পুরুষ শিক্ষক প্রাপ্তবয়স্কা মহিলাকে পড়ানো
Question
আমাদের এলাকায় মিশকাত শরীফ পর্যন্ত ছেলেদের একটি মাদরাসা আছে। উক্ত মাদরাসায় যুবতী বালেগা মেয়েরা পড়তে আসে। যবুতী মেয়েদেরকে পড়াতে অস্বীকৃতি জানালে, এলাকার লোকজন মাদরাসা ভেঙ্গে ফেলতে চায়। এমতাবস্থায় মাদরাসার উস্তাদদের জন্য উক্ত বালেগা যুবতী মেয়েদেরকে পড়ানো উচিত হবে কিনা? বা এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকবৃন্দের করণীয় কি? উল্লেখ্য, বালেগা মেয়েদের পর্দার সাথে পড়ানোর কোন ব্যবস্তা নেই।
Answer
কঠোর শর‘ঈ ব্যবস্থা ছাড়া পুরুষ উস্তাদদের জন্য যুবতী বেগানা মেয়েদেরকে পড়ানো জায়িয হবে না। কারণ, আল্লাহর হুকুম বিসর্জন দিয়ে মাদরাসা টিকিয়ে রাখার কোন মূল্য নেই, অথচ পর্দা রক্ষা করা সর্ব অবস্থাই ফরজ। তদুপরি মাদরাসা কায়িম করা হয় আল্লাহর বিধান জানী করার জন্য; আল্লাহর বিধান লংঘন করার জন্য নয়। তাই উক্ত কারণে এলাকাবাসীমাদরাসা ভেঙ্গে দিলে, তারা জালিম এবং গুনাহগার হবে এবং মাদরাসা ভাঙ্গার যাবতীয় দ্বায়-দ্বায়িত্ব তাদের উপরই বর্তাবে। মাদরাসার উস্তাদগন কোন প্রকার দায়ী হবেন না। তবে সেক্ষেত্রে তাদের উচিত, অন্যত্র মাদরাসা কায়িম করে সেখানে দ্বীনী খেদমত আঞ্জাম দেয়া। অথবা উক্ত মাদরাসা কর্তৃপক্ষ শরী‘আত সম্মত পন্থায় মেয়েদের দ্বীন শিক্ষার জন্য উক্ত এলাকায় আলাদা একটি মহিলা মাদরাসা যদি স্থাপন করতে পারেন, তবে তার মাধ্যমে উক্ত মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারেন। উল্লেখ্য, বালেগা মহিলাদের জন্য আবাসিক মাদরাসা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। হাক্কানী উলামায়ে কিরামের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে এবং পর্দার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সর্তকতার ব্যবস্থা না করে, এ পথে পা বাড়ালে, দ্বীনের লাভের চেয়ে ক্ষতির আশংকা বেশী। [ সূরা আহযাবঃ ৫৩; কিফায়াতুল মুফতী ২:৩৫,৬৩]