সুন্নাতী পোশাক সম্পর্কে
প্রশ্ন
আমাদের এলাকার অধিকাংশ উলামাগণের অভিমত হলো যে, কাটা পাঞ্জাবী যদি পায়ের টাখনু পর্যন্ত হয় তবুও সুন্নাত আদায় হবে না। আবার অনেকে বলে থাকেন যে, নিসফে ছাক হলে আদায় হবে। তবে গোল জামা পরিধান করাই উত্তম। কেননা, কুরআনুল কারীমে তাকওযার কথা এসেছে।
এখন প্রশ্ন হল, কাটা পাঞ্জাবী নিসফে ছাক হলে সুন্নাত আদায় হবে কি না?
উত্তর
পোশাকের ব্যাপারে শরী‘আতের কোন একক আকৃতির পাবন্দী (সীমাবদ্ধতা) নেই যে, সে আকৃতির খেলাফ হলেই, পোশাক না জায়েয বা খেলাফে সুন্নাত হয়ে যাবে। বরং প্রাকৃতিক অবস্থা ও মৌসুমের চাহিদা এবং মানুষের অভ্যাসের বিভিন্নতার কারণে পোশাকের বিভিন্নতার অবকাশ শরী‘আতে রয়েছে।
অবশ্য পোশাক সম্পর্কে শরী‘আতের কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে তার প্রতি সর্বাবস্থায় লক্ষ রাখা জরুরী। যার বর্ণনা নিম্নে পেশ করা হলঃ
(১) পোশাক এমন খাট, পাতলা বা টাইট না হওয়া জরুরী যাতে যে সমস্ত অঙ্গ-পত্যঙ্গ গোপন করা/ ঢাকা ওয়াজিব সেগুলো দেখা যায় বা সেগুলোর আকৃতি প্রকাশ পেয়ে যায়।
(২) কাফির-ফাসিক তথা অমুসলিমদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক অবলম্বন না করা।
(৩) পুরুষরা মহিলার পোশাক এবং মহিলারা পুরুষের পোশাক পরিধান না করা।
(৪) নিজ আর্থিক ক্ষমতা থেকে বেশি দামের পোশাক পরিধানের চেষ্টা না করা।
(৫) সম্পদশালী ব্যক্তির এত নিম্নমানের পোশাক পরিধান না করা যে, মানুষে দেখে তাকে গরীব-নিঃস্ব মনে করবে।
(৬) অহংকার, রিয়া, লৌকিকতার উদ্দেশে পোশাক পরিধান থেকে বিরত থাকা।
(৭) পোশাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
(৮) পুরুষের সেলোয়ার, লুঙ্গি, পায়জামা বা পাঞ্জাবী ইত্যাদি পোশাক টাখনুর নীচ পর্যন্ত লম্বা হওয়া হারাম।
(৯) পুরুষের জামা নিসফে ছাক তথা পায়ের গোছার অর্ধপর্যন্ত, সর্বনিম্ন পায়ের টাখনু পর্যন্ত লম্বা হওয়া সুন্নাত এবং পুরুষের জন্য সাদা পোশাক পরিধানকে পছন্দ করা হয়েছে।
(১০) পুরুষের জন্য নিরেট রেশম পরিধান করা হারাম।
(১১) পিওর লাল পোশাক পরিধান করা করা পুরুষের জন্য মাকরূহ, তবে অন্য রঙ্গের সংমিশ্রন বা অন্য রঙ্গের ডোরা বিশিষ্ট হয় তাহলে সেটা মাকরূহ হবে না। তাতে কোন অসুবিধাও নেই।
বর্ণিত শর্ত ও গুণগুলো যে সব পোশাকের মাঝে পাওয়া যাবে তা সবই শর‘ঈ ও সুন্নাতী পোশাক বলে গণ্য হবে।
উল্লেখিত শর্ত পাওয়া যাওয়ার পরও জুব্বা না হলে সুন্নাতী পোশাক হবে না এমন কথা বলা মূর্খতা। পোশাকের ব্যাপারে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
কারণ স্বয়ং হুযুর ﷺ এর ক্ষেত্রে অবস্থাও মৌসুমের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পোশাকের বর্ণনা পাওয়া যায়। (সূরা আল-আরাফ, বুখারী-২:৮৬০, ৮৬১, ৮৬৩, ৮৬৫, ৮৭৪, মুসলিম-২:১৯৪, আবু দাউদ-২:৫৫৮, ৫৬২, ৫৬৬, ৫৫৯, তিরমিযী-১:৩০২, ইবনে মাজাহ-২৫৩, ফাতাওয়া শামী-৯:৫০৫)