সি সি লোন নেওয়া
Question
আমি একজন ব্যবসায়ী। অথচ তেমন কোন টাকা আমার হাতে বর্তমানে নেই। তাই ব্যবসার ক্ষেতে সীমাহীন হিমশিম খাচ্ছি। ব্যবসার মধ্যে টিকে থাকা হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন মনস্থ করেছি-একটি সি, সি, লোন করিয়ে লক্ষাধিক টাকা নেব এবং একটু ভাল ভাবে ব্যবসা করবো। ব্যাংক থেকে সি, সি, লোন করলে এবং সে টাকা দিয়ে ব্যবসা করলে, শরী‘আতের দৃষ্টিতে কোন ক্ষতি আছে কিনা? এ সম্পর্কে ইসলামের হুকুম কি?
Answer
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় সমস্ত ব্যাংক-ই সুদভিক্তিক; তাই ব্যাংক থেকে লোন নিলে, অবশ্যই তার সুদ দিতে হয়, চাই সেটা ব্যবসা-বাণিজ্যের লোন হোক বা হাউজ লোন হোক, অথবা কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে লোন হোক। আর সুদ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে স্পষ্ঠভাবে বর্ণিত হয়েছে-আল্লাহ তা‘আলা ব্যবসা-বাণিজ্যকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। (সূরা বাকারা আয়াত-২৭৫)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, সুদের লেন-দেনকে আল্লাহ তা‘আলা ধ্বংস করে দেন। (সূরা বাকারা আয়াত-২৭৬)
তাছাড়া হাদীস শরীফে সুদ সম্পর্কে কড়া হুশিয়ারী এসেছে এবং সুদের শাস্তি খুবই মারাত্মক বলে বর্ণিত হয়েছে। যেমন, এক হাদীসে হুযূর ﷺ বলেন, সুদ দাতা, সুদ গ্রহীতা, সুদের হিসাবরক্ষক ও সুদের স্বাক্ষী সকলের উপর আল্লাহ পাকের লা‘নত । হুযুর ﷺ আরো বলেন, গুনাহের ব্যাপারে এরা প্রত্যেকেই বরাবর। (মুসলিম শরীফ ২:২৭) কাজেই সুদভিত্তিক লোন নেয়া জায়েয নয়। তবে কেউ যদি সম্পূর্ণ নিরুপায় হয়ে যায়, পরিবার সন্তানাদি নিয়ে খাওয়া পরার কোন ব্যবস্থা না থাকে এবং সুদ বিহীন ঋণও কোন জায়গা থেকে না পায়, তাহলে তার জন্য অপারগ অবস্থায় জরুরত পরিমাণ সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণ করার অনুমতি আছে। অবশ্য তাকে ইস্তিগফার করতে হবে। এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঋণ পরিশোধের ফিকির করতে হবে। উল্লেখ্য, সামান্য অসুবিধার কারণে নিজকে অপারগ মনে করে সুদী ঋণ নিবে না। বরং পূর্ণ অবস্থা উল্লেখ করে কোন হক্কানী মুফতী থেকে জেনে নিবে। (প্রমাণঃ ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ৪:২০৩, ৪:২৪৯)