খানার আদবে অবহেলা
অবস্থা এই যে, দ্বীনদার লোকদের অনেকে পানাহারের সুন্নাত ও আদব সমূহের প্রতি গুরুত্ব দেন না। যেমন মেহমান বসার আগে খানা দস্তরখানে রাখা হয়, যেন খানা মেহমানদের অপেক্ষা করতে থাকে। এটা আদবের খেলাফ। এমনি ভাবে দস্তরখান উঠানোর আগে সবাই উঠে যায়। অথচ প্রথমে দস্তরখান উঠিয়ে পানাহারকারী উঠা উচিত। আর দস্তরখান ও খানা উঠানোর দু‘আ সবারই মুখস্থ করে নেয়া দরকার। দু‘আটি হলঃ الحمد لله حمدا كثيرا طيبا مباركا فيه غير مكفى ولا مودع ولا مستغنا عنه ربنا
অর্থ: সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ পাকের জন্য, অনেক অনেক প্রশংসা এবং পবিত্র ও বরকতপূর্ণ প্রশংসা। হে প্রভু! এ খানাকে না যথেষ্ট মনে করা যেতে পারে (যে আর প্রয়োজন হবে না) আর না একে সম্পূর্ণ বিদায় দেয়া যেতে পারে (যে তার সাক্ষাৎ প্রয়োজন হবে না) না এতে বে-পরওয়া হওয়া যেতে পারে। [সূত্র: বুখারী-২/৮২০, তিরমিযী-২/১৮৪, ইবনে মাজাহ-২/২৩৬]
প্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত হুযাইফা রাযিয়াল্লাহু আনহু পারস্য সম্রাটের শাহী মেহমানদারীতে মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। যেখানে বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ ও রাষ্ট্রদূতগণও ছিলেন। খাওয়ার মাঝে হাত থেকে খাদ্য-দ্রব্য দস্তরখানে পড়ে গেলে তিনি তা উঠিয়ে খেলেন। উপস্থিত একজন বললেন, এরূপ করা শিষ্টাচার ও ভদ্রতার পরিপন্থী। পুনরায় যেন এমন না হয় সেদিকে সতর্ক থাকুন। উত্তরে তিনি বললেন, আমি এই আহমকদের কারণে রাসূলের সুন্নাত তরক করতে পারি না।