ ইং সনে মাস্টার্স পাশ করেছি। পাশের পর থেকে আজ পর্যন্ত একটা চাকুরীর জন্য অত্যন্ত চেষ্টা করে আসছি। কিন্তু সোজা পথে চাকুরী হচ্ছে না। কমপক্ষে ২৫/৩০টি মৌখিক পরীক্ষায় পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিলাম। তবুও চাকুরী হয়নি। আমার পেছনে কোন লোক নেই, কোন কিছু করার মত। অথচ অবৈধ পথ অবলম্বন করলেই চাকুরী হয়ে যায়। এদিকে আমার চাকুরীর বয়স আর মাত্র ৮ মাস রয়েছে। অপরদিকে আমার চাকুরী অত্যন্ত দরকার। এমতাবস্থায় ঘুষ প্রদান করে চাকুরী গ্রহণ করা জায়েয হবে কিনা? অথবা প্রতারনা করে চাকুরী গ্রহণ করা ঠিক হবে কিনা? অথবা কোন নারীকে বিয়ে করে চাকুরী নেয়া ঠিক হবে কিনা?

Answer

সুদ-ঘুষ গ্রহণ শরী‘আতের দৃষ্টিতে যেমনি হারাম, তেমনিভাবে সুদ-ঘুষ দেয়াও হারাম। ঘুষ দেয়া-নেয়া নাজায়েয হওয়া সত্ত্বেও বিশেষ ক্ষেত্রে দেয়া জায়েয। যেমন- বিশেষ অপরগতার ক্ষেত্রে জান, মাল বা অন্য কোন ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য বা জুলুম অত্যাচার থেকে বাঁচার বা আত্মরক্ষার জন্য শরী‘আত ঘুষ দেয়া জায়েয রেখেছে। এক্ষেত্রে দাতা গুনাহগার হবে না, কিন্তু গ্রহীতা গুনাহগার হবে। কারণ ঘুষ-গ্রহণ কোন অবস্থাতেই জায়েয নয়। সুতরাং, ঘুষ এড়িয়ে অন্য কোন হালাল রিযিকের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হলে, ঘুষ দিয়ে চাকুরী নেয়া জায়েয হবে না। আর যদি ঘুষ ছাড়া কোন হালাল উপার্জনের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হয়, তাহলে ঘুষ দিয়ে চাকুরী গ্রহণ করা জায়েয হরে, যদি চাকুরী দাতা প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত শর্তানুযায়ী নিজের মধ্যে যোগ্যতা থাকে। কিন্তু নিজের অযোগ্যতা লুকানোর জন্য ঘুষ দেয়া বা কোনরূপ প্রতারণার আশ্রয় নেয়া জায়েয নয়।

কোন দীনদার নারীকে বিয়ে করার দ্বারা হালাল চাকুরীর ব্যবস্থা হলে, বিয়ে করে চাকুরী নেয়া বৈধ হবে। তবে শুধু চাকুরীর উদ্দেশেই বিয়ে করবে না। বরং শরী‘আতের নির্দেশের ভিত্তিতে নিজের পবিত্রতা রক্ষা করার নিয়্যতে দীনদার মেয়েকে বিয়ে করবে। চাকুরীর লোভে বদদীন বেপর্দা মেয়েকে বিবাহ করা ঠিক হবে না। কারণ এর দ্বারা কিছু পয়সার ব্যবস্থা হলেও নিজের দীনদারী বরবাদ হয়ে যাবে। একজন মুসলমানের নিকট তার দীনদারী সব কিছুর উর্ধ্বে।