জুম‘আর খুৎবা
জুম‘আর খুৎবায় হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম মুবারক শুনে মনে মনে দুরূদ পড়তে হয়, মুখে শব্দ করে নয়। হাদীস শরীফে আছে, ইমাম যখন খুৎবা দিতে দাঁড়ায় তখন নামায পড়া ও কথা বলা সবই নিষেধ। অবশ্য ইমাম যদি খারাপ কিছু দেখে, তাহলে নিষেধ করতে পারবে।
এতে কেউ কেউ আপত্তি উত্থাপন করে বলেন যে, এই ব্যক্তি কি আমাদেরকে দরূদ শরীফ পড়তে নিষেধ করে? তাদের এ কথার জবাবে আমি জানতে চাই- যদি কেউ এভাবে আযান দিতে শুরু করেন যে, ‘আল্লাহু তা‘আলা আকবার ,আল্লাহু তা‘আলা আকবার এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম।’ তাহলে এ ধরণের আযানকে নিষেধ করা যাবে কি-না? এবং সে যদি বলে যে, তোমরা তো দেখছি আমাকে আল্লাহ তা‘আলা ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করতে নিষেধ করছ? তখন কি আপনারা এ জবাব দেবেন না যে, সম্মানের অর্থ বুঝতে তুমি ভুল করছ! মূলতঃ প্রকৃত সমস্যা হচ্ছে- নিজে নিজে সম্মানের মাপ-কাঠি নির্ধারণ না করে আল্লাহ তা‘আলা ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুকুমের ওপর আমল করা। এক বুযুর্গ চমৎকার বলেছেন আল্লাহ তা‘আলা ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের মর্যী অনুযায়ী মুহাব্বত করা সুন্নাত। আর নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মুহাব্বত করা বিদ‘আত।
যখন দ্বীনী কথা-বার্তা কাজ-কর্ম চলতে থাকে তখন আগত ব্যক্তির উচিত ‘আস্সালামু আলাইকুম’ না বলা। কেননা, সে শর‘ঈ প্রয়োজনে ব্যস্ত। অনুরূপ যদি কেউ খানা খাওয়ায় ব্যস্ত থাকে, তাহলে তাকেও সালাম দিতে নেই। কারণ, সে শারীরিক প্রয়োজনে ব্যস্ত। হতে পারে, সে সালামের জবাব দিতে গিয়ে গলায় খাবার আটকে হঠাৎ মরে যাবে। শরী‘আতের প্রতিটি হুকুম রহমতও সহানুভূতিমূলক। যেমন, ৩০ শে রমযান রোযা রাখা ফরয আর ১লা শাওয়াল রোযা রাখা হারাম। সুতরাং আযানে আল্লাহু আকবার এর সাথে তা‘আলা এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ -এর সাথে সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোগ করা এজন্যেই জায়িয নেই যে, রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কে যে আযান শিখিয়েছেন এ পদ্ধতি তার বিপরীত।