জিয়ারতের উদ্দেশ্য সফর করা

Question

আমাদের দেশে অনেক লোক শুধু কবর যিয়ারত করার উদ্দেশ্য আজমির শরীফ, মাইজ ভান্ডারীতে সফর করে। অর্থাৎ ঐ সব স্থানে সফর করার উদ্দেশ্য, কবর যিয়ারত করে বরকত হাসিল করা এবং মনের মাকসুদ পূর্ণ করা। ব্যবসা-বাণিজ্য বা আত্মীয়-স্বজনদের দেখা সাক্ষাৎ এ সফরে তাদের উদ্দেশ্য নয়। এখন আমার প্রশ্ন হল, এরূপ নিয়্যতে যিয়ারতের উদ্দেশ্য সফর করা জায়িয আছে কি?

Answer

যে কবর দূরে অবস্থিত, দীর্ঘ সফর করে সেখানে পৌঁছাতে হয়, আর সফরের একমাএ উদ্দেশ্য হয় উক্ত মাযারকে পবিত্র স্থান বা পুণ্যভূমি ও বরকতের স্থান মনে করে বা সেখানে গেলে মাকসুদ পূর্ণ হবে, বিপদ দূর হবে মনে করে সফর করা শরী‘আতে নাজায়িয। কোন আলেমর মতেই এ ধরনের সফর করা জায়িয নয়। নবী কারীম ﷺ এরূপ সফর করতে নিষেধ করেছেন।

হযরত আবু হুরাইরা রা. ও হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম ﷺ এরশাদ করেছেন, তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন স্থানকে পুণ্যস্থান মনে করে তার উদ্দেশ্য সফর করবে না। মসজিদ তিনটি হচ্ছে, মসজিদে হারাম, মসজিদে আকসা ও আমার এই মসজিদ অর্থাৎ মসজিদে নববী। [প্রমাণঃ মুসলিম শরীফ ১খঃ ৪৪৭ পৃঃ]

সুতরাং, কোন পীর আউলিয়ার মাযারকে পুণ্যস্থান মনে করে বেশী সাওয়াবের জন্যে তার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ হবে না।

যেমন, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক নামক হাদীস গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, হযরত আরফাজা রা. বর্ণনা করেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. এর নিকট বললাম, আমি তূর পাহাড়ে যাওয়ার ইচ্ছা করছি। তিনি বললেন, তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন স্থানকে পুণ্যস্থান মনে করে তার উদ্দেশ্যে সফর করা যায় না। মসজিদ তিনটি হারাম, মসজিদে নববী, মসজিদে আকসা। তাই তুর পাহাড়ে সফরের ইচ্ছা ত্যাগ কর। [প্রমাণঃ মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৫ম ১৩৫ পৃঃ]

ইমাম আহমদ হাম্বল রহ. উল্লেখ্য করেছেন, হযরত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন তুর পাহাড় থেকে প্রত্যাবর্তন কালে আবু বসরা গিফরী রা. এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কোথা থেকে আসলেন? উত্তরে আমি বললাম, তূর পাহাড় থেকে, তিনি বললেন, তূর পাহাড়ে যাওয়ার আগে যদি আপনার সাথে সাক্ষাৎ হতো, তাহলে আমার কাছ থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিষেধ বাণী শ্রবণ করতঃ আপনি আর তূর পাহাড়ে যেতেন না। কেননা, আমি নবী কারীম ﷺ কে বলতে শুনেছি, তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন স্থানকে পূর্ণ স্থান মনে করে তার উদ্দেশ্য সফর করবে না। [মুসনাদে আহমদ ৬ষ্ঠ খন্ড পৃঃ মুয়াত্তা ইমাম মালেক ৩৮ পৃঃ]

এজন্য নবী করীম ﷺ এর রওজা মুবারক যিয়ারত যেহেতু মসজিদে নববীর সাথেই হয়ে যায়, এ জন্য তা ব্যতিরেকে অন্য কোন ওলী-বুযুর্গের মাযারকে পুণ্যস্থান মনে করে তার যিয়ারতের উদ্দেশ্যে দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে আসা জায়িয নয়। [প্রমাণ হজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ ১খঃ ১৬২ ও ৪৫৪ পৃঃ]

তবে যদি ব্যপারটি এমন হয় যে, মাযার যিয়ারত ছাড়া অন্য কোন বৈধ উদ্দেশ্যে কেউ দুরে কোথাও সফর করে। সেখানে কোন একজন বুযুর্গের কবরও রয়েছে এবং সেখানে কোন মেলা বা শিরক বিদ‘আত ঐ মুহূর্তে চালু নেই। তাহলে সুযোগ মত তার কবর যিয়ারত করে আসতে এবং সেই বুযুর্গের মাযারে সাওয়াব রিসানী করতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ, মূল সফর ঐ মাযারকে পুর্ণস্থানে মনে হয়নি, বরং সফর অন্য কোন বৈধ প্রয়োজনে করা হয়েছে? [প্রমাণ ফাতাওয়া শামী ২খঃ ২৪২ পৃঃ; ফাতাওয়ায়ে দারুল উলূম ৫ খঃ ৪৫৮ পৃঃ]

আর যদি মাযারে শিরক-বিদ‘আত চলতে থাকে, তাহলে সে মুর্দা ব্যক্তি বুযুর্গ হওয়া সত্ত্বেও শিরক বিদ‘আত চালু অবস্থায় তার মাযারে যাওয়া যাবে না। আর ভন্ড পীরদের মাযারে যাওয়ার তো কোন প্রশ্নই উঠে না। সেখানে যাওয়া সর্ববস্থায়ই হারাম। [প্রমাণ ইমাদুল মুফতীন ১৬৬ পৃঃ; ফাতাওয়ায়ে রশীদিয়া ১৫০]