النازعات

النازعات

আন-নাযিআত

Ayah ৪৬ · Meccan · Para ৩০

بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

وَالنّٰزِعٰتِ غَرۡقًا ۙ

শপথ তাদের (অর্থাৎ সেই ফেরেশতাদের), যারা (কাফেরদের প্রাণ) কঠোরভাবে টেনে বের করে।

وَّالنّٰشِطٰتِ نَشۡطًا ۙ

এবং যারা (মুমিনদের প্রাণের) বন্ধন খোলে কোমলভাবে।

وَّالسّٰبِحٰتِ سَبۡحًا ۙ

তারপর (শূন্যে) তীব্রগতিতে সাতার কেটে যায়।

فَالسّٰبِقٰتِ سَبۡقًا ۙ

তারপর দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়।

فَالۡمُدَبِّرٰتِ اَمۡرًا ۘ

তারপর যে আদেশ পায় তার (বাস্তবায়নের) ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

یَوۡمَ تَرۡجُفُ الرَّاجِفَۃُ ۙ

যে দিন প্রকম্পিতকারী (শিঙ্গাধ্বনি সবকিছু) কাঁপিয়ে দেবে।

تَتۡبَعُہَا الرَّادِفَۃُ ؕ

তার পেছনে আসবে পরবর্তীটি।

قُلُوۡبٌ یَّوۡمَئِذٍ وَّاجِفَۃٌ ۙ

সে দিন বহু হৃদয় হবে প্রকম্পিত।

اَبۡصَارُہَا خَاشِعَۃٌ ۘ

তাদের চোখ থাকবে অবনত।

یَقُوۡلُوۡنَ ءَاِنَّا لَمَرۡدُوۡدُوۡنَ فِی الۡحَافِرَۃِ ؕ

তারা (কাফেরগণ) বলে, আমাদেরকে কি পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে?

ءَاِذَا کُنَّا عِظَامًا نَّخِرَۃً ؕ

আমরা যখন গলিত অস্থিতে পরিণত হব তখনও কি?

قَالُوۡا تِلۡکَ اِذًا کَرَّۃٌ خَاسِرَۃٌ ۘ

তারা বলে, তাহলে তো সেটা বড় ক্ষতির প্রত্যাবর্তন।

فَاِنَّمَا ہِیَ زَجۡرَۃٌ وَّاحِدَۃٌ ۙ

বস্তুত তা একটি মাত্র বিকট আওয়াজই হবে।

فَاِذَا ہُمۡ بِالسَّاہِرَۃِ ؕ

অমনি তারা খোলা মাঠে আবির্ভূত হবে।

ہَلۡ اَتٰىکَ حَدِیۡثُ مُوۡسٰی ۘ

(হে রাসূল!) তোমার কাছে কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে?

اِذۡ نَادٰىہُ رَبُّہٗ بِالۡوَادِ الۡمُقَدَّسِ طُوًی ۚ

যখন তার প্রতিপালক তাকে পবিত্র ‘তুওয়া’ উপত্যকায় ডাক দিয়ে বলেছিলেন

اِذۡہَبۡ اِلٰی فِرۡعَوۡنَ اِنَّہٗ طَغٰی ۫ۖ

ফির‘আউনের কাছে যাও, সে বড় ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেছে।

فَقُلۡ ہَلۡ لَّکَ اِلٰۤی اَنۡ تَزَکّٰی ۙ

তাকে বল, তোমার কি এ আগ্রহ আছে যে, তুমি শুধরে যাবে?

وَاَہۡدِیَکَ اِلٰی رَبِّکَ فَتَخۡشٰی ۚ

এবং আমি তোমাকে দেখাব তোমার প্রতিপালকের পথ, যাতে তুমি তাকে ভয় কর?

فَاَرٰىہُ الۡاٰیَۃَ الۡکُبۡرٰی ۫ۖ

অতঃপর মূসা তাকে দেখাল মহা নিদর্শন।

فَکَذَّبَ وَعَصٰی ۫ۖ

তবুও সে (তাকে) অস্বীকার করল ও অমান্য করল।

ثُمَّ اَدۡبَرَ یَسۡعٰی ۫ۖ

তারপর প্রতিবিধানের চেষ্টা করতে ফিরে গেল।

فَحَشَرَ فَنَادٰی ۫ۖ

তারপর সকলকে সমবেত করল এবং উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করল,

