মসজিদে দ্বীনী তালীম দিয়ে ভাতা গ্রহণ করা জায়িয হবে কি-না?

মুফতী মনসূরুল হক সাহেব১ জানুয়ারি, ২০২৬মসজিদ মাদরাসা

প্রশ্ন

মসজিদে দ্বীনী তালীম দিয়ে বেতন গ্রহণ করা জায়িয হবে কি-না? উল্লেখ থাকে যে, যদি মসজিদ ছাড়া মাদরাসার কামরা থাকে এ অবস্থায় তালীমের কি হুকুম? বিস্তারিত জানতে ইচ্ছুক।

উত্তর

মসজিদ আল্লাহ তা‘আলার পবিত্র ঘর। এই ঘরের হিফাজত সংরক্ষণ, ইজ্জত-ইহতিরাম করা সকল মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। আর বাচ্চাদের দ্বারা তা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাই যদি মসজিদ ছাড়া মাদরাসা ভবনের বাইরে ছাত্রদের তালীম বা শিক্ষা দানের কোন ব্যবস্থা থাকে, তাহলে এমতাবস্থায় বেতন নিয়ে মসজিদে তালীম দেয়া জায়িয হবে না, বরং মাকরূহ হবে। তবে যদি বিনা বেতনে সওয়াবের উদ্দেশ্য কেউ তালীম দেয়, তাহলে মসজিদেও তা জয়িয হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, মসজিদের বে- ইহতিরামী যেন না হয়। আর তালীমের উপযোগী জায়গা না থাকা অবস্থায় একান্ত জরুরত বশতঃ নিম্মে বর্ণিত কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে বেতনধারী উস্তাদের জন্য অস্থায়ীভাবে মসজিদে তালীম দেয়া জায়িয হবে।

(১) মুসল্লীদের নামায, যিকির, তিলাওয়াত কুরআন ইত্যাদি ইবাদতে কোন প্রকার ব্যঘাত না হওয়া ।

(২) মসজিদের আদব-ইতহিরাম, পবিত্রতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে পূর্ণ খেয়াল রাখা।

(৩) শিশু ও অবুঝ বাচ্চাদের মসজিদে না আনা।

(৪) ইতিকাফের নিয়্যাত করে মসজিদে অবস্থান করা।

উল্লেখ্য যে একান্ত জরুরত বশতঃ অস্থায়ীভাবে তালীম দিলে অন্যত্র ব্যবস্থা হওয়ার যে রকম প্রচেষ্টা করতে হয়, সে সব প্রচেষ্টা জারী রাখা কর্তব্য এবং যখনই মাদরাসার জায়গার ব্যবস্থা হয়ে যায়, তখন সেখানে মাদরাসা স্থানান্তরিত হওয়া জরুরী। [প্রমাণঃ গুনিয়াতুল মুতামাল্লি ফী শরহে মুনিয়াতুল মুসল্লী ৬১১-৬১২; ফাতাওয়া বাজ্জাজিয়া ১:৮২; আল আশবাহ ওয়ান্নাজায়িয ২০২; আহসানুল ফাতাওয়া ৬:৪৮৫- ৪৫৯; ইমদাদুল আহকাম ২;৫৫; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ১০:২০০]

মসজিদে দ্বীনী তালীম দিয়ে ভাতা গ্রহণ করা জায়িয হবে কি-না? | ইসলামী যিন্দেগী