পবিত্র হাদীস শরীফের অর্থ বুঝার যোগ্যতা
অনেকে আজ কুরআন-হাদীসকে নিজের জ্ঞান দ্বারা বুঝতে চায়, এটা মারাত্মক ভুল। প্রত্যেক কথারই বিভিন্ন দিক আছে। যা শুধু অভিধান দেখে বুঝা সম্ভব না। যেমন এক কবি বলেছে- ‘উমরের দুই চোখ বরাবর হয়ে যাক।’ একথা দ্বারা এটাই বুঝা যায় যে, উমরের এক চোখ খারাপ। আসলে এ কাব্যাংশের দু’রকম অর্থ হতে পারে। যদি কবি খুশি হয়ে একথা বলে থাকেন, তাহলে অর্থ হবে উমরের খারাপ চোখটিও ভালো হয়ে যাক। আর যদি রাগান্বিত হয়ে বলে থাকেন, তাহলে অর্থ হবে-উমরের ভালো চোখটিও খারাপ হয়ে যাক। এখন আপনারাই বলুন! এখানে অর্থ নির্ধারণের জন্য জ্ঞান বা অভিধান কি যথেষ্ট? কখনও নয়। এ ক্ষেত্রে কবির বন্ধু-বান্ধব থেকে জেনে নিতে হবে যে- কবি যখন এ কথা বলেছেন তখন তার চেহারায় রাগ ছিল না খুশি ছিল।
একজন কবির কথারই যদি এ অবস্থা হয় তাহলে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা বুঝার জন্য সাহাবায়ে কিরামের শরণাপন্ন হওয়া কি জরুরী নয়? তারা যা বলবেন তাই সহীহ। কারণ! কথা বলার সময় বক্তা (রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা মুবারকে কখন রাগ ছিল আর কখন নূরে উদ্ভাসিত ছিল এটা শুধু তারাই ভালো জানেন। একজন কবির কথা বুঝার জন্য জ্ঞান-অভিধান যেমন যথেষ্ট নয় ঠিক তেমনি ভাবে পবিত্র হাদীস শরীফের অর্থ বুঝার জন্য শুধু জ্ঞান ও অভিধান কীভাবে যথেষ্ট হতে পারে?