فَقَالَ اَنَا رَبُّکُمُ الۡاَعۡلٰی ۫ۖ

বলল, আমি তোমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিপালক।

فَاَخَذَہُ اللّٰہُ نَکَالَ الۡاٰخِرَۃِ وَالۡاُوۡلٰی ؕ

পরিণামে আল্লাহ তাকে পাকড়াও করলেন আখেরাত ও দুনিয়ার শাস্তিতে।

اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَعِبۡرَۃً لِّمَنۡ یَّخۡشٰی ؕ٪

বস্তুত যে আল্লাহর ভয় করে তার জন্য এ ঘটনার মধ্যে অবশ্যই শিক্ষা আছে।

ءَاَنۡتُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمِ السَّمَآءُ ؕ  بَنٰہَا ٝ

(হে মানুষ!) তোমাদেরকে সৃষ্টি করা বেশি কঠিন, না আকাশকে। আল্লাহ তা নির্মাণ করেছেন।

رَفَعَ سَمۡکَہَا فَسَوّٰىہَا ۙ

তিনি তার উচ্চতা উত্তোলন করেছেন, তারপর তা সুবিন্যস্ত করেছেন।

وَاَغۡطَشَ لَیۡلَہَا وَاَخۡرَجَ ضُحٰہَا ۪

তিনি তার রাতকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করেছেন এবং তার দিনের আলো প্রকাশ করেছেন।

وَالۡاَرۡضَ بَعۡدَ ذٰلِکَ دَحٰىہَا ؕ

এবং তারপর পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।

اَخۡرَجَ مِنۡہَا مَآءَہَا وَمَرۡعٰہَا ۪

তা থেকে তার পানি ও তৃণ বের করেছেন।

وَالۡجِبَالَ اَرۡسٰہَا ۙ

এবং পর্বতসমূহকে প্রোথিত করেছেন।

مَتَاعًا لَّکُمۡ وَلِاَنۡعَامِکُمۡ ؕ

তোমাদের নিজেদের ও তোমাদের পশুদের ভোগের জন্য।

فَاِذَا جَآءَتِ الطَّآمَّۃُ الۡکُبۡرٰی ۫ۖ

অতঃপর যখন মহা বিপর্যয় সংঘটিত হবে।

یَوۡمَ یَتَذَکَّرُ الۡاِنۡسَانُ مَا سَعٰی ۙ

যে দিন মানুষ তার যাবতীয় কৃতকর্ম স্মরণ করবে

وَبُرِّزَتِ الۡجَحِیۡمُ لِمَنۡ یَّرٰی

এবং প্রত্যেক দর্শকের সামনে জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে।

فَاَمَّا مَنۡ طَغٰی ۙ

তখন যে ব্যক্তি অবাধ্যতা করেছিল,

وَاٰثَرَ الۡحَیٰوۃَ الدُّنۡیَا ۙ

এবং পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়েছিল

فَاِنَّ الۡجَحِیۡمَ ہِیَ الۡمَاۡوٰی ؕ

জাহান্নামই হবে তার ঠিকানা।

وَاَمَّا مَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّہٖ وَنَہَی النَّفۡسَ عَنِ الۡہَوٰی ۙ

আর যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় পোষণ করত এবং নিজেকে মন্দ চাহিদা হতে বিরত রাখত

فَاِنَّ الۡجَنَّۃَ ہِیَ الۡمَاۡوٰی ؕ

জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।

یَسۡـَٔلُوۡنَکَ عَنِ السَّاعَۃِ اَیَّانَ مُرۡسٰہَا ؕ

তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে যে, তা কখন সংঘটিত হবে?

فِیۡمَ اَنۡتَ مِنۡ ذِکۡرٰىہَا ؕ

এ বিষয়ে আলোচনা করার সাথে তোমার কী সম্পর্ক?

اِلٰی رَبِّکَ مُنۡتَہٰىہَا ؕ

এর চূড়ান্ত জ্ঞান তো তোমার প্রতিপালকেরই।

اِنَّمَاۤ اَنۡتَ مُنۡذِرُ مَنۡ یَّخۡشٰہَا ؕ

যে ব্যক্তি তার ভয় রাখে তুমি কেবল তার সতর্ককারী।

کَاَنَّہُمۡ یَوۡمَ یَرَوۡنَہَا لَمۡ یَلۡبَثُوۡۤا اِلَّا عَشِیَّۃً اَوۡ ضُحٰہَا ٪

যে দিন তারা তা দেখতে পাবে সে দিন তাদের মনে হবে, যেন তারা (দুনিয়ায় বা কবরে) এক সন্ধ্যা বা এক সকালের বেশি অবস্থান করেনি।