পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন এবং দাড়ির সুন্নত

শাহ সাইয়্যিদ আবরারুল হক সাহেব রহ.১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩সুন্নত, বিবিধ, দীন শিক্ষা ও তাহ্ক্বীক্বাত

বন্ধুগণ! ইমাম সাহেব যদি নামাযের সময় নিজের কামরা থেকে পরনের কাপড় খুলে মিহরাবের দিকে আসতে থাকে, তাহলে আপনারা কি তাকে আসতে দিবেন। না ভাববেন যে লোকটা পাগল হেয় গেছে? যদিও ইমাম সাহেব বলেন যে ভাই! আমাকে নামায পড়াতে দিন। নামাযের মাসআলা ও সূরা সবই আমার স্মরণ আছে। অর্থাৎ ভেতর সম্পূর্ণ ঠিক আছে, শুধু বহিরাবরণ খারাপ হওয়ার কারণে আপনারা কেন ঘাবড়ে গেছেন? কিন্তু একথা সবাই জানে, যে আপনারা তখন তার একটি কথাও শুনবেন না; বরং সোজা মসজিদ থেকে বের করে মস্তিষ্কের ডাক্তার বা পাগলা গারদে নিয়ে যাবেন।

কেন ভাই ! বহিরাবরণ খারাপ হওয়ার কারণে আপনাদের অন্তরে তার ভেতর খারাপ হওয়ার বিশ্বাস জন্মালো কেন? তাহলে আমাদের বাহ্যিক পোশাক-পরিচ্ছদ ও চাল-চলন সুন্নাত পরিপন্থী হওয়ার পরও আমাদের ভেতরে খারাপ হয়েছে বলে বিশ্বাস হয় না কেন? কেনই বা এর ইসলাহের চিন্তা হয় না? এরকম লোকদের কেন দ্বীনের ডাক্তার অর্থাৎ আউলিয়া ও মাশায়িখে কিরামের কাছে নিয়ে যাই না?

রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোঁচ খাটো করতে ও দাড়ি লম্বা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এবং তিনি নিজেও এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখতেন। হযরত শাইখ আবদুল কাদের জিলানী রহ. তার গুনিয়াতুত তালিবীন-এ হযরত উমর রাযি. থেকে এক মুষ্টি পরিমাণের বর্ণনা নকল করেছেন। কিন্তু আমরা আজ ইমাম সাহেবের পোশাক খোলার দ্বারা তার মস্তিষ্ক নষ্ট হওয়ার কথা বুঝলেও-দাড়ি মুন্ডানো দ্বারা আমাদের ঈমানের ত্রুটি ও দুর্বলতার বিষয়টি বুঝি না কেন?

পুলিশ অফিসার তার জন্যে নির্ধারিত পোশাক ছাড়া ডিউটিতে গেলে বরখাস্ত হবে। কিংবা তিরিশ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং কর্তৃপক্ষের যথার্থ পুরস্কার ও প্রমোশন ঘোষণার পর যদি দেখা যায় যে, সে লাল টুপী পরে সরকারী পোশাক ছেড়ে ঘোরাফেরা করছে। আইন অনুযায়ী সরকার তখন কি করবে? বিদ্রোহীদের টুপি পরার কারণে তাকে বিদ্রোহী হিসেবে আদালতে সোপর্দ এবং বরখাস্ত করবে। আর পুরস্কারের বদলে জুটবে শাস্তি। এটাই আইন, এটাই-নিয়ম। মুসলিম জাতিও আজ রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক নির্ধারিত তাদের সরকারী পোশাক ছেড়ে দিয়ে অভিশপ্ত ও পথভ্রষ্ট জাতির (ইয়াহুদী-খৃষ্টান) পোশাককে আপন করে নিয়েছে। এখন তাহলে মুসলিম জাতির এই পোশাক পরিত্যাগের পরিমাণ কি হতে পারে? বরখাস্ত না প্রমোশন? আযাব-গযব না নুসরত-রহমত? তারপরও অভিযোগ করা হয় চারদিকে মুসলমানরা মার খাচ্ছে কেন? বেদনাদায়ক হলেও সত্য যে, বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত হাত ছাড়া হয়ে গেছে; কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সাহায্য করছেন না। পরাজয় সবত্রই-‘কুরআনে ওয়াদা আছে মু’মিনের বিজয়ের; যদি বিজয়ীই না হলে তবে তোমার ঈমান কিসের?’

এবার ইসলামী পোশাকের কথা শুনন:

১। টাখনা না ঢাকা। এরকম করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা এসব লোককে রহমতের দৃষ্টিতে দেখবেন না এবং শবে বরাতে মাগফিরাতের যে সুসংবাদ আছে, সে রাতেও তাদের মাগফিরাত হবে না।

২। হাঁটু ঢেকে রাখা। হাঁটু খোলা থাকে এরকম পোশাক পরা নাজায়িয ও হারাম।

৩। মাথার চুল হয় চারদিকে সমান ভাবে ছোট ছোট করে রাখা অথবা বাবরি রাখা কিংবা কামিয়ে রাখা। হিপপিদের মতো চুলকে স্বাধীনভাবে ছেড়ে না দেয়া।

৪। দাড়ি চারদিকে সমানভাবে এক মুষ্টি পরিমাণ রাখা। এর চেয়ে বেড়ে গেলে কাটা জায়িয আছে। কিন্তু এক মুষ্টি নাপিতের মুষ্টি নয়, যার দাড়ি মুষ্ঠিও তার হতে হবে। সাবধান! দাড়ি ছাড়া লোক ইমাম ও মুআযযিন বানানো জায়িয নেই।

৫। পুরুষ মেয়েলোকের আর মেয়েলোক পুরুষের বেশ ধারণ না করা। হাদীস পাকে আছে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ওপর লা’নত বর্ষণ করেন, যারা পুরুষ হয়ে মেয়ে, আর মেয়ে হয়ে পুরুষের বেশ ধারণ করে। যেমন ডাক পিয়ন যদি পুলিশের পোশাক পরে আর পুলিশ পরে ডাক পিয়নের পোশাক, তাহলে আইন অনুযায়ী উভয়েরই বরখাস্ত করা হবে।

৬। মেয়েলোকের এরকম দেহাবরণ বা বোরখা ব্যবহার করা, যাতে চুলের কালো রং দৃষ্টিগোচর না হয়। কারণ এতে নামায তো হবেই না; বরং যত না মাহরাম লোক তার এই চুল দেখবে, তাদের সকলের গুনাহর সমপরিমাণ একত্রিত করে তাকে দেয়া হবে। তাছাড়া মেয়েদের নখ পালিশ লাগানোর কারণে উযূ নামায গোসল কিছুই সহীহ্‌ হয় না। (এজন্যেই নখ পালিশ ব্যবহারকে মুফতিগণ হারাম বলেছেন।-সংকলক)

বাহ্যিক দেহাবরণে সুন্নাতের অনুসরণ ভেতরের হিফাযতের জন্যে তালা স্বরূপ| যেরকম দোকানের ভেতরের মালের হিফাযতের জন্য বাহির দরজায় তালা না থাকলে, ভেতরের মাল অরক্ষিত থাকে। এরকম বাহ্যিক দেহাবরণ যদি সুন্নাত পরিপন্থী হয়, তাহলে ভেতরের ক্ষমতাও অরক্ষিত থাকে। আর চেহারা-সূরতে ফাসিকদের সাদৃশ্য অবলম্বনে অন্তরে ফাসিকের হয়হয়ও বৃদ্ধি পায়।

পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন এবং দাড়ির সুন্নত | ইসলামী যিন্দেগী