তাকবীর দেয়ার সময় মুকাব্বিরের নিয়ত

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব২ অক্টোবর, ২০২৪আযান ইক্বামাত ও ইমাম মু‘আযযিন

প্রশ্ন

জামা’আতে মুকাব্বির সাহেব তাকবীর বলার সময় কি নিয়ত করবেন? আমরা শুনেছি যে, মুকাব্বির সাহেব যদি তাকবীর বলার সময় অন্যকে শুনানোর নিয়ত করেন তাহলে তার নামায সহ সকলের নামায ফাসিদ হয়ে যাবে। মাসআলাটির সঠিক সমাধান জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

মুকাব্বিরের জন্য তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় নিজের তাকবীরে তাহরীমার নিয়ত করা, নামায সহীহ হওযার জন্য জরুরী। নিজের তাকবীরের নিয়ত না করে শুধু অন্যদেরকে শোনানোর নিয়তে উচ্চ আওয়াজে তাকবীর বললে মুকাব্বির সহ যে সমস্ত মুক্তাদীগণ তার তাকবীর শুনে ইকতিদা করবেন সকলের নামায নষ্ট হয়ে যাবে।

আর যদি উভয়টার নিয়ত করেন, তাহলে কোন অসুবিধা নেই, বরং এরূপ করাই উচিত। এমনিভাবে ইমাম সাহেবও যদি তাকবীরে তাহরীমা বলার সময় নিজের নামাযের নিয়ত না করে শুধু মুক্তাদীদেরকে শোনানোর নিয়ত করে, তাহলে ইমাম সাহেব ও মুক্তাদী কারোর নামায সহীহ হবে না। আর তাকবীরে তাহরীমা ছাড়া অন্যান্য তাকবীরের ক্ষেত্রেও উভয়টারই নিয়ত করা উচিত। তবে সেসব তাকবীরের সময় শুধু মুসল্লীদেরকে শোনানোর নিয়ত করলেও নামায নষ্ট হবে না।

উল্লেখ্য যে, ইমাম সাহেবের আওয়াজ জামা’আতের শেষ কাতার পর্যন্ত স্পষ্টভাবে পৌঁছলে মুকাব্বির নিযু্ক্ত করা মাকরূহ্ এবং বিদ’আত। তবে জামা’আতে নামায পড়ার সময় ইমাম সাহেবের তাকবীরের আওয়াজ যে স্থান থেকে স্পষ্ট শোনা যায় সেখানে মুকাব্বির দাড়াবে। আমাদের দেশে যেভাবে ইমাম সাহেবের পিছনেই মুকাব্বির দাড়ানোর নিয়ম চালু আছে এর কোন ভিত্তি নেই। [প্রমাণ: রদ্দুল মুহতার, ১:৪৭৫]

তাকবীর দেয়ার সময় মুকাব্বিরের নিয়ত | ইসলামী যিন্দেগী