হিংসা রোগের চিকিৎসা

শাহ সাইয়্যিদ আবরারুল হক সাহেব রহ.১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩আত্মশুদ্ধি

হযরত হাকীমুল উম্মত মাওলানা থানভী রহ.-এর কাছে এক ব্যক্তি হিংসা রোগের চিকিৎসার কথা জানতে চাইলে- তিনি নিম্নোক্ত চিকিৎসা প্রদান করেন। (যার সঙ্গে হিংসা তার সঙ্গে নিম্নোক্ত আচরণ করার নির্দেশ দেন)

(১) যখন দেখা হবে প্রথমেই সালাম দেবে।

(২) কোথাও সফরে যাওয়ার আগে তার সঙ্গে দেখা করবে এবং তার জন্যে দু‘আ করতে থাকবে।

(৩) সফর থেকে ফিরে আসার সময় তার জন্যে কিছু হাদিয়া বা উপহার নিয়ে আসবে। (হাদিয়া দ্বারা মুহাব্বত বৃদ্ধি পায়)

(৪) কখনো কখনো তাকে দাওয়াত করে খাওয়াবে এবং কখনো চা-নাশতা করাবে।

ঐ ব্যক্তি ১৫দিন এই ব্যবস্থা পত্রের ওপর আমল করে হযরত থানভী রহ. কে জানায় যে, হযরত! ১৫দিনে অর্ধেক সেরে গেছে। জবাবে হযরত থানভী রহ. আরো তিন সপ্তাহ এই ব্যবস্থা পত্রের ওপর আমল করতে বলেন। সেই ব্যক্তি পুনরায় আমল করার পর জানায় যে, হযরত! এখন হিংসা মুহাব্বতে পরিণত হয়েছে। এরকমভাবে যদি লোভ-লালসারও চিকিৎসা হয়ে যায়, তাহলে ঘর-বাড়িতে যেরকম তালা লাগানোর প্রয়োজন হবে না, তেমনি হারাম উপার্জনের চিন্তা-ফিকিরও থাকবে না। অনেকের ধারণা, ‘পাপের পাশাপাশি নেকও তো করি।’বন্ধুগণ! তাহলে এই হাদীসটির প্রতি লক্ষ্য করুন! এক মহিলা, যে খুব বড় ইবাদত গুযার ছিল; কিন্তু মুখের দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দিতো। তার সম্পর্কে হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘এই মহিলা জাহান্নামে যাবে।’আর অপর এক মহিলা যে ইবাদতের মধ্যে শুধু ফরয ও সুন্নাতের পাবন্দী করতো। অর্থাৎ নফলের অভ্যাস ছিল না; কিন্তু তাঁর আচরণে প্রতিবেশীরা সন্তুষ্ট ছিল। সেই মহিলা সম্পর্কে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সে জান্নাতে যাবে’

হিংসা রোগের চিকিৎসা | ইসলামী যিন্দেগী