মসজিদ-মাদরাসার পরিচালকের যোগ্যতা
Question
মসজিদ-মাদরাসার পরিচালকদের কি ধরনের যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন? এবং তাদের কতটুকু জ্ঞানের অধিকারী হওয়া প্রয়োজন?
Answer
মসজিদ অথবা যে কোন দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক দ্বীনদার, আমানতার, শরী‘আতের পাবন্দ, খোদাভীরু হওয়ার সাথে সাথে তাদের এতটুকু জ্ঞান ও যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া জরুরী, যার দ্বারা তারা পরিচালনার কাজে সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দিতে সক্ষম হয়। পরিচালনার যোগ্যতা ব্যতীত এবং এতটুকু পরিমাণ জ্ঞান থাকা ব্যতীত শুধু মাত্র দ্বীনদার, পরহেযগার হলেই যথার্থ হবে না। বরং তাদের মাঝে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে মজলিসের মুরুব্বী ও বড়দের সাথে পরামর্শ করার এবং জিজ্ঞাসা করার গুণও থাকতে হবে।
পক্ষান্তরে কোন ফাসিক, খেয়ানতকারী ও শরী‘আতের খেলাফ চাল-চলনে অভ্যস্ত, পরিচালনায় অদক্ষ কোন ব্যক্তিকে মসজিদ বা কোন দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বানানো জায়িয হবে না। এ সম্পর্কে হযরত ইমাম মালিক রহ. বলেন, মুসলমানের পথ প্রদর্শক সে ব্যক্তিই হতে পারে, যে হুযুর ﷺ এর উত্তম আদর্শের দৃষ্টান্ত হয়। হাদীস শরীফ হুযূর ﷺ অযোগ্য ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব অর্পণ করাকে কিয়ামতের আলামত হিসাবে উল্লেখ্য করেছেন। হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ. এর বাণী উদ্ধৃত করে বলেন যে, কোন কাজের দায়িত্বভার অযোগ্য ব্যক্তির উপর ন্যস্ত করা খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত।
তাই দ্বীনদার, আমানতদার, খোদাভীরু, দ্বীনী জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিই এ সমস্ত কাজের হক্বদার। তাছাড়া কমিটির সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের গলদ পদ্ধতি অনুস্মরন করা, মুসলমানদের কোন প্রয়োজন নেই।
শরী‘আতের দৃষ্টিতে যোগ্যতর লোক থাকা সত্ত্বেও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের উপর ভিত্তি করে অযোগ্য লোককে পরিষদের সদস্য করা বা অযোগ্য ব্যক্তিকে দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নিযুক্ত করা জায়িয নয়। [প্রমাণঃ বুখারী শরীফ ২:১০৬১; ফাতাওয়ায়ে শামী ৪:৩৮০; ফাতাওয়া হিনদিয়্যায়ে মাহমূদিয়া ২:৪৫২; ফাতাওয়ায়ে রহীমিয়া ২:১৬৪]