বিনা যাচাইয়ে মাদরাসায় দান গ্রহণ করা

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৩ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা

প্রশ্ন

বেসরকারী মাদরাসাসমূহ অনেক সময় যে টাকা দান করা হয়, তার মধ্যে অনেক টাকা অবৈধ ভাবে আয় করা থাকে। আবার অনেকে যাকাতের টাকাও দিয়ে থাকে। এ সব টাকা ধনী-গরীব সব ছাত্রদের জন্য খাওয়া বৈধ হবে কি?

উত্তর

শরী‘আতের দৃষ্টিতে মাদরাসা পরিচালকদের জন্য জরুরী নয় যে, প্রত্যেক দানকারীকে জিজ্ঞাসা করবে যে, আপনার এ টাকা হালালভাবে আয় করেছেন, না হারামাভাবে আয় করেছেন। কারণ, এরূপ জিজ্ঞাসাবাদ রাসূলে পাক ﷺ থেকে প্রমাণিত নেই। [প্রমাণঃ নাসাই শরীফ ১:৩৬৬]

রাসূলে পাক ﷺ দানকারীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তুমি হারাম মাল আল্লাহর রাস্তায় দিবে না। এতে সাওয়াবের পরিবর্তে গুনাহগার হবে। বরং এ হারাম টাকা পাওনাদারকে ফিরত দাও। আর পাওনাদারকে না পাওয়া গেলে তার পক্ষ থেকে দান কর। অন্য দিকে দান গ্রহণকারীকে এবং সকল মুসলমানকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা অন্য ভাইয়ের প্রতি সু-ধারণা পোষন কর। খামাখা কারোর প্রতি কু-ধারণা পোষণ করবে না। সুতরাং, যার সম্পর্কে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কিছুই জানা নেই, তার সম্পর্কে কু-ধারনা বা সন্দেহ করার প্রয়োজন নেই। সবাইকে ভাল মনে করবে এবং সবার দান গ্রহণ করবে। তবে কোন দাতা সম্পর্কে যদি কর্তৃপক্ষের পূর্ণ জানা থাকে, বা প্রবল ধারণা থাকে যে, ঐ ব্যক্তির দানকৃত মালের আয়ের সোর্স হারাম, তাহলে তার দান গ্রহণ করবে না।

সুতরাং, এ প্রশ্ন করা সহীহ হবে না যে, মাদরাসায় অবৈধভাবে আয় করা টাকা আসে। কারণ এরূপ কেউ দান করলে, দানকারী গুনাহগার হবে। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ বা গরীব ছাত্র যারা বোর্ডিং এ লিল্লাহ খায়, তারা দায়ী হবে না। এখন রইল, যাকাতের টাকা ধনী-গরীব সবাই খেতে পারবে কিনা, তার সমাধান এই যে, যাকাতের টাকা শুধু গরীবদের হক, এতে ধনীদের কোন হক নেই।

সুতরাং ধনীরা ছেলেদের বা ধনী ছাত্রদের জন্য তা খাওয়া জায়িয হবে না। তবে কর্তৃপক্ষ যদি শর‘ঈ তামলীকের মাধ্যমে যাকাত আদায়ের ঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার পর তার দ্বারা বোর্ডিং পরিচালনা করেন, তাহলে সে মাসআলা ভিন্ন।

যেহেতু শর‘ঈ তামলীকের জন্য মাসআলা জানা দরকার এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তা করা দরকার, কাজেই এ পথে সকলের জন্য চলা ঠিক নয়। অনেকে শর‘ঈতামলীক না জেনে হিলা করে যাকাতের টাকা অন্যত্র ব্যায় করে, তাতে যাকাত দাতাদের যাকাত সহীহ খাতে ব্যয় হবে না এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ জন্য দায়ী হবে। [ফাতাওয়া শামী ৫:৯৯; ফাতাওয়া মাহমূদীয়া ৩:৩০; ফাতাওয়া দারুল উলূম ৬:১৯৭; আযীযুল ফাতাওয়া ৩৬২]

বিনা যাচাইয়ে মাদরাসায় দান গ্রহণ করা | ইসলামী যিন্দেগী