সর্বযুগেই কি আত্মার রোগের চিকিৎসক বিদ্যমান?

মুফতী মনসূরুল হক সাহেবJanuary 5, 2026আত্মশুদ্ধি, বিবিধ

Question

অনেকে বলে আজকাল যেহেতু জুনায়িদ বাগদাদী, শিবলী, ফুযাইল রহ. তাঁদের মত বুযুর্গ দুনিয়াতে নেই। সুতরাং এখন আর কার নিকট আত্মশুদ্ধির জন্য সম্পর্ক করা যায়? অতএব এখন নিজেই নিজের ফিকির করা ছাড়া উপায় নাই। তাদের কথা কতটুকু সঠিক ও যুক্তিযুক্ত জানতে চাই।

Answer

আত্মশুদ্ধি তথা দিলকে রূহানী রোগ যথা লোভ, হিংসা, অহংকার ইত্যাদি থেকে মুক্ত করা ফরয এবং এর জন্য রূহানী ডাক্তারের সাথে সম্পর্ক করাও ফরয। শারীরিক রোগের ক্ষেত্রে যেমন সমকালীন ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয় তেমনিভাবে রূহানী রোগের ক্ষেত্রেও সমকালীন রূহানী ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। এ সম্পর্কে কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা`আলা নির্দেশ দিয়েছেন এবং সে নির্দেশিত আয়াত মনসূখও হয়নি বরং তার হুকুম এখনও বিদ্যমান আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে। সুতরাং আত্মশুদ্ধির ডাক্তারও দুনিয়াতে বিদ্যমান থাকবেন। কেননা মহান আল্লাহর হুকুম বিদ্যমান থাকবে আর তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা দুনিয়া থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে তা কস্নিনকালেও থেকে পারে না। এ ব্যাপারে আরিফ বিল্লাহ হজরত মাওলানা শাহ হাকীম মুহাম্মদ আখতার সাহেব দা.বা. বলেন যে, “মক্কা শরীফে যদি কেউ জ্বরে আক্রান্ত হয়, তবে কি সে এই অপেক্ষায় থাকবে যে দিল্লীর কবরস্থান থেকে সুবিখ্যাত হাকীম আজমল খান উঠে আসবেন। তারপর আমি আমার রোগের চিকিৎসা করাব? কারণ আমি বড় মানুষ আমার বড় ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ডাক্তার দ্বারাই চিকিৎসা করাতে হবে। কেউ এমন করবেন না। বরং দেহের যে সকল ডাক্তার বর্তমান আছেন তাদের মধ্যে বিজ্ঞজন দ্বারাই চিকিৎসা করাবেন, কারণ তার রোগমুক্তি দরকার। অনুরূপভাবে বর্তমান যামানায় আল্লাহপাক যে সকল রূহানী ডাক্তার তথা আল্লাহওয়ালা সৃষ্টি করেছেন তাদের চিকিৎসা ও সোহবত গ্রহণ করেই আমরা বায়েযীদ বোস্তামী ও হাজী এমদাদুল্লাহ রহ. হতে পারি” আর যুগের খাঁটি মুত্তাকী ও খাঁটি ওলীই হলেন ঐ যুগের রূহানী ডাক্তার। আর প্রতি যুগে খাঁটি ওলী থাকবেন এটা সুনিশ্চিত। কারণ, আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে কিয়ামত পর্যন্ত সর্বকালের সকল মানুষের জন্য হুকুম করেছেন ............

অর্থাৎ তোমরা সাদেকীনের সঙ্গ অবলম্বন কর। সাদেক অর্থ খাঁটি মুত্তাকী, খাঁটি ওলী। আল্লাহপাক এখানে সালেহীন, মুত্তাকী ও কামেলীনের সঙ্গ অবলম্বনের হুকুম দিয়েছেন। এতদসত্বেও কোন কোন যুগে তিনি কামেলীন পয়দা করবেন না এটা কি করে হতে পারে। মোটকথা, বর্তমানেও কামেলীন, আল্লাহওয়ালা আছেন, তাইতো হাকীমূল উম্মত মুজাদ্দিদুল মিল্লাত হজরত মাওলানা শাহ আশরাফ আলী থানভী রহ. কসম করে বলেন যে, “এই যামানাতেও বায়েযীদ বোস্তামী রহ. আছেন, শামসুদ্দীন তাব্রীযী, জালালুদ্দীন রুমী, জুনাইদ বাগদাদী ও ফরীদুদ্দীন আক্তার রহ. আছেন। কিন্তু তাদের চেনার মত পিপাসার্ত চোখ প্রয়োজন। অতএব, শয়তানের ধোঁকার বশীভূত হয়ে নিজেই চিকিৎসা করার শয়তানী ধোঁকায় না পড়ে অতি তাড়াতাড়ি স্বীয় যামানার ইজাযত প্রাপ্ত আল্লাহওয়ালার সাথে সম্পর্ক করা জরুরী। [প্রমাণঃ সূরা তাওবা ১১৯, তিরমিযী শরীফ ২/৯৭]