মাদরাসার ছাত্রদের প্রতি দারাস

শাহ সাইয়্যিদ আবরারুল হক সাহেব রহ.২৯ জানুয়ারি, ২০২৪উলামা তোলাবা, দীন শিক্ষা ও তাহ্ক্বীক্বাত

মাদরাসার ছাত্রদের প্রতি আমার অনুরোধ নিম্নরূপ :

(১) সম্মানিত ছাত্রবৃন্দ একজন অন্যজনকে দাওয়াত করবে না। এতে লেখা-পড়ার ক্ষতি ছাড়াও অসম্মানী বিদ্যমান। অভিজ্ঞতা সাক্ষী, দাওয়াতের প্রভাবে অনেক সময় ছাত্রদেরকে নিজের কিতাব (বাহরুর রায়িক) পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়। এমনকি নিজের পোশাক-পরিচ্ছদ পর্যন্ত দোকানদারের কাছে বন্ধক রাখতে হয়।

(২) সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের শাসন ও ধমককে নি‘আমত মনে করবে। প্রসিদ্ধ আছে- ‘শিক্ষকের শাসন পিতার শাসনের চেয়ে উত্তম।’

(৩) বা-উযূ থাকার চেষ্টা করা। বিশেষ করে লেখা-পড়ার সময় বা-উযূ থাকা। আল্লামা ইমাম সুরুখসী রহ. এক রাতে ১৭ বার উযূ করেছিলেন। কেননা দাস্ত হওয়ার কারণে বার বার তার উযূ চলে যাচ্ছিলো। কিন্তু উযূ ছাড়া অধ্যয়ন তাঁর কাছে মনপুতঃ হচ্ছিল না।

(৪) অধ্যয়নকে নিজের জন্যে অবশ্য কর্তব্য মনে করবে। অধ্যয়নের বিষয়বস্তু বুঝে না আসলেও বিচলিত হবে না। অন্তত এতটুকু লাভ তো হবে যে, সবকের কতটুকু বুঝে আসল আর কতটুকু বুঝে আসল না, তা জানা হয়ে যাবে । অতঃপর উস্তাদের সবক পড়ার সময় বুঝে না আসা অংশও বুঝে এসে যাবে। অধ্যয়নের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলা অনেক বরকত রেখেছেন।

(৫) উস্তাদদের খুব সম্মান করবে। উস্তাদের মনে আঘাত দানকারী ছাত্রের সবক বুঝে আসবে না। জ্ঞান-বুদ্ধির ওপর থেকে বরকত উঠে যাবে।

(৬) নিজের কামরার সামনে বা মাদরাসার আঙ্গিনায় কাগজের টুকরা পড়ে থাকলে তা উঠিয়ে নেবে। কাগজ জ্ঞানের বাহন, তাই এর সম্মান করা জরুরী। এছাড়া পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাও দ্বীনের অঙ্গ।

(৭) খাট-চকি, কাপড়-চোপড়, বিছানা-পত্র ও হাড়ি-পাতিল গুছিয়ে রাখবে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন وقدر فى لسر د অর্থাৎ-‘কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর’। সুতরাং ‘প্রত্যেক জিনিসেরই শোভা ও সৌন্দর্য প্রয়োজন।’

(৮) তাকবীরে উলা সহ নামায আদায়ের চেষ্টা করা উচিত। এক বড় ব্যবসায়ী আযান শুনে মাল ওজনের জন্যে উঠানো হাতের পাল্লা তৎক্ষণাৎ রেখে দেয় এবং গ্রাহককে নামাযের পরে আসতে বলে। অতঃপর সে মসজিদে যায়। আর তখন পাশের দোকানে বসে এক মৌলভী সাহেব জামা‘আতে না গিয়ে পত্রিকা পড়ছিল। ফলে ওই দোকানদারের অন্তরে তার প্রতি খারাপ ধারণা জন্মে। অথচ সে নিজেও জামা‘আতে যায়নি। কিন্তু তার কথা হচ্ছে, ‘আমরা তো মূর্খ ,আর সে তো আলেম।’ সুতরাং, দেখা যায় কিছু কাজ এরকম আছে, যার দ্বারা সাধারণ মানুষের অন্তরে উলামা ও ছাত্রদের প্রতি খুব দ্রুত খারাপ ধারণা জন্মে।

(৯) হিপপিদের মতো চুল রাখবে না।

(১০) টাখনুর নীচে পায়জামা বা লুঙ্গী পরবে না।

(১১) সম্মানিত ছাত্রদের আসল নাম ছিল طلب العلم والعمل অর্থাৎ ‘ইলম অর্জনকারী ও আমলকারী।’ অতঃপর সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে শুধু طلب العلم ‘ইলম অর্জনকারী’ রাখা হয়েছে। মূলতঃ জ্ঞান বা ইলমের মাকসূদই হচ্ছে-আমল।

(১২) আযান শুনা মাত্রই মসজিদে যাবে এবং ই‘তিকাফের নিয়ত করে দরূদ শরীফ পড়তে থাকবে। কোন অবস্থাতেই মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলবে না।

(১৩) মাসনূন দু‘আ সমূহ মুখস্থ করে যথাস্থানে সেগুলো পড়ার অভ্যাস করবে।

মাদরাসার ছাত্রদের প্রতি দারাস | ইসলামী যিন্দেগী