মানুষের দশটি নিন্দনীয় স্বভাব এবং প্রশংসিত স্বভাব
মানুষের দশটি স্বভাব নিন্দনীয়। আমি সে গুলোর নাম দিয়েছি ‘অন্ধকারাচ্ছন্নতা’। কেননা, এগুলো থেকে অন্তরে অন্ধকারের সৃষ্টি হয়।
অনুরূপ প্রশংসিত স্বভাবও দশটি। আমি যেগুলোর নাম রেখেছি-‘উজ্জলতা’। কেননা, এগুলো থেকে অন্তরে আলোর জন্ম হয়। আর এগুলো আমি আমার ছাত্রদেরকে মুখস্থ করিয়ে দিয়েছি।
নিন্দনীয় স্বভাব অর্থাৎ ‘অন্ধকারাচ্ছন্নতা’ দশটি এই:
(১) বেশী খাওয়ার লালসা।
(২) বেশী কথা বলার আকাঙ্খা ও চেষ্টা।
(৩) অহেতুক রাগ করা।
(৪) হিংসা করা।
(৫) কৃপণতা ও সম্পদের মুহাব্বত।
(৬) খ্যাতি ও মর্যাদার মুহাব্বত।
(৭) দুনিয়ার মুহাব্বত।
(৮) অহংকার, অর্থাৎ হাদীস পাকের ভাষায় যার হাকীকত-মানুষকে অবজ্ঞা এবং সত্যকে অস্বীকার করা।
(৯) উজব, অর্থাৎ নিজেকে সত্য, বড় ও উত্তম ভাবা এবং সংশোধনের মুখাপেক্ষী না ভাবা। এগুলো উজবের আলামত। কিন্তু নেকীকে যথেষ্ট ভেবে গর্ব করা বোকামী ছাড়া কিছু নয়। একজন মানুষ যেহেতু আরেকজন মানুষের মন মেজাজ পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারে না। এমনকি নিজের মেহমান বিদায় দেয়ার সময় বলতে বাধ্য হয় যে, ‘আপনার মর্জির খিলাফ কোন কিছু হয়ে থাকলে আমাকে মাফ করে দিন। সুতরাং বান্দা হয়ে কিভাবে সে আল্লাহ তা‘আলার মর্জি বুঝা বা সন্তুষ্টি অর্জনের দাবী করতে পারে।’
(১০) রিয়া, অর্থাৎ কপটতা। আর এ কপটতা প্রদর্শন করতে হয়, সে নিজে নিজে প্রদর্শিত হতে পারে না।
এ সকল ব্যাপারে মুরব্বী ও শাইখের সঙ্গে পরামর্শ করে আত্মার সংশোধন করা জরুরী।
প্রশংসিত স্বভাব অর্থাৎ ‘উজ্জলতা’ দশটি এই:
(১) তাওবা।
(২) উত্তম ব্যবহার ও সত্যবাদিতা।
(৩) আল্লাহর ভয়।
(৪) আল্লাহর রহমত।
(৫) ধৈর্য।
(৬) কৃতজ্ঞতা।
(৭) দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি।
(৮) তাওয়াক্কুল অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা রাখা, কিন্তু চেষ্টা তদবীর পরিত্যাগ না করা; বরং চেষ্টা-তদবীর অব্যাহত রাখা। তবে চেষ্টা-তদবীরের ওপর ভরসা না করে আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা রাখা। কেননা, সব প্রয়াসের সাফল্য আল্লাহ তা‘আলার হাতে। অতএব প্রয়াস চালানোর পাশাপাশি সাফল্যের জন্যে আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করতে থাকা।
(৯) রিযা বিল কাযা, অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে রোগ-ব্যাধি, অভাব-অনটন ইত্যাদি যা কিছু আসে সে জন্যে মুখ ও অন্তর দিয়ে আল্লাহ তা‘আলাকে দোষারোপ না করা বরং সন্তুষ্টি প্রকাশ করা।
(১০) আখিরাতের প্রস্তুতি নেয়া। অর্থাৎ আসল বাসস্থানের চিন্তা করা।