বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বা পরে যাকাত আদায় করার হুকুম

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১১ জানুয়ারি, ২০২৫যাকাত

প্রশ্ন

রমাযানের আগেই যাকাত ওয়াজিব হওয়ার পরও বিলম্ব করে রমাযান মাসে যাকাত আদায় করাতে কোন অসুবিধা আছে কি? এ ব্যাপারে বিস্তারিত বিধান কি?

উত্তর

যখন কারো মালের নিসাবের উপর আরবী মাস (অর্থাৎ চাঁদের) হিসাবে বছর পূর্ণ হয়ে যায়, তখন তার উপর যাকাত আদায় করা ফরয হয়ে যায়। তাই কোন ব্যক্তি যদি রমাযান মাসের আগেই নিসাবের মালিকের হয়ে থাকে, তাহলে তার পরবর্তী বছরের রমাযাস মাসের অপেক্ষা করা ঠিক না।

বরং উক্ত ব্যক্তি প্রথমে যে মাসে নিসাবের মালিক হয়েছে পরবর্তী বছর ঠিক সেই মাসেই তার উপর যাকাত ফরয এবং অনেক ফিকাহবিদদের নিকট তাত্ক্ষণিকভাবে আদায় করে দেয়াই ওয়াজিব। যদিও দ্বিতীয় বর্ণানা হিসেবে বিলম্ব করে আদায় করারও অবকাশ আছে। তবে বিলম্ব না করার মধ্যেই অধিক সতর্কতা। কেননা, অসতর্কতার কারণে আরো একটি অসুবিধা হয়ে থাকে, তা হল যখন তার নিসাবের বছর পূর্ণ হল, মনে করুন তখন তার মাল ছিল পাঁচ লক্ষ টাকা; কিন্তু তখন সে তার মাল হিসাব করে এটা ভেবে যাকাত দেয় নি যে, রমাযান মাস আসলে যাকাত দিবে। পরবর্তীতে যখন রমাযান মাস আসলো, তখন সে তার বর্তমান মাল হিসাব করল এবং দেখল তিন লক্ষ টাকা তার হাতে আছে। কারণ, ইতিমধ্যে তার কিছু টাকা লোকসান হয়ে গেছে বা বিভিন্ন প্রয়োজনে খরচ হয়ে গেছে। আর উক্ত হিসাব মতে সে তিন লক্ষ টাকারই যাকাত আদায় করল। বাকী দুই লক্ষ টাকার যাকাত আদায় করল না, ফলে উক্ত দুই লক্ষ টাকার যাকাত তার উপর উপর রয়ে গেল এবং যাকাত দিয়েও যাকাত অন্যদায়কারীর কাতারে তার নাম উঠল।

রমাযানের অপেক্ষা করার কারণে যাকাত আদায়ের ব্যাপারে এ অসুবিধাগুলো দেখা দিলো। অবশ্য নিসাবের বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি রমাযান বা যে কোন মাসে যাকাত দিয়ে দেয়, তাহলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে নিয়ম হল, চান্দ্র মাসের হিসেবে বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই রমাযানের যাকাতের নির্দিষ্ট একটি অংশ আদায় করে দিবে। তারপরে চান্দ্র বছর পূর্ণ হলে চুড়ান্ত হিসাব করে অবশিষ্ট অংশের যাকাত আদায় করে দিবে। আর যদি প্রথমবারেরই ওয়াজিব পরিমান থেকে বেশী দিয়ে থাকে তাহলে অতিরিক্ত অংশ নফল হিসেবে গন্য হবে বা তার পরবর্তী বছরের অগ্রিম যাকাত হিসেবেও গণ্য করতে পারবে।

[প্রমাণঃ আহসানুল ফাতওয়া, ৪:২৫৫]

বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বা পরে যাকাত আদায় করার হুকুম | ইসলামী যিন্দেগী