আনাস রা.-এর দু‘আ
بِسْمِ اللهِ عَلٰى نَفْسِيْ وَدِيْنِيْ بِسْمِ اللهِ عَلٰى اَهْلِيْ وَ مَالِيْ وَوَلَدِي بِسْمِ اللهِ عَلٰى مَا اَعْطَانِيْ اللهُ اللهُ رَبِّيْ لَا اُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، اَللهِ اَكْبَرُ اَللهِ اَكْبَرُ اَللهِ اَكْبَرُ وَاَعَزُّ وَاَجَلٌ وَاَعْظَمُ مِمَّا اَخَافُ وَاَحْذَرُ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاءُكَ وَلَاۤ اِلٰهَ غَيْرُكَ. اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِيْ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْطَانٍ مَّرِيْدٍ ، وَمِنْ شَرِكُلِّ جَبَّارٍ عَنِيْدٍ ، فَاِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللهِ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ اِنَّ وَلِيِّ يَ اللهُ الَّذِيْ نَزَّلَ الْكِتَبَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّلِحِيْنَ.
অনুবাদ: আল্লাহর নামে আমি আমার জীবন ও দ্বীনের (সুরক্ষার) দু‘আ করছি। আল্লাহর নামে আমার পরিবার, সম্পদ ও সন্তানের জন্য দু‘আ করছি। আল্লাহর নামে সেই সবকিছুর বরকত ও সুরক্ষা চাচ্ছি যা আল্লাহ আমাকে দান করেছেন। আল্লাহই আমার প্রতিপালক, আমি তাঁর সাথে অন্য কাউকেও শরীক করি না। আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। আমি যা কিছুকে ভয় করি বা যে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করি-তার চেয়ে আল্লাহ অনেক বেশি পরাক্রমশালী ও মর্যাদাবান। হে আল্লাহ! আপনার আশ্রয়প্রার্থী ব্যক্তি সুরক্ষিত, আপনার গুণগান অতি উচ্চ এবং আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোনো ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি আমার নিজের নফসের অনিষ্ট থেকে, প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনিষ্ট থেকে এবং প্রত্যেক জেদি স্বৈরাচারের অনিষ্ট থেকে। অতঃপর তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনি বলুন-আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের মালিক।
ফায়দা: হযরত আব্বান রা. বর্ণনা করেন যে, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ হযরত আনাস ইবনে মালেক রা.-এর উপর রাগান্বিত হন। তিনি বলেন যে, যদি আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ানের কোন লিখিত বিষয় না থাকত তাহলে আপনাকে আমি এরূপ, এরূপ শাস্তি (অর্থাৎ কঠিন শাস্তি) প্রদান করতাম। (এ কথা শ্রবণ করার পর) হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. বললেন যে, আপনি আমাকে কোন শাস্তি দিতে পারবেন না। হাজ্জাজ বললেন, কেন আপনাকে শাস্তি দিতে পারবো না, কোন জিনিস আমাকে বাধা দিবে? হযরত আনাস রা. বললেন কতিপয় দু‘আ যা হুযূর ﷺ আমাকে শিক্ষা দান করেছেন। তখন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বললেন, তাহলে আমাকে তা শিখিয়ে দিন কিন্তু হযরত আনাস রা. তা শিখাতে অস্বীকার করলেন। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বার বার অনুরোধ করতে লাগলেন কিন্তু তাতে তিনি অস্বীকার করলেন (কারণ, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ঐ দু‘আ শিক্ষা করার উপযুক্ত পাত্র ছিলেন না।)
বর্ণনাকারী হযরত আববান রা. বলেন, হযরত আনাস রা. যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন তখন আমি তাঁকে ঐ দু‘আ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম তখন হযরত আনাস রা. বললেন তিন বার পড়।
হযরত মাওলানা শাহ আবদুল মতীন বিন হুসাইন সাহেব বলেন, এই দু‘আ আমার কাছে লেখা আছে। হযরত মাওলানা তাকী উসমানী সাহেব দামাত বারকাতুহুম-এর উপর শত্রুরা যে গুলি বর্ষণ করছিল ঐ সময় উনি গাড়িতে ছিলেন, উনার স্ত্রী, উনার সন্তানাদি, নাতি ছিলেন। আল্লাহপাক সকলকে হেফাজত করেছেন। উনার গাড়ির উপরে দুইবার কতগুলো গুলি বর্ষণ করেছে। উনাদের একজনেরও কারো গায়ে লাগেনি। আলহামদুলিল্লাহ। পরে হযরত মাওলানা তাকী উসমানী সাহেব দারুল উলুম করাচিতে বয়ান করেছিলেন যে, আমি দু‘আয়ে হযরত আনাস রা. পড়েছিলাম। আমার বিশ্বাস যে, আল্লাহপাক এই দু‘আর বরকতে আমাকে হেফাযত করেছেন। এই দু‘আর মধ্যে আছে নিজের হেফাজতের কথা, নিজের সন্তানাদি এবং পরিবার-পরিজনের হেফাজতের কথা। তবে ড্রাইভার বাঁচেনি। ড্রাইভার জীবন দিয়ে উনাদের রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করেছে। দু‘আয়ে হযরত আনাস রা. মুখস্ত করে নিলে ভালো হয়।