Masail
100%

ওয়ারিশদের অন্যায় কর্তৃত্ব দেখানোর দায়ে নতুন মসজিদ নির্মাণ?

Question

আমাদের এলাকায় একজন ব্যক্তি তার নিজের জমি মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে দেয়, পরবর্তীতে সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং সেখানে জনৈক আলেম স্থায়ীভাবে ইমাম হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিছু দিন আগে গ্রামের নেতৃত্ব নিয়ে ঝগড়া বেঁধে যায় এবং মুসল্লীদের মধ্যে দু’টি গ্রুপ হয়ে যায়। ইমাম সাহেব হকের উপর ছিলেন বলে ওয়াকফকারীর সন্তানরা এককভাবে প্রভাব খাটিয়ে ইমাম সাহেবকে তার ইমামতি থেকে বরখাস্ত করে দেন। ইমাম সাহেবের কোন দোষ ছিল না। এলাকার মুসল্লীগণের প্রতিবাদ করলে তারা বলে, এটা আমাদের বাবা দাদার মসজিদ। আমাদের ইচ্ছা মত মসজিদ চালাব, এতে কারো বাধা দেয়ার অধিকার নেই। এখন এলাকার লোকেরা তাদের কাজকর্মের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে আনুমানিক ১০০ হাত দূরে আরেকটি মসজিদ তৈরি করতে ইচ্ছুক। এখন প্রশ্ন হলো, ২য় মসজিদ তৈরী করা জায়িয হবে কি না?

Answer

ওয়াকফকারী জমি ওয়াকফ করার পরে মসজিদ নির্মাণ করে এক ওয়াক্ত নামায আদায় করার পরেই জমি তার মালিকানা থেকে বাহির হয়ে গেছে। দলীলের মধ্যে জমিদাতা বা তার ওয়ারিশগণের মুতাওয়াল্লী হওয়ার শর্ত থাকলেও ইমাম রাখা বা বরখাস্ত করার ব্যাপারে তাদের কোন প্রকার কর্তৃত্ব থাকবে না। বরং এটা দ্বীনদার নিয়মিত মুসল্লীদের উপর ন্যস্ত থাকবে। এখন মহল্লাবাসী উক্ত মসজিদে আযান-ইকামত দিয়ে জামা‘আতের সাথে নামায আদায় করবে বা মহল্লার দ্বীনদার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ মিলে পরামর্শের ভিত্তিতে ইমাম, মুয়াযযিন নিয়োগ করবেন। যদি কেউ ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে বাঁধা দেয়, তাহলে সে জালিম বলে গন্য হবে। ইমাম সাহেবকে ব্যাক্তিগত কোন্দলের কারণে তার ইমামতী থেকে বরখাস্ত করা মারাত্মক অন্যায় হয়েছে। সুতরাং, তাদের উচিৎ হবে দ্বীনদার গণ্যমান্য মুসল্লীদের মতানুসারে মসজিদ পরিচালনা করা এবং নিজেদের ভুল স্বীকার করে ইমাম সাহেবের নিকট মাফ চেয়ে নিয়ে তাকে ইমাম পদে পুনবর্হাল করা। তারা এতে রাজি না হলে, এলাকাবাসী একমত হয়ে চাপ সৃষ্টি করে তাদেরকে এ সহীহ মাসআলা মানাতে চেষ্টা করবে। মহল্লাবাসীর যদি এরূপ ক্ষমতা না থাকে, এবং নতুন ইমাম অযোগ্য হয়, তাহলে তারা পরামর্শ করে মুনাসিব কোন স্থানে নতুন মসজিদ তৈরি করে হক্কানী আলেমের মাধ্যমে পরিচালনা করতে পারবে। অবশ্য যদি নতুন ইমাম যোগ্য হয় এবং মসজিদেও স্থান সংকুলান হয়, তাহলে দ্বিতীয় মসজিদ বানাবে না। [প্রমাণঃ আল বাহরুর রায়েক ৫:২৪৯; ইমদাদুল মুফতীন ৭৭৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২:৬৬৯]