ভণ্ড পীর বা মুনাসাবাত ছাড়া পীরের কাছে মুরীদ হলে করনীয়

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব৫ জানুয়ারি, ২০২৬আত্মশুদ্ধি, বিবিধ

প্রশ্ন

কেউ কোন ভণ্ড পীরের বা হক্কানী পীরের মুরীদ আছে নিয়মতান্ত্রিক মেহনতের পরও আত্নশুদ্ধির ব্যাপারে কোন ফায়দা হচ্ছে না, এমতাবস্তায় তার কি করনীয়?

উত্তর

যদি কেউ নিজের অজান্তে কোন ভণ্ড পীরের মুরীদ হয়ে যায়, তাহলে সে পীর যে ভণ্ড একথা জানা মাত্রই তার থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করা জরুরী। কারন এ শ্রেণীর পীরেরা শরী‘আতের দৃষ্টিতে বিদআতীর শাস্তি কাল কিয়ামতে অত্যন্ত ভয়াবহ, আর যারা তাদের আনুসারী, তাদেরও ঐরুপ শাস্তি হবে, কেননা বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. সুত্রে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, দুনিয়াতে যে যার সম্পর্ক ও মহব্বত রাখবে, আখেরাতে সে তার সাথেই থাকবে। [মুসলিম শরীফ ২/৩৩২]

আর যদি কেউ কোন হক্কানী পীরের সাথে সম্পর্ক রাখা সত্ত্বেও তার তা’লীম তারবিয়তের দ্বারা ফায়দা না পায়, তাহলে তার জন্য করনীয় হল প্রথম শাইখকে না জানিয়েই অন্য যে শাইখের সাথে সম্পর্ক গড়লে নফস ও শয়তানকে বেশী কাবু করা যাবে বলে প্রবল ধারণা হয়, তার সাথে ইসলাহী সম্পর্ক করে তাকে নিজের আত্নিক ব্যাধী সম্পর্কে অবহিত করত তার চিকিৎসা গ্রহণ করা, এটা এজন্য জরুরী যে, খাস কোন ব্যক্তির সম্পর্ক রাখা দ্বীনের লক্ষ্য উদ্দেশ্য নয় বরং উদ্দেশ্য হল অন্তরের পবিত্রতা অর্জন, আর প্রথম শাইখের নিকট তা অর্জিত হচ্ছে না, এর প্রথম শাইখকে এ বিষয় এজন্য জানাবে না যে, এটা ঐ শাইখের আন্তরিক ব্যাথার কারন হয়ে ঐ মুরীদের ক্ষতি থেকে পারে। তবে সম্ভব হলে প্রথম শাইখের সাথে মাঝে মধ্যে সাক্ষাৎ করে দু’আ নিবে। [প্রমাণঃ মুসলিম শরীফ ২/৩৩২, আবূ দাউদ শরীফ ২/৫৫৯, তালিফাতে রশীদিয়্যাহ ২০৩, মাহমুদিয়্যাহ ১৫/৯০]