ইখলাসের সঙ্গে দ্বীনের খিদমত

শাহ সাইয়্যিদ আবরারুল হক সাহেব রহ.২৮ জানুয়ারি, ২০২৪উলামা তোলাবা

শাহজাদাদেরকে ঘড়ি বা বিমান বানানো শিখানো হয় না বরং তাদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনার কলা-কৌশল শিখানো হয়। সুতরাং যারা আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি ও ইলায়ে কালিমাতুল্লাহর কাজে পূর্ণ মাত্রায় মনযোগী তারাও শাহজাদা। তাদের কাজ পার্থিব জ্ঞান অর্জন নয়। কেননা, সরকারী লোককে যদি ব্যবসার অনুমতি দেয়া হয়, তাহলে সেই লোক আর সরকারী কাজের উপযুক্ত থাকবে না। কারণ তার একদিনের ব্যবসার লাভ সারা বছরের বেতনের চেয়েও হয়তো বেশী হবে। অতএব অভিজ্ঞতা থেকে এটাই বুঝা যায় যে দ্বীনের তা‘লীম বা শিক্ষার পাশাপাশি যদি দুনিয়াবী শিক্ষাও দেওয়া হয়, তাহলে মানুষ দ্বীনের প্রতি নয় বরং দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বে। সুতরাং বুঝা গেল মাখদুম (যার খিদমত করা হয়) আর খাদিমের (যে খিদমত করে) কাজ এক রকম নয়। মাখদুম যদি খাদিমের কাজ করতে শুরু করে, মাখদুমের কাজ করবে কে? যেমন ষ্টেশন মাস্টার যদি কনট্রোলার সিগনাল না দেয়, তাহলে গার্ড ও ড্রাইভার কিছুই করতে পারবে না। কিন্তু সাধারণ মানুষ রেলগাড়ি চালনায় গার্ড ও ড্রাইভারকেই বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কারণ কনট্রোলার ভিতরে থাকায় দৃশ্যতঃ এ দুজনকেই তারা দেখতে পায়। তবে আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে- যদি কেউ ইখলাসের সঙ্গে দ্বীনের খিদমতে লেগে থাকে, তাহলে দুনিয়াবী কাজে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে তার ওপর গায়বী মদদ আসে। এবং রিযিকে অনেক বরকত হয়, যা সারা দুনিয়ার বাদশাহীর চেয়েও উত্তম।

ইখলাসের সঙ্গে দ্বীনের খিদমত | ইসলামী যিন্দেগী