হাদীসে বর্ণিত কতিপয় ইস্তিগফার
কুরআনে কারীমে বর্ণিত ইস্তিগফারসমূহ প্রথম অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে এখানে শুধু হাদীসে বর্ণিত কতিপয় ইস্তিগফার উল্লেখ করা হল।
১ নং ইস্তিগফার
اَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِيْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَاَتُوْبُ اِلَيْهِ
অর্থ: আমি ঐ আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো মা’বূদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরন্তন এবং আমি তাঁর নিকট তওবা করছি।
ফযীলত: যে ব্যক্তি শয়নকালে এই দু‘আ ৩ বার পাঠ করবে আল্লাহ তা‘আলা তার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ১১০৭৪)
এক বর্ণনায় প্রতি ওয়াক্ত নামাযের পর ৩ বার পড়ার কথা এসেছে। (কানযুল উম্মাল, হাদীস: ৪৯৭১)
২ নং ইস্তিগফার
اَللّٰهُمَّ اِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি অতি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে পছন্দ করেন। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস: ৩৮৫০)
৩ নং ইস্তিগফার
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِىْ وَارْحَمْنِىْ وَاهْدِنِىْ وَعَافِنِىْ وَارْزُقْنِىْ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো, আমার প্রতি দয়া করো, আমাকে সঠিক পথ দেখাও, আমাকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখো এবং আমাকে রিযিক দান করো।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সেজদার মাঝে উক্ত দু‘আটি পড়তেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৬৯৭)
৪ নং ইস্তিগফার
اَللّٰهُمَّ اِنِّـيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمًا كَثِيْرًا وَّلَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ اِلَّا اَنْتَ فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِيْ اِنَّكَ اَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি নিজের উপর অনেক অত্যাচার করেছি (গুনাহ করেছি) আর তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। সুতরাং তুমি নিজ করুণায় আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ করো। নিশ্চয় তুমি অত্যাধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৮৩৪)
৫ নং ইস্তিগফার
اَللّٰهُمَّ مَغْفِرَتُكَ اَوْسَعُ مِنْ ذُنُوْبِيْ وَ رَحْمَتُكَ اَرْجٰى عِنْدِيْ مِنْ عَمَلِيْ
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার ক্ষমা আমার গুনাহ অপেক্ষা অনেক ব্যাপক এবং আমি স্বীয় আমলের তুলনায় তোমার রহমতের বেশি আশাবাদী।
ফযীলত: এই দু‘আ তিনবার পড়লে আল্লাহ তা‘আলা সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন।
হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত জনৈক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এসে বলতে লাগলো, হায় আমি কত বড় গুনাহগার!, হায় আমি কত বড় পাপী! দু-তিনবার সে এরূপ বললো। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে উপরোক্ত দু‘আটি পড়তে বললেন। সে একবার পড়লো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লাম তাকে আরো দু’বার পড়তে বললেন। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তোমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। (মুসতাদরাকে হাকেম: ১৯৯৪)
৬ নং ইস্তিগফার
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ مَا قَدَّمْتُ وَ مَا اَخَّرْتُ وَ مَا اَسْرَرْتُ وَ مَا اَعْلَنْتُ اَنْتَ الْـمُقَدِّمُ وَ اَنْتَ الْمُؤَخِّرُ وَ اَنْتَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমার পূর্বাপর, গোপন-প্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করো। তুমিই অগ্রগামী করো এবং তুমিই পিছিয়ে রাখো আর তুমি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
৭ নং ইস্তিগফার
يَا وَاسِعَ الْمَغْفِرَةِ اِغْفِرْ لِيْ
অর্থ: হে প্রশস্ত ক্ষমার অধিকারী! আমাকে ক্ষমা করো। (বায়হাকী শুআবুল ঈমান, হাদীস: ৩৯০৩)
৮ নং ইস্তিগফার
(যার দ্বারা সমস্ত মুমিনের সংখ্যা পরিমাণ নেকী পাওয়া যায়)
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِيْنَ وَالْـمُؤْمِنَاتِ
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি সকল মুমিন নর-নারীকে ক্ষমা করে দাও।
ফযীলত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি মুমিন নর-নারীর জন্য গুনাহ মাফের দু‘আ করে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর বিনিময়ে একটি করে নেকী দেন। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস: ২১০)