কুদৃষ্টির ব্যাধি এবং দৃষ্টির হিফাযতের হিদায়াত

শাহ সাইয়্যিদ আবরারুল হক সাহেব রহ.২৮ জানুয়ারি, ২০২৪আত্মশুদ্ধি

যাদের কুদৃষ্টির ব্যাধি আছে তারা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় উযূ করে হিফাযতের নিয়তে ২ রাকাআত নফল নামায পড়তঃ হিফাযতের জন্যে দু‘আ করে ঘর থেকে বের হবে। তারপরও যদি কোন ত্রুটি হয়ে যায় অর্থাৎ যদি আঁড় চোখেও দেখা হয় বা পোশাকের ওপর দৃষ্টি পড়ে কিংবা তার কথা শুনে মনে আনন্দ অনুভূত হয়, তাহলে অনুনয়-বিনয়ের সঙ্গে দৃঢ়তা ও ইসলাহী প্রবণতার জন্যে দু‘আ করবে। এবং নিম্নে বর্ণিত হিদায়াত প্রতিদিন একবার করে পড়বে ও আমল করবে।

দৃষ্টির হিফাযতের হিদায়াত :

১। যখন কোন (গায়রে মাহরাম) মহিলা সামনে পড়ে, তখন নফসের দেখার ইচ্ছাও চাহিদা যতই তীব্র হোক, দৃষ্টি অবনত রাখবে। যেমন হযরত খাজা সাহেব রহ. বলেন, ‘কুদৃষ্টির ক্ষতি অপূরণীয়। তাই তুমি চলার সময় মাথা নিচু করে চল।

২। যদি কখনো কারো ওপর দৃষ্টি পড়ে যায়, তাহলে তৎক্ষণাৎ জীবনের বিনিময়ে হলেও দৃষ্টিকে অবনত কর।

৩। এরকম ধারণা পোষণ করা যে, দৃষ্টি হিফাযত না করলে দুনিয়াতে অপদস্থ হতে হবে, আনুগত্যের নূর ছিনিয়ে নেয়া হবে এবং আখিরাতের ধ্বংস নিশ্চিত হবে।

৪। প্রত্যেক খারাপ দৃষ্টির জন্যে (তাওবার নিয়তে) কমপক্ষে ৪ রাকা‘আত নফল নামায পড়া ও সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু না কিছু দান-খয়রাত করা এবং তাওবা ইস্তিগফার পড়া।

৫। এ ধারণা রাখা যে, খারাপ দৃষ্টি থেকে মনোযোগ, আর মনোযোগ থেকে মুহাব্বত এবং মুহাব্বত থেকে ইশ্‌ক পয়দা হয়। আর এই নাজায়িয ইশ্‌ক দ্বারা দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই-ধ্বংস হয়ে যায়।

৬। এরকম ধারণা করা যে, খারাপ দৃষ্টি দ্বারা ধীরে ধীরে আনুগত্য যিকির-শুগলের প্রতি মনোযোগ কমে যায়। এমনকি ছেড়ে দেয়ারও প্রবণতা সৃষ্টি হয়। এবং এসবের প্রতি অনীহা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

কুদৃষ্টির ব্যাধি এবং দৃষ্টির হিফাযতের হিদায়াত | ইসলামী যিন্দেগী