বিধবা মহিলাদের অলংকারাদী ব্যবহার করা

মুফতী মীযানুর রহমান কাসেমী সাহেব (রাহমানিয়া)১০ মার্চ, ২০২৫মহিলাদের বিষয়, কুফর শিরক বিদ‘আত কুসংস্কার অপসংস্কৃতি, সামাজিকতা আচার ব্যবহার ও রাজনীতি

প্রশ্ন

আমাদের দেশে প্রচলিত আছে যে, কোন মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পর সেই মহিলা তার শরীরের সমস্ত অলংকারাদী খুলে ফেলে। নাকফুল, কানের দুল ইত্যাদি জীবনে আর কখনও ব্যবহার করে না। আবার অনেক জায়গায় দেখা যায় স্বামী মারা যাওয়ার পরে ইদ্দত পালন রত অবস্থায় রীতিমত সাজসজ্জায় লিপ্ত থাকে। এ ক্ষেত্রে শরী‘আতের সঠিক বিধান কি?

উত্তর

বিধবা মহিলাদের জন্য শরয়ী বিধান হল, স্বামীর জীবদ্দশায়। তারা যে ঘরে বসবাস করত স্বামীর মৃত্যুর পরে সেই ঘরেই তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে।

অর্থাৎ গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত আর গর্ভবতী না হলে ৪ মাস ১০ দিন সে ঐ ঘরে অবস্থান করবে। খাওয়া-দাওয়া-পেশাব-পায়খানা, উযু-গোসল ছাড়া অন্য কোন কাজে সে ঐ ঘর থেকে বের হতে পারবে না। তবে শরয়ী কোন উষর হলে বাইরে বের হতে পারবে। যেমন অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়া ইত্যাদি। ইদ্দত পালন কালীন সময়ে বিধবা নারী সব ধরনের অলংকার, সাজ সজ্জা, রেশমী কাপড়, গাঢ় লাল রং, গোলাপী রং, কুসুম রং, জাফরানী রং ইত্যাদি কাপড় পরিধান করা থেকে বিরত থাকবে। এটা তার স্বামীর বিরহের শোক পালনের জন্য শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম। তবে এসব কাপড় চোপড় একেবারে পুরাতন হয়ে থাকলে তা পরতে পারবে। অনুরূপ ভাবে সুগন্ধি, সুরমা, তেল, লিপিষ্টিক ইত্যাদি ও ব্যবহার করতে পারবে না। তবে সমস্যা দেখা দিলে ভিন্ন কথা। যেমন চোখে উযূধ হিসাবে সুরমা ব্যবহার করা যাবে, মাথা ব্যথা হলে তেল ব্যবহার করতে পারবে। তবে ইদ্দত পালন শেষ হয়ে গেলে তখন তার জন্য সব ধরনের পোশাক এবং সাজসজ্জা ও অলংকারাদী ব্যবহার করা জায়েয হবে। (ফাতাওয়া শামী-২-৬৬৯, আলমগীরী -১-৫৩৩)

বিধবা মহিলাদের অলংকারাদী ব্যবহার করা | ইসলামী যিন্দেগী